খুঁজুন
, ,

মনে মনে খারাপ কোনো চিন্তা করলে কি গোনাহ হয়?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৮:২৪ পূর্বাহ্ণ
মনে মনে খারাপ কোনো চিন্তা করলে কি গোনাহ হয়?

মানুষ আল্লাহর তৈরি সবচেয়ে সম্মানিত সৃষ্টির নাম। কিন্তু এই মানুষই মাঝে মাঝে নিজের অন্তরে এমন সব চিন্তা লালন করেন, যা পাপের দিকে ধাবিত করে। আমরা অনেক সময় দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই, কারণ শয়তান মানুষের অন্তরে নানা ধরনের কু-চিন্তা ঢুকিয়ে দেয়।

নামাজের মধ্যে হোক বা নিরিবিলি সময়ে, কখনো এমন ভাবনা আসে যা নিজের কাছেই লজ্জাজনক মনে হয়। তখন মনে প্রশ্ন জাগে, শুধু মনে মনে খারাপ কোনো চিন্তা এলেই কি গোনাহ হয়ে যায়? আল্লাহ কি এর জন্য আমাদের পাকড়াও করবেন?

চলুন তাহলে শরিয়তের ভাষ্য জেনে নিই—

ইসলামি স্কলার মুফতি রেজাউল করীম আবরার বলেন, মনে মনে খারাপ চিন্তা করলে গোনাহ হবে কি না— এমন প্রশ্নের ক্ষেত্রে দেখতে হবে এই চিন্তার ধরন কীরকম। কারণ মনে মনে খারাপ চিন্তাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

প্রথমতো, কেউ যদি চিন্তা করে যে, আমি ওমুক খারাপ কাজটি করব, ওমুক খারাপ বন্ধুর সঙ্গে যাব, মদপান করব অথবা ওমুককে আঘাত করব, কিন্তু পরবর্তীতে আল্লাহর ভয়ে যদি সেই কল্পনাটি বাস্তবায়ন না করে, তবে এই ফিরে আসার জন্য আল্লাহ তার আমলনামায় সওয়াব যুক্ত করে দেবেন। কোনো গোনাহ হবে না।

দ্বিতীয়ত, কেউ যদি মনে মনে কারও সম্পর্কে খারাপ চিন্তা করে (চরিত্র হনন), কোনো নারীকে নিয়ে বাজে কল্পনা-জল্পনা করে, তাহলে তার আমলনামায় গোনাহ লেখা হবে। কারণ, সে মনের জেনা করেছে এবং অন্যের চরিত্র হনন করেছে।

হাদিসে কুদসিতে যা বলা হয়েছে

হাদিসে কুদসিতে বর্ণিত রয়েছে, আল্লাহ ভালো ও মন্দ কাজ লিখে রাখেন। তারপর তিনি ব্যাখ্যা করেন, যে ব্যক্তি ভালো কাজের জন্য দৃঢ় সংকল্প করে কিন্তু তা সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়, আল্লাহ তার আমলনামায় একটি পূর্ণ নেকি দান করেন। আর যদি সে তা সম্পন্ন করে, তবে আল্লাহ তার আমলনামায় দশ নেকি থেকে সাতশ বা তার চেয়েও বেশি নেকি দান করেন।

অন্যদিকে, যদি কারও মনে মন্দ কাজের বাসনা জাগে কিন্তু তা সে কাজে পরিণত না করে, আল্লাহ তার জন্য একটি পূর্ণ নেকি দান করেন। আর যদি সে তার বাসনা বাস্তবে পরিণত করে, তবে তার জন্য একটি মন্দ কাজ লিখেন। (বোখারি : ৬৪৯১, মুসলিম : ১৩১)

সূত্র : কালবেলা

ফরিদপুরে চাকরির শেষ লগ্নে কলেজ অধ্যক্ষের মানবেতর জীবন, রাষ্ট্রের কাছে চাইলেন ন্যায়বিচার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৪:১৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে চাকরির শেষ লগ্নে কলেজ অধ্যক্ষের মানবেতর জীবন, রাষ্ট্রের কাছে চাইলেন ন্যায়বিচার

