খুঁজুন
শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৫ আষাঢ়, ১৪৩৩

ঈদের নামাজ কখন শুরু হয়, কখন আদায় করা উত্তম?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ৯:০৭ পূর্বাহ্ণ
ঈদের নামাজ কখন শুরু হয়, কখন আদায় করা উত্তম?

পবিত্র ঈদের দিন মুসলমানদের জন্য আনন্দ, কৃতজ্ঞতা ও ইবাদতের এক বিশেষ মুহূর্ত। এ দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলোর একটি হলো ‘ঈদের নামাজ’।

শরিয়তের ভাষ্যমতে, যাদের ওপর জুমার নামাজ ফরজ, তাদের ওপর ঈদের এই নামাজ ওয়াজিব। অর্থাৎ, প্রাপ্ত বয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন, যেসকল মুসলিম পুরুষ জামাতে উপস্থিত হয়ে ঈদের নামাজ আদায়ের সক্ষমতা রাখে, তাদেরকে ঈদের নামাজ পড়তে হবে। (আলমুহীতুল বুরহানী : ২/৪৭৬, বাদায়েউস সানায়ে : ১/৬১৭, শরহুল মুনইয়া : পৃ. ৫৬৫)

এখন প্রশ্ন জাগে, ‘ঈদেরর ওয়াক্ত কখন শুরু হয়? কখন নামাজ পড়তে হবে?’

এ প্রসঙ্গে সহিহ হাদিস ও ফিকহের কিতাবে বলা হয়েছে, ঈদের নামাজের ওয়াক্ত হচ্ছে সূর্য উদিত হয়ে (নামাজের) নিষিদ্ধ সময় শেষ হওয়ার পর থেকে শুরু করে যাওয়াল তথা সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ার আগ পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যেই ঈদের নামাজ পড়তে হবে। যাওয়ালের পর আর ঈদের নামাজ সহিহ হবে না। (আবু দাউদ : ১১৩৫, আননুতাফ ফিল ফাতাওয়া : পৃ. ৬৫, আলমুহীতুল বুরহানী : ২/৪৭৭, বাদায়েউস সানায়ে : ১/৬১৯)

কখন নামাজ পড়তে হবে

ঈদুল আজহার নামাজ ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর দেরি না করে একটু তাড়াতাড়ি পড়া মুস্তাহাব। যাতে কোরবানির কাজ দ্রুত শুরু করা যায়। আর ঈদুল ফিতরের নামাজও ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি আদায় করে নেবে। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজযাক : বর্ণনা ৫৬৫১, আননুতাফ ফিল ফাতাওয়া : পৃ. ৬৭, আলবাহরুর রায়েক : ২/১৬০, ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১৫০)

প্রসঙ্গত, ঈদের নামাজ দুই রাকাত। এই নামাজের নিয়ম হলো, নিয়ত করে তাকবিরে তাহরিমা বলে নামাজ শুরু করে ছানা পড়বে। ছানা পড়ার পর ‘আল্লাহু আকবার’ ‘আল্লাহু আকবার’ ‘আল্লাহু আকবার’ বলে আরও তিনটি তাকবির বলবে।

প্রথম দুই তাকবির বলার সময় উভয় হাত কানের লতি পর্যন্ত উঠিয়ে হাত না বেঁধে ছেড়ে দেবে। তৃতীয় তাকবির বলার সময় কানের লতি পর্যন্ত হাত উঠিয়ে বেঁধে নেবে। অতঃপর সুরা-কেরাত পড়ে রুকুতে যাবে এবং প্রথম রাকাত শেষ করবে।

দ্বিতীয় রাকাতে দাঁড়িয়ে সুরা-কেরাত পড়ে রুকুতে যাওয়ার পূর্বে আগের নিয়মে তিনটি তাকবির বলবে। তবে দ্বিতীয় রাকাতে তৃতীয় তাকবির বলার সময়ও হাত না বেঁধে ছেড়ে দেবে। অতঃপর চতুর্থ তাকবির বলে রুকু করবে। এরপর অন্যান্য নামাজের ন্যায় যথারীতি নামাজ শেষ করবে। (কিতাবুল আছল : ১/৩১৯, আলহাবীল কুদসী : ১/২৪৩)

সূত্র : কালবেলা

ফরিদপুরের মধুমতী নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনে অভিযান, বাল্কহেড-ড্রেজার জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ১০:২১ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরের মধুমতী নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনে অভিযান, বাল্কহেড-ড্রেজার জব্দ

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার মধুমতী নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে একটি বাল্কহেড, একটি ড্রেজার ও একটি আনলোডার মেশিন জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেল ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের গয়েশপুর ঘাট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন মধুখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিক দত্ত। এলাকাটি মধুখালী উপজেলা এবং মাগুরা সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র মধুমতী নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এমন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালানো হয়। এ সময় নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়ায় ঘটনাস্থল থেকে নড়াইল জেলার বুড়িখালী গ্রামের বাসিন্দা মো. বেলায়েত মোল্লা (৪৫)কে আটক করা হয়। তিনি মো. হান্নান মোল্লার ছেলে।

