খুঁজুন
, ,

নামাজে রাকাত সংখ্যা ভুলে গেলে করণীয়

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩৯ পূর্বাহ্ণ
নামাজে রাকাত সংখ্যা ভুলে গেলে করণীয়

আল্লাহতায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন শুধু তাঁর ইবাদতের জন্য। আর ইবাদতের শ্রেষ্ঠতম রূপ হলো নামাজ। নামাজ শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং সামাজিক ও আধ্যাত্মিক জীবনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন, ‘নামাজ হলো দ্বীনের স্তম্ভ।’ অর্থাৎ, নামাজ ছাড়া ধর্মের ভিত্তি গড়ে ওঠে না।

রাসুল (সা.)-এর ভাষায়, ‘আমার চোখের স্নিগ্ধতা বা প্রশান্তি রয়েছে নামাজে।’ এ থেকেই বোঝা যায়, নামাজ শুধু শরীয়তের বিধান নয়, বরং তা একজন মুমিনের আত্মিক প্রশান্তির উৎস।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে’ (সুরা আনকাবুত : ৪৫)। অর্থাৎ, প্রকৃত নামাজি সব ধরনের অশ্লীলতা ও অনৈতিকতা থেকে নিজেকে দূরে রাখেন।

তাই নিজেকে প্রকৃত নামাজি হিসেবে গড়ে তুলতে নামাজে একাগ্রতা অবলম্বন করতে হবে। এমনভাবে নামাজ পড়তে হবে, যেন আল্লাহ আমাকে দেখছেন। হাদিসে এসেছে, ‘আল্লাহর ইবাদত করো এমনভাবে, যেন তাঁকে তুমি দেখতে পাচ্ছ। আর যদি দেখতে না পাও, তবে তিনি যেন তোমাকে দেখছেন।’ (বোখারি : ৫০, মুসলিম : ৮)

কিন্তু অনেক নামাজি প্রায় একটা সমস্যায় ভুগে থাকেন। সেটা হলো, মাঝেমধ্যেই নামাজের রাকাত সংখ্যা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন। আদায়কৃত নামাজ তিন রাকাত হলো না চার রাকাত হলো, বিষয়টি মনে করতে পারেন না। আবার অনেকের নামাজের ভেতরেই সন্দেহ তৈরি হয়। ফলে কেউ সন্দেহ নিয়ে নামাজ শেষ করেন। আবার কেউ নতুন করে নামাজ আদায় করে থাকেন। এই অবস্থায় কীভাবে নামাজ আদায় করতে হবে, ফরিদপুর প্রতিদিনের পাঠকদের জন্য তা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—

ফুক্বাহায়ে কেরাম বলছেন, কেউ যদি এমন সমস্যার মুখোমুখি হন, তবে তিনি চিন্তা করে দেখবেন যে, তিনি আসলে কত রাকাত পড়েছেন। তখন প্রবল ধারণা যেটির পক্ষে সায় দেবে, তার ওপর ভিত্তি করে বাকি নামাজ পূর্ণ করবেন। আর যদি নামাজের রাকাতসংখ্যার ব্যাপারে প্রবল ধারণা না হয়, তাহলে কম সংখ্যাটা ধরবেন এবং এ হিসেবে বাকি নামাজ পূর্ণ করে সিজদা সাহু দেবেন

প্রখ্যাত ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, নামাজে কত রাকাত পড়েছেন আপনার সন্দেহ হচ্ছে— তিন রাকাত নাকি চার রাকাত। এ ক্ষেত্রে প্রথম কথা হলো, যদি আপনার প্রবল ধারণা হয়, আমার কমেরটাই বেশি মনে হচ্ছে, অর্থাৎ তিন আর চারের মধ্যে সন্দেহকালে তিন রাকাতই বেশি মনে পড়ছে, তবে এ অবস্থায় আরেক রাকাত পড়ে সিজদা সাহু করে নেবেন। আর যদি দুটোই সমান সমান মনে হয়, অর্থাৎ তিনের পক্ষে মন টানে আবার চারের পক্ষেও মন টানে, তাহলে কমটা ধরে আরও এক রাকাত পড়ে সিজদা সাহু দিয়ে নামাজ শেষ করবেন। নামাজ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

হাদিস শরিফে হজরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কারো যদি নামাজের মধ্যে সন্দেহ হয়, ফলে সে জানে না যে এক রাকাত পড়ল না কি দুই রাকাত, তাহলে সে যেন এক রাকাত ধরে নিয়ে নামাজ পড়ে। আর যদি দুই রাকাত পড়ল না তিন রাকাত, তা না জানে তাহলে যেন দুই রাকাত ধরে নামাজ পড়ে এবং (এসব ক্ষেত্রে) সালাম ফেরানোর পূর্বে দুটি সিজদা আদায় করে (অর্থাৎ সিজদা সাহু করে)।’ (তিরমিজি : ৩৯৮)

