খুঁজুন
, ,

তারাবি নামাজ: কত রাকাত, কীভাবে পড়বেন ও কী দোয়া করবেন?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৪৪ পূর্বাহ্ণ
তারাবি নামাজ: কত রাকাত, কীভাবে পড়বেন ও কী দোয়া করবেন?

ইবাদতের বসন্তকাল পবিত্র রমজান। এ মাসে রহমতের দরজা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। হাদিস শরিফে এসেছে, রমজান মাস শুরু হলেই রহমতের দরজা খুলে দেওয়া হয়। (মুসলিম : ১০৭৯/২)

অন্য এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে , রমজান মাসের শুভাগমন উপলক্ষে জান্নাতের দরজাসমুহ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়। (বোখারি : ১৮৯৯, মুসলিম : ১০৭৯/১)

রমজানে প্রতিটি আমলের অনেক গুণ বেশি ছওয়াব পাওয়া যায়। নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘রমজানের ওমরা হজ সমতুল্য।’ (তিরমিজি : ৯৩৯ ও আবু দাউদ : ১৯৮৬)

অন্য এক বর্ণনায় (যা সনদের দিক থেকে দুর্বল) বিষয়টি এভাবে বর্ণিত হয়েছে, রমজান মাসে যে ব্যক্তি একটি নফল আদায় করল সে যেন অন্য মাসে একটি ফরজ আদায় করল। আর যে এ মাসে একটি ফরজ আদায় করল সে যেন অন্য মাসে সত্তরটি ফরজ আদায় করল। (শুআবুল ঈমান : ৩/৩০৫-৩০৬)

অর্থাৎ, এ মাসে নফল আদায় করলে অন্য মাসের ফরজের ন্যায় ছওয়াব হয়। আর এ মাসের এক ফরজে অন্য মাসের ৭০ ফরজের সমান ছওয়াব পাওয়া যায়।

রমজানে বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা ব্যাপকভাবে যেসব ইবাদত করে থাকেন, তার একটি হলো তারাবি নামাজ। এই নামাজের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে তারাবি পড়ার প্রতি উৎসাহিত করেছেন। এক হাদিসে তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও পরকালের আশায় রমজানের রাতে তারাবির সালাত আদায় করবে, তার অতীতের পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। (নাসায়ি : ২২০৫)

তারাবিকে ঘিরে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের মসজিদগুলোতে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। ফরিদপুর প্রতিদিনের পাঠকদের সুবিধার্থে তারাবি নামাজের নিয়ম, নিয়ত, দোয়া ও মোনাজাত তুলে ধরা হলো।

তারাবি নামাজ পড়ার নিয়ম

রমজানে প্রতিদিন এশার ফরজ নামাজ পড়ার পরে বিতিরের আগে তারাবি নামাজ পড়তে হয়। তারাবি নামাজ দুই রাকাত করে পড়া হয়। প্রত্যেক দুই রাকাতের পর সালাম ফেরানো হয়। এভাবে চার রাকাত পড়ার পরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া হয়। এসময় বিভিন্ন তাসবিহ পড়া উত্তম।

তারাবি নামাজের নিয়ত

ইসলামে নিয়ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো কাজ বা ইবাদত আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হলে তা সঠিক নিয়তের সঙ্গে করতে হয়। নিয়ত ছাড়া কোনো ইবাদত পূর্ণাঙ্গ হয় না, কারণ ইবাদতের মূল শর্তই হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের ইচ্ছা। তাই তারাবি নামাজের জন্যও নিয়ত করা হয়। নিয়ত মনে মনে বাংলাতেও করা যায়।

আমাদের দেশের প্রচলিত তারাবির আরবি নিয়ত

نَوَيْتُ اَنْ اُصَلِّىَ للهِ تَعَالَى رَكْعَتَى صَلَوةِ التَّرَاوِيْحِ سُنَّةُ رَسُوْلِ اللهِ تَعَالَى مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّرِيْفَةِ اللهُ اَكْبَرْ

