খুঁজুন
শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ইরান যুদ্ধের দীর্ঘ ছায়া: যে ঝুঁকিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ১০:২২ অপরাহ্ণ
ইরান যুদ্ধের দীর্ঘ ছায়া: যে ঝুঁকিতে বাংলাদেশের অর্থনীতি?

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আমদানি করা পেট্রোলিয়াম পণ্য ও এলএনজির দাম বাড়তে পারে এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাঁচামালের সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে।

বাংলাদেশ কনটেইনার শিপিং অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান হারুন-উর-রশিদ বলেন, ‘বাংলাদেশ আমদানিনির্ভর দেশ হওয়ায় সবসময় ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার শিকার হয়।’

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ বলেন, এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

প্রথমত, মধ্যপ্রাচ্যই হলো বাংলাদেশের প্রধান আমদানি উৎস। তাই এই যুদ্ধ চলতে থাকলে দেশের জন্য জ্বালানির দাম ও সরবরাহ অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে।

এমন পরিস্থিতিতে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য (ব্যালান্স অব পেমেন্ট) ও রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে।

তিনি জানান, দ্বিতীয়ত, এশিয়া ও ইউরোপ এবং আংশিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পাঠানোর প্রধান নৌপথ সুয়েজ খাল ইরানের খুব কাছাকাছি। সেখানে এই যুদ্ধের প্রভাব পড়লে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য পরিবহন ব্যাহত হবে।

তৃতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোই বাংলাদেশের প্রধান শ্রমবাজার। সুতরাং দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ পরিস্থিতি সেখানে নতুন শ্রমিক নিয়োগে অনাগ্রহ সৃষ্টি করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ডেল্টা এলপিজির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা পরিকল্পনা কার্যকরভাবে কাজ না করায় বাংলাদেশে এখন মূলত জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে কোনো দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ হলে তা তেলের দাম, এলপিজি পরিবহন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির সরবরাহের ওপর অবশ্যই নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

‘যুদ্ধ চলতে থাকলে আমরা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে পড়ব,’ বলেন তিনি।

হারুন-উর-রশিদ বলেন, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ বাংলাদেশের পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। এছাড়া ইতোমধ্যে হুতি হামলার কারণে লোহিত সাগর দিয়ে পণ্য পরিবহন কমিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ।

তিনি আরও বলেন, যদি রাশিয়া ও চীন এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে পণ্য পরিবহন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বাংলাদেশ গার্মেন্ট প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘আমরা একটি রপ্তানিনির্ভর দেশ, তাই আমাদের অবশ্যই এই যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলা করতে হবে, বিশেষ করে পোশাক রপ্তানিকারকরা।’

উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে ভোক্তাদের সক্ষমতা কমবে, ফলে তারা পোশাকের মতো পণ্যে কম ব্যয় করবেন।
দ্বিতীয়ত, জ্বালালি তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে দেশের বাজারে উৎপাদন খরচ বাড়বে, কারণ বাংলাদেশ জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ।

তৃতীয়ত, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পাঠাতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের যদি বিকল্প নৌপথ বেছে নিতে হয়, তাহলে সামগ্রিক বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে বাংলাদেশি পোশাক ব্যবসায়ীরা ভেবেছিলেন ইউক্রেন যুদ্ধ দুই সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হবে, কিন্তু সেই যুদ্ধ এখন চার বছর ধরে চলমান।

তিনি বলেন, ‘তাই যদি যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদি হয়, তাহলে কুয়েত, ইরাক, ইরান, বাহরাইন, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য রপ্তানি বাজারগুলো মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হতে পারে।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ইরানের প্রায় ৬৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাজারে প্রায় ১০ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে। যার বেশিরভাগত পোশাক ও ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য।

সূত্র : ডেইলি স্টার

ফরিদপুরে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১

ফরিদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তানহা (১৮ মাস) নামে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ জনে। একই সঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬২ জন রোগী জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) হামের উপসর্গ নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তানহাকে। সে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার হাসানদিয়া গ্রামের দ্বীন ইসলামের মেয়ে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৬২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪১ জন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গে আক্রান্ত ১৭৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু।

তিনি আরও বলেন, হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় অভিভাবকদের শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, সর্দি, কাশি ও শরীরে লালচে দাগ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে আগুন দিল জনতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ৫:৪৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে আগুন দিল জনতা

