খুঁজুন
, ,

মৃত্যুর আগে যে ৭ গোনাহ থেকে অবশ্যই তওবা করা জরুরি?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৫ পূর্বাহ্ণ
মৃত্যুর আগে যে ৭ গোনাহ থেকে অবশ্যই তওবা করা জরুরি?

মানুষ ভুল করে। অন্ধকার পথে পা বাড়ায়। কারণ, ভুল করা মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। তাই জীবনের নানা পর্যায়ে জেনে বা না জেনে মানুষ বিভিন্ন ভুল ও গোনাহের কাজে জড়িয়ে পড়ে। তবে মহানবী (সা.) বলেছেন, গোনাহ করে তাতে অটল থাকা মুমিনের বৈশিষ্ট্য নয়। বরং ভুল বুঝতে পারলে আল্লাহর কাছে ফিরে আসা এবং আন্তরিকভাবে তওবা করা মুমিনের কর্তব্য। কারণ মৃত্যু কখন আসবে, তা কেউ জানে না। তাই তওবার সুযোগ থাকা অবস্থাতেই গোনাহ থেকে ফিরে আসা জরুরি।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে আমার বান্দারা, যারা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব গোনাহ ক্ষমা করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা আজ-জুমার: ৫৩)

এর পরের আয়াতেই আল্লাহ তাআলা তওবার ব্যাপারে তাগিদ দিয়ে বলেন, ‘তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের দিকে ফিরে আসো এবং তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করো, তোমাদের ওপর শাস্তি আসার আগে।’ (সুরা আজ-জুমার: ৫৪)

হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন সাতটি গোনাহের কথা বলেছেন, যেগুলোকে তিনি ‘ধ্বংসাত্মক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং এগুলো থেকে প্রত্যেককে বেঁচে থাকার উপদেশ দিয়েছেন।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সাতটি ধ্বংসাত্মক বিষয় থেকে বেঁচে থাকো।’ সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, সেগুলো কী?’ তিনি বলেন, ‘আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা, জাদু করা, অন্যায়ভাবে সেই প্রাণ হত্যা করা যাকে আল্লাহ হারাম করেছেন, সুদ খাওয়া, এতিমের সম্পদ ভক্ষণ করা, যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা এবং সতী-সাধ্বী মুমিন নারীদের বিরুদ্ধে অপবাদ দেওয়া।’ (বোখারি: ২৭৬৬)

আলোচিত এই সাত গোনাহ হলো:

১. আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা

শিরক হলো আল্লাহর ইবাদত ও তাঁর বিশেষ অধিকার বা গুণাবলিতে অন্য কাউকে শরিক করা। এটি ইসলামে সবচেয়ে গুরুতর গোনাহগুলোর একটি। কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শরিক করাকে ক্ষমা করেন না; এ ছাড়া অন্য গোনাহ তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।’ (সুরা আন-নিসা: ৪৮)

তবে এর অর্থ এই নয় যে জীবিত অবস্থায় শিরক থেকে তওবা করলে ক্ষমার দরজা বন্ধ। বরং আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে ফিরে এসে ঈমান গ্রহণ ও তওবা করলে ক্ষমার আশা রয়েছে। সুরা আল-ফুরকানের ৬৮ থেকে ৭০ নম্বর আয়াতে শিরকসহ গুরুতর গোনাহের উল্লেখের পর তওবাকারীদের জন্য আল্লাহর ক্ষমার কথা বলা হয়েছে।

২. জাদু করা

জাদু ইসলামে মারাত্মক গোনাহ হিসেবে বিবেচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) যে সাতটি ধ্বংসাত্মক গোনাহ থেকে বেঁচে থাকতে বলেছেন, তার মধ্যে জাদুর কথাও রয়েছে। (বোখারি: ২৭৬৬)

জাদুর মাধ্যমে মানুষের ক্ষতি করা, প্রতারণা করা কিংবা মানুষের বিশ্বাস ও জীবনকে বিপথে পরিচালিত করার চেষ্টা করা গুরুতর অপরাধ। তাই কেউ এ ধরনের কাজে জড়িত থাকলে তা পরিত্যাগ করে আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে তওবা করা জরুরি।