বাংলা উচ্চারণ : নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তায়ালা, রাকাআতাই সালাতিত তারাবি সুন্নাতু রাসুলিল্লাহি তায়ালা, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা’বাতিশ শারিফাতি, আল্লাহু আকবার।

অর্থ : আমি কেবলামুখী হয়ে দুই রাকাত তারাবি সুন্নত নামাজের নিয়ত করছি, আল্লাহু আকবার।

রাজধানীর জামিয়া ইকরার ফাজিল মুফতি ইয়াহইয়া শহিদ কালবেলাকে বলেন, তারাবি নামাজের নিয়ত আরবিতে করা আবশ্যক বা বাধ্যতামূলক নয়। বাংলাতেও এভাবে নিয়ত করা যাবে যে, ‘আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তারাবির দুই রাকাত নামাজ কেবলামুখী হয়ে (জামাত হলে- এ ইমামের পেছনে) পড়ছি- (اَللهُ اَكْبَر) আল্লাহু আকবার। উল্লেখ্য, নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা জরুরী নয়, তবে উত্তম।

তারাবি নামাজের দোয়া

তারাবি নামাজে প্রতি চার রাকাত পর বিশ্রাম নেওয়া হয়। এ সময় একটি দোয়া পড়ার প্রচলন রয়েছে আমাদের দেশে। প্রায় সব মসজিদের মুসল্লিরা এই দোয়াটি পড়ে থাকেন।

দোয়াটি হলো

سُبْحانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ سُبْحانَ ذِي الْعِزَّةِ وَالْعَظْمَةِ وَالْهَيْبَةِ وَالْقُدْرَةِ وَالْكِبْرِيَاءِ وَالْجَبَرُوْتِ سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْحَيِّ الَّذِيْ لَا يَنَامُ وَلَا يَمُوْتُ اَبَدًا اَبَدَ سُبُّوْحٌ قُدُّوْسٌ رَبُّنا وَرَبُّ المْلائِكَةِ وَالرُّوْحِ

বাংলা উচ্চারণ : সুবহানা জিল মুলকি ওয়াল মালাকুতি, সুবহানা জিল ইয্যাতি ওয়াল আজমাতি ওয়াল হায়বাতি ওয়াল কুদরাতি ওয়াল কিব্রিয়ায়ি ওয়াল জাবারুতি। সুবহানাল মালিকিল হাইয়্যিল্লাজি লা ইয়ানামু ওয়া লা ইয়ামুত আবাদান আবাদ; সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাব্বুনা ওয়া রাব্বুল মালায়িকাতি ওয়ার রূহ।

মুফতি ইয়াহইয়া শহিদ বলেন, মনে রাখতে হবে, তারাবি নামাজ বিশুদ্ধ হওয়া বা না হওয়ার সঙ্গে এই দোয়ার কোনও সম্পর্ক নেই। এই দোয়া না পড়লে তারাবি নামাজ হবে না, কোনওভাবেই এমন মনে করা যাবে না। মূলত এ দোয়ার সঙ্গে তারাবি নামাজ হওয়া কিংবা না হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই।

তিনি বলেন, এ সময় কোরআন-হাদিসে বর্ণিত যেকোনো দোয়াই পড়া যাবে। ফক্বিহ আলেমদের মতে, তারাবি নামাজে চার রাকাত পর বিশ্রামের সময়টিতে কোরআন-হাদিসে বর্ণিত দোয়া, তওবা,-ইসতেগফারগুলো পড়াই উত্তম।

তারাবি নামাজ শেষে মোনাজাত

প্রতিদিন তারাবি নামাজ শেষে দেশের মসজিদগুলোতে একটি দোয়া পড়ে মোনাজাতের প্রচলন রয়েছে। প্রাচীনকাল থেকেই দেশব্যাপী মসজিদগুলোতে প্রচলিত এই দোয়াটি হলো-

