খুঁজুন
, ,

চোখের পানি কেন মুমিনের জীবনে অমূল্য পাথেয়, জেনে নিন

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৫০ পূর্বাহ্ণ
চোখের পানি কেন মুমিনের জীবনে অমূল্য পাথেয়, জেনে নিন

মানুষের অন্তরের অবস্থা প্রকাশ করার একটি মাধ্যম চোখের পানি। এটি শুধু আবেগের বহিঃপ্রকাশ নয়; বরং আল্লাহভীতি, অনুশোচনা, ভালোবাসা ও বিনয় প্রকাশেরও মাধ্যম। মুমিনের জীবনে চোখের পানি এক অমূল্য পাথেয়, যা তাকে আল্লাহর নৈকট্যে পৌঁছে দেয়, গুনাহ মাফের কারণ হয় এবং আখিরাতের মুক্তির পথ প্রশস্ত করে।

চোখের পানি মুমিনের পাথেয়
কোরআন ও হাদিসের আলোকে মুমিনের চোখের পানি তার পরকালীন জীবনের অন্যতম পাথেয়।

কোরআন ও হাদিসের আলোকে চোখের পানির গুরুত্ব তুলে ধরা হলো।

১. মুমিনের বৈশিষ্ট্য : মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর তারা কাঁদতে কাঁদতে মুখের ওপর লুটিয়ে পড়ে এবং এতে তাদের বিনয় বৃদ্ধি পায়।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ১০৯)
এই আয়াতে বোঝা যায়, প্রকৃত মুমিনের চোখ অশ্রুসিক্ত হয়। এই কান্না কোনো লোক-দেখানো কান্না নয়; বরং এটি অন্তরের গভীর অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ।

২. ঈমানের বহিঃপ্রকাশ : মুমিনের চোখের পানি তাঁর ঈমানেরই বহিঃপ্রকাশ। আল্লাহ বলেন, ‘রাসুলের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে, তা যখন তারা শ্রবণ করে, তখন তারা যে সত্য উপলব্ধি করে, তার জন্য তুমি তাদের চোখ অশ্রু বিগলিত দেখবে। তারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা ঈমান এনেছি; সুতরাং তুমি আমাদেরকে সাক্ষ্যবাহকদের তালিকাভুক্ত করো।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৮৩) আয়াতে চোখের পানিকে ঈমানের নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

চোখের পানি মুমিনের ঈমানের জীবন্ত সাক্ষ্য।

৩. জাহান্নাম থেকে প্রতিবন্ধক : চোখের পানি বান্দাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করে। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘দুই চোখকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না। একটি চোখ, যা আল্লাহর ভয়ে কাঁদে; আরেকটি চোখ, যা আল্লাহর পথে পাহারা দিতে গিয়ে রাত জাগে।’ (সুনানে তিরমিজি) জাহান্নাম থেকে মুক্তির এমন সুসংবাদ খুব কম আমলের ক্ষেত্রেই এসেছে।

৪. আরশের ছায়ালাভ : অন্য হাদিসে আল্লাহর ভয়ে কান্নাকারী ব্যক্তিকে রাসুলুল্লাহ (সা.) কিয়ামতের দিন আরশের ছায়ালাভের সুসংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘যেদিন আল্লাহর (আরশের) ছায়া ব্যতীত কোনো ছায়া থাকবে না, সেদিন আল্লাহ তাআলা সাত প্রকার মানুষকে সেই ছায়ায় আশ্রয় দেবেন।…যে ব্যক্তি নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তাতে আল্লাহর ভয়ে তার চোখ থেকে অশ্রু বের হয়ে পড়ে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৪২৩)

কিয়ামতের ভয়াবহ দিনে আল্লাহর আরশের ছায়া লাভ করা যে কত বড় নিয়ামত, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এ জন্য সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর জীবন ছিল চোখের পানিতে ভেজা। আবু বকর (রা.) কোরআন তিলাওয়াত করতে গিয়ে এত বেশি কাঁদতেন যে তাঁর কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে যেত। ওমর (রা.)-এর গালে কান্নার দাগ স্পষ্ট ছিল। আলী (রা.) রাতে নামাজে দাঁড়িয়ে এত কাঁদতেন যে দাড়ি ভিজে যেত। (হুলয়াতুল আউলিয়া)

