খুঁজুন
, ,

বাংলাদেশ-পাকিস্তানসহ ৭৫ দেশের অভিবাসীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রসেসিং স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:৫৮ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশ-পাকিস্তানসহ ৭৫ দেশের অভিবাসীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রসেসিং স্থগিত

আগামী সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রসেসিং সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। এই স্থগিতাদেশ কার্যকর হবে ২১ জানুয়ারি থেকে এবং পুনর্মূল্যায়ন না হওয়া পর্যন্ত তা অনির্দিষ্টকালের জন্য বহাল থাকবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত কনস্যুলার অফিসারদের এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্থগিতাদেশের আওতায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইরান, আফগানিস্তান, কুয়েত, সোমালিয়া, রাশিয়া, থাইল্যান্ড, নাইজেরিয়া, ইয়েমেন, ইরাক, ব্রাজিলসহ এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ ও ল্যাটিন আমেরিকার বহু দেশ।

ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, নতুন নির্দেশনার আওতায় কনস্যুলার কর্মকর্তারা ‘পাবলিক চার্জ’ আইন প্রয়োগ করে ভিসা আবেদন বাতিল করার অধিক ক্ষমতা পাবেন। এই আইন অনুযায়ী, কোনো আবেদনকারী ভবিষ্যতে মার্কিন সরকারের আর্থিক সহায়তা বা সামাজিক সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন—এমন ধারণা হলে তার ভিসা প্রত্যাখ্যান করা যাবে।

নতুন নীতিমালায় ভিসা আবেদনকারীদের বয়স, শারীরিক অবস্থা, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা, আর্থিক সক্ষমতা, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজনীয়তাসহ একাধিক বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগগট বলেন,“আমরা আমাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে মূল্যায়ন করব কোনো বিদেশি নাগরিক মার্কিন সমাজে অতিরিক্ত সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন কিনা। যাদের ক্ষেত্রে এমন আশঙ্কা থাকবে, তাদের ভিসা বাতিল করা হবে।”

উল্লেখ্য, ২০০২ সালের আইন অনুযায়ী কনস্যুলার কর্মকর্তারা ‘পাবলিক চার্জ’ বিবেচনায় ভিসা প্রত্যাখ্যান করতে পারেন। পরে ২০১৯ সালে ট্রাম্প প্রশাসন এই নীতিকে আরও কঠোর করে তোলে। যদিও বাইডেন প্রশাসন ক্ষমতায় এসে এর কিছু অংশ শিথিল করেছিল। এবার পুনর্মূল্যায়নের অংশ হিসেবে নতুন করে ৭৫টি দেশের ওপর এই ভিসা স্থগিতাদেশ জারি করা হলো।

যেসব দেশের জন্য স্থগিতাদেশ কার্যকর:

এই তালিকায় রয়েছে—
আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগা ও বারবুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামা, বাংলাদেশ, বার্বাডোস, বেলারুশ, বেলিজ, ভুটান, বসনিয়া, ব্রাজিল, মিয়ানমার, ক্যাম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, আইভরি কোস্ট, কিউবা, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, ডমিনিকা, মিশর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, গিনি, হাইতি, ইরান, ইরাক, জ্যামাইকা, জর্ডান, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, কিরগিজস্তান, লাওস, লেবানন, লাইবেরিয়া, লিবিয়া, মেসিডোনিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টেনেগ্রো, মরক্কো, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, রাশিয়া, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডা, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, সাউথ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, তিউনিসিয়া, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান এবং ইয়েমেন।

ফরিদপুরের পদ্মার বিস্তীর্ণ চরে শুভ্রতার চাদর, শরতের কাশবনে প্রকৃতিপ্রেমীদের ঢল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৪ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরের পদ্মার বিস্তীর্ণ চরে শুভ্রতার চাদর, শরতের কাশবনে প্রকৃতিপ্রেমীদের ঢল

​“শরৎ রানী যেন কাশের বোরখাখানি খুলে, কাশবনের ওই আড়াল থেকে নাচছে দুলে দুলে”—কবি নির্মলেন্দু গুণের পঙ্‌ক্তির মতোই শরতের স্নিগ্ধ শুভ্রতায় রূপসী রূপ ধারণ করেছে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মার চরাঞ্চল। চারদিকে এখন হাজার হাজার কাশফুলের শুভ্র সমারোহ।

