খুঁজুন
, ,

বাংলাদেশে ঈদ কবে, যা জানা গেল

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৮ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশে ঈদ কবে, যা জানা গেল

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর কবে উদযাপিত হবে, তা নির্ধারণে আগামী ১৯ মার্চ বৈঠকে বসছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ওইদিন সন্ধ্যায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সভা থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

এদিকে চলতি বছরের পবিত্র রমজান মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসাব বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, আগামী ২০ মার্চ শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

ইমেরাতস অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান জানিয়েছেন, আগামী ১৮ মার্চ বুধবার আকাশে নতুন চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। ১৯ মার্চ বৃহস্পতিবার দুবাই সময় ভোর ৫টা ২৩ মিনিটে নতুন চাঁদের জন্ম হবে এবং ওই দিন সূর্যাস্তের পর প্রায় ২৯ মিনিট পর্যন্ত চাঁদ দিগন্তের ওপরে অবস্থান করবে। আকাশ পরিষ্কার থাকলে ওই দিন সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা যাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। সেই হিসেবে ২০ মার্চ শুক্রবার শাওয়াল মাস শুরু হওয়ার অর্থাৎ পবিত্র ঈদুল ফিতর হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

আল জারওয়ান আশা প্রকাশ করেছেন, আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের এই সূচকগুলোর ওপর ভিত্তি করে বিশ্বের অধিকাংশ মুসলিম দেশ এবার একই দিনে ঈদ শুরুর বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারে।

তবে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রতিটি দেশের জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির পক্ষ থেকেই আসবে। সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের এক দিন পর বাংলাদেশে রোজা ও ঈদ শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতায় যদি সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে ২০ মার্চ ঈদ হয়, তবে বাংলাদেশে ২১ মার্চ শনিবার ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২১ মার্চ সম্ভাব্য ঈদের তারিখ ধরে ছুটির ক্যালেন্ডার সাজিয়েছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের এই নতুন পূর্বাভাস সরকারি সেই পরিকল্পনার সঙ্গেই মিলে যাচ্ছে।

সালথায় পাটের গাইট মাথায় নিয়ে ফেরার পথে বজ্রপাতে কিশোরের মৃত্যু

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩৯ অপরাহ্ণ
সালথায় পাটের গাইট মাথায় নিয়ে ফেরার পথে বজ্রপাতে কিশোরের মৃত্যু

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় পাটের গাইট মাথায় নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে মিরাজ শেখ (১৫) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের বড় খারদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মিরাজ ওই গ্রামের বাবুল শেখের ছেলে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়ির পাশের জমিতে ধৌত করা পাটের গাইট মাথায় নিয়ে বাড়ি ফিরছিল মিরাজ। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

যদুনন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম মোল্লা বজ্রপাতে মিরাজের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, খবর পেয়ে তিনি নিহতের বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা বর্ষা মৌসুমে বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে বা উন্মুক্ত স্থানে কাজ করার ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

একটি পোটলা, একটি লাঠি আর এক বৃদ্ধার অপেক্ষাহীন জীবন

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৯ পূর্বাহ্ণ
একটি পোটলা, একটি লাঠি আর এক বৃদ্ধার অপেক্ষাহীন জীবন

ঘড়ির কাঁটা রাত সাড়ে ৯টা ছুঁইছুঁই। বাইরে রিমঝিম বৃষ্টি। ফরিদপুর রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে মিটমিট করে জ্বলছে ডিম লাইটের ক্ষীণ আলো। দূরে কোথাও ট্রেনের হুইসেল মিলিয়ে যায় রাতের নিস্তব্ধতায়। একটি কুকুর ধীরে ধীরে পাশ ঘেঁষে চলে যায়। চারপাশে মানুষের আনাগোনা কমে এসেছে, অথচ একজন মানুষ তখনও জেগে আছে—না, চোখে নয়; জীবনের কঠিন বাস্তবতায়।