হৃদয়ের কঠোরতা নিন্দনীয়
বিপরীতে হৃদয়ের কঠোরতা একটি ব্যাধি, যার আরোগ্য প্রয়োজন। পবিত্র কোরআনে এর নিন্দা করা হয়েছে। যেমন—আল্লাহ বলেন, ‘তারপর তোমাদের হৃদয় কঠিন হয়ে গেল, পাথরের মতো বা তার চেয়েও কঠিন। কেননা পাথরের মধ্যেও এমন কিছু আছে, যেখান থেকে নদী প্রবাহিত হয়।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ৭৪)

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা মানুষের কঠোর হৃদয়কে পাথরের চেয়েও নিকৃষ্ট বলে আখ্যায়িত করেছেন। কারণ পাথর থেকেও পানি নির্গত হয়, কিন্তু কঠোর হৃদয় থেকে অনুশোচনা বা আল্লাহভীতি বের হয় না।

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘তাদের জন্য ধ্বংস, যাদের হৃদয় আল্লাহর স্মরণে কঠোর হয়ে গেছে।’ (সুরা : জুমার, আয়াত : ২২)
রাসুলুল্লাহ (সা.) অন্তরের কঠোরতাকে দুর্ভাগ্যের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘চারটি জিনিস মানুষকে দুর্ভাগা করে তোলে : কঠোর হৃদয়, চোখে অশ্রু না আসা, দীর্ঘ আশা এবং দুনিয়ার প্রতি অতিরিক্ত ভালোবাসা।’ (সুনানে তিরমিজি)
হাদিসে কঠোর হৃদয়কে সরাসরি দুর্ভাগ্যের কারণ বলা হয়েছে। যে হৃদয় কাঁদে না, সে হৃদয় আল্লাহর ভয় থেকেও বঞ্চিত।

জেনে রাখতে হবে, চোখের পানি কোনো দুর্বলতার পরিচয় নয়; বরং এটি মুমিনের শক্তি, পাথেয় ও অলংকার। যে চোখ আল্লাহর ভয়ে কাঁদে, সে চোখ কিয়ামতের ভয়াবহতা থেকে নিরাপদ থাকে। আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের অন্তর নরম করেন, চোখে অশ্রু দান করেন এবং সেই চোখের পানিকে আমাদের নাজাতের উসিলা বানান। আমিন।

সূত্র: কালের কণ্ঠ

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ১৬ বছর পর কুমার নদে বর্ণাঢ্য নৌকা বাইচ

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৫ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ১৬ বছর পর কুমার নদে বর্ণাঢ্য নৌকা বাইচ

ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় কুমার নদে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই শতাধিক বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশ্বকর্মা পূজা উপলক্ষে দীর্ঘ ১৬ বছর পর কুমার নদে ফিরলো হারিয়ে যাওয়া এ লোকজ উৎসব।

​শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার কুমার নদের চরকান্দা পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে ভাঙ্গা খাদ্যগুদাম এলাকা পর্যন্ত দীর্ঘ দুই কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ২৬টি বাইচের নৌকা অংশ নেয়।

​সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করেন।

​প্রতিযোগিতা চলাকালে কুমার নদের দুই কূলে বসে হাজার হাজার উৎসবমুখর মানুষের মিলনমেলা। আশেপাশের ভবনের ছাদ, নদের দুই ধার এবং ব্রিজের ওপর মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে ট্রলার ও নৌকা ভাড়া করে নদে নেমে বাইচ উপভোগ করেন। উৎসবকে ঘিরে নদের দুই তীরে মিষ্টি ও গৃহস্থালি পণ্যের নানা ধরনের ভাসমান দোকানও বসে।

