খুঁজুন
বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২ ফাল্গুন, ১৪৩২

ফিতরা কী? কার ওপর ফরজ, কারা পাবেন—বিস্তারিত জানুন এক নজরে

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:১৮ এএম
ফিতরা কী? কার ওপর ফরজ, কারা পাবেন—বিস্তারিত জানুন এক নজরে

সাদাকাতুল ফিতর মূলত দুটি আরবি শব্দের সমষ্টি। এর মধ্যে সাদাকা শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো দান, আর ফিতর শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো উন্মুক্তকরণ বা রোজা ভঙ্গকরণ। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম পালনের পর যেহেতু তা ভঙ্গ করা হয় এবং এ উপলক্ষে শরিয়ত কর্তৃক আরোপিত এই দান অসহায় ও দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা হয়, তাই একে সাদাকাতুল ফিতর নামে আখ্যায়িত করা হয়।

ফিতরা দেওয়া কী এবং কেন দিতে হয়?

প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলিম নর-নারীর জন্য ফিতরা দেওয়া ওয়াজিব। রাসুল (সা.) বলেছেন, দুটি কারণে সাদাকাতুল ফিতরকে উম্মতের জন্য ওয়াজিব করা হয়েছে। এক.অশ্লীল কথা ও অর্থহীন কাজ হতে মাহে রমজানের সাওমকে পবিত্র করার জন্য। দুই. গরিব-মিসকিনদের খাবারের ব্যবস্থা করার জন্য। (সুনানে আবু দাউদ : ১৬০৯)

কাদের ওপর সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব

যেসব মুসলিম নর-নারীর মালিকানায় মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার মূল্য সমপরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তাদের ওপর সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব। সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হওয়ার জন্য সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন অথবা বুঝমান-বালেগ হওয়া কিংবা মুকিম হওয়া শর্ত নয়। অবুঝ-নাবালেগ, মুসাফির এবং মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিও নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তাদের ওপরও সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে।

হাদিসে নবীজি (সা.) ছোট-বড় সকলের পক্ষ থেকে সাদাকাতুল ফিতর আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। নাবালেগ, মানসিক ভারসাম্যহীনের সম্পদ থেকে তার অভিভাবক সদকায়ে ফিতর আদায় করবেন। (রদ্দুল মুহতার : ২/৩৫৯)

মাসআলা : সাদাকাতুল ফিতরের নেসাবের ক্ষেত্রে টাকা-পয়সা, সোনা- রুপা, অলংকার, ব্যবসায়িক পণ্যের সাথে বসবাস ও খোরাকির প্রয়োজনে আসে না এমন জমি, বসবাসের অতিরিক্ত বাড়ি, অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র– এসব কিছুও হিসাবযোগ্য। এসব মিলে যদি সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্যের সম্পদ থাকে, তাহলেও সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে।

নেসাবের ওপর বছরপূর্তি কি জরুরি?

সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হওয়ার জন্য নেসাবের ওপর বছরপূর্তি জরুরি নয়; ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের সময় নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হয়। তবে কেউ যদি ঋণগ্রস্ত হলে সে ঋণ বাদ দিয়ে নেসাবের হিসাব করবে।

মাসআলা : কেউ রমজানের রোজা রাখতে না পারলেও নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে তার সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। (বাদায়েউস সানায়ে : ২/১৯৯)

ইফতার ও সেহরির টাইম জানতে ক্লিক করুন..

মাসআলা : ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের সময় সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হয়। সুতরাং যে সন্তান ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের পর জন্মগ্রহণ করবে, তার পক্ষ থেকে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে হবে না। অনুরূপ কেউ যদি ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের আগে মারা যায়, তাহলে তার ওপরও সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হয় না। (বাদায়েউস সানায়ে : ২/২০৬, খুলাসাতুল ফাতাওয়া : ১/২৭৫)

যাদের পক্ষ থেকে ফিতরা দেওয়া ওয়াজিব

সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব এমন প্রত্যেকে তার নিজের পক্ষ থেকে এবং নাবালেগ সন্তানের পক্ষ থেকে (যদি সন্তানের নেসাব পরিমাণ সম্পদ না থাকে) সাদাকাতুল ফিতর আদায় করবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১৯৩)

