খুঁজুন
রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

প্রবাসীদের সুখী পরিবার গঠনের সহজ ২ উপায়

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৪৫ পূর্বাহ্ণ
প্রবাসীদের সুখী পরিবার গঠনের সহজ ২ উপায়

বিদেশে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে আমাদের প্রবাসী ভাইয়েরা যখন পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে চান, তখন তাদের একটি বড় অংশই এক অদ্ভুত সংকটের মুখোমুখি হন। মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া বা কোরিয়া।

যেখানেই আমাদের প্রবাসী ভাইয়েরা থাকুন না কেন, তাদের একটি কমন অনুযোগ হলো, ভাই, না পারি মাকে খুশি করতে, না পারি বউকে খুশি করতে।’ মায়ের কাছে গেলে বউর নামে কথা শুনতে হয়, আবার বউর কাছে গেলে মায়ের নামে অনুযোগ শুনতে হয়। এই দ্বিমুখী চাপে অনেক প্রবাসী ভাই দিশেহারা হয়ে পড়েন।

এই সমস্যার সমাধানে জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে অত্যন্ত চমৎকার ও বাস্তবসম্মত দুটি উপায় জানিয়েছেন। তার মতে, পারিবারিক জীবনে সুখী হতে হলে পুরুষকে মাঝে মাঝে কিছুটা ‘বেকুব’ বা ‘বোকা’ সাজতে হয়। কারণ সব জায়গায় চালাকি চলে না।

বোকা পুরুষ বনাম চালাক পুরুষ

পরিবারের দ্বন্দ্বে অনেক পুরুষ বোকামি করে বসেন। স্ত্রী যখন মায়ের নামে কিছু বলে, তখন তিনি স্ত্রীর সাথে ঝগড়া শুরু করেন। আবার মা যখন স্ত্রীর নামে কিছু বলে, তখন মায়ের সাথেও তর্কে লিপ্ত হন। এতে দুই পক্ষই অসন্তুষ্ট হয়।

শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, বুদ্ধিমান পুরুষ সেই, যে কৌশলী হতে জানে। একে তিনি নাম দিয়েছেন ‘বেকুব সাজা’। এটি মূলত এক প্রকার বুদ্ধিবৃত্তিক কৌশল যা পরিবারের ভারসাম্য রক্ষা করে।

স্ত্রীর অভিযোগ সামলানোর কৌশল

স্ত্রী যখন শাশুড়ি বা ননদের নামে অভিযোগ করে, তখন তাকে থামিয়ে দিয়ে ঝগড়া না করে বরং তার প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করুন। আপনি বলতে পারেন, ‘আমার মা এটা বলল! শুনে আমার কলিজা ছিঁড়ে যাচ্ছে। কোরআন-হাদিস যদি মাকে সম্মান করার কথা না বলত, তবে আজ আমি এর একটা বিহিত করতাম।’

এই ছোট্ট একটি কৌশলে স্ত্রীর মন শান্ত হয়ে যাবে। সে ভাববে তার স্বামী অন্তত তার কষ্টটা অনুধাবন করেছেন। যদিও সে আপনাকে অপারক বা বোকা মনে করবে, কিন্তু আপনার প্রতি তার ভালোবাসা কমবে না।

মায়ের সামনে ছেলের ভূমিকা

একইভাবে মায়ের কাছ থেকে যখন স্ত্রীর নামে নালিশ শুনবেন, তখন মাকে বলতে পারেন, ‘মা, শরিয়তে যদি বউ পেটানো জায়েজ হতো, তবে আজ আমি হাতা গুটিয়ে নিতাম। কিন্তু রাসুল (সা.) কখনো নারীর গায়ে হাত তোলেননি।’ এতে মা ভাববেন যে, ছেলে অনেক ধার্মিক এবং কিছুটা সোজা-সরল, তাই সে কিছু করতে পারছে না। ফলে আপনার প্রতি মায়ের মহব্বতও অটুট থাকবে।

