খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ৩ চৈত্র, ১৪৩২

সদকাতুল ফিতরের প্রয়োজনীয় মাসআলা

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ৯:২৯ এএম
সদকাতুল ফিতরের প্রয়োজনীয় মাসআলা

ইসলামে ‘সদকাতুল ফিতর’ একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ইবাদত। মাহে রমজানের সিয়াম সাধনা শেষে ঈদুল ফিতরের আনন্দ যেন সমাজের সর্বস্তরের মানুষ, বিশেষ করে অভাবী ও দুস্থরা সমানভাবে উপভোগ করতে পারে, সে জন্যই আ—্লাহ তাআলা এই সদকা ওয়াজিব করেছেন। এটি শুধু দরিদ্রের প্রতি করুণা নয়, বরং রোজাদারের রোজার ত্রুটিবিচ্যুতির পরিমার্জক এবং আ—্লাহর কৃত”তা প্রকাশের একটি মাধ্যম।

প্রবাসীদের ফিতরা আদায়ের নিয়ম
বর্তমানে অনেক প্রবাসী বিদেশে অবস্থান করে স্বদেশে ফিতরা আদায় করতে চান।

এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা হলো ফিতরা আদায়কারী ব্যক্তি যেখানে অবস্থান করবেন, সেখানকার দ্রব্য মূল্যই হিসাব করতে হবে। অর্থাৎ একজন প্রবাসী যদি সৌদি আরবে থাকেন এবং বাংলাদেশে তাঁর ফিতরা আদায় করতে চান, তবে তাঁকে সৌদি আরবের সর্বনিম্ন ফিতরার হার অনুযায়ী টাকা পাঠাতে হবে। বাংলাদেশের সর্বনিম্ন হার (যেমন ১০০ টাকা) দিলে তাঁর ফিতরা আদায় হবে না—যদি সৌদিতে তার হার বেশি (যেমন ২০০ টাকা) হয়।
অনুরূপভাবে প্রবাসীর নাবালেগ সন্তানদের ফিতরা আদায়ের দায়িত্ব পিতার ওপর, তাই তাদের ফিতরাও পিতার অবস্থানস্থলের মূল্য অনুযায়ী হবে।
তবে প্রবাসীর স্ত্রী ও বালেগ সন্তানরা যদি দেশে থাকেন, তবে তাঁদের ফিতরা দেশের বাজারমূল্য অনুযায়ী আদায় করা যাবে, কারণ তাঁদের ফিতরা মূলত তাঁদের নিজেদের ওপরই আবশ্যক। (আল-বাহরুর রায়েক : ২/৩৫৫)

চাল দিয়ে ফিতরা আদায়ের সঠিক পদ্ধতি
আমাদের দেশে চাল প্রধান খাদ্য হওয়ায় অনেকে চাল দিয়ে সরাসরি ফিতরা দিতে চান। কিন্তু হাদিস শরিফে সরাসরি চালের কথা উ—্লেখ নেই। নবী করিম (সা.) পাঁচটি দ্রব্যের কথা উ—্লেখ করেছেন : গম, যব, খেজুর, কিশমিশ ও পনির।যব, খেজুর, পনির ও কিশমিশ দ্বারা আদায় করলে এক ‘সা’ (৩২৭০.৬০ গ্রাম) এবং গম দ্বারা আদায় করলে আধা ‘সা’ (১৬৩৫.৩১৫ গ্রাম) দিতে হবে। কেউ যদি চাল দিতে চান, তবে তাঁকে এই পাঁচটির যেকোনো একটির মূল্যের সমপরিমাণ চাল দিতে হবে। সরাসরি এক সা’ বা আধা সা’ চাল দিলে ফিতরা সুন্নাহসম্মত পদ্ধতিতে আদায় হবে না। (কিফায়াতুল মুফতি : ৪/৩১২)

মূল্য দ্বারা ফিতরা আদায়ের বৈধতা
অনেকে মনে করেন খাদ্যদ্রব্য ছাড়া টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় করা জায়েজ নেই। অথচ সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেঈদের আমল দ্বারা এটি প্রমাণিত।