মাসআলা : পিতা-মাতা, স্ত্রী ও বালেগ সন্তানের পক্ষ থেকে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব নয়। তারা নিজেরা প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তাদের ওপর সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব হবে। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১৯৩, মারাকিল ফালাহ : পৃ. ৩৯৫)

মাসআলা : মা সামর্থ্যবান হলেও নাবালেগ সন্তানের পক্ষ থেকে সদকায়ে ফিতর আদায় করা তার ওপর ওয়াজিব নয়। (কিতাবুল আছল : ২/১৭৭, ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১৯৩, রদ্দুল মুহতার : ২/৩৬৩)

মাসআলা : সামর্থ্যবান দাদার ওপর নাতি-নাতনিদের সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব নয়। পিতা জীবিত না থাকলে এবং দাদা নাতি-নাতনিদের ভরণপোষণের দায়িত্ব আঞ্জাম দিলেও দাদার ওপর তাদের সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা জরুরি নয়। অবশ্য কোনো কোনো আলেমের মতে, এক্ষেত্রে দাদার ওপর নাতির সদকা আদায় করা জরুরি। তাই এমন ক্ষেত্রে দাদা যদি নাতি-নাতনিদের সদকা আদায় করে দেন তাহলে সেটি ভালো হয়। (কিতাবুল আছল : ২/১৭৭, ফাতাওয়া খানিয়া : ১/২২৮, রদ্দুল মুহতার : ২/৩৬৩)

মাসআলা : বালেগ সন্তানাদি ও স্ত্রীর পক্ষ থেকে সদকায়ে ফিতর আদায় করে দিলে তা আদায় হয়ে যাবে।

নাফে‘ (রাহ.) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) তাঁর স্ত্রীদের পক্ষ থেকে সদাকাতুল ফিতর প্রদান করতেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদিস : ১০৪৫৫)

বিষয়টি প্রচলিত হওয়ায় তাদের অনুমতি জরুরি নয়। তবে আদায়ের আগে তাদেরকে বলে নেওয়া ভালো। আর স্ত্রীর দায়িত্ব হলো, সদাকাতুল ফিতর নিজেই আদায় করা অথবা তার পক্ষ থেকে আদায় করা হয়েছে কি না– এর খোঁজ রাখা। (আলমাবসূত, সারাখসী : ৩/১০৫, ফাতাওয়া খানিয়া : ১/২২৮, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া : ৩/৪৬১, আলবাহরুর রায়েক ২/২৫২, ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/১৯৩)

মাসআলা : নেসাবের মালিক নাবালেগ ছেলে-মেয়ের সাদাকাতুল ফিতর তার সম্পদ থেকেই আদায় করা নিয়ম। তাই অভিভাবক বাচ্চার সম্পদ থেকে ফিতরা আদায় করে দেবে। তবে পিতা ইচ্ছা করলে নিজ সম্পদ থেকেও তা আদায় করে দিতে পারেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা : ৩/৬৩, সহিহ বোখারি : ১/২০৪, বাদায়েউস সানায়ে : ২/১৯৯, আলবাহরুর রায়েক : ২/৪৩৯-৪৪০, আলমাবসূত, সারাখসী : ৩/১০৪, হেদায়া : ২/২২১, খুলাসাতুল ফাতাওয়া : ১/২৭৩)

সাদাকাতুল ফিতরের পরিমাণ

হাদিসে মোট পাঁচ প্রকার খাদ্য দ্বারা সাদাকাতুল ফিতর আদায়ের বর্ণনা পাওয়া যায়। যথা : ১. যব, ২. খেজুর, ৩. পনির, ৪. কিশমিশ ৫. গম। এ পাঁচ প্রকারের মধ্যে যব, খেজুর, পনির ও কিশমিশ দ্বারা সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে চাইলে মাথাপিছু এক সা‘ পরিমাণ দিতে হবে। কেজির হিসাবে যা ৩ কেজি ২৭০ গ্রাম। আর গম দ্বারা আদায় করতে চাইলে আধা সা‘ দিতে হবে। কেজির হিসাবে ১ কেজি ৬৩৫ গ্রাম। এটা ওজনের দিক দিয়ে তফাৎ। আর মূল্যের পার্থক্য তো আছেই।