দ্বীনদারী ও পারিবারিক সুখের মূলমন্ত্র

দ্বীন আমাদের শেখায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চমৎকার বোঝাপড়া তৈরি করতে। দাম্পত্য সুখের জন্য দুটি জিনিস অপরিহার্য- সবর (ধৈর্য) এবং শোকর (কৃতজ্ঞতা)। এই দুটি গুণের সমন্বয় থাকলে পারিবারিক জীবন জান্নাতি হয়ে ওঠে। শায়খ আহমাদুল্লাহ মনে করেন, জ্ঞান-বিজ্ঞানে পশ্চিমা বিশ্ব এগিয়ে থাকলেও পারিবারিক সুখের ক্ষেত্রে আমাদের সংস্কৃতি ও ইসলামি মূল্যবোধ অনেক বেশি সমৃদ্ধ।

ফরিদপুরে পানি সংকটে চরম দুর্ভোগ, বিপাকে হাজারো পরিবার

আবরাব নাদিম ইতু, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পানি সংকটে চরম দুর্ভোগ, বিপাকে হাজারো পরিবার

ফরিদপুর পৌরসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে, যা দিন দিন আরও প্রকট আকার ধারণ করছে। টানা কয়েক দিন ধরে শহরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে নিয়মিত পানি সরবরাহ বন্ধ বা অনিয়মিত থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার-হাজার বাসিন্দা। বিশেষ করে শান্তিবাগ, চরকমলাপুর, সিংপাড়া, পশ্চিম খাবাসপুর এবং গোয়ালচামটসহ আশপাশের এলাকাগুলোর মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপাকে রয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে পৌরসভার সরবরাহ করা পানি ঠিকমতো পাচ্ছেন না তারা। কোথাও একেবারেই পানি আসছে না, আবার কোথাও দিনে মাত্র এক থেকে দুই ঘণ্টা পানি সরবরাহ করা হচ্ছে—যা দিয়ে একটি পরিবারের দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ করা প্রায় অসম্ভব। ফলে রান্নাবান্না, গোসল, কাপড় ধোয়া এমনকি নিত্যপ্রয়োজনীয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

পানির এই সংকট শুধু বাসাবাড়িতেই সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রভাব পড়েছে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও। অনেক মসজিদে পানি না থাকায় মুসল্লিরা ঠিকমতো অজু করতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে অনেক মসজিদে মাইকিং করে বাসা থেকে অজু করে আসার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে। এতে করে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে অস্বস্তি ও ক্ষোভ।

চরকমলাপুর এলাকার বাসিন্দা উম্মে হাবিবা মৌ বলেন, “আমাদের এলাকায় পানির সংকট এখন চরমে পৌঁছেছে। বাসার রিজার্ভ ট্যাংক একেবারেই খালি হয়ে গেছে। প্রতিদিন দূর থেকে পানি এনে কোনোভাবে দিন পার করছি।”

একই এলাকার আরেক বাসিন্দা অ্যাডভোকেট মামুনার রশিদ মামুন জানান, “প্রায় আট দিন ধরে আমাদের এলাকায় পানি নেই। এই অবস্থায় জনসাধারণ চরম কষ্টে আছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান জরুরি।”

পশ্চিম খাবাসপুর এলাকার বাসিন্দা ও আইনজীবী মেহেরুননেসা স্বপ্না ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পাঁচ দিন ধরে পৌরসভার কোনো পানি সরবরাহ নেই। কোথায় অভিযোগ করবো, কীভাবে সমাধান পাবো—কোনো দিকনির্দেশনা নেই। আমরা যেন পুরোপুরি অসহায় হয়ে পড়েছি।”