বিশিষ্ট তাবেঈ আবু ইসহাক আস সাবিয়ি (রহ.) বলেন, আমি সাহাবায়ে কেরামকে খাবারের সমমূল্যের দিরহাম দিয়ে ফিতরা দিতে দেখেছি। খলিফা উমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.) পত্রে লিখেছিলেন আধা সা’ গম বা তার সমমূল্য আধা দিরহাম আদায় করতে। বর্তমান যুগে দরিদ্রদের প্রয়োজন পূরণে টাকার উপযোগিতা বেশি হওয়ায় ফকিহরা একে উত্তম বলেছেন। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা : ১০৩১৭; আদ্দুররুল মুখতার : ২/৩৬৬)
সামর্থ্য অনুযায়ী ফিতরার হার নির্বাচন
আমাদের সমাজে একটি ভুল ধারণা প্রচলিত আছে যে সবাই শুধু গমের সর্বনিম্ন হার অনুযায়ী ফিতরা আদায় করেন। প্রকৃত পক্ষে যার সামর্থ্য আছে তার উচিত কিশমিশ, খেজুর বা পনিরের মূল্য অনুযায়ী ফিতরা দেওয়া। ঢালাওভাবে সামর্থ্যবানদের শুধু গমের মূল্যে ফিতরা দেওয়া সমীচীন নয়। নিজের আর্থিক অবস্থা অনুযায়ী দামি দ্রব্যের হিসাব ধরাটাই তাকওয়ার পরিচয়।

জাকাত ও ফিতরার নিসাবের পার্থক্য
অনেকে মনে করেন যার ওপর জাকাত ফরজ নয়, তার ওপর ফিতরাও নেই। এটি ভুল। জাকাত শুধু সোনা-রুপা, নগদ টাকা ও ব্যবসার মালের ওপর হয়। কিন্তু সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হয় প্রয়োজন অতিরিক্ত সব ধরনের সম্পদের ওপর (যেমন : অতিরিক্ত জমি, আসবাব, ঘরবাড়ি)। ঈদের দিন সকালে যার কাছে এই পরিমাণ সম্পদ থাকবে, তার ওপর ফিতরা ওয়াজিব। তেমনিভাবে জাকাত দিতে পারেন না এমন ব্যক্তিও যদি নিসাব পরিমাণ মালের মালিক হন, তবে তাঁকে ফিতরা নিতে দেওয়া যাবে না। (আদ্দুররুল মুখতার : ২/৩৬০)

আদায়ের সময় ও বণ্টন পদ্ধতি
সদকাতুল ফিতর আদায়ের সর্বোত্তম সময় হলো ঈদের দিন ঈদগাহে যাওয়ার আগে। তবে রমজানের শেষ দশকে বা দু-তিন দিন আগেও আদায় করা যায়, যেন দরিদ্ররা কেনাকাটা করতে পারে। যদি কেউ ঈদের নামাজের আগে দিতে না পারেন, তবে পরে হলেও তা আদায় করতে হবে, কারণ এটি একটি ওয়াজিব হক। (বুখারি, হাদিস : ১৫০৯; আবু দাউদ, হাদিস : ১৬০৬)

ফিতরা কাদের দেওয়া যাবে ও যাবে না?
ফিতরা পাওয়ার হকদার শুধু অভাবী মুসলমান। আত্মীয়দের মধ্যে যারা অভাবী (যেমন—ভাই, বোন, চাচা, ফুফু) তাদের দেওয়া সবচেয়ে উত্তম, এতে সদকা ও আত্মীয়তার সম্পর্ক, উভয় সওয়াব পাওয়া যায়। অমুসলিমদের ফিতরা দেওয়া জায়েজ নয়। নিজের ঊর্ধ্বতন (পিতা-মাতা, দাদা-দাদি) এবং নিজের অধস্তন (ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি) এবং স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে ফিতরা দেওয়া বৈধ নয়।
বাড়ির কাজের লোক যদি অভাবী হয়, তবে তাকে ফিতরা দেওয়া যাবে, তবে শর্ত হলো এটি তার পারিশ্রমিক বা বোনাস হিসেবে দেওয়া যাবে না। ফিতরা দিতে হবে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে। এ ছাড়া মসজিদ-মাদরাসা নির্মাণ, রাস্তাঘাট বা জনকল্যাণমূলক কাজে ফিতরা ব্যয় করলে ফিতরা আদায় হবে না। কারণ ফিতরার টাকা সরাসরি গরিবের মালিকানায় পৌঁছানো জরুরি। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, হাদিস : ৬৯৪৭; রদ্দুল মুহতার : ২/২৫৮)

রোজা না রাখলে ফিতরার বিধান
কেউ কেউ মনে করেন কোনো কারণে রোজা রাখতে না পারলে ফিতরা দিতে হয় না। এটি ভুল। সদকাতুল ফিতর একটি স্বতন্ত্র ইবাদত। রোজা রাখা বা না রাখার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। যদি কেউ অসুস্থতা বা অন্য কোনো ওজরে রোজা রাখতে না পারেন, কিন্তু তিনি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, তবে তাঁকে অবশ্যই ফিতরা আদায় করতে হবে।

