খুঁজুন
বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ৪ চৈত্র, ১৪৩২

ওমরাহ ও হজযাত্রীদের জন্য বড় সুখবর

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ৯:১৮ এএম
ওমরাহ ও হজযাত্রীদের জন্য বড় সুখবর

পবিত্র মক্কায় ওমরাহ ও হজযাত্রীদের স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি আরবের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। মসজিদুল হারাম এলাকায় হৃদরোগজনিত জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ‘সেফ হার্ট জোন’ (Safe Heart Zone) চালু করেছে মক্কা হেলথ ক্লাস্টার। প্রকল্পটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম পরিচালনা করছে কিং আবদুল্লাহ মেডিক্যাল সিটি।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো হৃদরোগসংক্রান্ত জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসা হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করা। বিশেষ করে ওমরাহ পালনকারী ও পবিত্র স্থানসমূহে আগত দর্শনার্থীদের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এটি সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০-এর আওতায় হেলথ সেক্টর ট্রান্সফরমেশন প্রোগ্রামের লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেও বিবেচিত।

প্রকল্পটির আওতায় ১০টি কার্ডিয়াক ইনটেনসিভ কেয়ার বেড স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩০ জন দক্ষ স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীর একটি বিশেষায়িত মেডিক্যাল টিম এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এছাড়া আল-হারাম হাসপাতালে একটি মোবাইল ক্যাথেটারাইজেশন ল্যাবের মাধ্যমে ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

এ সুবিধাকেন্দ্রে গুরুতর রোগীদের জন্য উন্নত যান্ত্রিক সহায়তাও রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জীবনরক্ষাকারী প্রযুক্তি ‘ইসিএমও’ (Extracorporeal Membrane Oxygenation) ডিভাইস। পাশাপাশি হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কার্ডিয়াক স্টেন্ট ও বিশেষায়িত ওষুধও মজুদ রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া ক্যাথেটারাইজেশন-পরবর্তী চিকিৎসা ও রোগী রেফারেলের ক্ষেত্রে অনুমোদিত ক্লিনিক্যাল পাথওয়ে অনুসরণ করা হচ্ছে।

উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দ্রুত শুরু করা এবং সময় কমিয়ে আনার মাধ্যমে রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়ানোই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য।

বিশেষ করে রমজান মাস ও হজ মৌসুমে যখন মুসল্লি ও হজযাত্রীদের ভিড় বেড়ে যায়, তখন এ উদ্যোগ আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি এটি আঞ্চলিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতেও সহায়ক হবে।

সূত্র আরব নিউজ

‘ঈদের পর কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ১০:২৪ পিএম
‘ঈদের পর কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু বলেছেন, স্বল্প সময়ের মধ্যেই সরকার জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম চালু হয়েছে। কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। খাল খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ঈদের পর কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে। বিএনপি যা প্রতিশ্রুতি দেয়, তা বাস্তবায়ন করে।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যায় নিজ নির্বাচনী এলাকা ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের সিংহপ্রতাপ গ্রামে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইমামুল হোসেন তারা মিয়ার বাড়িতে আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমাদের অঞ্চলের অনেক মানুষ মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত রয়েছেন। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তারা অনেক কষ্টে আছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। কূটনীতি ও পররাষ্ট্র নীতির মাধ্যমে আমরা চেষ্টা করছি- তারা যেন নিরাপদে থাকতে পারেন। প্রয়োজনে সুস্থ্যভাবে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে আমরা চাই যুদ্ধ পরিস্থিতির দ্রুত অবসান হোক।

শামা ওবায়েদ বলেন, আপনাদের সন্তান হিসেবে আমিও আমার দেওয়া প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। আমি যখন সংসদে বসি, তখন মনে হয় আমি সালথা-নগরকান্দার সকল মানুষকে নিয়েই সেখানে উপস্থিত আছি। এখন সময় দলমত নির্বিশেষে সবার উন্নয়নে কাজ করার। ঝগড়া-বিবাদ নয়, বরং মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে।

সালথায় একটি গার্লস স্কুল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়ে পরারষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনে কী হয়েছে, তা না দেখে ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের জন্য কাজ করতে হবে। নেতারা ঐক্যবদ্ধ থাকলে জনগণের সমস্যাও কমে যাবে। পাশাপাশি উন্নয়ন কাজও সহজ হবে।