উল্লেখ্য, হাদিসে এ পাঁচটি দ্রব্যের যে কোনোটি দ্বারা ফিতরা আদায়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যেন মুসলমানগণ নিজ নিজ সামর্থ্য ও সুবিধা অনুযায়ী এর যে কোনোটি দ্বারা তা আদায় করতে পারেন। তাই এক্ষেত্রে উত্তম হলো, যার উন্নতমানের আজওয়া খেজুরের হিসাবে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করার সামর্থ্য আছে, তার জন্য ওই হিসাবেই দেওয়া। যার সাধ্য পনির হিসাবে দেওয়ার, তিনি তাই দেবেন। এরচেয়ে কম আয়ের লোকেরা খেজুর বা কিশমিশের হিসাব গ্রহণ করতে পারেন। আর যার জন্য এগুলোর হিসাবে দেওয়া কঠিন, তিনি আদায় করবেন গম দ্বারা।

কোরআনের নির্দেশনা, অবশ্য কেউ যদি স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোনো পুণ্যের কাজ করে (এবং নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে আরো বাড়িয়ে দেয়), তবে তার পক্ষে তা শ্রেয়। (সুরা বাকারা : ১৮৪)

সাদাকাতুল ফিতর আদায়ের পদ্ধতি

হাদিসে বর্ণিত দ্রব্যগুলো দ্বারা যেমন সাদাকাতুল ফিতর আদায় করা যায়, তেমনি এগুলোর মূল্য দ্বারাও আদায় করা যাবে। কুররা (রাহ.) বলেন, আমাদের কাছে উমর ইবনে আবদুল আজিজ (রাহ.)-এর ফরমান পৌঁছেছে যে, সাদাকাতুল ফিতর হচ্ছে প্রত্যেক (সামর্থ্যবান) ব্যক্তির পক্ষ হতে অর্ধ সা‘ (গম) কিংবা তার মূল্য হিসাবে অর্ধ দিরহাম প্রদান করা। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, বর্ণনা ১০৪৭০)

বিশিষ্ট তাবেয়ি আবু ইসহাক (রাহ.) বলেন, আমি তাদেরকে (সাহাবা-তাবেয়িগণকে) খাবারের মূল্য দ্বারা সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে দেখেছি। (সহিহ বোখারি : ১/১৯৪, উমদাতুল কারী : ৯/৪, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা : ১০৪৭২, কিতাবুল আছল : ২/১৮০, ইখতিলাফুল উলামা, মারওয়াযী পৃ. ১০৯; আলমাবসূত, সারাখসী : ২/১৫৬; বাদায়েউস সানায়ে : ২/২০৫)

মাসআলা : চাল বা অন্যান্য খাদ্যশস্য দ্বারাও সদকায়ে ফিতর আদায় করা যায়। সেক্ষেত্রে ১ কেজি ৬৩৫ গ্রাম গম অথবা ৩ কেজি ২৭০ গ্রাম খেজুর বা যবের মূল্যের সমপরিমাণ চাল দিতে হবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদিস ১০৪৭২; কিতাবুল আছল : ২/১৮০; আলমাবসূত, সারাখসী : ৩/১১৪; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়্যা : ১/২৪৭; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া : ৩/৪৫৫)

মাসআলা : একজন গরিবকে পূর্ণ একটি ফিতরা দেওয়া উত্তম। অবশ্য এক ফিতরা কয়েকজনকে ভাগ করে দেওয়াও জায়েয আছে। এমনিভাবে একাধিক ফিতরা এক ব্যক্তিকেও দেওয়া জায়েয। (বাদায়েউস সানায়ে : ২/২০৮, আদ্দুররুল মুখতার : ২/৩৬৭)

প্রবাসে অবস্থানরতরা যেভাবে ফিতরা আদায় করবেন

বিদেশে অবস্থানরত কারো পক্ষ থেকে দেশে সদকায়ে ফিতর আদায় করতে চাইলে ওই দেশের হিসাবে সদকায়ে ফিতর আদায় করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, সৌদি আরবে অবস্থানরত কেউ এ দেশে তার সাদাকাতুল ফিতর আদায় করতে চাইলে সৌদি আরবের নির্ধারিত ন্যূনতম সদকায়ে ফিতরের মূল্য যদি আট শ টাকা হয়ে থাকে, তাহলে তার পক্ষ থেকে এ দেশে সদকায়ে ফিতর আট শ টাকা আদায় করতে হবে। (বাদায়েউস সানায়ে : ২/২০৮, আলমুহিতুল বুরহানি : ৩/৩৮৭, আলবাহরুর রায়েক : ২/২৫০, রদ্দুল মুহতার : ২/৩৫৫)