​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও আয়োজনের মূল উদ্যোক্তা ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, “দীর্ঘদিন পর ভাঙ্গাবাসীর প্রাণের দাবি পূরণ হয়েছে। লোকসংস্কৃতির শেকড়ের টানে নৌকা বাইচসহ জারি ও সার গানের মতো সব ঐতিহ্য আমাদের ফিরিয়ে আনতে হবে।”

​পরে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী বড় বাইচের নৌকাগুলোকে ফ্রিজ এবং ছোট নৌকাগুলোকে রঙিন টেলিভিশন পুরস্কার হিসেবে তুলে দেন অতিথিরা।

​ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজালুর রহমান খান পলাশ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. শামীমুজ্জামান, ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লা এবং ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

আলফাডাঙ্গায় হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফেরাতে নৌকা বাইচ ও হাডুডু টুর্নামেন্ট

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ
আলফাডাঙ্গায় হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফেরাতে নৌকা বাইচ ও হাডুডু টুর্নামেন্ট

গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া চিরায়ত ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ডিঙি নৌকা বাইচ ও হাডুডু টুর্নামেন্ট। এ উপলক্ষে স্থানীয় মধুমতি নদীর বাঁওড় পাড়ে বসেছিল প্রাণবন্ত গ্রাম্য মেলা।

​শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার গোপালপুর পশ্চিমপাড়া এলাকার মধুমতি নদীর বাঁওড়ে এ ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়।

​স্থানীয়রা জানান, গ্রামবাংলার পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবং গ্রামীণ বিনোদন পৌঁছে দিতেই এ উদ্যোগ। দুপুর থেকেই শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষসহ নানা বয়সের হাজারো দর্শকের ঢল নামে বাঁওড় পাড়ে। নদীর দুই কূলে হাজারো মানুষের করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। রাতে অনুষ্ঠিত হয় আলো ঝলমলে চারদলীয় হাডুডু টুর্নামেন্ট।

​বাইচ ও টুর্নামেন্ট শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। গোপালপুর ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী মো. মোনায়েম খান। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী দলের অধিনায়কদের হাতে আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দেন তিনি।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মোনায়েম খান বলেন, “আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামবাংলার হাজার বছরের প্রাচীন খেলাধুলা ও লোকজ সংস্কৃতি আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। অপসংস্কৃতি ও মাদকের হাত থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে এবং আমাদের নিজস্ব ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে বাঁচিয়ে রাখতে নিয়মিত এমন ক্রীড়া উৎসবের আয়োজন অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।”

‘শ্রাবণের মেঘের দিনে’

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৫ পূর্বাহ্ণ
‘শ্রাবণের মেঘের দিনে’

আকাশের বুকে কালো মেঘের ঘনঘটা,
শ্রাবণের দিনে যেন আঁধারের ছটা।
রিমঝিম সুর ধরে ঝরে জলধারা,
ঝরাপাতারা যেন হাহাকারে হারা।

​বাতাস বয়ে যায় উদাস পথ ধরে,
গাছের ডালে জল টুপটুপ করে।
কদমের শাখা আজ ফুটেছে সতেজ,
সবুজে সবুজে আঁকা নতুন আবেশ।

​ভেজা কাদা-মাটিতে হাঁটে মেঠো পথ,
বয়ে চলে বর্ষার অবিরাম রথ।
পাখিরা যে নিথর, ডানা দুটি গুটিয়ে,
উষ্ণতার খোঁজে যেন নীড়ে গেছে লুকিয়ে।

​মাঠে মাঠে জমা জল দর্পণের মতো,
ঝাপসা পাহাড়ি ছবি দেখা যায় কত।
মেঘের গর্জনে বুক কাঁপে ধরে,
বিদ্যুৎ ঝলকায় দূর নীলম্বরে।

​শ্রাবণের এই মেঘ মন কেড়ে নেয়,
সোঁদা মাটির ঘ্রাণে প্রাণ ভরে দেয়।
ধুয়ে যায় ধুলোবালি ধরা হয় শুভ্র,
মেঘে ঢাকা দিনশেষে প্রকৃতি সুশান্ত।