৩. অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা করা

অন্যায়ভাবে শরিয়ত সম্মত কারণ ছাড়া মানুষের প্রাণ নেওয়া ইসলামে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বর্ণিত সাত ধ্বংসাত্মক গোনাহের মধ্যেও এটি রয়েছে। (বোখারি: ২৭৬৬)

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যারা আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোনো উপাস্যকে ডাকে না, আল্লাহ যে প্রাণকে হারাম করেছেন, ন্যায্য কারণ ছাড়া তা হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না।’ এরপর এসব কাজের জন্য শাস্তির কথা উল্লেখ করে আল্লাহ বলেন, ‘তবে যারা তওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে, তাদের কথা ভিন্ন।’ (সুরা আল-ফুরকান: ৬৮-৭০)

অতএব, হত্যার মতো গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়লে শুধু মুখে তওবা করাই যথেষ্ট নয়; মানুষের অধিকার ও সংশ্লিষ্ট দায়দায়িত্বের বিষয়টিও যথাযথভাবে সমাধান করতে হবে।

৪. সুদ খাওয়া

সুদ ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) সাতটি ধ্বংসাত্মক গোনাহের মধ্যে সুদ খাওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন। (বোখারি: ২৭৬৬)

সুদের লেনদেনে জড়িত ব্যক্তি যদি এ গোনাহ থেকে মুক্ত হতে চান, তাহলে তাকে হারাম লেনদেন পরিত্যাগ করে আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে। একই সঙ্গে কারও সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রহণ করা হয়ে থাকলে তা ফেরত দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

৫. এতিমের সম্পদ আত্মসাৎ করা

এতিমের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ বা আত্মসাৎ করাও রাসুলুল্লাহ (সা.) বর্ণিত সাতটি ধ্বংসাত্মক গোনাহের অন্তর্ভুক্ত। (বোখারি: ২৭৬৬)

এতিম ব্যক্তি তার সম্পদ রক্ষার ক্ষেত্রে অনেক সময় অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকে। তার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সম্পদ আত্মসাৎ করা তাই শুধু আর্থিক অপরাধ নয়, বরং গুরুতর জুলুমও। কেউ এ গোনাহে জড়িয়ে পড়লে আন্তরিক তওবার পাশাপাশি আত্মসাৎ করা সম্পদ যথাযথ মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া জরুরি।

৬. যুদ্ধের ময়দান থেকে পলায়ন করা

হাদিসে বর্ণিত সাতটি ধ্বংসাত্মক গোনাহের একটি হলো যুদ্ধের ময়দানে শত্রুর মোকাবিলা থেকে পলায়ন করা। (বোখারি: ২৭৬৬)

এটি মূলত শরিয়তসম্মত যুদ্ধের পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বিধান। তাই সাধারণ কোনো পরিস্থিতিতে বিপদ থেকে সরে আসা বা নিজেকে রক্ষা করাকে এই হাদিসের আওতায় ফেলা ঠিক নয়। বরং ইসলামী বিধান অনুযায়ী যুদ্ধের ময়দানে দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে অন্যায়ভাবে পলায়নের বিষয়টি এখানে বোঝানো হয়েছে।

৭. সতী-সাধ্বী মুমিন নারীর বিরুদ্ধে অপবাদ দেওয়া

কোনো নির্দোষ ও সতী-সাধ্বী মুমিন নারীর চরিত্র নিয়ে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া ভয়াবহ গোনাহ। রাসুলুল্লাহ (সা.) এটিকেও সাতটি ধ্বংসাত্মক গোনাহের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। (বোখারি: ২৭৬৬)

কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, যারা সতী নারীদের বিরুদ্ধে অপবাদ দেয় এবং চারজন সাক্ষী হাজির করতে পারে না, তাদের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে এরপরই আল্লাহ তওবার সুযোগের কথাও উল্লেখ করেছেন। (সুরা আন-নুর: ৪-৫)

