খুঁজুন
শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ২৭ চৈত্র, ১৪৩২

কম পরিচিত খাবারেই ভিটামিন সি’র শক্তি, জানেন কি?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৫১ পূর্বাহ্ণ
কম পরিচিত খাবারেই ভিটামিন সি’র শক্তি, জানেন কি?

ভিটামিন ‘সি’ এক প্রকার অ্যাস্করবিক অ্যাসিড। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং দেহ ও ত্বকের কোষের ক্ষতিরোধ করে। তাছাড়া টিস্যুর গঠন ও ক্ষতস্থানের আরোগ্য লাভেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এ পুষ্টি উপাদান।

গবেষকরা বলেন, ভিটামিন সি’র অভাবে শারীরিক দুর্বলতা, ওজন কমে যাওয়া এবং স্কার্ভি রোগ হতে পারে।

কাজেই শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি’র চাহিদা মেটাতে প্রতিদিনের খাবার তালিকায় থাকা দরকার পরিমিত ভিটামিন ‘সি’।

এ তথ্য হয়তো অনেকেরই জানা যে- কমলা, লেবু, পেয়ারা ইত্যাদি ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’। ফল ছাড়াও ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ কিছু কিছু খাবার রয়েছে যা হতে পারে অনেকেরই অজানা।

কাঁচা মরিচ
কাঁচা মরিচে রয়েছে ভিটামিন সি এবং বেটা-ক্যারোটিন যা চোখ, ত্বক ও রোগ প্রতিরোধে খুবই কার্যকরী।

লাল মরিচ
ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ উৎসগুলোর মধ্যে লাল মরিচ অন্যতম। আধা কাপ লাল মরিচে রয়েছে ১০৭ দশমিক ৮ গ্রাম ভিটামিন ‘সি’ যা পেশীর ব্যথা নিরাময় ও হারের সংযোগ স্বাভাবিক রাখে।

আনারস
এককাপ আনারসে রয়েছে ৭৯ গ্রাম ভিটামিন ‘সি’। তাছাড়া এটি ক্যালসিয়াম ও পটাসিয়ামের ভালো উৎস।

স্ট্রবেরি
স্ট্রবেরির স্বাস্থ্য উপকারিতা ব্যাপক। এতে ভিটামিন সি’র পাশাপাশি রয়েছে ম্যাগনেসিয়ামসহ নানা পুষ্টি উপাদান।

ব্রকলি
সবুজ সবজি ব্রকলিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’, মিনারেল এবং খনিজ। প্রতি ১০০ গ্রাম ব্রকলিতে ৮৯.২ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া যায়। কাজেই ভিটামিন ‘সি’ এর অভাব পূরণে প্রতিদিন ব্রকলি খাওয়া যেতে পারে।

পেঁপে
পেঁপেতেও প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ রয়েছে। প্রতিদিন মাত্র একটি পেঁপে খেলেই শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি’র চাহিদা পূরণ হয়।

কিউয়ি
কিউয়িতে ভিটামিন সি’র পরিমাণ কমলার থেকেও বেশি। এতে আরও রয়েছে ফ্লেভোনয়েড এবং পটাসিয়াম।

আম
১০০ গ্রাম আমে রয়েছে ৩৬ দশমিক ৪ গ্রাম ভিটামিন ‘সি’।

মিষ্টি আলু
মিষ্টি আলুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণের ভিটামিন ‘সি’, বেটা ক্যারোটিন ও বিভিন্ন রকমের মিনারেল যা স্বাস্থ্যকর দেহের জন্য আবশ্যক।

ভিটামিন ‘সি’ পানিতে দ্রবণীয় হওয়ায় তা অনেক বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলেও দেহের কোনো ক্ষতি সৃষ্টি করে না বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

ফরিদপুরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৩২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানায় দায়ের করা সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সাদ্দাম শেখকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১০)। 