মাসআলা : অধীনদের সদকায়ে ফিতর আদায়ের ক্ষেত্রেও আদায়কারীর অবস্থানস্থল ধর্তব্য হবে। সুতরাং যারা প্রবাসে থাকেন, তাদের না-বালেগ সন্তান দেশে থাকলেও প্রবাসের মূল্য হিসাবে সদকায়ে ফিতর আদায় করবেন। (বাদায়েউস সানায়ে : ২/২০৮, আলবাহরুর রায়েক ২/২৫০; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪৬২, ফাতাওয়া বায্যাযিয়া : ৬/২৮৯)

সাদাকাতুল ফিতর আদায়ের সময়

সাদাকাতুল ফিতর ঈদের দিন ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে আদায় করা উত্তম। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) লোকজন ঈদের নামাজেরে উদ্দেশে উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পূর্বে সাদাকাতুল ফিতর আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। (সহিহ বোখারি : ১৫০৯)

অবশ্য কোনো কোনো সাহাবি থেকে ঈদের কয়েকদিন পূর্বেও ফিতরা আদায়ের কথা প্রমাণিত আছে। যেমন নাফে‘ (রাহ.) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) ঈদের দু-একদিন পূর্বেই তা (ফিতরা) আদায় করে দিতেন। (সুনানে আবু দাউদ : ১৬০৬)

আর নাফে‘ (রাহ.) থেকে অপর একটি বর্ণনায় এসেছে, আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) ঈদের দুই-তিনদিন পূর্বে ফিতরা উসূলকারীর নিকট সাদাকাতুল ফিতর পাঠিয়ে দিতেন। (মুয়াত্তা ইমাম মালেক : ৩১৬)

সুতরাং সাদাকাতুল ফিতর রমজানের শেষ দিকেই আদায় করা উচিত। এতে গরিব লোকদের জন্য ঈদের সময়ের প্রয়োজন পূরণেও সহায়তা হয়। (আলবাহরুর রায়েক : ২/২৫৫, ফাতাওয়া খানিয়া : ১/২৩২, বাদায়েউস সানায়ে : ২/২০৭, রদ্দুল মুহতার : ২/৩৬৭)

উল্লেখ্য, কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ে সাদাকাতুল ফিতর আদায় না করলে পরবর্তীতে তা আদায় করা আবশ্যক। তাই পরে হলেও তা আদায় করে দিতে হবে। (কিতাবুল আছল : ২/২০৭, ২১১; ফাতহুল কাদির : ২/২৩১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া : ৩/৪৫২; রদ্দুল মুহতার : ২/৩৬৮)

সাদাকাতুল ফিতর যাদেরকে দেওয়া যাবে

জাকাত প্রদানের খাতই সাদাকাতুল ফিতরেরও খাত। তাই যাদেরকে যাকাত দেওয়া যায়, এমন কাউকেই সাদাকাতুল ফিতর দিতে হবে। কেউ জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত না হলে তাকে সাদাকাতুল ফিতর দেওয়া যাবে না। (আদ্দুররুল মুখতার : ২/৩৬৮)

আত্মীয়স্বজনকে সাদাকাতুল ফিতর দেওয়া

নিজের পিতামাতা, দাদা-দাদি প্রমুখ ঊর্ধ্বতন এমনিভাবে ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি প্রমুখ অধস্তন আত্মীয়স্বজন গরিব হলেও তাদেরকে সাদাকাতুল ফিতর দেওয়া যাবে না। অনুরূপ স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে ফিতরা দিতে পারবে না। তবে এর বাইরে অন্যান্য আত্মীয়স্বজন যেমন, ভাই-বোন, ভাতিজা-ভাগনে, চাচা-মামা, ফুফু-খালা শ্বশুর-শাশুড়ি ইত্যাদি গরিব অসহায় হলে তাদেরকে সাদাকাতুল ফিতর দেওয়া যাবে। (কিতাবুল আছল : ২/১৪৮, বাদায়েউস সানায়ে : ২/১৬২, আদ্দুররুল মুখতার : ২/৩৬৮)

অমুসলিমকে সদকাতুল ফিতর দেওয়া যাবে?