তওবার সুযোগ থাকা অবস্থায় ফিরে আসা জরুরি

ইসলামে গোনাহ যত বড়ই হোক, বান্দার জন্য তওবার দরজা খোলা থাকে। তাই উল্লিখিত গোনাহগুলো করে থাকলে মৃত্যু আসার আগে এখনই তওবা করা জরুরি। তবে তওবা শুধু মুখে ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ বলার নাম নয়। গোনাহ ছেড়ে দেওয়া, নিজের কৃতকর্মের জন্য আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হওয়া এবং ভবিষ্যতে সেই গোনাহে ফিরে না যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প করা তওবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আর গোনাহের সঙ্গে যদি মানুষের অধিকার জড়িত থাকে, তাহলে সেই অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া বা যথাযথভাবে সমাধান করাও জরুরি। কারও সম্পদ আত্মসাৎ, কারও ওপর জুলুম বা কারও সম্মানহানি করা হলে শুধু আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি বান্দার হক আদায়ের বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই যারা তওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে, আল্লাহ তাদের পাপগুলোকে পুণ্যে পরিবর্তন করে দেবেন। আর আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা আল-ফুরকান: ৭০)

তাই মৃত্যু আসার অপেক্ষা না করে জীবিত থাকতেই গোনাহ থেকে ফিরে আসা উচিত। কারণ তওবার সুযোগ থাকতেই আল্লাহর দিকে ফিরে আসাই মুমিনের জন্য নিরাপদ পথ। কোরআনে আল্লাহ তাআলা শাস্তি আসার আগেই তাঁর দিকে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। (সুরা আজ-জুমার: ৫৩-৫৪)

চরভদ্রাসনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৭ অপরাহ্ণ
চরভদ্রাসনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে র‍্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে।

​উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরবর্তীতে উপজেলা পরিষদ হলরুমে শিক্ষকদের অংশগ্রহণে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

​উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জুলহাস হোসেন সৌরভের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চরভদ্রাসন সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর চন্দ্রমোহন হালদার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার মো. মাকসুদুর রহমান, থানা কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সফর আলী, কৃষি কর্মকর্তা ইমরান বিন ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আজিজুর রহমান খান, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান এবং প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম।

​আলোচনা সভায় বক্তারা শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন ও শিক্ষক সমাজকে সম্মানের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরেন।

​অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান এবং উপজেলার নানা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকমণ্ডলী উপস্থিত ছিলেন।

সদরপুরে স্কুল ভবনের উদ্বোধন ঘিরে বিরোধ, ৬ দিন ধরে ক্লাসে আসছে না ৩০ শিক্ষার্থী

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪৭ অপরাহ্ণ
সদরপুরে স্কুল ভবনের উদ্বোধন ঘিরে বিরোধ, ৬ দিন ধরে ক্লাসে আসছে না ৩০ শিক্ষার্থী

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের চর চাঁদপুর কোলচুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দাওয়াত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিরোধের জেরে প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির নির্দেশে গত ছয় দিন ধরে অভিভাবকেরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।

​বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হঠাৎ করে উদ্বোধনের তারিখ জানানোয় কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে দাওয়াত দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে দাবি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।

​তবে অনুষ্ঠানে দাওয়াত না পেয়ে ক্ষুব্ধ হন স্থানীয় প্রভাবশালী কামরুল হাসান। অভিযোগ রয়েছে, এরপর তিনি স্থানীয় অভিভাবকদের নিয়ে সভা করে শিক্ষার্থীদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করার নির্দেশ দেন। তার প্রভাবেই অনেকে সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে সাহস পাচ্ছেন না। কেউ কেউ পার্শ্ববর্তী অন্যান্য স্কুলে সন্তানদের ভর্তির চেষ্টা করছেন।

​১০৭ জন শিক্ষার্থীর এই বিদ্যালয়ে আগে নিয়মিত ৬৫ থেকে ৭০ জন উপস্থিত থাকলেও, গত ছয় দিন ধরে উপস্থিতি নেমে এসেছে ২৫ থেকে ৩০ জনে। ফলে স্বাভাবিক পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

​বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল আজিজ বলেন, “হঠাৎ বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী না আসায় স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”

