খুঁজুন
, ,

হরমুজ প্রণালি কীভাবে ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রে পরিণত হয়েছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৪৭ পূর্বাহ্ণ
হরমুজ প্রণালি কীভাবে ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রে পরিণত হয়েছে?

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ৪০ দিনের সংঘর্ষের পর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার হয়েছে। সেটি হলো, ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়তো তার পারমাণবিক সক্ষমতা নয়, বরং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার ক্ষমতা।

সংঘাতের শুরুর সময় থেকে অনেকেই এই যুদ্ধকে ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা হিসেবে দেখেছিলেন, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও নেতাদের লক্ষ্য করে ব্যাপক বোমা হামলা চালানো হয়।

এর জবাবে ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় মিত্রদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। তবে সংঘাত বাড়তে থাকলে ইরান তাদের কৌশল বদলে ফেলে।

তারা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার দিকে মনোযোগ দেয়। হরমুজ প্রণালি হলো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ জলপথ, যা পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করে।

বিশ্বের বড় একটি অংশের তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়েই আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। তাই এই প্রণালির ওপর দিয়ে জাহাজ চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হলে বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনীতিতে বড় প্রভাব পড়ে।

ইরানের নতুন এই কৌশলের কারণে দ্রুতই যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়।

কারণ তাদের অর্থনীতি নির্ভর করে এই প্রণালি দিয়ে অব্যাহতভাবে তেল ও গ্যাস পরিবহনের ওপর।

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কর্মকর্তারা বুঝেছেন যে, এই গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ পথটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে প্রচলিত সামরিক সংঘাতের চেয়ে বেশি কৌশলগত সুবিধা পাওয়া যাবে।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহকে হুমকির মুখে ফেলে ওয়াশিংটনকে তাদের কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে ইরান।

শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি আলোচনার শর্ত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে এই জলপথ পুনরায় খুলে দেওয়া ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর অগ্রাধিকার দিতে হয়েছে।

ইরান নিয়মিতভাবে হুমকি দিয়ে এসেছে যে, তাদের ওপর আক্রমণ হলে তারা এই প্রণালি বন্ধ করে দেবে। তবে এর আগে কখনোই এটি পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি।

এমনকি ১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সালের ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়, যখন তেলবাহী জাহাজে হামলা হয়েছিল, তখনও এই প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি।

বর্তমানে ইরানের কিছু সামরিক কমান্ডার ও কর্মকর্তারা এই প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে ভবিষ্যতে কীভাবে ব্যবহার করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করছেন।

ইরানের পার্লামেন্ট বিশেষ করে ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমিশন ইতোমধ্যে এই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের একটি খসড়া প্রস্তাব দিয়েছে।

ইরানের এক পার্লামেন্ট সদস্য প্রস্তাব করেছেন, প্রতি তিন ব্যারেল তেলের জন্য এক ডলার করে চার্জ আরোপ করা যেতে পারে।

বিজয়ের চিত্র

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম যুদ্ধবিরতির পর বিজয়ের একটি চিত্র তুলে ধরে।

কুয়েতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস থেকে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনিকে নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। যার শিরোনাম ছিলো, “যখন আল্লাহর সাহায্যে সফলতা ও বিজয় অর্জিত হয়”।

এটি ইরানের ভেতরে প্রচারিত সেই বার্তাকেই তুলে ধরে, যেখানে বলা হচ্ছে যে, দেশটি বিদেশি চাপকে সফলভাবে প্রতিরোধ করতে পেরেছে।

আইআরজিসি’র ঘনিষ্ঠ ফার্স নিউজ বলেছে, ইরানের যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনায় নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দেওয়া, আর মার্কিন সেনা প্রত্যাহার কথা বলা আছে।

ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারাও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্টের মতে এই যুদ্ধবিরতি “খামেনির মতবাদের” বিজয়। এর মাধ্যমে মূলত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিকে বোঝানো হয়েছে, যিনি যুদ্ধের শুরুর দিকে নিহত হন।

একই সময়ে, সাবেক আইআরজিসি প্রধান ও ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি সতর্ক করে বলেন, ইরানি বাহিনী এখনো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছে এবং তাদের “আঙুল ট্রিগারে রয়েছে”। অর্থাৎ ইরানের সেনারা যেকোনো মুহূর্তে হামলার জন্য প্রস্তুত।

তবে বিজয়ের এই বয়ানের আড়ালে প্রকৃত বাস্তবতা অনেক বেশি ভঙ্গুর।

ইরানের সামরিক বাহিনী উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে, এবং দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন নিষেধাজ্ঞার চাপে থাকায় দেশটির অর্থনীতি আরও খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে।

সংঘাত চলাকালে অন্তত ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যাদের অনেকের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ ছিল এবং বেশ কয়েকজনকে জানুয়ারির দেশব্যাপী বিক্ষোভ থেকে আটক হয়েছিলো।

