খুঁজুন
বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৩০ বৈশাখ, ১৪৩৩

পবিত্র রমজানের আগেই যেসব প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:০৯ পূর্বাহ্ণ
পবিত্র রমজানের আগেই যেসব প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি?

রমজানের আগে যেসব প্রস্তুতি গ্রহণ জরুরিবছর পরিক্রমায় রহমত, বরকত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আবারও আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে মহিমান্বিত রমজান। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) থেকে শুরু হতে পারে এ বছরের প্রথম রোজা। 

অফুরন্ত বরকতের মাস রমজানে মুমিন-মুসলমান সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও প্রবৃত্তি সংযমের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির অনুশীলনে আত্মনিয়োগ করেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ يُضَاعَفُ، الْحَسَنَةُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِمِائَةِ ضِعْفٍ، قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: إِلَّا الصَّوْمَ، فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ، يَدَعُ شَهْوَتَهُ وَطَعَامَهُ مِنْ أَجْلِي

অর্থ: ‘মানুষের প্রত্যেক আমলের প্রতিদান বৃদ্ধি করা হয়।

একটি নেকির সওয়াব দশ গুণ থেকে সাতাশ গুণ পর্যন্ত। আল্লাহ তাআলা বলেন, কিন্তু রোজা আলাদা। কেননা তা একমাত্র আমার জন্য এবং আমি নিজেই এর বিনিময় প্রদান করব। বান্দা একমাত্র আমার জন্য নিজের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং পানাহার পরিত্যাগ করেছে’।(বুখারি ১৯০৪, মুসলিম ১১৫১, মুসনাদে আহমদ ৯৭১৪)

সাহাবায়ে কেরাম (রা.) রমজানের আগমনের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন। তারা ৬ মাস আগে থেকেই আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন— যেন তিনি তাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দেন। আবার রমজান শেষে পরবর্তী ৬ মাস দোয়া করতেন— যেন আল্লাহ তাদের রোজা ও ইবাদত কবুল করেন। ফলে তাদের জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে রমজানের ছোঁয়া লেগে থাকত।

(আসরারুল মুহিব্বিন ফি রামাজান: ৪২)

অতএব, একজন সচেতন মুমিনের জন্য রমজানের অবিরাম কল্যাণ লাভে এখন থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করা অপরিহার্য। কারণ, কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজের উত্তম প্রস্তুতিই সেই কাজের অর্ধেক সফলতা। তাই রমজান আসার আগে এখন থেকেই নিতে হবে যেসব প্রস্তুতি, তা তুলে ধরা হলো—

(১) দৃঢ় প্রতিজ্ঞা গ্রহণ

রমজান শুরুর আগেই অন্তরে দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করতে হবে— এই রমজান হবে জীবনের মোড় ঘোরানো এক অধ্যায়। আজীবন যত গুনাহ ও ভুল হয়েছে, এ মাসেই মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তাআলার পূর্ণ ক্ষমা অর্জনের চেষ্টা করতে হবে এবং সর্বোচ্চ সাওয়াব হাসিল করতে হবে। প্রতিটি মুমিনের জন্য এমন প্রতিজ্ঞা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

(২) তাওবাহ ও ইসতেগফারে অভ্যস্ত হওয়া
রমজানের আগে বছরজুড়ে সংঘটিত সব ভুল-ত্রুটির জন্য আন্তরিক তাওবাহ ও ইসতেগফার করা আবশ্যক। কেউ যেন এ ধারণা না করে যে, ‘রমজান এলেই সব গুনাহ আপনাতেই মাফ হয়ে যাবে’। বাস্তবে তা নয়। বরং আগেভাগেই তাওবাহ করে নিজেকে প্রস্তুত করলে রমজানের কল্যাণ পূর্ণভাবে লাভ করা যায়। এ জন্য বেশি বেশি পড়তে হবে—

اَللَّهُمَّ اغْفِرْلِىْ

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মাগফিরলি’।

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দিন’।

(৩) কাজা রোজা আদায় করে নেওয়া
পূর্ববর্তী রমজানের কোনো রোজা কাজা হয়ে থাকলে চলতি রমজান শুরুর আগেই তা আদায় করা উত্তম। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে ভাঙতি রোজা থাকার সম্ভাবনা বেশি। তাই শাবান মাসেই এসব কাজা রোজা পূর্ণ করে নেওয়া শ্রেয়।

(৪) রমজানের ফজিলত ও উপকারিতা জানা
রমজান সম্পর্কে কোরআনুল কারিম ও সুন্নায় বর্ণিত ফজিলত, মর্যাদা ও উপকারিতাগুলো আগে থেকেই জেনে নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি এসব কল্যাণ লাভের জন্য কোরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী চলার মানসিক প্রস্তুতিও গ্রহণ করতে হবে। এ সময় বেশি বেশি এ দোয়া পড়া—

اَللَّهُمَّ بَلِّغْنَا رَمَضَانَ

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা বাল্লিগনা রামাদান’।

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন’।

(৫) সাধারণ ক্ষমা পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন
রমজান মাসে আল্লাহ তাআলা অসংখ্য বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। তবে এ সাধারণ ক্ষমা সবার জন্য নয়। এ জন্য ২টি মারাত্মক ব্যাধি থেকে মুক্ত থাকতে হবে—

(১) শিরক থেকে মুক্ত থাকা: ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত, ছোট বা বড়—সব ধরনের শিরক থেকে তাওবাহ করে ফিরে আসা।

(২) হিংসা পরিহার করা: হিংসা মানুষের নেক আমল এমনভাবে ধ্বংস করে দেয়, যেমন আগুন কাঠ পুড়িয়ে দেয়।

তাই ক্ষমা পেতে হলে অন্তরকে এসব অপবিত্রতা থেকে পরিষ্কার করা জরুরি।

(৬) ফরজ রোজার মাসআলা-মাসায়েল জানা
রমজান শুরুর আগে রোজা সংক্রান্ত ফরজ, ওয়াজিব, মাকরুহ ও ভঙ্গের কারণগুলো ভালোভাবে জেনে নেওয়া দরকার। এতে রোজা পালনে ভুল হওয়ার আশঙ্কা কমে যায় এবং ইবাদত হয় বিশুদ্ধ।

(৭) শাবান মাসে রমজানের মহড়া দেওয়া
শাবান মাসজুড়ে বেশি বেশি নফল রোজা রাখা, কুরআন তেলাওয়াত, নফল নামাজ, তাওবাহ-ইসতেগফার, দান-সদকা ও ত্যাগের মানসিকতা তৈরি করা উচিত। এতে রমজানে ইবাদতের গতি ও গভীরতা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।

(৮) পূর্ববর্তী রমজানের ঘাটতি চিহ্নিত করা
আগের রমজানে যেসব নেক আমল নিয়মিত করা সম্ভব হয়নি— তার কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। যেমন—

> নিয়মিত কুরআন তেলাওয়াত না হওয়া

> তারাবিহ আদায় না করা

> দান-সহযোগিতা না করা

> ইতেকাফ না করা

> রোজাদারকে ইফতার করাতে না পারা

এসব ঘাটতি চিহ্নিত করে আসন্ন রমজানে তা পূরণে আগেভাগে প্রস্তুতি নিতে হবে।

(৯) রমজানের ২৪ ঘণ্টার সম্ভাব্য রুটিন তৈরি করা
রমজানের প্রতিটি মুহূর্ত কীভাবে ব্যয় হবে— তার একটি বাস্তবসম্মত রুটিন আগে থেকেই করে নেওয়া উপকারী। এতে ব্যস্ততার মাঝেও ইবাদত ও দুনিয়াবি কাজ—সবই ইবাদতে পরিণত করা সম্ভব হয়।

(১০) রমজানের চাঁদ অনুসন্ধানে সুন্নাত জীবিত করা
শাবান মাসের ২৯ তারিখ সন্ধ্যায় রমজানের চাঁদ অনুসন্ধান করা সুন্নত। বর্তমানে অনেকেই শুধু ঘোষণা শোনার অপেক্ষায় থাকেন, ফলে চাঁদ দেখা ও সংশ্লিষ্ট দোয়ার সুন্নত থেকে বঞ্চিত হন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজে চাঁদ দেখতেন এবং সাহাবিদেরও দেখতে বলতেন। নতুন চাঁদ দেখলে তিনি এ দোয়া পড়তেন, اَللهُ اَكْبَرُ اَللَّهُمَّ أَهِلَّهُ عَلَيْنَا بِالْأَمْنِ وَ الْاِيْمَانِ وَالسَّلَامَةِ وَ الْاِسْلَامِ وَ التَّوْفِيْقِ لِمَا تُحِبُّ وَ تَرْضَى رَبُّنَا وَ رَبُّكَ الله

উচ্চারণ: ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ইমানি ওয়াসসালামাতি ওয়াল ইসলামি ওয়াত্তাওফিকি লিমা তুহিব্বু ওয়া তারদা, রাব্বুনা ওয়া রাব্বুকাল্লাহ’।

অর্থ: আল্লাহ মহান। হে আল্লাহ! এ নতুন চাঁদকে আমাদের জন্য নিরাপত্তা, ইমান, শান্তি ও ইসলামের সঙ্গে উদয় কর। আর যা তুমি ভালোবাস ও যাতে তুমি সন্তুষ্ট হও—সেই কাজের তৌফিক দাও। আমাদের ও তোমার রব একমাত্র আল্লাহ। (তিরমিজি: ৩৪৫১, মিশকাত: ২৪২৮)

 

টিকাদানে অনীহায় ফরিদপুরে বাড়ছে হাম, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৪ রোগী, মৃত্যু ১০

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ১:১৭ অপরাহ্ণ
টিকাদানে অনীহায় ফরিদপুরে বাড়ছে হাম, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৪ রোগী, মৃত্যু ১০

ফরিদপুর জেলায় দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হাম রোগীর সংখ্যা। শিশুদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সী মানুষও আক্রান্ত হচ্ছেন এ ভাইরাসজনিত রোগে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে আরও ৫১ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তবে স্বস্তির খবর হলো, এ সময়ে নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

বুধবার (১৩ মে) জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ মে পর্যন্ত ফরিদপুর জেলায় মোট হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৯৯ জনে। একই সময়ে হামজনিত কারণে প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জন।

উপজেলাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ফরিদপুর সদর উপজেলায়। সেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫৯ জন। এছাড়া সালথায় ২২ জন, সদরপুরে ১৪ জন, বোয়ালমারীতে ১৪ জন, ভাঙ্গায় ১২ জন, চরভদ্রাসনে ৬ জন, মধুখালীতে ৩ জন এবং নগরকান্দায় ২ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক অভিভাবক এখনও শিশুদের নিয়মিত টিকাদানে উদাসীন থাকায় হাম সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে টিকাদান কার্যক্রমে অনীহা ও সচেতনতার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ৬৯ জন এবং ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১৫ জন হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় দুই হাসপাতালে মোট ৫১ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৪ জন।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, হাম প্রতিরোধে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম, জনসচেতনতামূলক প্রচার এবং আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে শিশুদের নির্ধারিত সময়ে এমআর টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

মনে মনে খারাপ কোনো চিন্তা করলে কি গোনাহ হয়?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৮:২৪ পূর্বাহ্ণ
মনে মনে খারাপ কোনো চিন্তা করলে কি গোনাহ হয়?

মানুষ আল্লাহর তৈরি সবচেয়ে সম্মানিত সৃষ্টির নাম। কিন্তু এই মানুষই মাঝে মাঝে নিজের অন্তরে এমন সব চিন্তা লালন করেন, যা পাপের দিকে ধাবিত করে। আমরা অনেক সময় দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই, কারণ শয়তান মানুষের অন্তরে নানা ধরনের কু-চিন্তা ঢুকিয়ে দেয়।

নামাজের মধ্যে হোক বা নিরিবিলি সময়ে, কখনো এমন ভাবনা আসে যা নিজের কাছেই লজ্জাজনক মনে হয়। তখন মনে প্রশ্ন জাগে, শুধু মনে মনে খারাপ কোনো চিন্তা এলেই কি গোনাহ হয়ে যায়? আল্লাহ কি এর জন্য আমাদের পাকড়াও করবেন?

চলুন তাহলে শরিয়তের ভাষ্য জেনে নিই—

ইসলামি স্কলার মুফতি রেজাউল করীম আবরার বলেন, মনে মনে খারাপ চিন্তা করলে গোনাহ হবে কি না— এমন প্রশ্নের ক্ষেত্রে দেখতে হবে এই চিন্তার ধরন কীরকম। কারণ মনে মনে খারাপ চিন্তাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

প্রথমতো, কেউ যদি চিন্তা করে যে, আমি ওমুক খারাপ কাজটি করব, ওমুক খারাপ বন্ধুর সঙ্গে যাব, মদপান করব অথবা ওমুককে আঘাত করব, কিন্তু পরবর্তীতে আল্লাহর ভয়ে যদি সেই কল্পনাটি বাস্তবায়ন না করে, তবে এই ফিরে আসার জন্য আল্লাহ তার আমলনামায় সওয়াব যুক্ত করে দেবেন। কোনো গোনাহ হবে না।

দ্বিতীয়ত, কেউ যদি মনে মনে কারও সম্পর্কে খারাপ চিন্তা করে (চরিত্র হনন), কোনো নারীকে নিয়ে বাজে কল্পনা-জল্পনা করে, তাহলে তার আমলনামায় গোনাহ লেখা হবে। কারণ, সে মনের জেনা করেছে এবং অন্যের চরিত্র হনন করেছে।

