খুঁজুন
শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬, ২১ ফাল্গুন, ১৪৩২

ইতিকাফে ভুল করলে নষ্ট হতে পারে আমল—যেসব কাজ নিষিদ্ধ?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬, ৭:২৬ এএম
ইতিকাফে ভুল করলে নষ্ট হতে পারে আমল—যেসব কাজ নিষিদ্ধ?

আল্লাহর নৈকট্য লাভ করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল হলো ইতিকাফ। ইতিকাফ তিন প্রকার। এর মধ্যে রমজানের শেষ দশদিন ইতেকাফ করা সুন্নতে মুআক্কাদা কেফায়া। কোনো মহল্লা বা এলাকা থেকে একজন ইতেকাফ করলে পুরো মহল্লাবাসীর পক্ষ থেকে এটি আদায় হয়ে যাবে। আর কেউ ইতেকাফ না করলে সবাই গোনাহগার হবে।

ইতেকাফ করার সময় কিছু বিধিনিষেধ মেনে চলতে হয়। কিছু কাজ আছে যেগুলো ইতেকাফ অবস্থায় নিষিদ্ধ এবং ইতেকাফকারী ওই কাজগুলো করলে ইতেকাফ ভেঙে যাবে।

চলুন জেনে নিই, ইতিকাফে কী কী কাজ নিষিদ্ধ

১. ইতেকাফ অবস্থায় স্ত্রী-সহবাস সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। রমজানে দিনের বেলা রোজা অবস্থায় স্ত্রী-সহবাস নিষিদ্ধ হলেও রাতে সহবাসের অনুমতি রয়েছে। কিন্তু ইতেকাফ অবস্থায় রাতেও সহবাসের নিষিদ্ধ। ইতেকাফরত ব্যক্তি স্ত্রী সহবাস করলে ইতেকাফ ভেঙে যাবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমরা মাসজিদে ইতিকাফরত অবস্থায় স্ত্রীদের সাথে মিলিত হয়ো না। এটা আল্লাহর সীমারেখা, সুতরাং তোমরা তার নিকটবর্তী হয়ো না। (সুরা বাকারা: ১৮৭)

২. ইতেকাফকালে রোজা রাখা জরুরি। কেউ যদি কোনো প্রয়োজনে রোজা ভেঙে ফেলে বা কোনোভাবে রোজা ভেঙে যায়, তাহলে তার ইতেকাফও ভেঙে যাবে। যেমন কেউ যদি অসুস্থতার কারণে রোজা ভেঙে ফেলে, তাহলে তার ইতেকাফও ভেঙে যাবে। একইভাবে ইচ্ছাকৃত পানাহার, সহবাস বা জাগ্রত অবস্থায় ইচ্ছাকৃত বীর্যস্খলন ঘটানোর কারণে কারো রোজা ভেঙে গেলে তার ইতেকাফও ভেঙে যাবে। ( মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক : ৪/৩৫৪, হিদায়া : ১/২২৯, ফাতাওয়া সিরাজিয়া : পৃ. ৩১, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া : ২/৪১০-৪১৩, আলবাহরুল রায়েক : ২/২৯৯, আদ্দুররুল মুখতার : ২/৪৪২)

৩. একান্ত প্রয়োজন ছাড়া মসজিদ থেকে বের হলে ইতেকাফ ভেঙে যাবে। ইতেকাফরত অবস্থায় অজু, ফরজ-গোসল ও প্রাকৃতিক প্রয়োজনে মসজিদ থেকে বের হওয়া যাবে। কিন্তু রোগী দেখতে যাওয়া, জানাজার নামাজের মতো ফজিলতপূর্ণ কাজের জন্য বা অপ্রয়োজনীয় গোসল, বেচাকেনা, মোবাইলে কথা বলা ইত্যাদি কাজের জন্যও মসজিদ থেকে বের হওয়া যাবে না। (আবু দাউদ : ২৪৭৩)

প্রসঙ্গত, ইতেকাফ অবস্থায় নারীদের পিরিয়ড বা মাসিক শুরু হলে তাদের ইতেকাফ ভেঙে যাবে। পরে শুধু এক দিনের ইতিকাফ রোজাসহ কাজা করতে হবে। এই এক দিন কাজা করার নিয়ম হলো, রমজান মাসের পর কোনো একদিন সূর্যাস্তের আগে ইতিকাফ শুরু করতে হবে এবং পরের দিন রোজা থাকতে হবে। সেদিন সূর্যাস্তের পর ইতিকাফ শেষ হবে।

এভাবে একদিন রোজাসহ ইতিকাফ করলেই কাজা আদায় হয়ে যাবে। পুরো দশ দিনের ইতিকাফ কাজা করতে হবে না। তবে কারও রমজানের শেষ দশকে ঋতুস্রাব হওয়ার নিয়ম থাকলে তিনি ঋতুস্রাব শুরু হওয়া পর্যন্ত নফল ইতিকাফ করতে পারবেন। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/২০৭, বাদায়েউস সানায়ে : ২/২৭৪, আহসানুল ফাতাওয়া : ৪/৫০২)