আদায়ের সময় ও বিলম্বের হুকুম
ঈদের দিন ঈদগাহে যাওয়ার আগেই ফিতরা আদায় করা মুস্তাহাব। তবে রমজানের শেষ দিকে বা দু-তিন দিন আগেও আদায় করা উত্তম, যেন দরিদ্ররা ঈদের কেনাকাটা করতে পারে। যদি কেউ ঈদের নামাজের আগে দিতে না পারেন, তবে তাঁকে পরে অবশ্যই আদায় করতে হবে। এ ক্ষেত্রে যথাসময়ে আদায় না করার কারণে হাদিসে বর্ণিত বিশেষ সওয়াব থেকে বঞ্চিত হতে হবে। রাসুলু—্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে নামাজের আগে আদায় করবে তা মাকবুল সদকা, আর যে নামাজের পর দেবে তা সাধারণ সদকা।’
(বুখারি, হাদিস : ১৫০৯; আবু দাউদ, হাদিস : ১৬০৯)

একজনের ফিতরা কয়েকজনকে দেওয়া
সদকাতুল ফিতর বণ্টনের ক্ষেত্রে শরিয়তে শিথিলতা রয়েছে। একটি ফিতরা একাধিক দরিদ্র ব্যক্তিকে ভাগ করে দেওয়া জায়েজ। উদাহরণস্বরূপ, একজনের ফিতরার টাকা ১০০ টাকা হলে তা ২০-৩০ টাকা করে তিন-চারজনকেও দেওয়া যাবে। তবে একটি পূর্ণ ফিতরা একজন দরিদ্রকে দেওয়া উত্তম। একইভাবে কয়েকজনের ফিতরা একত্র করে একজন দরিদ্রকেও দেওয়া বৈধ। (বাদায়েউস
সানায়ে : ২/২-৮; আল-বাহরুর রায়েক : ২/২৫৫)

আধুনিক মাধ্যমে (বিকাশ/নগদ) ফিতরা প্রেরণ
বিকাশ, নগদ বা রকেটের মাধ্যমে ফিতরা পাঠালে ‘ক্যাশ আউট’ চার্জ দাতা নিজেকেই বহন করতে হবে। কারণ ফিতরার পুরো টাকা গরিবের হাতে পৌঁছানো শর্ত। চার্জ বাবদ টাকা কেটে রাখা হলে ওই পরিমাণ ফিতরা আদায় হবে না। একইভাবে ফিতরার খাদ্যদ্রব্য পাঠাতে পরিবহন ভাড়া বা শ্রমিকের মজুরি দাতার নিজস্ব সম্পদ থেকে দিতে হবে, ফিতরার টাকা থেকে নয়। (ফাতাওয়া দারুল উলুম দেওবন্দ : ৬/২১৭)

সদকাতুল ফিতর আমাদের ইবাদতের ত্রুটি মোচন করে এবং সমাজের অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটায়। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত সঠিক মাসআলা জেনে বিশুদ্ধ নিয়তে এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোত্তম মানের দ্রব্যমূল্য হিসাব করে এই ওয়াজিব ইবাদতটি পালন করা।

সৌজন্যে: কালের কণ্ঠ

এবার রোজা ২৯ না ৩০টি? যা জানাল সৌদি আরব

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ১১:৩৯ পিএম
এবার রোজা ২৯ না ৩০টি? যা জানাল সৌদি আরব

সৌদি আরবে মুসলমানদের আগামী বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। এর মাধ্যমে পবিত্র রমজান মাসের সমাপ্তি নির্ধারণ করা হবে।

সোমবার (১৬ মার্চ) জারি করা এক সরকারি বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেয়া হয়। এতে বলা হয়, উম্মুল কুরা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বুধবার ১৪৪৭ হিজরি সালের রমজান মাসের ২৯তম দিন।

যদি বুধবার সন্ধ্যায় শাওয়ালের চাঁদ দেখা যায়, তবে পরদিনই ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। আর চাঁদ দেখা না গেলে রমজান মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হবে।

সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, কেউ খালি চোখে বা দুরবীন ব্যবহার করে চাঁদ দেখতে পেলে নিকটস্থ আদালতে গিয়ে সাক্ষ্য নিবন্ধনের জন্য তা জানাতে হবে। প্রয়োজনে বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে স্থানীয় প্রশাসনিক কেন্দ্রগুলোর সহায়তাও নেওয়া যেতে পারে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যারা চাঁদ দেখার সক্ষমতা রাখেন, তারা যেন বিষয়টিতে গুরুত্ব দেন এবং এ উদ্দেশ্যে নিজ নিজ অঞ্চলে গঠিত কমিটিগুলোর সঙ্গে যুক্ত হন।’