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে দূরবর্তী টিউবওয়েল, পুকুর কিংবা প্রতিবেশী এলাকার পানির ওপর নির্ভর করছে। এতে করে বাড়ছে সময় ও শ্রমের অপচয়, পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশুদ্ধ পানির অভাবে ডায়রিয়া, আমাশয়, ত্বকের রোগসহ নানা পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে—যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের কিছু এলাকায় নিয়মিত পানি সরবরাহ থাকলেও অন্য অনেক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সংকট চললেও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এতে করে বৈষম্যের অভিযোগও উঠছে। তারা দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ফরিদপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন) সৈয়দ মো. আশরাফ বলেন, “মূলত বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে পানি উত্তোলন ও পরিশোধন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। যেসব এলাকায় সংকট বেশি, সেখানে দুটি পানির রিজার্ভ রয়েছে—একটি পরিচর্যা হাসপাতালের পাশে এবং অন্যটি শিশু পার্ক সংলগ্ন। কিন্তু বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি থাকায় আমরা নিরবচ্ছিন্নভাবে পানি উত্তোলন করতে পারছি না।”

তিনি আরও জানান, “এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলে আমাদের তিন ঘণ্টা পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে হয়। এছাড়া বর্তমানে শুষ্ক মৌসুম চলায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে, ফলে উৎপাদন প্রায় ২০ শতাংশ কমে গেছে। এর সঙ্গে বিদ্যুৎ সংকট যোগ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।”

সমস্যা সমাধানে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধান হলে পানি সরবরাহ অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আমরা আশা করছি। পাশাপাশি বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় কিনা, সেটিও আমরা খতিয়ে দেখছি।”

এদিকে সচেতন মহল বলছে, দ্রুত এই সংকট সমাধানে পৌরসভা কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিভাগকেও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে জরুরি ভিত্তিতে পানি সরবরাহের জন্য মোবাইল ট্যাংকার, গভীর নলকূপ স্থাপন কিংবা অস্থায়ী পানির উৎস চালু করার মতো উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

শহরের বাসিন্দারা বলছেন, পানি মানুষের মৌলিক অধিকার। তাই এ ধরনের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে তা জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।

ফাঁকা বেঞ্চ, স্তব্ধ পাঠদান: সংকটে ঐতিহ্যবাহী সরকারি নগরকান্দা কলেজ

এহসানুল হক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
ফাঁকা বেঞ্চ, স্তব্ধ পাঠদান: সংকটে ঐতিহ্যবাহী সরকারি নগরকান্দা কলেজ

ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি নগরকান্দা কলেজ এখন গভীর সংকটের মুখে। একসময় যে প্রতিষ্ঠানটি এ অঞ্চলের শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত ছিল, বর্তমানে সেখানে শিক্ষাব্যবস্থার চিত্র ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। প্রশাসনিক দুর্বলতা, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে কলেজটি ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীশূন্য হয়ে পড়ছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সচেতন মহল।

১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটি দীর্ঘ পথচলায় বহু মেধাবী শিক্ষার্থী গড়ে তুলেছে। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে জাতীয়করণের মাধ্যমে এটি সরকারি মর্যাদা লাভ করে। জাতীয়করণের পর শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধায় দৃশ্যমান উন্নতি এলেও শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে সেই তুলনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি। বরং স্থানীয়দের অভিযোগ, জাতীয়করণের পরপরই অনেক অভিজ্ঞ শিক্ষক ভালো প্রতিষ্ঠানে বদলির জন্য প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েন, ফলে কলেজটিতে দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষক সংকট তৈরি হয়।

এই শিক্ষক সংকটের কারণে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম ভেঙে পড়ে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত পাঠগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হয়। এর ফলে ধীরে ধীরে কলেজে এক ধরনের জবাবদিহিতাহীনতার সংস্কৃতি গড়ে ওঠে, যা আজও পুরোপুরি কাটেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক সময় ক্লাস সূচি থাকলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি, ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনাগ্রহ তৈরি হয়।