চাকরি জীবনের শেষ প্রান্তে এসে চরম আর্থিক সংকট, মানসিক যন্ত্রণা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটানোর অভিযোগ তুলে নিজের প্রতি সংঘটিত অন্যায়-অবিচারের প্রতিকার এবং স্বপদে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌর সদরের কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের সাময়িক বরখাস্ত অধ্যক্ষ মো. ফরিদ আহমেদ।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে বোয়ালমারী বাজারের একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রভাব, শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে তাকে অন্যায়ভাবে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখা হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে অধ্যক্ষ ফরিদ আহমেদ বলেন, জীবনের চার দশকেরও বেশি সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। হাজারো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার পর আজ চাকরির মাত্র দুই মাস বাকি থাকতে তাকে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। বৃদ্ধ মায়ের ওষুধ, অসুস্থ স্ত্রীর চিকিৎসা, নিজের চিকিৎসা ব্যয়, মেডিকেলে অধ্যয়নরত মেয়ের লেখাপড়ার খরচ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে যাওয়া ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কলেজের কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারীর উস্কানিতে বহিরাগত কিছু ব্যক্তি ও শিক্ষার্থী তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে পদত্যাগের দাবি জানায়। পরবর্তীতে গত ২৮ নভেম্বর কলেজ পরিচালনা পর্ষদ কতিপয় শিক্ষক-কর্মচারী ও বহিরাগতদের চাপের মুখে প্রচলিত বিধি অনুসরণ না করেই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে।

তার দাবি, সাময়িক বরখাস্তের পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি এবং বিষয়টি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কেও যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানা হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ফরিদ আহমেদ বলেন, বরখাস্তের পর তার বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকি তার ব্যাংক হিসাবও স্থগিত করা হয়। ফলে নিয়মিত আয় তো বন্ধ হয়েছেই, নিজের দীর্ঘদিনের সঞ্চিত অর্থও ব্যবহার করতে পারেননি। এতে পরিবার নিয়ে তিনি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

তিনি আরও জানান, নিরুপায় হয়ে উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালতের আদেশে তিনি চাকরি ও বেতন-ভাতার অধিকার ফিরে পান। কিন্তু আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কলেজের একটি প্রভাবশালী পক্ষ এবং পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন সদস্য তাকে এখনও দায়িত্ব গ্রহণ করতে দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাকে অধ্যক্ষের সরকারি বাসভবন ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। এতে রাজি না হওয়ায় তার বাসায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন। এসব ঘটনার জন্য তিনি কলেজের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. হোসনেয়ারা বেগম, প্রভাষক সৈয়দা দিল আশরাফি, প্রভাষক জাহেদা বেগম, সহকারী অধ্যাপক মো. আজহার আলী, সহকারী অধ্যাপক আ. মান্নান, সেকশন অফিসার কামরুল ইসলাম এবং অফিস সহায়ক মো. মানিক হোসেনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এছাড়া তার বিরুদ্ধে কলেজ প্রাঙ্গণে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের সেখানে অংশ নিতে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে অধ্যক্ষ ফরিদ আহমেদ বলেন, “আমি এখন জীবনের শেষ কর্মপর্বে। চাকরির বয়স আর মাত্র দুই মাস বাকি। এই সময়ের মধ্যে যদি দায়িত্বে ফিরতে না পারি, তাহলে আমার অবসরজনিত সব প্রাপ্য, পরিবারের ভবিষ্যৎ এবং শেষ বয়সের নিরাপত্তা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে যাবে। আমার বৃদ্ধ মা, অসুস্থ স্ত্রী ও সন্তানদের কথা ভেবে রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ন্যায়বিচার এবং স্বপদে পুনর্বহালের আবেদন জানাচ্ছি।”

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক ও শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষবিরোধী মানববন্ধনে অংশগ্রহণের জন্য কিছু শিক্ষার্থীর ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল। তবে এ অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান প্রশাসনিক সংকট ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে কলেজটির শিক্ষা কার্যক্রম ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের দাবি, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে আইন ও বিধি অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। এতে যেমন অভিযোগের সত্যতা স্পষ্ট হবে, তেমনি প্রতিষ্ঠানটিতে স্থিতিশীল পরিবেশও ফিরে আসবে।