পদ্মার মৃদু বাতাসে দুলতে থাকা কাশফুলের সারি যেন দিগন্তজোড়া এক সাদা সমুদ্রের ঢেউ। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, পলিমাটির বিশাল বুকে প্রকৃতি আপন হাতে বিছিয়ে দিয়েছে ধবধবে শুভ্র চাদর। মাথার ওপর নীল আকাশ, তুলোর মতো ভেসে যাওয়া সাদা মেঘ আর নিচে থোকা থোকা কাশফুলের এই মিতালি পদ্মার চরে সৃষ্টি করেছে এক অপার্থিব সৌন্দর্যের ক্যানভাস।

​ঋতুচক্রের আবর্তনে শরৎ এলেই বদলে যায় রূপসী বাংলার প্রকৃতি। নীল আকাশের ক্যানভাসে শুভ্র মেঘের ভেলা আর মেঠোপথের ধারে ধানের পাতার ওপর শিশিরের আলতো ছোঁয়া জানান দেয় প্রকৃতির পরিবর্তনের সুর। তবে শরতের সেই চিরচেনা রূপ এবার যেন পূর্ণতা পেয়েছে সদরপুরের আকোটেরচর ইউনিয়নের পদ্মার বুকে জেগে ওঠা বিশাল চরে।

​সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সদরপুর উপজেলার ২ নং আকোটেরচর ইউনিয়নের আকোট বাজারসংলগ্ন পদ্মার বিশাল চরাঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত রয়েছে সুবিশাল এক কাশবন। যতদূর চোখ যায়—শুধু সাদা কাশের দোলাচলা। বাতাসের আলতো স্পর্শে যখন হাজার হাজার কাশফুল একসাথে দুলতে থাকে, তখন পুরো প্রান্তরজুড়ে যেন সৃষ্টি হয় ক্ষণে ক্ষণে রুপালি ঢেউ। কাশবনের মধ্য দিয়ে হেঁটে যাওয়ার পথ তৈরি হয়েছে স্বাভাবিক নিয়মেই। কোথাও কাশফুল কোমরসমান উঁচু, আবার কোথাও তা মানুষকেও ছাড়িয়ে গেছে। মাথার ওপর নীল আকাশের সঙ্গে কচি কাশের এই অপূর্ব মেলবন্ধন যেকোনো পথিকের মনকে এক নিমেষে ব্যাকুল করে তোলে।

​স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় সদরপুরের বিভিন্ন এলাকা জুড়ে শরতের আগমনী বার্তা নিয়ে ফুটে উঠত এমন অজস্র কাশফুল। নদীর পার, ফসলের আইল, খালের ধার কিংবা পড়ে থাকা পতিত জমিতে শরতের হাওয়ায় মেতে উঠত শুভ্র কাশবন। তবে সময়ের বিবর্তনে বাড়ন্ত জনসংখ্যা, নগরায়ণ, ফসলের নিবিড় চাষাবাদ আর বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফলে এলাকা থেকে ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে বসেছে এই রূপসী কাশবন। ফলে ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়া এই সময়ে আকোট বাজারের পদ্মার চরে প্রাকৃতিক উপায়ে গড়ে ওঠা বিশাল এই কাশবন এখন প্রকৃতিপ্রেমী ও স্থানীয়দের কাছে এক পরম বিস্ময় ও আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

​প্রকৃতির এই রূপময় আয়োজনের খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও জনমুখে ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন শুভ্রতার এই মেলায়। যান্ত্রিক জীবনের কোলাহল ছেড়ে একটুখানি শান্তির খোঁজে কেউ আসছেন পরিবার-পরিজন নিয়ে, কেউবা সহপাঠী ও বন্ধুদের সঙ্গে। তরুণ-তরুণীদের আড্ডা, শুভ্র কাশের মাঝে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা, টিকটক ও রিলস ভিডিও তৈরির হাসিমুখের ভিড়ে মূখরিত পুরো চর। রূপসী কাশের স্পর্শ নিয়ে অনেকেই স্মৃতির অ্যালবামে ধরে রাখছেন শরতের এই স্নিগ্ধতা।