প্ল্যাটফর্মের এক কোণে মাটিতে শুয়ে আছেন এক বৃদ্ধা। গায়ে একটি পুরোনো শাড়ি। মাথার নিচে ছোট্ট কাপড়ের বালিশ। পাশে একটি পোটলা—হয়তো এটাই তার সমস্ত সম্বল। একজোড়া পুরোনো স্যান্ডেল, একটি লাঠি, আর একটি প্লাস্টিকের গামলায় রাখা পানির বোতল ও কিছু সামান্য জিনিসপত্র। মনে হয়, এই অল্প কয়েকটি জিনিসই তার পুরো পৃথিবী।

বয়স হয়তো ষাট পেরিয়েছে। মুখে সময়ের নির্মম আঁচড়, শরীরে ক্লান্তির ছাপ। সারাদিন তিনি কী খেয়েছেন, আদৌ খেতে পেরেছেন কি না—সেই খবর রাখার মানুষ হয়তো আর কেউ নেই। মাথার ওপর নেই কোনো ছাদ, অপেক্ষায় নেই কোনো আপনজন। দিনের শেষে তার ঠিকানা এই রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম, আর আকাশটাই যেন তার একমাত্র ছাদ।

হয়তো একদিন তারও ছিল একটি সংসার। ছিল সন্তানের মুখ, ছিল হাসি-আনন্দে ভরা উঠোন। সময়ের নির্মম স্রোতে হারিয়ে গেছে সব। আজ তিনি সমাজের হাজারো ব্যস্ত মানুষের চোখের সামনে থেকেও অদৃশ্য এক মানুষ। শত শত যাত্রী তার পাশ দিয়ে হেঁটে যায়, কিন্তু খুব কম মানুষই থেমে জানতে চায়—“মা, আপনি কেমন আছেন?”

সভ্যতার অগ্রগতির গল্প আমরা প্রতিদিন বলি। উন্নয়নের পরিসংখ্যান নিয়ে গর্ব করি। অথচ একটি অসহায় বৃদ্ধা যখন রেলস্টেশনের খোলা প্ল্যাটফর্মে বৃষ্টির রাতে ঘুমিয়ে থাকেন, তখন প্রশ্ন জাগে—আমাদের উন্নয়নের আলো কি তার কাছে পৌঁছেছে?

হয়তো এই বৃদ্ধা কোনো খবরের শিরোনাম হবেন না। কিন্তু তার নীরব ঘুম, তার পাশে পড়ে থাকা লাঠি আর ছোট্ট পোটলাটি আমাদের সমাজের এক কঠিন বাস্তবতার প্রতীক। মানবিকতার পরীক্ষা বড় বড় মঞ্চে নয়, এমন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই।

হয়তো একটি উষ্ণ খাবার, একটি শুকনো কম্বল, একটু চিকিৎসা কিংবা একটি নিরাপদ আশ্রয়—এসবই বদলে দিতে পারে তার আগামী সকাল। কারণ, প্রতিটি মানুষেরই সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। আর সেই অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু রাষ্ট্রের নয়, আমাদের সবার।

লেখক: সংবাদকর্মী, ফরিদপুর

এই ৪ অভ্যাস আছে? ভাইরাল হতে পারে আপনার ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি-ভিডিও

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৬:০৭ পূর্বাহ্ণ
এই ৪ অভ্যাস আছে? ভাইরাল হতে পারে আপনার ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি-ভিডিও

ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও হঠাৎ করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীরা বুঝতেই পারেন না, কীভাবে তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত অন্যের হাতে পৌঁছে গেল।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনন্দিন কিছু অসতর্ক অভ্যাসই এমন ঘটনার বড় কারণ। এসব অভ্যাস সম্পর্কে সচেতন থাকলে ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও ফাঁস বা ভাইরাল হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

কেন ভাইরাল হয় ব্যক্তিগত কনটেন্ট?