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের সোনাখোলা গ্রামের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আয়ুব আলী ও ময়না বেগমের বাড়িঘর ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা। দীর্ঘদিন ধরে তারা স্বামী-স্ত্রী মিলে এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

শুক্রবার (০৫ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার আলগী ইউনিয়নের সোনাখোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সোনাখোলা গ্রামের বাসিন্দা আয়ুব আলী ও ময়না বেগম (স্বামী-স্ত্রী) দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের মাদক ব্যবসা করে আসছিলেন। কয়েকদিন আগে এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে তাদের বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে মাদকদ্রব্য ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে। পরে উদ্ধারকৃত মাদক ও অস্ত্র ধ্বংস করা হয়। তাদের মাদক ব্যবসা থেকে বিরত থাকতে বারবার অনুরোধ জানান। কিন্তু তারা এলাকাবাসীর অনুরোধ কর্ণপাত না করে তাদের মাদককারবারী চালিয়ে আসছিল। এ ঘটনার জের ধরে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তদের এলাকা থেকে উচ্ছেদের দাবিতে তাদের বাড়িঘরে ভাঙচুর চালায় বলে জানা গেছে।

একাধিক এলাকাবাসী বলেন, বারবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ দিয়েও তাদের মাদক ব্যবসা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। ফলে এলাকার যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষ মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিয়েছে।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, মাদক সমাজকে ধ্বংস করে। আমরা চাই আমাদের সন্তানরা সুন্দর পরিবেশে বেড়ে উঠুক। তাই মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে একযোগে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সোনাখোলার মতো প্রতিটি এলাকায় সচেতন জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে মাদকমুক্ত সমাজ গড়া সম্ভব।

এ বিষয়ে জানতে আলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ম.ম.সিদ্দিক মিঞার মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানো সম্ভব হবে।

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে রাতভর নিখোঁজ, সকালে পদ্মায় মিলল ট্রাক্টরচালকের মরদেহ

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ৫:০৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে রাতভর নিখোঁজ, সকালে পদ্মায় মিলল ট্রাক্টরচালকের মরদেহ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পদ্মা নদীর পাড়ের আমন ধানের জমিতে চাষ গিতে গিয়ে ট্যাফে ট্রাক্টর উল্টে জয় বিশ্বাস (২০) নামের এক ড্রাইভারের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (০৫ জুন) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার চর ঝাউকান্দা ইউনিয়নের বালুরঘাট গ্রামের পদ্মা নদীর পাড় থেকে ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সহায়তায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত জয় বিশ্বাস ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামের বাসিন্দা গোলাম আলী বিশ্বাসের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (৩ মে) চরভদ্রাসন উপজেলার চর ঝাউকান্দা ইউনিয়নের বালুরঘাট গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলীর মাহিন্দ্র ট্রাক্টরের চালক ছিলেন জয়।
গত দুইদিনই  জয় বিশ্বাস মোহাম্মদ আলীর ট্যাফে ট্রাক্টর দিয়ে কৃষিজমি চাষাবাদের কাজ করছিলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ট্রাক্টর দিয়ে জয় নদীর তীরবর্তী জমিতে চাষ দিচ্ছিল। এসময় সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পরে প্রায় পুরোটাই ডুবে যায়।এতে ট্রাক্টরের  চালক জয় বিশ্বাস ট্রাক্টরের নিচে আটকা পড়েন। রাতে তার সাথে আর কেউ না থাকায় বিষয়টি টের পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে  স্থানীয় লোকজন নদীতে ট্রাক্টরের চাকা ও অন্যান্য অংশ ভাসতে দেখে থানায় খবর দেন। পরে চরভদ্রাসন ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে বেলা ১১টার দিকে ওই চালকের মরদেহ উদ্ধার করে।

চরভদ্রাসন ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা ওহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। ট্রাক্টরটি নদীর পাড়ে কিছুটা তলিয়ে গিয়েছিল পুরোটা ডুবে ছিল না।

তিনি বলেন, আমরা ধারণা করছি চালকের ঘুম এসে যাওয়ায় বা নদীর পাড়ের মাটি ভেঙে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চরভদ্রাসন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোজাম্মেল হক বিশ্বাস বলেন, আমরা লাশ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছি। নিহতের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। তাদের সাথে আলাপ করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।