​বিশেষ করে, গোধূলিলগ্নে পদ্মার চরের কাশবন ধারণ করে এক মায়াবী রূপ। পশ্চিমাকাশে দিনমণি যখন হেলে পড়ে, গোধূলির নরম আলো যখন আছড়ে পড়ে কাশফুলের গায়ে, তখন যেন সোনালি আর শুভ্রতার এক অন্যরকম আভা ছড়িয়ে পড়ে পুরো প্রান্তরে। একদিকে পদ্মার শান্ত জলরাশির হাওয়ায় কাশের নুয়ে পড়া, অন্যদিকে সূর্যাস্তের রক্তিম আলো—সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত প্রশান্তিময় পরিবেশ গড়ে ওঠে এখানে।

​ঘুরতে আসা এক দর্শনার্থী আবেগপ্লুত হয়ে জানান, ইট-কাঠের যান্ত্রিক ব্যস্ততা থেকে কিছু সময়ের জন্য মুক্তি পেতে তিনি পরিবার নিয়ে পদ্মার চরে এসেছেন। তাঁর মতে, শহরের ইট-পাথরের দেয়াল ঘেরা জীবনে আমাদের শিশুরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শিশুদের পাশাপাশি বড়দের মানসিক প্রশান্তি ও প্রকৃতির শুভ্রতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে এমন মনোরম চরাঞ্চলের জুড়ি নেই।

​আরেক দর্শনার্থী বলেন, আধুনিকতার আগ্রাসনে আর নদীভাঙনে চরাঞ্চল ও নদীপাড়ের প্রকৃতি আগের মতো নেই। একসময় যেখানে মাইলের পর মাইল শুভ্রতা ছড়িয়ে থাকত, এখন সেখানে হঠাৎ দু-একটি কচি কাশের গোছা চোখে পড়ে। সদরপুরের পদ্মার চরের এই কাশবনটি কেবল একটি পর্যটন কেন্দ্র বা সৌন্দর্যের জায়গা নয়, এটি আমাদের দেশীয় প্রকৃতির এক অমূল্য ঐতিহ্য। একে সংরক্ষণ করা আমাদের দায়িত্ব।

​স্থানীয় পরিবেশকর্মী ও প্রকৃতিপ্রেমীরা মনে করেন, পদ্মার চরের এই কাশবনটিকে কোনোভাবেই বিনষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। মানুষ যেন সচেতনভাবে কাশফুল না ছিঁড়ে কিংবা গাছ না ভেঙে এর স্বাভাবিক বিকাশ বজায় রাখতে সহায়তা করে, সে বিষয়ে নজর দেওয়া প্রয়োজন। নদীর চরের এই প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও সৌন্দর্য রক্ষা করা গেলে প্রতি বছরই শরৎ মৌসুমে এটি সদরপুরের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক আকর্ষণ ও ভ্রমণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাবে।

​শরতের শুভ্রতা নিয়ে জেগে থাকা পদ্মার এই বিস্তৃত কাশবন কেবল একটি প্রজন্মের বিনোদনের কেন্দ্র না হয়ে উঠুক, নদীপাড়ের স্বাভাবিক ভারসাম্য রক্ষা করে এটি বেঁচে থাকুক যুগের পর যুগ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মও যেন এভাবেই শরতের নীল আকাশের নিচে পদ্মার চরে এসে দিগন্তজোড়া কাশফুলের নাচন ও প্রশান্তি উপভোগ করতে পারে—এমনটাই প্রত্যাশা চর দেখতে আসা সকল প্রকৃতিপ্রেমীর।

ফরিদপুরে চুরির বেঞ্চ বিক্রি করতে গিয়ে ধরা, যুবকের চুল-গোঁফ কেটে দিল জনতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে চুরির বেঞ্চ বিক্রি করতে গিয়ে ধরা, যুবকের চুল-গোঁফ কেটে দিল জনতা

ফরিদপুর সদর উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে চুরি হওয়া বেঞ্চের লোহার ফ্রেম ও সাইনবোর্ড বিক্রি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন সাব্বির খান (২৫) নামের এক যুবক। পরে উত্তেজিত জনতা তাঁকে আটকে রেখে তাঁর মাথার চুল ও গোঁফ কেটে দিয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদরের কানাইপুর ইউনিয়নের খাসকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত সাব্বির ওই এলাকার আবুল খানের ছেলে এবং বিদ্যালয়টির প্রাক্তন শিক্ষার্থী।