বর্তমানে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে বিসিএসের মাধ্যমে কয়েকজন নতুন শিক্ষক এই কলেজে যোগদান করেছেন, তবুও শিক্ষার পরিবেশে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। শিক্ষক উপস্থিত থাকলেও শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। অনেক শ্রেণিকক্ষে দেখা যায়, হাতে গোনা কয়েকজন শিক্ষার্থী নিয়ে ক্লাস পরিচালিত হচ্ছে, আবার কোথাও কোথাও শিক্ষার্থী কম থাকায় ক্লাসই নেওয়া হচ্ছে না—এমন অভিযোগও রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়মিত ও মানসম্মত ক্লাস না হওয়ায় তারা ধীরে ধীরে কলেজমুখী হওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। অনেকেই কোচিং সেন্টার বা অন্য প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। কেউ কেউ ভালো শিক্ষার আশায় অন্য কলেজে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে, অন্যদিকে কলেজের সামগ্রিক পরিবেশও স্থবির হয়ে পড়ছে।

অভিভাবকদের মধ্যেও এ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তারা মনে করছেন, একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে এমন পরিস্থিতি অগ্রহণযোগ্য। তাদের দাবি, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং শিক্ষার মান উন্নয়ন, নিয়মিত ক্লাস নিশ্চিতকরণ এবং কঠোর প্রশাসনিক তদারকি এখন সময়ের দাবি।

কলেজের এই অব্যবস্থাপনার প্রভাব ইতোমধ্যেই একাডেমিক ফলাফলেও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মোট ৪২০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১৫৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, আর ২৬৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। ফলে পাশের হার নেমে এসেছে মাত্র ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশে, যা একটি সরকারি কলেজের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক। শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এমন ফলাফল কেবল শিক্ষার্থীদের দায় নয়, বরং পুরো ব্যবস্থার দুর্বলতার প্রতিফলন।

এ বিষয়ে নগরকান্দা কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি আলী আকবার শরীফ আরমান বলেন, “নগরকান্দার একমাত্র সরকারি কলেজ আজ অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও উদাসীনতার চাপে ধুঁকছে। নেই কোনো কার্যকর উন্নয়ন পরিকল্পনা, নেই জবাবদিহিতা। শিক্ষক থাকলেও ক্লাস হয় না, শিক্ষার্থীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। শিক্ষা সফরের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে, জাতীয় দিবস ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমেও দেখা যায় চরম অবহেলা। সব মিলিয়ে কলেজটি ধীরে ধীরে অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে।”

তিনি আরও বলেন, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে এ কলেজ তার ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলবে এবং শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণভাবে অন্য প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকে পড়বে।

অন্যদিকে কলেজ প্রশাসনও সমস্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে, তবে তারা এর পেছনে শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতিকেও একটি বড় কারণ হিসেবে দেখছে। কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর জাহিদুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে না এলে শিক্ষকদের পক্ষে পাঠদান কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। আমরা ইতোমধ্যে উপস্থিতি বাড়াতে নোটিশ জারি করেছি, যেখানে বলা হয়েছে ন্যূনতম ৭০ শতাংশ উপস্থিতি না থাকলে একাদশ থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা হবে না এবং নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগও দেওয়া হবে না।”

তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীদের ক্লাসমুখী করতে শিগগিরই অভিভাবক সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষকদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রশাসনিকভাবে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হবে। নিয়মিত ক্লাস মনিটরিং, একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুসরণ এবং ফলাফল উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের সংকট উত্তরণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শুধু প্রশাসন বা শিক্ষক নয়, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। নিয়মিত ক্লাস নিশ্চিত করা, শিক্ষকদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা, শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা এবং আধুনিক শিক্ষণ পদ্ধতি চালু করা—এসব পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি।

এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রয়োজনে বিশেষ অডিট, একাডেমিক পরিদর্শন এবং কর্মক্ষমতা মূল্যায়নের মাধ্যমে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, সরকারি নগরকান্দা কলেজ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে একসময়কার গৌরবময় এই প্রতিষ্ঠানটি তার স্বকীয়তা ও অবস্থান হারাতে পারে। তবে সঠিক পরিকল্পনা, আন্তরিকতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এখনও এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব—এমনটাই আশা করছেন স্থানীয়রা।

দলমত নয়, ১৭ কোটি মানুষের সেবায় কাজ করবে বিএনপি সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:১৯ পূর্বাহ্ণ
দলমত নয়, ১৭ কোটি মানুষের সেবায় কাজ করবে বিএনপি সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু বলেছেন, ‘বিএনপি দেশের জনগণের সেবায় নিয়োজিত একটি সরকার। আমাদের কে ভোট দিছে আর কে দেয় নাই, সেই হিসেব আমরা করি না। কে কোন দল করে তাও আমরা দেখবো না। বিএনপি সরকার ১৭ কোটি মানুষের। দলমত নির্বিশেষে আমরা সকলের জন্যই কাজ ও সেবা করতে চাই।’

শনিবার (২৫ এপ্রিল) নিজ নির্বাচনী এলাকা ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের সেনহাটি খাল পনঃখনন কর্মসুচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, গত ১৭ বছর আওয়ামী সরকারের আমলে কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে কোনো কাজ হয়নি। খাল ও নদী-নালা খননের মতো কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়নি। যেকারণে আমাদের দেশের নদী-নালা ও খালগুলো শুকিয়ে গেছে। এমন অবস্থায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা করেছেন। খালগুলো আমরা ধীরে ধীরে খনন করবো। এটা কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে একটা যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

শামা ওবায়েদ বলেন, খাল খনন কর্মসূচি অত্র অঞ্চলের উন্নয়নের সূতিকাগার হয়ে থাকবে। শুধু খাল খনন নয়, পর্যায়ক্রমে রাস্তা-ঘাট, কালভার্ট, ব্রিজ যা যা প্রয়োজন অবকাঠামো সকল প্রকার উন্নয়ন বিএনপি সরকারের হাত ধরেই হবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের পর থেকে থানায় যে মামলা গুলো হচ্ছে, সেগুলো নিজেদের মধ্যে মারামারির মামলা। এখন আর কোনো রাজনৈতিক মামলা হচ্ছে না। সবারই নিজ নিজ দল করার অধিকার রয়েছে। প্রতিহিংসাবসত কারো বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা এই মাটিতে হবে না।

সালথায় চলমান সহিংসতার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপির এই নেত্রী বলেন, পুলিশ প্রশাসন আপনাদের সহযোগিতা ও নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য কাজ করছে। কিন্তু আপনারা যদি গ্রুপের বশবর্তী হয়ে পুলিশের উপর বা তাদের গাড়িতে হামলা করেন, তাহলে সংসদ সদস্য হিসেবে এটা আমি একেবারেই ভালোভাবে নিব না। আমি কঠোর অবস্থানে আছি, আপনারা পুলিশ প্রশাসনও  কঠোর অবস্থানে থাকবেন।

তিনি বলেন, যারা সহিংসতায় জড়াচ্ছে তারা বিএনপির হোক বা আমার কাছের লোক হোক, সেটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেখার বিষয়। কেউ সহিংসতায় জড়ালে তাকে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। সে যে দলের হোক। সমাজে অশান্তি সৃষ্টিকারী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দবির উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সহকারী পুলিশ সুপার মো. মাহমুদুল হাসান, সালথা থানার ওসি বাবলুর রহমান খান, সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আসাদ মাতুব্বর, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার খায়রুল বাসার আজাদ, যুবদল নেতা তৈয়বুর রহমান মাসুদ, এনায়েত হোসেন, হাসান আশরাফ, মাহফুজুর রহমান, শাফিকুল ইসলাম, বিএনপি নেতা মুরাদুর রহমান প্রমূখ।