দেশজুড়ে বিভিন্ন উঁচু স্থানে বুধবার সূর্যাস্তের সময় সরকারি চাঁদ দেখা কমিটিগুলো বৈঠকে বসবে বলে জানা গেছে। সব সাক্ষ্য যাচাই-বাছাই শেষে ঈদুল ফিতর শুরুর বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দেবে সৌদি সুপ্রিম কোর্ট।

সূত্র: গালফ নিউজ

সালথায় ১,৩০০ পাটচাষিকে বিনামূল্যে পাটবীজ বিতরণ শুরু

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
সালথায় ১,৩০০ পাটচাষিকে বিনামূল্যে পাটবীজ বিতরণ শুরু

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় পাটচাষিদের উৎপাদন বৃদ্ধি ও পাটচাষে আগ্রহ বাড়াতে বিনামূল্যে পাটবীজ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে পাট অধিদপ্তর।

সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে সালথা উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা প্রশাসন ও পাট অধিদপ্তর সালথার যৌথ আয়োজনে এই পাটবীজ বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে উপজেলার তালিকাভুক্ত ১ হাজার ৩শত পাটচাষির মাঝে উন্নত জাতের পাটবীজ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। কৃষকদের মাঝে বীজ বিতরণের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পাটচাষের আধুনিক পদ্ধতি, সময়মতো বপন এবং ফলন বৃদ্ধির বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কেও দিকনির্দেশনা দেন।

উপজেলা উপসহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আব্দুল বারী জানান, সালথা উপজেলার আটটি ইউনিয়নে মোট প্রায় তিন হাজার তালিকাভুক্ত পাটচাষি রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ১ হাজার ৩শত কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে পাটবীজ বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অবশিষ্ট ১ হাজার ৭শত পাটচাষির মাঝেও একইভাবে পাটবীজ বিতরণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার পাটকে ‘সোনালি আঁশ’ হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে উন্নত জাতের বীজ সরবরাহ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে পাটের উৎপাদন ও মান দুটোই বৃদ্ধি পায়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, পাট দেশের একটি ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। কৃষকদের সহযোগিতা করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিনামূল্যে বীজ বিতরণের মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমবে এবং পাটচাষে আগ্রহ আরও বাড়বে বলে আশা করা যাচ্ছে।

তিনি কৃষকদের সঠিক নিয়মে পাটচাষ করার আহ্বান জানান এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, বিনামূল্যে উন্নত জাতের পাটবীজ পাওয়ায় তারা উপকৃত হয়েছেন। এতে তাদের উৎপাদন খরচ কিছুটা কমবে এবং ভালো ফলন পাওয়ার আশা করছেন তারা।

‘জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে’ : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ৬:২৫ পিএম
‘জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে’ : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড ও খাল খনন কর্মসূচি চালু করা সম্ভব হয়েছে এবং জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। জাতীয়তাবাদী দল কথা দিয়ে কথা রাখে। জুলাই সনদও জাতীয়তাবাদী দল সরকারের হাত দিয়ে বাস্তবায়িত হবে।

সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদহ ইউনিয়নের বলেরবাগ থেকে সোনাখোলা ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। লক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে উদ্বোধনী সভায় তিনি এ সব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্যা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামা ওবায়েদ ইসলাম এমপি বলেন, দেশের প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার মানুষ সমানভাবে সরকারি সুবিধা পাবেন। যারা ভোট দিয়েছেন বা দেননি-সবাই ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও খাল খনন কর্মসূচির সুবিধা পাবেন। এসব কাজে কোনো দল-মত দেখা হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ বাংলাদেশ গড়তে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শহিদুল ইসলাম বাবুল এমপি। তিনি বলেন, নদ-নদী ও খাল-বিল বাংলাদেশের প্রাণ। কৃষিকে টিকিয়ে রাখতে এসব খাল ও নদী নিয়মিত খনন করা প্রয়োজন। তিনি স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে এ কর্মসূচিকে সফল করতে স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির আহবায়ক সৈয়দ মোদারেস আলী ইছা, আব্দুল্লাহ আবু জাহের, সাদরুল আলম ও আইয়ুব মোল্লা প্রমুখ।