সূত্র : কালবেলা

ফরিদপুরে তিনদিনব্যাপী “রমাদান ফেস্টিভ্যাল” শুরু, গণইফতারে অংশ নিলেন দুই হাজার মানুষ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬, ৭:৪৪ পিএম
ফরিদপুরে তিনদিনব্যাপী  “রমাদান ফেস্টিভ্যাল” শুরু, গণইফতারে অংশ নিলেন দুই হাজার মানুষ

পবিত্র মাহে রমজানকে ঘিরে ধর্মীয় আবহ, সামাজিক সম্প্রীতি ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমকে উৎসাহিত করতে ফরিদপুরে শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী “রমাদান ফেস্টিভ্যাল”।

শুক্রবার (৬ মার্চ) বিকেলে শহরের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন করা হয়। স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ইউনাইটেড ফরিদপুর এ আয়োজনের উদ্যোগ নেয়।

ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন উপলক্ষে বিকেলে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং গণইফতারের আয়োজন করা হয়। ইউনাইটেড ফরিদপুরের সভাপতি জুরাইস ইবনে আশরাফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম। এছাড়া বক্তব্য দেন এসডিসির নির্বাহী পরিচালক কাজী আশরাফুল হাসান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য প্রফেসর আবদুত তাওয়াব, সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের সাবেক অধ্যাপক প্রফেসর আব্দুল বাতেন এবং বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. মুস্তাফিজুর রহমান শামীমসহ অন্যান্য অতিথিরা।

এ সময় মাহে রমজানের তাৎপর্য ও মানবিক শিক্ষার ওপর আলোচনা করেন ফরিদপুর মডেল মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, রমজান শুধু সংযমের মাস নয়, এটি আত্মশুদ্ধি, সহমর্মিতা এবং সমাজে নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়।

বক্তারা বলেন, এ ধরনের আয়োজন সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একইসঙ্গে স্থানীয় ক্ষুদ্র ও নতুন উদ্যোক্তাদের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির সুযোগ সৃষ্টি করে, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করতে সহায়ক।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে ফরিদপুরের খান ভিলা জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।

পরে আয়োজিত গণইফতার মাহফিলে প্রায় দুই হাজার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এতে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা অংশ নিয়ে একসঙ্গে ইফতার করেন।

রমাদান ফেস্টিভ্যাল উপলক্ষে প্রায় ৫০টি স্টল বসেছে, যেখানে দেশীয় খাবার, পোশাক, ইসলামী সামগ্রী, হস্তশিল্প ও বিভিন্ন উদ্যোক্তার পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করা হচ্ছে। আগামী ৮ মার্চ পর্যন্ত চলবে এই ফেস্টিভ্যাল।

আয়োজকরা জানান, প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, আলোচনা ও বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমও অনুষ্ঠিত হবে।

‘নারী শক্তির প্রতীক, সম্ভাবনার উৎস’

রেহেনা ফেরদৌসী
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬, ৫:৫৪ পিএম
‘নারী শক্তির প্রতীক, সম্ভাবনার উৎস’

নারী দিবস বলতেই আমরা সবাই শুধু নারীদের পিছিয়ে রাখার, বঞ্চিত করার গল্প শুনি এবং বলি। তবে আমি আজ নারীদের জয় যাত্রার কথা বলবো এবং কিভাবে তা আরো বৃদ্ধি করা যায়…সেটি নিয়ে কথা বলবো। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নারীর অর্থনৈতিক অবস্থান বেশ উন্নত।

নারীরা এখন অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, বিশেষ করে পোশাক শিল্পে। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে ৪৫ লক্ষ নারী কর্মরত রয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক “নারী উদ্যোক্তা ফাইন্যান্সিং স্কিম” চালু করেছে, যার সুদহার ৪% থেকে কমিয়ে ২% করা হয়েছে। নারীরা এখন ডিজিটাল অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করছে, ৫৫% নারী মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করছে।

নারীরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, এবং সামাজিক সুরক্ষায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। নারীরা পোশাক শিল্পে বিপ্লবের সূচনা করেছে। এখন কৃষি, শিল্প, এবং সেবা খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। নারীর এ অগ্রযাত্রা কে এগিয়ে নিতে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিভিন্ন ঋণ ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পরও বেতন বৈষম্য এবং সামাজিক বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। যা পরিবর্তন এখন সময়ের ন‍্যায‍্য দাবি। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নারীদের জন্য নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন শৌচাগার এবং ডে-কেয়ার সেন্টারের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