اَللَهُمَّ اِنَّا نَسْئَالُكَ الْجَنَّةَ وَ نَعُوْذُبِكَ مِنَ النَّارِ يَا خَالِقَ الْجَنَّةَ وَالنَّارِ- بِرَحْمَتِكَ يَاعَزِيْزُ يَا غَفَّارُ يَا كَرِيْمُ يَا سَتَّارُ يَا رَحِيْمُ يَاجَبَّارُ يَاخَالِقُ يَابَارُّ اَللَّهُمَّ اَجِرْنَا مِنَ النَّارِ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ يَا مُجِيْرُ- بِرَحْمَتِكَ يَا اَرْحَمَ الرَّحِمِيْنَ

বাংলা উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকাল জান্নাতা ওয়া নাউজুবিকা মিনাননার। ইয়া খালিক্বাল জান্নাতি ওয়ান নার, বিরাহমাতিকা ইয়া আজিজু ইয়া গাফফার, ইয়া কারিমু ইয়া সাত্তার, ইয়া রাহিমু ইয়া জাব্বার, ইয়া খালিকু ইয়া বার্রু। আল্লাহুম্মা আজিরনা মিনান নার, ইয়া মুজিরু, ইয়া মুজিরু, ইয়া মুজির- বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমিন।

উল্লেখ্য, আমাদের সমাজে অনেকে মনে করেন তারাবি নামাজ সঠিক নিয়মে আদায়ের জন্য নামাজ শেষে এই দোয়াটি পড়া আবশ্যক। এমন ধারণা বা বিশ্বাস মোটেও ঠিক নয়। তাই দোয়াটি পড়ার ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, তারাবি নামাজ হওয়া বা না হওয়ার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। যেমন তারাবি নামাজের প্রতি চার রাকাত পর পর পড়া দোয়াটির সঙ্গে তারাবি বিশুদ্ধ হওয়ার কোনও সম্পর্ক নেই।

ফরিদপুরে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য মোটরসাইকেল-প্রাইভেটকার শোভাযাত্রা

মানিক কুমার দাস, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৯:২০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য মোটরসাইকেল-প্রাইভেটকার শোভাযাত্রা

আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ফরিদপুরে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের সমর্থকদের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আকাশি-সাদা জার্সি, হাতে আর্জেন্টিনার জাতীয় পতাকা আর প্রিয় দলের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে শহরের বিভিন্ন সড়ক।

শুক্রবার (০৩ জুলাই) বিকেল ৪টার দিকে শহরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের সামনে থেকে আর্জেন্টিনা সমর্থক গোষ্ঠীর উদ্যোগে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। এতে শতাধিক মোটরসাইকেল এবং একাধিক প্রাইভেট কার অংশ নেয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার নির্ধারিত স্থানে এসে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া সমর্থকদের অধিকাংশের গায়ে ছিল আর্জেন্টিনা দলের জার্সি। কেউ জাতীয় পতাকা উড়িয়েছেন, কেউ আবার প্রিয় খেলোয়াড়দের ছবি সংবলিত ব্যানার ও পতাকা বহন করেছেন। পুরো আয়োজনে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ, যা পথচারীদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

আয়োজকদের দাবি, ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা এবং প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন জানাতেই তাদের এ ব্যতিক্রমী আয়োজন। তারা বলেন, গত বিশ্বকাপের মতো এবারও আর্জেন্টিনা দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে শিরোপা জিতবে বলে তারা আশাবাদী।

সমর্থকদের অনেকেই জানান, বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের মধ্যকার একটি রোমাঞ্চকর ম্যাচ দেখতে চান তারা। তাদের ভাষায়, ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা এই দুই দলের মধ্যে, আর এমন একটি ফাইনাল বিশ্বকাপকে আরও স্মরণীয় করে তুলবে।

শোভাযাত্রা ঘিরে শহরে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন স্থান থেকে সাধারণ মানুষ শোভাযাত্রা উপভোগ করেন এবং অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এমন আয়োজন আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

ফরিদপুরের সদরপুরে কালেমা খচিত পতাকার মিছিল

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের সদরপুরে কালেমা খচিত পতাকার মিছিল