গট্টি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইমামুল হোসেন তারা মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আসাদ মাতুব্বর, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি শাহিন মাতুব্বর, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খায়রুল বাসার আজাদ প্রমূখ।

ফরিদপুরে দুস্থদের ঘরে ঈদের আনন্দ পৌঁছে দিলেন এমপি নায়াব ইউসুফ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ৯:২৯ পিএম
ফরিদপুরে দুস্থদের ঘরে ঈদের আনন্দ পৌঁছে দিলেন এমপি নায়াব ইউসুফ

পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফের উদ্যোগে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে ঈদ সামগ্রী ও ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হয়েছে। সমাজের নিম্নআয়ের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এ মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দিনব্যাপী ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিক্রিরচর, মাচ্চর ও কানাইপুর ইউনিয়নসহ শহরের রঘুনন্দনপুর ৯নং ওয়ার্ড এবং ব্রাহ্মণকান্দা এলাকায় পৃথকভাবে এই বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্রতিটি স্থানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে কর্মসূচি সফল করতে সহযোগিতা করেন।

বিতরণ কার্যক্রমে শতাধিক অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের হাতে ভিজিএফের চাল, সেমাই, চিনি, তেলসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। ঈদের আগে এমন সহায়তা পেয়ে উপকারভোগীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

সুবিধাভোগী কয়েকজন জানান, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ঈদের প্রস্তুতি নেওয়া তাদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছিল। এমন সময়ে এই সহায়তা তাদের পরিবারের জন্য অনেকটা স্বস্তি নিয়ে এসেছে এবং ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার সুযোগ তৈরি করেছে।

সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ বলেন, “ঈদ মানেই আনন্দ, আর সেই আনন্দ সবার মাঝে সমানভাবে ছড়িয়ে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। সমাজের অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদ উপলক্ষে এ ধরনের সহায়তা কর্মসূচি গ্রহণ করায় সাধারণ মানুষের মাঝে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তারা আশা করেন, এ উদ্যোগ ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকবে এবং আরও বেশি মানুষ এর সুফল ভোগ করবে।

ফরিদপুরে প্রতিবন্ধী পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎসে হামলা, দোকান গুঁড়িয়ে লুটপাট

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর ও ভাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ৮:৪৮ পিএম
ফরিদপুরে প্রতিবন্ধী পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎসে হামলা, দোকান গুঁড়িয়ে লুটপাট

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার পৌরসদরের কইডুবি সদরদী গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলায় এক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী যুবকের মুদি দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এতে চার সন্তানের জনক ওই ব্যক্তি তার পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত মিজানুর রহমান মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি জানান, ভাঙ্গা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক সংলগ্ন একটি সরকারি জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে ছোট একটি মুদি দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন। তিনি নিজে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও কঠোর পরিশ্রম করে স্ত্রী ও চার প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে কোনো রকমে জীবনযাপন করছিলেন।

মিজানুর রহমানের অভিযোগ, সম্প্রতি চৌধুরীকান্দা সদরী এলাকার সাবেক কাউন্সিলার জাহিদ ফকির ও তার সহযোগীদের নজর পড়ে ওই জায়গার ওপর। তারা দোকানটি সরিয়ে নিতে চাপ দিতে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১২ মার্চ বিকেলে জাহিদ ফকিরের নেতৃত্বে একদল লোক সংঘবদ্ধভাবে এসে তার দোকান ঘর ভেঙে ফেলে এবং ভেতরে থাকা মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, এ সময় বাধা দিতে গেলে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে তারা আহত হন এবং চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্থানীয় গ্রামবাসীরাও ঘটনার নিন্দা জানান এবং দোষীদের দ্রুত শাস্তির দাবি করেন। তারা বলেন, একজন অসহায় প্রতিবন্ধীর সঙ্গে এ ধরনের আচরণ মানবিকতার পরিপন্থী।

এদিকে, ঘটনার প্রতিকার চেয়ে মিজানুর রহমান ভাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভাঙ্গা থানার এএসআই মো. ডালিম মিয়া জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত জাহিদ ফকিরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বর্তমানে দোকান হারিয়ে পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন মিজানুর রহমান। স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবারটি।