খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

প্যারোল কী এবং কেন দেওয়া হয়? কোন অপরাধে, কতদিন ও কী শর্তে জামিন পান বন্দিরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:০০ এএম
প্যারোল কী এবং কেন দেওয়া হয়? কোন অপরাধে, কতদিন ও কী শর্তে জামিন পান বন্দিরা

কারাগারে দণ্ড ভোগ করা মানেই সব সময় নিরবচ্ছিন্নভাবে জেলে থাকা নয়। আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে কোনো বন্দিকে সাময়িকভাবে কারাগারের বাইরে থাকার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। এই সুযোগকেই বলা হয় প্যারোল।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশেই মানবিক ও সামাজিক বিবেচনায় প্যারোলের ব্যবস্থা রয়েছে।

প্যারোল কী

প্যারোল হলো কারাদণ্ড ভোগরত কোনো বন্দিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সাময়িক মুক্তি দেওয়া। এই সময়ে বন্দি পুরোপুরি মুক্ত ব্যক্তি হিসেবে গণ্য হন না। তাকে কিছু শর্ত মেনে চলতে হয় এবং নির্ধারিত সময় শেষে আবার কারাগারে ফিরে যেতে হয়। প্যারোল মূলত শাস্তি কমানো নয়, বরং শাস্তি ভোগের মধ্যেই সীমিত সময়ের জন্য বাইরে যাওয়ার সুযোগ।

কেন প্যারোল দেওয়া হয়

প্যারোল দেওয়ার পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ থাকে। এর মধ্যে রয়েছে গুরুতর অসুস্থতা, নিকট আত্মীয়ের মৃত্যু, পারিবারিক জরুরি প্রয়োজন, চিকিৎসা গ্রহণ কিংবা বিশেষ সামাজিক কারণ। অনেক ক্ষেত্রে বন্দির আচরণ ভালো হলে এবং সে সংশোধনের পথে আছে বলে মনে হলে প্যারোল বিবেচনায় আনা হয়।

কারা প্যারোল পেতে পারেন

সব বন্দিই প্যারোল পাওয়ার যোগ্য নন। সাধারণত যেসব বিষয় বিবেচনা করা হয় সেগুলো হলো-

– বন্দির অপরাধের ধরন

– কারাদণ্ডের মেয়াদ ও ইতোমধ্যে কতদিন দণ্ড ভোগ করেছেন

– কারাগারে তার আচরণ ও শৃঙ্খলা

– সমাজে ফিরে গিয়ে কোনো ঝুঁকি তৈরি হবে কি না

গুরুতর ও জঘন্য অপরাধে দণ্ডিত বন্দিদের ক্ষেত্রে প্যারোল দেওয়া অনেক সময় কঠোরভাবে সীমিত থাকে।

প্যারোল পাওয়ার প্রক্রিয়া

প্যারোল পাওয়ার জন্য সাধারণত বন্দি বা তার পরিবারকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হয়। আবেদনটি যাচাই করে কারা কর্তৃপক্ষ। এরপর বিষয়টি জেলা প্রশাসন বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট উচ্চ পর্যায়ের কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। সব দিক বিবেচনা করে যদি আবেদন গ্রহণযোগ্য হয়, তাহলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্যারোল মঞ্জুর করা হয়।

প্যারোলের শর্ত

– প্যারোলে মুক্তি পাওয়া বন্দিকে কিছু শর্ত মানতে হয়। যেমন-

– নির্দিষ্ট ঠিকানায় অবস্থান করা

– নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবার কারাগারে ফিরে যাওয়া

– আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো ব্যত্যয় না ঘটানো

শর্ত ভঙ্গ করলে প্যারোল বাতিল হতে পারে এবং ভবিষ্যতে প্যারোল পাওয়ার সুযোগও কমে যায়।

প্যারোল আর জামিন কি এক

প্যারোল ও জামিন এক বিষয় নয়। জামিন সাধারণত মামলার বিচার চলাকালীন সময়ের জন্য দেওয়া হয়। আর প্যারোল দেওয়া হয় দণ্ড ঘোষণার পর, যখন বন্দি ইতোমধ্যে সাজা ভোগ করছেন।

প্যারোল হলো কারাবন্দিদের জন্য একটি মানবিক আইনি সুযোগ, যা বিশেষ পরিস্থিতিতে তাদের সাময়িক স্বস্তি দেয়। তবে এটি কোনো অধিকার নয়, বরং কর্তৃপক্ষের বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল। আইন, শর্ত ও সামাজিক নিরাপত্তা বিবেচনায় রেখেই প্যারোল দেওয়া হয়।

সঠিক নিয়ম মেনে এবং দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে প্যারোল ব্যবস্থা সমাজ ও বন্দি উভয়ের জন্যই ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে দুই দল গ্রামবাসী মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৫/২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে এ সংঘর্ষ। দুই পক্ষ ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে বারটার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন। এর জের ধরে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।