আবার রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নারীরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন ব্যবস্থা চালু রয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানে নারী-পুরুষের সমান অধিকারের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। নারীরা সংসদে ৫০টি আসন সংরক্ষিত পেয়েছে, যা তাদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে নিশ্চিত করে। নারী নেতারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে গুরুত্বপূর্ণ পদে ইতোমধ্যেই অধিষ্ঠিত রয়েছেন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ নারীদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে প্রণীত হয়েছে। নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ ও সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। তবে নারীরা এখনও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছেন, যেমন নিরাপত্তাহীনতা, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা। তবে, নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধির জন্য সরকার ও বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে। নারীরা নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য সোচ্চার হচ্ছেন এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সামাজিক ক্ষেত্রে নারীরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, এবং সামাজিক সুরক্ষায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায়। তবে, নারীদের অংশদারিত্ব নিশ্চিত করতে এখনও অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যেমন ঃ নারীরা এখনও নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হচ্ছে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। নারীদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এখনও সীমিত। এই চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবেলা করতে, সরকার, বেসরকারি সংস্থা ও সমাজকে একসাথে কাজ করতে হবে।

নারীদের অংশদারিত্ব নিশ্চিত করতে, কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে:

– নারী নির্যাতন ও সহিংসতা প্রতিরোধে আইন ও নীতি প্রণয়ন করা উচিত।

– নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য প্রশিক্ষণ তা ও সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করতে হবে।

– নারীদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে।

– নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের জন্য আরও বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন।

এই চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবেলা করতে, সরকার, বেসরকারি সংস্থা ও সমাজকে একসাথে কাজ করতে হবে।

নারী মানেই শুধু পিছিয়ে পড়া গল্প নয়, নারী মানেই প্রতিবন্ধকতা সকল ক্ষেত্রে ছিলো, আছে এবং থাকবে। তবে এরই মাঝে নিজ যোগ্যতায় ধ্বনীত হবে…আলোকিত নারী! এবারের নারী দিবসের যে প্রতিপাদ্য বিষয় “Give to Gain” অর্থাৎ “দেওয়ার মাধ্যমে লাভ করা”। যা নারীদের অধিকার, সমতা এবং ক্ষমতায়নের জন্য দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে…আর তা নারীর অবদান কে গুরুত্ব ও সঠিক ভাবে মূল্যায়ন করা হলেই অর্জন করা সম্ভব হবে।

লেখক: সহ-সম্পাদক, সমাজকল্যাণ বিভাগ, কেন্দ্রীয় পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)।

ভাঙাচোরা সড়কে চরম ভোগান্তি, সালথায় রাস্তার মাঝে খুঁটি পুঁতে প্রতিবাদ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬, ৫:২৩ পিএম
ভাঙাচোরা সড়কে চরম ভোগান্তি, সালথায় রাস্তার মাঝে খুঁটি পুঁতে প্রতিবাদ

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের রাঙারদিয়া গ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবিতে বৃহস্পতিবার (০৫ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে এলাকাবাসী রাস্তার মাঝখানে খুঁটি পুঁতে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান এবং উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তবে এর আগে একাধিক বার উপজেলা প্রশাসনের কাছে চিঠি দিয়েও প্রতিকার মেলেনি বলে ওই এলাকার একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ।

স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক বছর ধরে রাঙারদিয়া পূর্বপাড়া পাকা রাস্তা থেকে একই গ্রামের স্লুইচগেট এলাকা পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এই সড়কটি বেহাল অবস্থায় রয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তা কাদায় পরিণত হয়, ফলে হাঁটা-চলা তো দূরের কথা, কোনো যানবাহনও চলাচল করতে পারে না। জরুরি প্রয়োজনে অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া কিংবা শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত করাও হয়ে ওঠে অত্যন্ত দুরূহ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কটি দিয়ে নিয়মিত ভারী ট্রাক ও বড় যানবাহন চলাচল করায় রাস্তার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে গেছে। ফলে অনেক জায়গায় বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বাধ্য হয়ে স্থানীয় মানুষজন পাশের ফসলি জমির ভেতর দিয়ে চলাচল করছেন। এতে কৃষিজমির ফসল নষ্ট হচ্ছে এবং কৃষকরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও সালথা উপজেলা কৃষকদলের সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে আমাদের প্রতিদিন চলাচল করতে হয়। কিন্তু বৃষ্টি হলে রাস্তাটা একেবারে কাদার সাগরে পরিণত হয়। আমাদের মা-বোনদের চলাচল করতে খুব কষ্ট হয়। অনেক সময় শিক্ষার্থীরাও স্কুলে যেতে পারে না।”

আরেক বাসিন্দা শারমিন আক্তার বলেন, “অসুস্থ রোগী নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়। তাই দ্রুত রাস্তাটি মেরামত করা খুবই জরুরি।”

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, “রাঙারদিয়া গ্রামের সড়কটির বিষয়ে আমরা অবগত নই, তবে আপনার মাধ্যমে এই প্রথম জানতে পারলাম। প্রতিবাদকারীরা আমাদের সাথে যোগাযোগ করলে অথবা ওই এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান বা মেম্বার দিয়ে আমাকে অবহিত করলে গুরুত্ব অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা এবং ভারী যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এতে করে স্থানীয় মানুষের ভোগান্তি কমবে এবং কৃষিজমিরও ক্ষতি রোধ করা সম্ভব হবে।