সদকায়ে ফিতর শুধু গরিব মুসলিমদের হক। তাই কোনো অমুসলিমকে সদকায়ে ফিতরের টাকা দেওয়া যাবে না। তবে তাদেরকে নফল সদকা দেওয়া জায়েজ এবং এতে সওয়াবও রয়েছে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা : ১০৫১২, বাদায়েউস সানায়ে : ২/১৬১, রদ্দুল মুহতার : ২/৩৬৯)

মাসিক আল কাউসার অবলম্বনে

কীভাবে বুঝবেন আপনার ফ্যাটি লিভার? শুরুতে ধরুন, নাহলে বিপদ!

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৫৩ এএম
কীভাবে বুঝবেন আপনার ফ্যাটি লিভার? শুরুতে ধরুন, নাহলে বিপদ!

ফ্যাটি লিভার দুই ধরনের। অ্যালকোহলিক ও নন অ্যালকোহলিক। মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপান থেকে লিভারে চর্বি জমলে তা অ্যালকোহলিক ফ্যাট। দ্বিতীয় ক্ষেত্রটি মূলত খাদ্যতালিকায় অতিরিক্ত তেল, ফ্যাট জাতীয় উপাদান বেড়ে গেলে হয়।

কখনও কখনও নন অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার বংশগত কারণেও হতে পারে। সময় মতো সতর্ক না হলে এই ফ্যাটি লিভারের হাত ধরেই হানা দিতে পারে লিভার সিরোসিস। তবে বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ফ্যাটি লিভারের কারণে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়তে পারে শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গেও।

আপনার ফ্যাটি লিভার আছে কিনা, তা বোঝার জন্য নিচের লক্ষণ, ঝুঁকির দিকে নজর দিতে হবে:
প্রাথমিক সাধারণ লক্ষণসমূহ (যা অনেকেই অবহেলা করেন)

অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা (Fatigue): পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুমের পরেও যদি আপনি দিনের পর দিন কারণ ছাড়াই খুব ক্লান্ত বোধ করেন, তবে এটি লিভারের সমস্যার একটি অন্যতম প্রধান লক্ষণ হতে পারে।

পেটের ডান দিকের উপরের অংশে অস্বস্তি: পেটের যে অংশে লিভার থাকে (পাজরের ডানদিকে নিচে), সেখানে হালকা ব্যথা, ভোঁতা ব্যথা বা ভারি ভাব অনুভব করা।

অরুচি ও ওজন হ্রাস: খাওয়ার রুচি কমে যাওয়া বা চেষ্টা ছাড়াই ওজন কমতে থাকা।

রোগের জটিল পর্যায়ে দেখা দেওয়া লক্ষণ (সিরোসিসের দিকে গেলে):

ফ্যাটি লিভার দীর্ঘদিন চিকিৎসা না করালে তা লিভার সিরোসিসের (স্থায়ী ক্ষতি) দিকে যেতে পারে। তখন যে মারাত্মক লক্ষণগুলো দেখা দেয়:

জন্ডিস:

চোখ ও গায়ের চামড়া হলুদ হয়ে যাওয়া।

পেট ফুলে যাওয়া (Ascites):

পেটে পানি জমার কারণে পেট অস্বাভাবিক ফুলে যাওয়া।

পায়ে ফোলাভাব:

পায়ের পাতা এবং গোড়ালিতে পানি জমে ফুলে যাওয়া।

ত্বকের পরিবর্তন:

হাতের তালু লাল হয়ে যাওয়া (Palmar erythema) এবং ত্বকের ওপর মাকড়সার জালের মতো রক্তনালী ভেসে ওঠা (Spider angiomas)।

সহজেই রক্তপাত: 

সামান্য আঘাতেই রক্তপাত হওয়া বা কালশিটে পড়া।
২০২২ সালে সুইডেনের একটি গবেষণা থেকে জানা গেছে, নন অ্যালকোহল-রিলেটেড ফ্যাটি লিভারে আক্রান্তদের মধ্যে লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা ১২.১৮ শতাংশ বেশি।