এই পদক্ষেপগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, দেশের ভেতরে ভিন্নমত নিয়ে সরকার গভীর উদ্বেগে রয়েছে, তাই তারা আবার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।

শান্তি আলোচনার আগে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া ছিল যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রধান দাবি। কিন্তু এটি বাস্তবায়ন সহজ ছিল না বলেই মনে হচ্ছে।

বুধবার ইরান সতর্ক করে যে, রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের অনুমতি ছাড়া প্রণালি দিয়ে যেসব জাহাজ চলাচল করবে, সেগুলোকে “লক্ষ্যবস্তু করা হবে এবং ধ্বংস করা হবে”।

পরে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই “অগ্রহণযোগ্য” প্রতিবেদনের বিষয়ে জেনেছেন, তবে তিনি বলেন, গোপনে বা ব্যক্তিগতভাবে যা বলা হয়েছে, তার সঙ্গে এসব কথা মিলছে না।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ খাতিবজাদেহ বৃহস্পতিবার বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেন সবাই নিরাপদে চলাচল করতে পারে সেই “নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে” ইরান।

তিনি বলেন, এই প্রণালি হাজার বছর ধরে উন্মুক্ত ছিল, যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হয়।

তবে তিনি বলেন, এই প্রণালি পুনরায় তখনই খুলে দেওয়া হবে, “যখন যুক্তরাষ্ট্র প্রকৃতপক্ষে এই আগ্রাসন বন্ধ করবে,” যা সম্ভবত লেবাননে ইসরায়েলের হামলার দিকে ইঙ্গিত করে।

খাতিবজাদে আরো বলেন, ইরান “আন্তর্জাতিক নীতি ও আন্তর্জাতিক আইন” মেনে চলবে, তবে তার মতে, এই প্রণালি আন্তর্জাতিক জলসীমার অন্তর্ভুক্ত নয় এবং নিরাপদ চলাচল “ইরান ও ওমানের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করে”।

প্রণালিটি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন এবং জাতিসংঘের সমুদ্র আইন সনদ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, যার লক্ষ্য বেসামরিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

বিপজ্জনক নজির

তাহলে ইরান এখন পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে কী করতে পারে?

ইরানের পার্লামেন্টে প্রণালি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যে প্রস্তাবটি তোলা হয়েছে, তাতে মোট নয়টি ধারা রয়েছে।

এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারায় বলা হয়েছে, “শত্রুপক্ষের জাহাজগুলোকে এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে দেওয়া হবে না”।

বিকল্প হিসেবে, ইরান নিজেই জাহাজ চলাচলের সব সেবা দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

ইরান বলেছে, এই পথে জাহাজ চালাতে হলে কোম্পানিগুলোকে সেই বাবদ অর্থ ইরানের মুদ্রায় পরিশোধ করতে হবে, ইরানের কোনো একটি ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট রাখতে হবে, আর জাহাজগুলো কী ধরণের মালামাল বহন করছে তা জানাতে হবে।

এটি একটি অত্যন্ত জটিল প্রস্তাব এবং এখনো এ বিষয়ে ভোটগ্রহণ হয়নি।

যদি ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর শুল্ক আরোপ করে, তাহলে মূল প্রশ্ন হবে, যুক্তরাষ্ট্র এবং তার পশ্চিমা ও আঞ্চলিক মিত্ররা এই পদক্ষেপ মেনে নেবে কি না।

সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়া বোঝা যাচ্ছে, এর বিরুদ্ধে অনেক বিরোধিতা থাকবে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা মনে করে সমুদ্রে স্বাধীনভাবে চলাচল করা তাদের একটি মৌলিক নীতি।

তাই এমন কোনো শুল্ক আরোপ হলে সেটা একটা বিপজ্জনক নজির স্থাপন করবে বলে মনে করা হবে।

যদি ইরান এতে সফল হয়, তাহলে একে একটি বড় কৌশলগত এবং প্রতীকী বিজয় হিসেবে দেখা হবে, যা প্রমাণ করবে যে তারা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম।

তবে এখানেও অনেক বড় ঝুঁকিও আছে। এ ধরনের পদক্ষেপ উল্টো ফল দিতে পারে।

এতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ, নেটোর সদস্য দেশ এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলো একজোট হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারে এবং তারা ইরানের বিরুদ্ধে সমন্বিত হয়ে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক, এমনকি সামরিক পদক্ষেপও নিতে পারে।

সূত্র : বিবিসি

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় আরিফুজ্জামান ও আসাদুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত

মিয়া রাকিবুল
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৫০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় আরিফুজ্জামান ও আসাদুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত

যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নানা বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা আরিফুজ্জামান (মডেল) পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এবং আলফাডাঙ্গা আসাদুজ্জামান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হয়েছে।

​বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১১টায় আলফাডাঙ্গা আরিফুজ্জামান (মডেল) পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় প্রধান শিক্ষক আজাদুল ইসলাম সভাপতিত্ব করেন।

​অনুষ্ঠানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ নিয়ে আলোচনা উপস্থাপন করেন আলফাডাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী মুন্সি বিল্লাল হুসাইন। তিনি তার বক্তব্যে বিশ্ব শান্তি, মানবকল্যাণ ও একটি নৈতিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সা.)-এর সুমহান আদর্শ অনুসরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

​পরবর্তীতে বেলা ১২টায় আলফাডাঙ্গা আসাদুজ্জামান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও ছাত্রীদের অংশগ্রহণে হামদ-নাত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

​প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভায়ও মূল আলোচক হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপন করেন মুন্সি বিল্লাল হুসাইন।

নারী শিক্ষার গুরুত্ব ও মহানবীর শিক্ষা তুলে ধরে তিনি বলেন, “পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আমাদের জন্য মহানবী (সা.)-এর সুমহান আদর্শ ও মানবতাবাদী শিক্ষা গ্রহণের শ্রেষ্ঠ উপলক্ষ। রাসুল (সা.)-এর বাণী অনুযায়ী প্রতিটি নর-নারীর ওপর জ্ঞান অর্জন করা ফরজ। তাই সমাজে নারী শিক্ষার প্রসার ঘটানো এবং ধর্মীয় মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে আদর্শ জীবন গঠন করা অত্যন্ত জরুরি।”

আলোচনা ও দোয়া মাহফিল শেষে হামদ-নাত প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথি মুন্সি বিল্লাল হুসাইন। অনুষ্ঠানে উভয় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

মহানবী (স.)-এর আদর্শ ধারণের আহ্বান, ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স স্কুলে মিলাদ মাহফিল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪৩ অপরাহ্ণ
মহানবী (স.)-এর আদর্শ ধারণের আহ্বান, ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স স্কুলে মিলাদ মাহফিল

ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে পবিত্র ঈদ-ই মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষে বার্ষিক মিলাদ মাহফিল, দোয়া ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে ফরিদপুর পুলিশ লাইন্সের সভাকক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল কায়ূম শেখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি ও ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক), ফরিদপুরের সভাপতি শায়লা শারমীন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন, সরকারী সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক জাহিদ হাসান, পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর প্রতি দরুদ ও সালাম নিবেদনের মাধ্যমে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে মহানবী (স.)-এর জীবন, কর্ম ও আদর্শের ওপর আলোচনা করা হয়।

স্বাগত বক্তব্যে অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল কায়ূম শেখ মহানবী (স.)-এর আদর্শ ও তাঁর অনুপম চরিত্রের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মহানবী (স.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, সততা ও শৃঙ্খলাবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে শিক্ষার্থীদের গড়ে উঠতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

আলোচনা পর্বে বক্তারা মহানবী (স.)-এর আদর্শকে ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে ধারণ করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, তাঁর শিক্ষা ও জীবনাদর্শ অনুসরণ করলে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহমর্মিতা, ন্যায়বোধ ও মানবিক মূল্যবোধ আরও সুদৃঢ় হবে।

পরে ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। প্রধান অতিথি পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজীসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং সকলের কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র ধর্মীয় শিক্ষক কাজী দেলোয়ার হোসেন।

চরভদ্রাসনে স্পিডবোটে অতিরিক্ত ভাড়া: ঘাটের ইজারাদারকে জরিমানা

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৪:১০ অপরাহ্ণ
চরভদ্রাসনে স্পিডবোটে অতিরিক্ত ভাড়া: ঘাটের ইজারাদারকে জরিমানা

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে গোপালপুর-মৈনট নৌপথে স্পিডবোটে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের দায়ে ইজারাদারকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

​বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার গোপালপুর ঘাটে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা আদায় করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ।

​আদালত সূত্র জানায়, বাংলা ১৪৩৩ সনের জন্য ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে স্বপন ব্যাপারী নামে এক পাটনিকে ৬১ লাখ টাকায় গোপালপুর ঘাটটি ইজারা দেওয়া হয়। এতে স্পিডবোটে যাত্রীপ্রতি ভাড়া ১৭৫ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে ইজারাদার শর্ত ভঙ্গ করে যাত্রীদের কাছ থেকে ১৮০ টাকা করে ভাড়া আদায় করছিলেন। খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪০ ধারায় ইজারাদারকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

​অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করে ঘাট মালিকপক্ষের প্রতিনিধি আলি মৃধা বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে ১৭৫ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অনেক সময় খুচরা টাকা না থাকায় ভাংতি দিতে গিয়ে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়।’