ফরিদপুরে খাল দখলমুক্তে প্রশাসনের অভিযান, ভাঙা হলো ৪০ বছরের অবৈধ স্থাপনা

মো. ইনামুল খন্দকার, মধুখালী:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে খাল দখলমুক্তে প্রশাসনের অভিযান, ভাঙা হলো ৪০ বছরের অবৈধ স্থাপনা

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার পেঁয়াজ বাজার এলাকায় সরকারি খালের ওপর দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন। প্রায় ৪০ বছর ধরে দখলে থাকা খালটি উদ্ধার হওয়ায় এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে মধুখালী পৌরসভার পেঁয়াজ বাজার এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক থেকে চন্দনা নদী পর্যন্ত সরকারি খালের ওপর নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন মধুখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রতীক দত্ত। এ সময় পুলিশ প্রশাসনের সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মধুখালী বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আবুল বাশার বাদশা, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান মিন্টু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ মিয়া, স্থানীয় সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রতীক দত্ত বলেন, “প্রায় ৪০ বছর ধরে পেঁয়াজ বাজার এলাকার সরকারি খালের ওপর অবৈধভাবে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের নিচে থাকা কালভার্টের মুখ বন্ধ হয়ে যায়। এতে বৃষ্টির সময় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়ে মহাসড়কের দক্ষিণ পাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বর্ষা মৌসুমে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় এবং হাটের দিন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।”

তিনি আরও বলেন, “উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশনায় সরকারি খাল উদ্ধার এবং পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

মধুখালী বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান মিন্টু বলেন, “সরকারি খালের ওপর অবৈধ স্থাপনা থাকায় দীর্ঘদিন ধরে বাজার এলাকায় জলাবদ্ধতা ও চলাচলে ভোগান্তি ছিল। প্রশাসনের এই উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের একটি সমস্যার সমাধানের পথ তৈরি হলো।”

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরাও প্রশাসনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, খালটি সম্পূর্ণ দখলমুক্ত রেখে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমবে এবং বাজার ও আশপাশের এলাকার পরিবেশও উন্নত হবে।

ফরিদপুরে ৫০০ টাকায় আর ভরে না বাজারের ব্যাগ, নিত্যপণ্যের আগুনে দিশেহারা মানুষ

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৫:৪৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ৫০০ টাকায় আর ভরে না বাজারের ব্যাগ, নিত্যপণ্যের আগুনে দিশেহারা মানুষ

আয় একই থাকলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে চরম বিপাকে পড়েছেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার সাধারণ মানুষ। কয়েক মাস আগেও যে বাজার ৫০০ টাকায় মোটামুটি হয়ে যেত, এখন সেই টাকা দিয়ে প্রয়োজনীয় সবজি, মাছ ও মসলার অল্প কিছু জিনিস কিনতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে ক্রেতাদের। সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা।

গত শুক্রবার সরকারি ছুটির সুযোগে আলফাডাঙ্গা সদর বাজারে বাজার করতে আসেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহ-ব্যবস্থাপক বেলাল হোসেন। সঙ্গে ছিল মাত্র ৫০০ টাকা। তিনি দুই কেজি আলু, বেগুন, কচুর মুখি, ধুন্দুল, পটল ও একটি লাউ কিনতেই প্রায় পুরো টাকা শেষ হয়ে যায়। এরপর মাছের বাজারে গিয়ে ৫০০ গ্রাম চাষের মাছ কিনে দেখেন বিল ৫০০ টাকারও বেশি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে এক কেজি আলু ফেরত দিয়ে মাছের দাম পরিশোধ করেন। বাড়ি ফিরে বুঝতে পারেন, স্ত্রী কাঁচামরিচ কিনতে বললেও টাকার অভাবে সেটি কেনা হয়নি।

ক্ষোভ প্রকাশ করে বেলাল বলেন, “আয় তো বাড়েনি, কিন্তু খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। আগে ৫০০ টাকায় এক সপ্তাহের প্রয়োজনীয় বাজারের অনেকটাই হয়ে যেত, এখন একদিনের বাজার করতেও টাকা কম পড়ে যাচ্ছে।”

একই ধরনের সংকটের কথা জানান আলফাডাঙ্গা পৌরসভার বাকাইল গ্রামের ভাঙারি ব্যবসায়ী আক্কাস বিশ্বাস। তিনি বাড়ি বাড়ি ঘুরে পুরোনো কাগজ, কার্টন, লোহা ও প্লাস্টিক সংগ্রহ করেন। আগে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা আয় হলেও এখন সেই আয় কমে দাঁড়িয়েছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়। কারণ হিসেবে তিনি জানান, ভাঙারি পণ্যের দাম প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। আগে যে কার্টনের কেজি ১৬ থেকে ১৮ টাকায় বিক্রি হতো, এখন সেটি মাত্র ৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আয় কমে গেলেও সংসারের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