পাশাপাশি বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত একটি বাল্কহেড, একটি ড্রেজার ও একটি আনলোডার মেশিন জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে জব্দকৃত যন্ত্রপাতি কামারখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রাকিব হোসেন চৌধুরী ইরানের জিম্মায় রাখা হয়েছে। আটক ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানা হেফাজতে সোপর্দ করা হয়েছে।

অভিযান শেষে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিক দত্ত বলেন, “নদী ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অবস্থান কঠোর। যারা আইন অমান্য করে নদী থেকে বালু উত্তোলন করবে, তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

তিনি আরও জানান, মধুখালী উপজেলায় দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ভূমি দখল, অবৈধ বালু উত্তোলনসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে এবং জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

একসঙ্গে কতটা লিচু খেলে বিপদ হতে পারে? যা বলছেন বিশেষজ্ঞ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৮:২৯ পূর্বাহ্ণ
একসঙ্গে কতটা লিচু খেলে বিপদ হতে পারে? যা বলছেন বিশেষজ্ঞ

সুস্বাদু, রসালো আর সুগন্ধে অতুলনীয় লিচু গ্রীষ্মকালের অন্যতম জনপ্রিয় ফল। তবে এই লোভনীয় ফলের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে এক মরণঘাতী ঝুঁকি, যা অনেকেরই অজানা। বিশেষ করে খালি পেটে অতিরিক্ত লিচু খাওয়া প্রাণঘাতী হতে পারে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মাইকেল গ্রেগারের মতে, লিচুর এই বিষক্রিয়া এবং এর নিরাপদ মাত্রা সম্পর্কে আমাদের সচেতন হওয়া জরুরি।

লিচুর আড়ালে লুকিয়ে থাকা ‘বিষ’

লিচুতে ‘মিথাইলিন সাইক্লোপ্রোপাইল-গ্লাইসিন’ নামক একটি প্রাকৃতিক টক্সিন বা বিষ থাকে, যা ‘হাইপোগ্লাইসিন’ (hypoglycin) জাতীয় টক্সিনের মতোই। এই বিষটি শরীরের যকৃৎ বা লিভারকে রক্তে শর্করা বা সুগার তৈরিতে বাধা দেয়। ফলে শরীরে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে অনেক কমে গিয়ে বিপত্তি ঘটে।

কেন এটি বিপজ্জনক হতে পারে?

ভারত ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলোতে লিচু কাটার মৌসুমে শিশুদের মধ্যে এক রহস্যময় মস্তিষ্কের রোগ বা ‘এনসেফালোপ্যাথি’ দেখা যেত, যাকে স্থানীয়ভাবে ‘নাইটমেয়ার’ বলা হতো।

গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশু পুষ্টিহীনতায় ভুগছিল এবং দীর্ঘ সময় না খেয়ে বা খালি পেটে লিচু বাগান থেকে প্রচুর লিচু খেয়েছিল, তাদের শরীর এই বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়। রক্তে শর্করা মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় শিশুরা খিঁচুনি এবং মস্তিষ্কের সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে মারাও যেত।

একসঙ্গে কয়টি লিচু নিরাপদ?

বিশেষজ্ঞদের গবেষণায় লিচু খাওয়ার নির্দিষ্ট সীমার কথা উল্লেখ করা হয়েছে—

শিশুদের জন্য: চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের জন্য এক বসায় ৩০ থেকে ১০০টি লিচু খাওয়া অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং বিপজ্জনক হতে পারে।

প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য: সুস্থ সবল প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে লিচু খাওয়ার ঝুঁকি কম হলেও সাবধানতা প্রয়োজন। গবেষণার তথ্যানুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির একবারে ২০০টির বেশি লিচু খাওয়া উচিত নয়। তবে একজন সাধারণ ওজনের পুরুষ প্রায় ৪৫টি লিচু খেলেও তার রক্তে টক্সিনের মাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছায় না বলে একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে।

নিরাপদ থাকার উপায়

বিশেষজ্ঞরা লিচুর বিষক্রিয়া থেকে বাঁচতে কিছু সহজ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন:

খালি পেটে লিচু নয়: কখনো খালি পেটে বা দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার পর লিচু খাবেন না।

শিশুদের ক্ষেত্রে সতর্কতা: শিশুদের রাতে অবশ্যই ভালো করে খাবার খাইয়ে ঘুমাতে দেওয়া উচিত। রাতে খাবার না খেয়ে থাকলে পরের দিন সকালে তাদের লিচু খেতে দেওয়া একেবারেই অনুচিত।