​প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী খান জানান, “ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হঠাৎ উদ্বোধনের কথা জানানোয় কাউকে দাওয়াত দেওয়ার সুযোগ পাইনি। বিষয় টি কামরুল হাসানকে বুঝিয়ে বললেও তিনি কর্ণপাত করেননি।”

​তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কামরুল হাসান দাবি করেন, “অভিভাবকেরা নিজ ইচ্ছায় সন্তানদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না। সেখানে ঠিকমতো পড়াশোনা হয় না এবং শিক্ষকেরা রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।” পাশাপাশি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠনে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তোলেন তিনি।

​এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মামুনুর রহমান জানান, প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে বিষয়টি তিনি জেনেছেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

১৭ বছর ধরে ঘরের খুঁটিতে বাঁধা লিমনের জীবন

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪২ অপরাহ্ণ
১৭ বছর ধরে ঘরের খুঁটিতে বাঁধা লিমনের জীবন

বয়সের হিসাবে ২০ ছুঁয়েছেন, কিন্তু জীবনের গতি থেমে গেছে মাত্র তিন বছর বয়সেই। এরপর থেকেই এক পায়ে লোহার শিকল পেঁচিয়ে ঘরের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে তাঁকে। এভাবেই শিকলবন্দি অবস্থায় কেটে গেছে জীবনের দীর্ঘ ১৭টি বছর।

​করুণ এই গল্পটি ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের উজিরপুর গ্রামের। দিনমজুর মো. হাফেজ শরিফের ছেলে লিমন শরিফের সারাদিনের জীবন এখন কাটছে মাত্র কয়েক ফুট লোহার শিকলের পরিধিতে।

​পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মাত্র তিন বছর বয়সে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে লিমনের জীবন অস্বাভাবিক হয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে কমে যায় কথা বলার সক্ষমতা। বর্তমানে বাবা-মা ছাড়া অন্য কারো সঙ্গে তেমন কথা বলতে পারেন না তিনি, চলাফেরাও করতে পারেন না স্বাভাবিক মানুষের মতো।

​শিকলবন্দি রাখার কারণ জানাতে গিয়ে বাবা হাফেজ শরিফ বলেন, “কোনো বাবা-মা চায় না নিজের সন্তানকে এভাবে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে। কিন্তু ওকে মুক্ত রাখলে বাড়ি থেকে দূরে চলে যায়—কখনো উঁচু গাছে উঠে পড়ে, আবার কখনো পুকুরে নেমে যায়। নিজের নিরাপত্তার বোধটুকুও তার নেই। গ্রাম ঘুরে তাকে খুঁজে আনতে হয়। বাধ্য হয়েই নিরাপত্তার স্বার্থে গত ১৭ বছর ধরে ওকে এভাবে শিকলে আটকে রাখতে হচ্ছে।”

​তিন শতক জমির ওপর পলিথিন ও প্লাস্টিকের বস্তা দিয়ে ঘেরা জরাজীর্ণ এক টিনের ঘরে বাস পরিবারটির। দিনমজুরির সামান্য আয়ে সংসার চালানোই যেখানে দায়, সেখানে লিমনের মতো একজন মানসিক ভারসাম্যহীন সন্তানের উন্নত চিকিৎসা চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ইতিপূর্বে সাধ্যমতো চিকিৎসা করালেও অর্থের অভাবে তা আর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

​স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ওয়াহিদুল আলী বলেন, “লিমন মানসিকভাবে অসুস্থ এবং তার একটি সরকারি প্রতিবন্ধী কার্ড রয়েছে। পরিবারটি মারাত্মক আর্থিক সংকটে রয়েছে, তাদের থাকার ঘরটির অবস্থাও করুণ। লিমনের সুচিকিৎসা ও পরিচর্যা নিশ্চিত করতে সরকারি ও সামাজিক সহায়তা প্রয়োজন।”

​বিষয়টি জানতে পেরে পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দবির উদ্দিন। তিনি জানান, দ্রুতই পরিবারটিকে ঘরের জন্য টিনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি লিমনের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সরকারি সহায়তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে উপজেলা প্রশাসন।