২০২৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল হেল্‌থ ইন্স্যুরেন্স সার্ভিসের একদল গবেষক এই বিষয়টি নিয়ে আবার গবেষণা করেন। তাঁরা জানান, যাঁরা অ্যালকোহল বা মদ্য পান করেন, তাঁদের মধ্যে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা সাধারণ মানুষের চেয়ে ২.৬০ শতাংশ বেশি। মদ বা অ্যালকোহল জাতীয় পানীয় খান না, কিন্তু ফ্যাটি লিভারের সমস্যা রয়েছে–এমন মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়।

একটু খেয়াল করলে দেখা যাবে, তাঁদের মধ্যে ৯০ শতাংশেরই স্থূলত্ব রয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে এই সমস্যা অনিয়ন্ত্রিত অবস্থায় থাকলে লিভারে প্রদাহজনিত সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। এমনকি, লিভার বিকল হয়ে যাওয়াও অসম্ভব নয়।

চিকিৎসকেরা বলছেন, এই ধরনের ফ্যাটি লিভার থেকে সিরোসিস, হেপাটোসেলুলার কার্সিনোমায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। আবার, অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার অনিয়ন্ত্রিত অবস্থায় থাকলে তা খাদ্যনালি, পিত্তথলি, ফুসফুস, থাইরয়েড গ্রন্থির ক্যান্সার কিংবা লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বাড়িয়ে তোলে।

কম দামে স্মার্ট ২০, বাজারে এলো ইনফিনিক্সের নতুন ফোন

প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:১৫ এএম
কম দামে স্মার্ট ২০, বাজারে এলো ইনফিনিক্সের নতুন ফোন

ইনফিনিক্স বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেছে তাদের নতুন স্মার্টফোন ‘ইনফিনিক্স স্মার্ট ২০’। স্মার্টফোনটি এন্ট্রি-লেভেল সেগমেন্টে যুক্ত করেছে আধুনিক ভয়েস প্রিন্ট নয়েজ রিডাকশন প্রযুক্তি, যা পরিষ্কার ভয়েস কল নিশ্চিত করতে বিশেষভাবে তৈরি। টেকসই, স্মুথ ডিসপ্লে এবং ব্যবহারবান্ধব ডিজাইনের সমন্বয়ে স্মার্ট ২০ তৈরি করা হয়েছে দৈনন্দিন বাস্তব চাহিদার কথা মাথায় রেখে।

বাংলাদেশের ব্যস্ত শহুরে জীবনে কথোপকথন শুধু দুর্বল নেটওয়ার্কের কারণে ব্যাহত হয় না, বরং আশপাশের অতিরিক্ত শব্দ-যেমন যানজটপূর্ণ রাস্তা, ভিড় পূর্ণ ক্যাম্পাস, গণপরিবহন কিংবা বাজারের কারণেও ব্যাহত হয়। বাস্তব সমস্যাটির সমাধান দিতে স্মার্ট ২০ ফোনে রয়েছে পিওর ভয়েস কল প্রযুক্তি, যা ভয়েস প্রিন্ট নয়েজ রিডাকশনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর কণ্ঠ আলাদা করে শনাক্ত করে এবং পেছনের অপ্রয়োজনীয় শব্দ কমিয়ে দেয়।

ফলে নিয়মিত কল, অনলাইন কল কিংবা স্পিকার ব্যবহারের সময়েও কথোপকথন থাকে পরিষ্কার। যেখানে এই দামের স্মার্টফোনে সাধারণত ক্যামেরা বা পারফরম্যান্সকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, সেখানে স্মার্ট ২০ গুরুত্ব দিয়েছে পরিষ্কার ও নির্ভরযোগ্য ভয়েস কমিউনিকেশনে।

ফোনটিতে রয়েছে ৬.৭৮ ইঞ্চির ১২০ হার্টজ পাঞ্চ-হোল ডিসপ্লে, যা স্ক্রলিং, ভিডিও দেখা ও গেমিংয়ে দেয় আরও মসৃণ অভিজ্ঞতা। উচ্চ রিফ্রেশ রেটের কারণে স্ক্রিন ট্রানজিশন ও অ্যানিমেশন হয় আরও স্বাভাবিক ও সাবলীল। পাঞ্চ-হোল ডিজাইন স্ক্রিনকে করেছে আরও ইমারসিভ ও পরিপাটি। শক্তিশালী ব্যাটারি থাকা সত্ত্বেও স্মার্ট ২০ বজায় রেখেছে স্লিম ও হালকা গঠন, যা দীর্ঘ সময় হাতে ধরে ব্যবহার করতেও আরামদায়ক।