পরিমিত খাওয়ার অভ্যাস: লিচু সুস্বাদু হলেও একবারে অতিরিক্ত পরিমাণ না খেয়ে অল্প পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস করা উচিত।

পুষ্টিকর খাবার: পুষ্টিহীনতায় ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে লিচু খাওয়ার ব্যাপারে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

লিচু একটি চমৎকার পুষ্টিকর ফল যদি তা নিয়ম মেনে এবং সঠিক পরিমাণে খাওয়া হয়। সামান্য একটু সতর্কতা আপনার এবং আপনার পরিবারের জন্য এই গ্রীষ্মের আনন্দকে নিরাপদ রাখতে পারে।

তথ্যসূত্র: নিউট্রেশন ফ্যাক্ট

কর্মক্ষেত্রে বিষাক্ত বস চিনবেন যেভাবে?

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৮:২০ পূর্বাহ্ণ
কর্মক্ষেত্রে বিষাক্ত বস চিনবেন যেভাবে?

কর্মক্ষেত্রে কাজের পাশাপাশি মানসিক স্বস্তিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে কর্মজীবনে এমন বস বা ঊর্ধ্বতন থাকেন, যার আচরণ কর্ম পরিবেশকে অস্বস্তিকর করে তোলে।

কখনও অকারণে কঠোর সমালোচনা, কখনও অসম্মানজনক আচরণ, আবার কখনও কর্মীর ব্যক্তিগত সীমারেখা উপেক্ষা।

এসব কারণে ধীরে ধীরে কর্মীদের আত্মবিশ্বাস কমে যেতে পারে। দীর্ঘদিন এমন পরিবেশে কাজ করলে উদ্বেগ, মানসিক চাপ, এমনকি অবসাদও দেখা দিতে পারে।

একাধিক বিশেষজ্ঞ মনে করেন- বিষাক্ত নেতৃত্ব শুধু কাজের ক্ষতি করে না, মানসিক সুস্থতাকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করে।

অফিসে সুস্থ নেতৃত্বের অধিকারী কর্মকর্তা নিজে কী চান, কীভাবে কাজ করতে হবে বা কোন লক্ষ্য অর্জন করতে হবে— তা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেন। তবে বিষাক্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রায়ই নিজের সিদ্ধান্ত বদলান।

একদিন যে কাজের প্রশংসা করেন, পরদিন একই কাজের জন্য তীব্র সমালোচনা করেন। কখন তিনি রেগে যাবেন বা কোন বিষয় নিয়ে অসন্তুষ্ট হবেন, তা কর্মীরা বুঝে উঠতে পারেন না।

যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েশিভা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও ক্লিনিক্যাল মনোবিজ্ঞানী সাবরিনা রোমানোফ রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “এমন কর্মকর্তার অধীনে কাজ করলে কর্মীরা সব সময় সতর্ক অবস্থায় থাকেন। তারা প্রতিটি কথাবার্তা বা কাজের আগে ভাবেন, এতে আবার কোনো সমস্যা তৈরি হবে কি না। এই অনিশ্চয়তা ধীরে ধীরে মানসিক ক্লান্তি বাড়িয়ে দেয়।”

ক্ষমতার অপব্যবহার

অনেক সময় কিছু কর্মকর্তা, নিজের অবস্থানকে ব্যবহার করে কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেন। কারও সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখেন, আবার কাউকে অকারণে ছোট করেন।

ব্যক্তিগতভাবে বলা কোনো কথা পরে অন্যদের সামনে তুলে ধরেন কিংবা সহকর্মীদের একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দেন।

মার্কিন মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শক ট্রেসি ভাদাকুমচেরির মতে, “যদি কোনো কর্মকর্তা নিয়মিত অন্য সহকর্মীদের সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করেন, তবে সেটিও সতর্ক হওয়ার লক্ষণ। কারণ একইভাবে অন্যদের কাছেও তিনি আপনার বিষয়ে নেতিবাচক কথা বলতে পারেন।”

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মনোবিজ্ঞানী ও পারিবারিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ প্যাট্রিস লে গোয় বলেন, “অনেক ক্ষেত্রে কর্মীদের ভালো কাজের কৃতিত্ব নিজের নামে নিয়ে নেন বিষাক্ত কর্মকর্তা। অথবা গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে দূরে রাখেন। এতে কর্মীরা ধীরে ধীরে নিজেদের অযোগ্য ভাবতে শুরু করেন।

ব্যক্তিগত সীমারেখার প্রতি সম্মান না দেখানো

সুস্থ কর্মপরিবেশে ব্যক্তিগত জীবন ও কর্মজীবনের মধ্যে একটি ভারসাম্য থাকে। তবে বিষাক্ত বস অনেক সময় কর্মীদের ছুটির দিনেও কাজের নির্দেশ দেন। রাতের বেলায় বারবার বার্তা পাঠান বা ব্যক্তিগত সমস্যার প্রতি কোনো সহানুভূতি দেখান না।