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে র‌্যাব-১০ এর ফরিদপুর ক্যাম্পের দেওয়া এক প্রেসবিজ্ঞপ্তি থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর আগে বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে জেলার কোতয়ালী থানাধীন মুন্সীবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাদ্দাম শেখ মোবাইল ফোনে পূর্বপরিচিত এক নারীকে ঘোরাফেরার কথা বলে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঘরুয়া এলাকায় ডেকে নেয়। সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা সহযোগীদের নিয়ে ভিকটিমকে মারধর করে ইচ্ছার বিরুদ্ধে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। এ সময় ভিকটিমের সঙ্গে থাকা প্রায় ৮০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ৩ হাজার ৫৭০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় ভিকটিম নিজেই ভাঙ্গা থানায় অভিযোগ দায়ের করলে গত ১ এপ্রিল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর ৯(৩)/৩০ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নম্বর-৮৮ রুজু হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের গ্রেপ্তারে সহায়তার জন্য র‌্যাব-১০-এর কাছে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে র‌্যাব-১০-এর ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি সাদ্দাম শেখকে গ্রেপ্তার করে।

র‌্যাব-১০-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার তাপস কর্মকার বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

ফরিদপুরে খালি গায়ে গামছা পড়ে কৃষক সেজে ডাকাত ধরলো পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর ও ভাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৫৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে খালি গায়ে গামছা পড়ে কৃষক সেজে ডাকাত ধরলো পুলিশ

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় অভিনব কৌশলে অভিযান চালিয়ে কাওছার শেখ (৩৫) নামে এক পলাতক ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কৃষকের ছদ্মবেশ ধারণ করে ঝুঁকিপূর্ণ এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভাঙ্গা থানার এএসআই মো. আতাউর রহমান, যার সাহসিকতা ইতোমধ্যেই স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে গ্রেফতারকৃত আসামিকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, পুলিশের এমন সাহসী ও বুদ্ধিদীপ্ত অভিযানে অপরাধ দমনে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি মামলার আসামি কাওছার শেখ ভাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা, বিশেষ করে পৌরসভা ও ঢাকা-খুলনা হাইওয়ে এক্সপ্রেসপথে সংঘটিত একাধিক ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিল। তার বিরুদ্ধে ভাঙ্গা থানায় ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর দায়ের করা একটি ডাকাতি মামলায় (মামলা নং-০৫, জিআর-৩২৪/২৪, ধারা ৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড) গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি থাকলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে ভাঙ্গা উপজেলার হাসামদিয়া এলাকার একটি ফসলের মাঠে অবস্থান নেয় পুলিশ। অভিযানের অংশ হিসেবে এএসআই আতাউর রহমান খালি গায়ে গামছা পরে কৃষকের ছদ্মবেশ ধারণ করেন, যাতে সন্দেহ এড়ানো যায়। পরে সঠিক সময় বুঝে কৌশলে কাওছারকে আটক করা হয়। ওইদিন রাত ১১টার দিকে তিনি গণমাধ্যমের সামনে এই অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

গ্রেফতারকৃত কাওছার শেখ ভাঙ্গা পৌরসভার পশ্চিম হাসামদিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং দাউদ শেখের ছেলে। পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে আরও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে এএসআই মো. আতাউর রহমান বলেন, “ওসি মিজানুর রহমানের নির্দেশনায় আমরা অভিযান পরিচালনা করি। কাওছার দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিল এবং তাকে ধরতে বিশেষ কৌশল গ্রহণ করা হয়। অবশেষে সফলভাবে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই।”

মায়ের কাছ থেকে যে ৮ বৈশিষ্ট্য পায় সন্তান?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২২ পূর্বাহ্ণ
মায়ের কাছ থেকে যে ৮ বৈশিষ্ট্য পায় সন্তান?

প্রতিটি শিশুর জন্মই এক নতুন জগতের সূচনা। তবে শুধু পিতামাতার ভালোবাসা, যত্ন বা পরিবেশ নয়, শিশুর শরীর ও মনও এক ধরনের জৈবিক উত্তরাধিকার বহন করে।

বিশেষ করে মায়ের জিনের প্রভাব সন্তানের ওপর আলাদা এবং গুরুত্বপূর্ণ। অনেক বৈজ্ঞানিক গবেষণা দেখিয়েছে, মায়ের দিক থেকে প্রাপ্ত জিন এবং বৈশিষ্ট্য শিশুর শারীরিক গঠন, মানসিক সক্ষমতা, স্বাস্থ্যের ঝুঁকি এবং এমনকি আচরণেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।