স্মার্ট ২০-এ ব্যবহার করা হয়েছে মিডিয়াটেক হেলিও জি৮১ অক্টা-কোর প্রসেসর, যা মাল্টিটাস্কিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার, ভিডিও স্ট্রিমিং এবং হালকা গেমিংয়ে দেয় স্থিতিশীল পারফরম্যান্স এবং উন্নত শক্তি সাশ্রয়। পাশাপাশি রয়েছে ৪৮ মাস ফ্লুয়েন্সি অপ্টিমাইজেশন সুবিধা, যা দীর্ঘদিন ব্যবহারের পরও ফোনের মসৃণতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

ডিভাইসটি ১.৫ মিটার উচ্চতা থেকে পতন সহনশীল মিলিটারি-গ্রেড সার্টিফিকেশন পেয়েছে, যা পড়ে যাওয়ার মতো সাধারণ দুর্ঘটনায় অতিরিক্ত সুরক্ষা দেয়। পাশাপাশি রয়েছে আইপি৬৪ মানের পানি ও ধুলা প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং স্প্ল্যাশ টাচ সুবিধা। অর্থাৎ হালকা পানির ছিটা বা ধুলাবালির মধ্যেও স্ক্রিন থাকে সচল ও ব্যবহারযোগ্য। প্রতিদিনের যাতায়াত ও অনিশ্চিত আবহাওয়ায় এই সুবিধা বাড়ায় ফোনটির নির্ভরযোগ্যতা।

স্মার্ট ২০-এ রয়েছে আল্ট্রা লিংক ফ্রি কল সুবিধা, যা নেটওয়ার্ক সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হলে স্বল্প দূরত্বে যোগাযোগের বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে।

এছাড়াও ফোনটিতে রয়েছে অলওয়েজ-অন ডিসপ্লে, আইআর ব্লাস্টার এবং এফএম রেডিও-যা দৈনন্দিন ব্যবহারে যোগ করে বাড়তি সুবিধা।

ফোনটি শ্যাডো ব্ল্যাক, সানলাইক অরেঞ্জ, ক্লাউডলাইন ব্লু এবং পোলারিস টাইটানিয়াম এই চার রঙে পাওয়া যাচ্ছে। ইনফিনিক্স স্মার্ট ২০ (৪+৬৪ জিবি) দাম ১২,৯৯৯ টাকা। ফোনটি এখন সারা দেশে অনুমোদিত বিক্রয়কেন্দ্র এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাচ্ছে।

 

ইরানে বিক্ষোভের মামলায় প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০৫ এএম
ইরানে বিক্ষোভের মামলায় প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

ইরানে গত জানুয়ারির বিক্ষোভ-সম্পর্কিত একটি মামলায় এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পরিবারঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ দণ্ড কার্যকর হলে এটি জানুয়ারির অস্থিরতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রথম মৃত্যুদণ্ড হবে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সূত্রটি রয়টার্সকে জানিয়েছে, অভিযুক্ত মোহাম্মদ আব্বাসির বিরুদ্ধে ‘মোহারে‌বে’ (সৃষ্টিকর্তার বিরুদ্ধে শত্রুতা) অভিযোগ আনা হয়। তবে ইরানের বিচার বিভাগ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে রায় ঘোষণা করেনি। দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের অনুমোদনও বাকি রয়েছে।

সূত্রটি জানিয়েছে, আব্বাসির বিরুদ্ধে এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে হত্যার অভিযোগ আনা হলেও তার পরিবার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সূত্রটি জানিয়েছে, আব্বাসির বিরুদ্ধে এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে হত্যার অভিযোগ আনা হলেও তার পরিবার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, জানুয়ারির বিক্ষোভ দমনে কঠোর অভিযানে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর এটিকে ইরানের সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন, বিক্ষোভ-সম্পর্কিত মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে তিনি সামরিক পদক্ষেপের নির্দেশ দিতে পারেন।

সূত্রটি আরও জানায়, অভিযুক্তের মেয়ে ফাতেমেহ আব্বাসিকে বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের পছন্দের আইনজীবীর সুযোগ না দিয়ে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ইরানের বিচার বিভাগ এখনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।