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় কালেমা খচিত সাদা পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, এ আয়োজনের মাধ্যমে মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ইসলামী চেতনা আরও উজ্জীবিত হবে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে সদরপুর সর্বস্তরের মুসলিম জনতার ব্যানারে উপজেলা সদরের বিশ্ব জাকের মঞ্জিল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি সদর বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে একটি সংক্ষিপ্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মিছিলে বিভিন্ন বয়সী প্রায় দুই শতাধিক মুসল্লি অংশ নেন। তাদের হাতে কালেমা খচিত সাদা পতাকা ও বিভিন্ন ধর্মীয় স্লোগানসংবলিত ব্যানার দেখা যায়।

সভায় উপজেলা পরিষদের পেশ ইমাম মাওলানা আমির হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় কালিমার পতাকা অবমাননা হয়েছে। কোন ভাবেই এ পতাকার অবমাননা বরদাস্ত করা হবে না।

কর্মসূচির আয়োজক মুফতি মোহাম্মদ জাকির হুসাইন ফরিদী বলেন, এই আয়োজনের উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া নয়। মানুষের মধ্যে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও কালেমার গুরুত্ব তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা বিশ্বাস করি, এ ধরনের উদ্যোগ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসকে আরও উজ্জীবিত করবে।

টাকা দিতে অস্বীকৃতি, ফরিদপুরে ব্যবসায়ীর দুই হাত কুপিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
টাকা দিতে অস্বীকৃতি, ফরিদপুরে ব্যবসায়ীর দুই হাত কুপিয়ে ছিনতাইয়ের অভিযোগ

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কোড়কদী এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে নগদ ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুইজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুইজনকে আসামি করে মধুখালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

শুক্রবার (০৩ জুলাই) বিকেলে আহত ব্যবসায়ী রনি শেখের বাবা খালেক শেখ বাদী হয়ে মধুখালী থানায় এ অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কোড়কদী গ্রামের বাসিন্দা রনি শেখ (৩০) স্থানীয় কোড়কদী বাজারে বিকাশ, নগদ, ফ্লেক্সিলোড ও কসমেটিকসের ব্যবসা করেন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত আনুমানিক ১০টা ১৫ মিনিটে তিনি দোকান বন্ধ করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

পথে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কোড়কদী এলাকার ভেজাল মণ্ডল ও গোসাই চন্দ্র সরকারের বাড়ির মাঝামাঝি সরকারি পাকা সড়কে পৌঁছালে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে। অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা প্রথমে রনির কাছে থাকা টাকা দাবি করে। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মধ্যে থাকা ধারালো চাপাতি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তার ডান ও বাম হাতের ওপর এলোপাতাড়ি কোপ দেওয়া হয়। পরে তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়।

একপর্যায়ে রনি শেখ মাটিতে লুটিয়ে অজ্ঞান হয়ে গেলে তার সঙ্গে থাকা ব্যবসার নগদ ১ লাখ ৯২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আকাশ বিশ্বাস (২৫), পিতা- মৃত নিপেন্দ্র বিশ্বাস, সাং- কোড়কদী মাঝিপাড়া এবং জিহাদ শেখ (২৭), পিতা- আক্কাচ শেখ, সাং- কোড়কদী বাবুপাড়াকে নামীয় আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও দুইজনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, কিছুক্ষণ পর ওই সড়ক দিয়ে সাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় বাসিন্দা মিলন বিশ্বাস আহত রনি শেখকে রাস্তার পাশে ঘাসের মধ্যে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে রনি শেখকে উদ্ধার করে দ্রুত মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছুটা সুস্থ হলে রনি শেখ তার ওপর হামলা ও ছিনতাইয়ের ঘটনার বিস্তারিত পরিবারের সদস্যদের জানান। পরে এলাকাবাসী ও স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে শুক্রবার বিকেলে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় বলে জানান বাদী।

এ বিষয়ে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় বলেন, “এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”