বাংলাদেশের পরিবারে মা ও সন্তানের সম্পর্ক প্রাথমিক পরিচর্যার মাধ্যমে বোঝা যায়, কিন্তু এই সম্পর্ক জিনগতভাবে অনেক গভীর। শুধু দেখায় যে বাচ্চা মায়ের মতো হাসে বা মূখাবয়ব নেয়, বরং মায়ের দিক থেকে প্রাপ্ত জিনগুলো শিশুর জীবনের নানা দিককে প্রভাবিত করে।

চলুন জেনে নিই, মায়ের কাছ থেকে সন্তানের মধ্যে কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য আসে:

১. মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ

কোষের শক্তিকেন্দ্র মাইটোকন্ড্রিয়া শুধু মায়ের কাছ থেকেই আসে। এটি শিশুর শরীরের শক্তি উৎপাদন, বিপাকক্রিয়া এবং বার্ধক্যের গতিতে প্রভাব ফেলে।

২. বুদ্ধিমত্তা

গবেষণায় দেখা গেছে, বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু জিন মায়ের দিক থেকে বেশি প্রভাব ফেলে। ফলে মায়ের শিক্ষার অভ্যাস, চিন্তাভাবনার ধরন ও জিনগত বৈশিষ্ট্য শিশুর মানসিক বিকাশে সাহায্য করতে পারে।

৩. শারীরিক বৈশিষ্ট্য

চুলের রং ও গঠন, হেয়ারলাইন, ত্বকের রং এবং ভ্যারিকোজ ভেইনের প্রবণতা; এসব শিশুর মধ্যে প্রাথমিকভাবে মায়ের দিক থেকে আসে। ভ্যারিকোজ ভেইন হলো এমন এক অবস্থা, যেখানে শিরাগুলো ফুলে যায় বা বাঁকানো দেখা যায়, সাধারণত ত্বকের ওপর নীল বা বেগুনি দাগের মতো প্রকাশ পায়।

৪. বিপাকক্রিয়া ও ওজন

শরীরের শক্তি ব্যবহারের ধরন এবং সহজে ওজন বাড়ার প্রবণতা; এসবে মায়ের জিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিশুর বিপাক ও ওজন নিয়ন্ত্রণে মায়ের দিক থেকে প্রাপ্ত জিনের প্রভাব চোখে পড়ে।

৫. মেজাজ ও ঘুমের ধরন

অনিদ্রা, ঘুমের সমস্যা বা কিছু মুড-সম্পর্কিত প্রবণতা, যেমন বিষণ্নতা—মায়ের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে আসতে পারে। এর মাধ্যমে শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য ও আচরণে প্রভাব পড়ে।

৬. কিছু রোগের ঝুঁকি

মায়োপিয়া (কাছের জিনিস স্পষ্ট ও দূরের জিনিস ঝাপসা দেখা), গ্লুকোমা, ছানি ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি মায়ের দিক থেকে আসতে পারে। ফলে স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং প্রাথমিক নজরদারি শিশুর জন্য জরুরি।

৭. X-লিংকড বৈশিষ্ট্য (বিশেষ করে ছেলেদের ক্ষেত্রে)

ছেলেসন্তান মায়ের কাছ থেকে একমাত্র X ক্রোমোজোম পায়। তাই বর্ণান্ধের মতো বৈশিষ্ট্য সরাসরি মায়ের দিক থেকে আসার সম্ভাবনা বেশি।

৮. প্রজনন (মেয়েদের ক্ষেত্রে)

মেয়েদের প্রথম মাসিক ও মেনোপজের সময় অনেক ক্ষেত্রে মায়ের সময়সূচির সঙ্গে মিল দেখা যায়। অর্থাৎ মেয়েদের প্রজনন সংক্রান্ত কিছু বৈশিষ্ট্যও মায়ের জিনের সঙ্গে সম্পর্কিত।

শেষ কথা

মনে রাখতে হবে, সব শিশুর ক্ষেত্রে এসব ভূমিকা এক রকম নয়। জিনের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস, পরিবেশ এবং জীবনধারার প্রভাব শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই মা ও সন্তানের সম্পর্ক শুধুমাত্র জেনেটিক নয়, বরং প্রতিদিনের যত্ন, পরিচর্যা ও অভ্যাসের মিশ্রণে শিশুর ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠে।

সূত্র: ফ্যামিলি এডুকেশন