ফরিদপুরে একসঙ্গে জন্ম নেওয়া সেই পাঁচ সন্তানের ৪ জন মারা গেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে একসঙ্গে জন্ম নেওয়া সেই পাঁচ সন্তানের ৪ জন মারা গেছে

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন এক প্রসূতি। তবে গর্ভধারণের প্রায় সাড়ে ছয় মাসের মাথায় নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই সন্তান প্রসব হওয়ায় জন্ম নেওয়া পাঁচ নবজাতকের মধ্যে চারজনই মারা গেছে। বর্তমানে একটি ছেলে শিশু হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স রিয়া বিশ্বাস জানান, জন্মের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিন নবজাতক মারা যায়। পরে শুক্রবার ভোরে আরও এক ছেলে শিশুর মৃত্যু হয়। বর্তমানে একটি ছেলে শিশু জীবিত রয়েছে এবং তাকে অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার অবস্থাও এখনও আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেল ৫টা ২০ মিনিট থেকে ৫টা ৫০ মিনিটের মধ্যে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে একে একে তিন ছেলে ও দুই মেয়ের জন্ম দেন চাঁদনী বেগম (২২)। বিরল এই প্রসবের ঘটনায় হাসপাতালজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে চার নবজাতকের মৃত্যুর খবরে নেমে আসে শোকের ছায়া।

চাঁদনী বেগম ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কোদালিয়া-শহীদনগর ইউনিয়নের বড় কাজুলী গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় দেড় বছর আগে একই উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের ভবুকদিয়া গ্রামের মাহামুদুল হাসান ডলারের (৩০) সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। মাহামুদুল হাসান ডলার বর্তমানে সিঙ্গাপুরে কর্মসংস্থানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বিয়ের কয়েক মাস পর চাঁদনী গর্ভবতী হন। পরবর্তীতে আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে তাঁর গর্ভে পাঁচটি সন্তান রয়েছে বলে জানতে পারেন চিকিৎসকেরা। বিষয়টি পরিবারে আনন্দের সৃষ্টি করলেও চিকিৎসকেরা শুরু থেকেই এটিকে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ গর্ভধারণ হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন।

হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডের জ্যেষ্ঠ স্টাফ নার্স মিনতি সরকার জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে প্রসূতিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে প্রায় এক ঘণ্টা পর স্বাভাবিক প্রসব শুরু হয়। মাত্র ৩০ মিনিটের ব্যবধানে পাঁচটি নবজাতকের জন্ম হয়। জন্মের সময় প্রতিটি শিশুর ওজন ছিল আনুমানিক ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম, যা অত্যন্ত কম।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু ওয়ার্ড সূত্র জানায়, জন্মের পর পাঁচ নবজাতককেই চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে অপরিণত বয়সে জন্ম নেওয়া এবং অত্যন্ত কম ওজনের কারণে তাদের শারীরিক অবস্থা ছিল সংকটাপন্ন।

নবজাতক ও শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বরত শিক্ষানবিশ (ইন্টার্ন) চিকিৎসক প্রীতিরাজ পাল চৌধুরী বলেন, জন্মের সময় পাঁচ শিশুই জীবিত ছিল। কিন্তু তারা ‘এক্সট্রিমলি লো বার্থ ওয়েট’ বা অত্যন্ত কম ওজনের নবজাতক হওয়ায় তাদের নিবিড় পরিচর্যা প্রয়োজন ছিল। এ ধরনের শিশুদের সাধারণত উন্নত নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (NICU)-এ চিকিৎসা দিতে হয়। হাসপাতালের সীমিত সুবিধার কথা বিবেচনায় রেখে নবজাতকদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের আর স্থানান্তর করা হয়নি।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, সাধারণ গর্ভধারণের মেয়াদ ৩৭ থেকে ৪০ সপ্তাহ হলেও এই প্রসূতির সন্তানদের জন্ম হয়েছে প্রায় ২৮ সপ্তাহের আগেই। এত কম বয়সে জন্ম নেওয়া নবজাতকদের ফুসফুস, হৃদ্‌যন্ত্র ও অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পূর্ণাঙ্গভাবে বিকশিত না হওয়ায় মৃত্যুঝুঁকি অত্যন্ত বেশি থাকে।

একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত বিরল ঘটনা। তবে অপরিণত প্রসব এবং পর্যাপ্ত নিবিড় নবজাতক পরিচর্যার অভাবে চার নবজাতকের মৃত্যুতে আনন্দের সেই মুহূর্ত মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে গভীর বেদনায়। বর্তমানে পরিবারের সব প্রার্থনা এখন একমাত্র জীবিত শিশুটিকে ঘিরেই।

স্মার্টফোনে বারবার বিজ্ঞাপনের বিরক্তি, এক সেটিংসেই মিলবে সমাধান

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৮:০০ পূর্বাহ্ণ
স্মার্টফোনে বারবার বিজ্ঞাপনের বিরক্তি, এক সেটিংসেই মিলবে সমাধান

স্মার্টফোনে অ্যাপ ব্যবহার বা ওয়েবসাইট ব্রাউজ করার সময় হঠাৎ ফুল-স্ক্রিন বিজ্ঞাপন, ভিডিও অ্যাড বা একের পর এক পপ-আপ অনেকের জন্যই বিরক্তির কারণ। শুধু ব্যবহারেই বিঘ্ন ঘটে না, এসব বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফিশিং বা ভুয়া ওয়েবসাইটে প্রবেশের ঝুঁকিও থাকে।

তবে অ্যান্ড্রয়েড ৯ (পাই) বা এর পরের সংস্করণ ব্যবহারকারীরা অতিরিক্ত কোনো অ্যাপ ইনস্টল না করেই একটি সেটিংস পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেক বিজ্ঞাপন বন্ধ করতে পারেন। এর জন্য ব্যবহার করতে হবে প্রাইভেট ডিএনএস সুবিধা।

প্রাইভেট ডিএনএস ফোনের ইন্টারনেট সংযোগকে নির্দিষ্ট ডিএনএস সার্ভারের মাধ্যমে পরিচালনা করে। যদি অ্যাডগার্ড ডিএনএস এর মতো বিজ্ঞাপন-ফিল্টারিং ডিএনএস ব্যবহার করা হয়, তাহলে পরিচিত বিজ্ঞাপন, ট্র্যাকিং এবং কিছু ক্ষতিকর ডোমেইন আগেই ব্লক হয়ে যায়। ফলে অনেক অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন লোডই হয় না।

কীভাবে চালু করবেন

এই সুবিধা চালু করতে প্রথমে ফোনের সেটিংস থেকে নেটওয়ার্ক অ্যান্ড ইন্টারনেট বা কানেকশনস মেনুতে যান। এরপর প্রাইভেট ডিএনএস অপশন নির্বাচন করে প্রাইভেট ডিএনএস প্রোভাইডার হোস্টনেম বেছে নিন। সেখানে ডিএনএস ডট অ্যাডগর্ডস ডট কম (dns.adguard.com) লিখে সেভ করুন। এরপর থেকেই অনেক বিজ্ঞাপন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্লক হতে শুরু করবে।

তবে সব স্মার্টফোনে এই অপশনের অবস্থান এক নয়। অনেক ডিভাইসে এটি মোর কানেকশন, অ্যাডভান্সড সেটিংস, কিংবা ডিএনএস নামে থাকতে পারে। প্রয়োজন হলে সেটিংসের সার্চ বক্সে প্রাইভেট ডিএনএস লিখেও খুঁজে পাওয়া যাবে।

তবে এই পদ্ধতিতে সব ধরনের বিজ্ঞাপন বন্ধ হয় না। যেসব বিজ্ঞাপন সরাসরি অ্যাপের নিজস্ব সার্ভার থেকে আসে, সেগুলো অনেক ক্ষেত্রে দেখা যেতে পারে। তবুও অপ্রয়োজনীয় বিজ্ঞাপন কমানোর পাশাপাশি পরিচিত ট্র্যাকিং, অ্যাডওয়্যার এবং কিছু ফিশিং ও ম্যালওয়্যার-সংশ্লিষ্ট ডোমেইন থেকেও অতিরিক্ত সুরক্ষা পাওয়া যায়। ফলে মাত্র একটি সেটিংস পরিবর্তনেই স্মার্টফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা আরও পরিচ্ছন্ন, দ্রুত ও তুলনামূলক নিরাপদ হতে পারে।

সূত্র : যুগান্তর