আলফাডাঙ্গা সদর বাজার, গোপালপুর, জাটিগ্রাম ও হেলেঞ্চা হাট ঘুরে দেখা যায়, গত ছয় মাসের তুলনায় অধিকাংশ শাকসবজির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বাজারে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সবজি কম থাকায় অন্য জেলা থেকে আসা পণ্যের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, বর্তমানে বাজারে বিক্রি হওয়া প্রায় ৭০ শতাংশ সবজি বাইরের জেলা থেকে আসে। পরিবহন ব্যয়, বৃষ্টির কারণে সরবরাহ সংকট এবং মৌসুমি প্রভাবের কারণে দাম বেড়েছে।

বর্তমানে আলফাডাঙ্গা বাজারে আলু ৩০ টাকা, কাঁচামরিচ ১৬০ টাকা, পেঁয়াজ ৩০ টাকা, আদা ২৪০ থেকে ২৮০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, পটল ৭০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, কচুর মুখি ৭০ টাকা এবং ঢ্যাঁড়স ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাউ ও চালকুমড়া আকারভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং স্থানীয় পুঁইশাক, কলমিশাক ও লালশাক ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজি বিক্রেতা ফারুক হোসেন মিয়া বলেন, পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে সবজি কিনতে হচ্ছে। তাই কম দামে বিক্রির সুযোগ নেই। শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করলে দাম কিছুটা কমতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

শুধু সবজি নয়, মাছের বাজারেও বেড়েছে দাম। মাছ ব্যবসায়ী গোপাল চন্দ্র জানান, বর্ষা মৌসুম হলেও নদীতে মাছ কম ধরা পড়ছে। দেশীয় মাছের দাম এখন ৮০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত। চাষের রুই, কাতলা, সিলভার কার্প ও গ্রাস কার্পের মতো মাছও এখন ৩০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না।

আরেক মাছ ব্যবসায়ী পবন দাশ বলেন, স্থানীয়ভাবে মাছের উৎপাদন কম হওয়ায় খুলনা, বাগেরহাট ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলা থেকে মাছ আনতে হয়। পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব সরাসরি বাজারে পড়ছে।

আলফাডাঙ্গা সদর বাজার সবজি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জুদ্দু মিয়া বলেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে সবজির দাম কিছুটা বাড়ে। তবে এবার সরবরাহ কম থাকায় দাম আরও বেশি। স্থানীয় উৎপাদন বাড়লে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাজারে স্বস্তি ফিরতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজার তদারকি জোরদার এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার করা আরও কঠিন হয়ে উঠবে। বর্তমানে সংসারের বাজেট সামলাতে অনেক পরিবারকেই প্রয়োজনীয় পণ্য কম কিনে কিংবা তালিকা থেকে বাদ দিয়ে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।

ফরিদপুরে ইজিবাইক চালক হত্যায় দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৪:২০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ইজিবাইক চালক হত্যায় দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ফরিদপুরে ইজিবাইক চালক কিশোর মো. নাঈম শেখ (১৫)-কে শ্বাসরোধ করে হত্যা, মরদেহ মাটি চাপা দিয়ে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুই যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া অপর একটি ধারায় তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের রায় দেওয়া হয়। তবে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী দুটি সাজা একসঙ্গেই কার্যকর হবে, ফলে তাদের যাবজ্জীবন সাজাই কার্যকর থাকবে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুরের জেলা ও দায়রা জজ (পারিবারিক আপিল আদালতের বিচারক) অশোক কুমার দত্ত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, ফরিদপুর সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের লোকমানখার ডাঙ্গী গ্রামের আছমত শেখ (২৩) ও সাগর মোল্লা (৩২)। নিহত নাঈম শেখ একই ইউনিয়নের গোয়ালের টিলা গ্রামের বাসিন্দা মো. সামসু শেখের ছেলে।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২১ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে নাঈম তার ইজিবাইক নিয়ে যাত্রী পরিবহনের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হন। সারাদিন পার হলেও তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। ফোনটি বন্ধ পাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু হলেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।

পরদিন ২২ এপ্রিল ভোরে লোকমানখার ডাঙ্গী এলাকায় চোরাই ইজিবাইকসহ আছমত ও সাগরকে আটক করে পুলিশ। পরে উদ্ধার হওয়া ইজিবাইকটি নাঈমের বলে শনাক্ত হয়।জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা নাঈমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা এবং মরদেহ নিজেদের বাড়ির পাশের একটি স্থানে মাটি চাপা দেওয়ার কথা স্বীকার করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় ওইদিন বিকেলে নিহতের বড় ভাই মো. রাশেদ শেখ বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় আছমত শেখ, সাগর মোল্লা এবং ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত এ রায় দেন।

সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) শাহ মো. আজিজুর রহমান বলেন, “আদালতের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। দুটি সাজা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় দণ্ডপ্রাপ্তদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডই ভোগ করতে হবে। মামলার অপর আসামি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার বিচার শিশু আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।”