হাদিসে কুদসিতে যা বলা হয়েছে

হাদিসে কুদসিতে বর্ণিত রয়েছে, আল্লাহ ভালো ও মন্দ কাজ লিখে রাখেন। তারপর তিনি ব্যাখ্যা করেন, যে ব্যক্তি ভালো কাজের জন্য দৃঢ় সংকল্প করে কিন্তু তা সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়, আল্লাহ তার আমলনামায় একটি পূর্ণ নেকি দান করেন। আর যদি সে তা সম্পন্ন করে, তবে আল্লাহ তার আমলনামায় দশ নেকি থেকে সাতশ বা তার চেয়েও বেশি নেকি দান করেন।

অন্যদিকে, যদি কারও মনে মন্দ কাজের বাসনা জাগে কিন্তু তা সে কাজে পরিণত না করে, আল্লাহ তার জন্য একটি পূর্ণ নেকি দান করেন। আর যদি সে তার বাসনা বাস্তবে পরিণত করে, তবে তার জন্য একটি মন্দ কাজ লিখেন। (বোখারি : ৬৪৯১, মুসলিম : ১৩১)

সূত্র : কালবেলা

শরীরে কোলেস্টেরল বাড়ছে কি না, খেয়াল রাখুন ৫ লক্ষণ

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৮:১৭ পূর্বাহ্ণ
শরীরে কোলেস্টেরল বাড়ছে কি না, খেয়াল রাখুন ৫ লক্ষণ

আজকের ব্যস্ততম জীবনে অনিয়মিত খাবার, ফাস্টফুড, তেল-চর্বি বেশি খাওয়া, ব্যায়ামের অভাব- সব মিলিয়ে শরীরে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে নীরব কিন্তু মারাত্মক একটি সমস্যা হলো উচ্চ কোলেস্টেরল।

এটি বাড়তে থাকলে ধমনীতে ধীরে ধীরে চর্বি জমতে থাকে। যে কারণে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়; কিন্তু আমরা টেরই পাই না। এতে করে একসময় হঠাৎ বুকে ব্যথা, স্ট্রোক কিংবা হার্ট অ্যাটাকের মতো ভয়াবহ বিপদ দেখা দেয়। তবে, এসব বিপদের আগেভাগেই আমাদের শরীর কিছু সংকেত দিয়ে সতর্ক করে দেয় যে, কোলেস্টেরল বাড়ছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা সেসব সংকেতকে অনেক সময় সাধারণ ব্যথা বা ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে যাই। অথচ সময়মতো এসব লক্ষণ চিনে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে বাঁচা সম্ভব।

চলুন জেনে নিই, যেসব লক্ষণ দেখলে বুঝবেন শরীরে কোলেস্টেরল বাড়ছে—

পায়ে ব্যথা বা খিঁচুনি

হাঁটার সময় বা বিশ্রামে থেকেও পায়ে ভারিভাব কিংবা হঠাৎ ক্র্যাম্প হলে সতর্ক হওয়া জরুরি। এটি ধমনির রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার ইঙ্গিত দিতে পারে, যা উচ্চ কোলেস্টেরলের কারণে ঘটে।

বুকে ব্যথা বা চাপ

ধমনিতে কোলেস্টেরল জমতে শুরু করলে অনেকের বুকের মাঝামাঝি অংশে চাপ, জ্বালাপোড়া বা ব্যথা অনুভূত হয়। এটি হৃদ্‌রোগ কিংবা হার্ট অ্যাটাকের পূর্বাভাসও হতে পারে।

গলা, চোয়াল বা কাঁধে ব্যথা

শরীরের উপরের অংশে অস্বাভাবিক ব্যথা বা শক্তভাবও কোলেস্টেরল বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিতে পারে। রক্ত চলাচল কমে গেলে গলা, চোয়াল বা কাঁধে ব্যথা হয়, যা অনেক সময় আমরা পেশির ব্যথা ভেবে উপেক্ষা করি।

হাত-পায়ে অসাড়তা ও ঝিনঝিনি

হাত-পায়ে ঝিনঝিনি, অসাড়তা বা ঠান্ডা লাগার মতো অনুভূতি উচ্চ কোলেস্টেরলের লক্ষণ হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে পায়ে নীলচে ভাবও দেখা দেয়। সিঁড়ি উঠার সময় দ্রুত হাঁপিয়ে যাওয়া বা ক্লান্ত হয়ে পড়াও একটি সতর্কবার্তা।

চোখের চারপাশে হলুদ দাগ

চোখের চারপাশে হলুদ বলয় বা হলদেটে স্তর তৈরি হওয়া শরীরে অতিরিক্ত কোলেস্টেরলের সরাসরি সংকেত। এটি বিপদসীমারও বেশি কোলেস্টেরল জমে যাওয়ার লক্ষণ।

করণীয়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সঠিক খাবার গ্রহণ, ব্যায়াম এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলে উচ্চ কোলেস্টেরলের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

তথ্যসূত্র : এবিপি লাইভ