​স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার স্কুল বন্ধ হওয়ার পর সুযোগ বুঝে বিদ্যালয়ের চারটি বেঞ্চের লোহার ফ্রেম, স্টিলের সাইনবোর্ড ও লোহার গ্রিল চুরি করে সাব্বির। বৃহস্পতিবার সকালে এসব মালামাল কানাইপুর বাজারের একটি ভাঙাড়ির দোকানে বিক্রি করতে যান তিনি। সেখানে বিদ্যালয়ের সাইনবোর্ড দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তাঁরা দ্রুত প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের খবর দেন।

​পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষকরা এসে মালামালসহ সাব্বিরকে হাতেনাতে আটক করেন। সেখান থেকে একটি নছিমন গাড়িতে করে তাঁকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সাব্বিরকে বসিয়ে ব্লেড দিয়ে তাঁর চুল ও গোঁফ কেটে দেয়। এ সংক্রান্ত কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

​খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আটক ঘর থেকে কৌশলে পালিয়ে যান ওই যুবক।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বাসন্তী দত্ত বলেন, “বন্ধের সুযোগে মালামালগুলো চুরি হয়েছিল। আমরা সকালে চুরির বিষয়টি জানতে পারি। পরে স্থানীয়রা চোরকে আটক করলে তাঁকে এনে একটি কক্ষে আটকে রেখে ৯৯৯-এ পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ আসার আগেই তিনি পালিয়ে যান। তবে এর মাঝে এলাকার কিছু লোক তাঁর চুল ও গোঁফ কেটে দেয়। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নিতে আমি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।”

​ফরিদপুরের কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদুল হাসান জানান, খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্ত যুবক পালিয়ে যায়। লিখিত অভিযোগ সাপেক্ষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফরিদপুরে অবৈধ ওষুধ কারখানায় সাজা, এনসিপি থেকে স্থায়ী বহিষ্কার বায়েজিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে অবৈধ ওষুধ কারখানায় সাজা, এনসিপি থেকে স্থায়ী বহিষ্কার বায়েজিদ

অবৈধভাবে ওষুধ তৈরি ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফরিদপুর জেলা কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির এক সিদ্ধান্তে তাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলটির সকল পর্যায়ের পদ ও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

​জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট মোল্লা বাড়ি সড়ক এলাকায় অবস্থিত মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদের মালিকানাধীন ‘মেসার্স জনতা ল্যাবরেটরিজ’ নামের কারখানায় অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন। অভিযানে অনুমোদনহীন ও মেয়াদোত্তীর্ণ উপায়ে শিশুদের বেবি জেল এবং প্রাপ্তবয়স্কদের যৌন উত্তেজক আয়ুর্বেদিক ওষুধসহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ ওষুধ উদ্ধার করা হয়।

​অভিযান পরিচালনা করেন ফরিদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার ইনসানা তানজীন ইকো। ১৯৫৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৬/১ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে (৪০) ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। দণ্ডাদেশ ঘোষণার পরপরই তাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকেই কারখানাটি অবৈধভাবে পরিচালনা করে আসছিলেন তিনি।

​এদিকে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার খবর প্রকাশের পরপরই কেন্দ্রীয়ভাবে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে এনসিপি। কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে দলটির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে (স্মারক: এনসিপি/কেন্দ্র/শোকজ/২০২৫-২০২৬/৬৩) বায়েজিদ হোসেনকে স্থায়ী বহিষ্কারের কথা জানানো হয়।

​বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের নীতি ও আদর্শবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বায়েজিদ হোসেনকে অবিলম্বে কার্যকর হওয়ার শর্তে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হলো।

​এর আগে ফরিদপুর জেলা এনসিপির সদস্য সচিব সাইফ হাসান খাঁন জানিয়েছিলেন, অন্যায়ের সঙ্গে দলের কোনো আপস নেই এবং ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের বার্তা কেন্দ্রে জানানো হয়েছে।

​দণ্ডপ্রাপ্ত মো. বায়েজিদ হোসেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে শহরের গোয়ালচামট এলাকায় বসবাস করছেন।