পুলিশি তদন্ত ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে সম্পর্কের অবনতি বা বিশ্বাসভঙ্গের জেরে ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও বাইরে চলে যায়। এ ছাড়া ব্ল্যাকমেল বা আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে হ্যাকাররাও এগুলোকে হাতিয়ার বানায়। হোটেল কক্ষে লুকানো ক্যামেরা বসানো, অচেনা লিংকে ক্লিক করিয়ে ফোনে ক্ষতিকর অ্যাপ ঢুকিয়ে দেওয়া কিংবা ফ্রি ক্লাউড-লিংকের ফাঁদেও পড়েন অনেকে।

ঝুঁকি বাড়ায় যে ৪ অভ্যাস–

১. সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করা

ভাইরাল ভিডিও দেখার লোভে অনেকেই অচেনা লিংকে ক্লিক করেন। সেখান থেকে টেলিগ্রাম চ্যানেল বা বিভিন্ন ক্লাউড স্টোরেজে ঢুকে পড়েন। এতে অজান্তেই গ্যালারির অ্যাক্সেস দিয়ে ফেলেন ব্যবহারকারীরা। আর সেই সুযোগ কাজে লাগায় সাইবার অপরাধীরা।

২. ভুয়া অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড

অজান্তে ভুয়া বা সন্দেহজনক অ্যাপকে গ্যালারির অনুমতি দিয়ে ফেলেন অনেকেই। এতে সরাসরি ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও চলে যায় হ্যাকারদের হাতে।

৩. সম্পর্কের টানাপড়েন

পুলিশি তদন্তে দেখা গেছে, ব্যক্তিগত মুহূর্ত ভাইরাল হওয়ার অন্যতম কারণ হলো সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া বা বিশ্বাসঘাতকতা। সঙ্গীর হাতে ফাঁস হচ্ছে ব্যক্তিগত মুহূর্ত।

৪. হোটেল কক্ষের স্পাই ক্যামেরা

বিভিন্ন হোটেল কক্ষে লুকানো ক্যামেরার ফাঁদে পড়ে বহু মানুষ ব্যক্তিগত মুহূর্ত হারাচ্ছেন। পরে সেই ছবি বা ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

কীভাবে বাঁচবেন?

পারমিশন হাইজিন মানুন: অচেনা অ্যাপকে কখনোই Photos/Media/Camera/Microphone–এর অনুমতি দেবেন না। ফোনের Settings → Apps → Permissions গিয়ে সময় নিয়ে পরখ করুন, অপ্রয়োজনীয় অনুমতি বন্ধ করুন।

লিংক-শৃঙ্খলা: কোনো ভাইরাল ভিডিও/ফটো দেখার কথা বলে আসা লিংকে ক্লিক করবেন না। বিশেষ করে ব্রাউজার থেকে অ্যাপ ইন্সটল বা ‘Join/Download’ চাপতে বললে সতর্ক হোন।

অফিসিয়াল স্টোর ব্যবহার করুন: অ্যাপ নামালেই হবে না; রেভিউ, ডাউনলোড সংখ্যা, প্রকাশকের পরিচয় দেখে নিন। Unknown Sources/Install unknown apps বন্ধ রাখুন।

ক্লাউড ব্যাকআপ বুদ্ধিমানের মতো: স্বয়ংক্রিয় ব্যাকআপ চালু থাকলে ব্যাকআপ ফোল্ডার এনক্রিপ্ট করুন, দুই স্তরের নিরাপত্তা (2FA) চালু রাখুন এবং শেয়ার্ড-লিংক সীমিত রাখুন।

ডিভাইস সুরক্ষা: ফোনে শক্তিশালী পাসকোড/বায়োমেট্রিক, স্ক্রিন-লক টাইমআউট কম, Find My Device চালু, নিয়মিত সফটওয়্যার/সিকিউরিটি আপডেট ইনস্টল করুন।

হোটেল রুমে সতর্কতা: অস্বাভাবিক স্থানে (ধোঁয়া-সেন্সর, চার্জার, ঘড়ি, টিভির নিচে) লেন্সের মতো জিনিস দেখলে পরীক্ষা করুন। ফ্ল্যাট/রুম নেওয়ার পর আলো কমিয়ে টর্চ বা ফোনের ফ্ল্যাশে লেন্সের ঝিলিক আছে কি না দেখে নিন।

সূত্র: আনন্দবাজার ডটকম