প্যাট্রিস লে গোয় বলেন, “ভালো নেতৃত্বের বস, কাজের পাশাপাশি কর্মীর ব্যক্তিগত প্রয়োজনের প্রতিও সম্মান দেখান। তবে বিষাক্ত বস মনে করেন, কর্মীর পুরো সময়ই যেন প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ।”

অনেক সময় সভার মধ্যেই কর্মীর ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে মন্তব্য করা বা অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন করাও এই ধরনের আচরণের অংশ হতে পারে।

মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব

কর্মস্থলের চাপ সাময়িক হতে পারে। তবে প্রতিদিন অপমান, ভয় বা অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করতে হলে, এর প্রভাব শরীর ও মনে দীর্ঘদিন থেকে যায়।

প্যাট্রিস লে গোয় বলেন, “এমন পরিবেশে কাজ করলে উদ্বেগ, আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি, হতাশা এবং কর্মস্থলে যাওয়ার আগেই ভীতির অনুভূতি তৈরি হতে পারে।”

অনেকের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের মানসিক চাপের কারণে হজমের সমস্যা, মাথাব্যথা কিংবা শরীরের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথাও দেখা দেয়।

সাবরিনা রোমানোফের মতে, “কর্মস্থলের সম্পর্ক অনেকটা পরিবারের মতো। সেখানে বস অনেক সময় অভিভাবকের মতো ভূমিকায় থাকেন। ফলে তার ধারাবাহিক সমালোচনা বা অবমূল্যায়ন মানুষের পুরানো মানসিক ক্ষতকে আবারও জাগিয়ে তুলতে পারে।”

নিজেকে দোষারোপ না করা

এ ধরনের পরিস্থিতিতে অনেক কর্মী ভাবতে শুরু করেন, হয়ত সমস্যাটা তাদের মধ্যেই রয়েছে।

তবে প্যাট্রিস লে গোয় বলেন, “প্রথমেই নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিতে হবে। যদি প্রতিদিন কর্মস্থলে যাওয়ার আগে ভয়, উদ্বেগ বা অস্বস্তি তৈরি হয়, তবে সেটিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।”

সাবরিনা রোমানোফও মনে করেন, “নিজের সহ্য করার সীমা কোথায়, তা পরিষ্কারভাবে বুঝতে হবে। কঠোর ব্যবস্থাপনা আর মানসিক নির্যাতনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সেই সীমা অতিক্রম হলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে।”

ঘটনাগুলো লিখে রাখা

কোন দিন কী ঘটেছে, কে উপস্থিত ছিলেন, কী ধরনের মন্তব্য করা হয়েছে— এসব তথ্য লিখে রাখা প্রয়োজন হতে পারে।

সাবরিনা রোমানোফ বলেন, “লিখিত তথ্য শুধু ভবিষ্যতে প্রয়োজনেই কাজে আসে না, বরং নিজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে সন্দেহ তৈরি হলেও বাস্তবতা মনে করিয়ে দেয়। ইলেকট্রনিক বার্তা বা লিখিত নির্দেশ সংরক্ষণ করাও উপকারী হতে পারে।”

আলাপ সীমিত রাখা

ট্রেসি ভাদাকুমচেরির পরামর্শ, “প্রয়োজন ছাড়া ব্যক্তিগত আলোচনা না করে কাজের বিষয়েই কথোপকথন সীমাবদ্ধ রাখা ভালো। এতে অপ্রয়োজনীয় বিরোধ কমে আসে।”

প্যাট্রিস লে গোয় বলেন, “নিজের সময়, কাজের পরিমাণ এবং দায়িত্ব সম্পর্কে যতটা সম্ভব স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া উচিত। যদিও সব কর্মক্ষেত্রে তা সহজ নয়, তবু সীমারেখা তৈরির চেষ্টা প্রয়োজন।

সহায়তা চাইতে দ্বিধা না করা

কর্মস্থলের চাপ একা বহন করা সব সময় সম্ভব হয় না। পরিবার, বিশ্বস্ত সহকর্মী কিংবা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বললে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সহজ হতে পারে।

প্যাট্রিস লে গোয় বলেন, “এমন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন, যারা নিজের সক্ষমতার কথা মনে করিয়ে দেন। এতে আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা সহজ হয়।”

ট্রেসি ভাদাকুমচেরি অবশ্য সতর্ক করে বলেন, “প্রতিষ্ঠানের উচ্চপর্যায়ে অভিযোগ করার আগে, সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া সম্পর্কেও ভেবে নেওয়া উচিত।”