খুঁজুন
, ,

কোন পেশার মানুষরা পরকীয়ায় বেশি জড়ান? জরিপে উঠে এলো চমকপ্রদ তথ্য

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩১ পূর্বাহ্ণ
কোন পেশার মানুষরা পরকীয়ায় বেশি জড়ান? জরিপে উঠে এলো চমকপ্রদ তথ্য

মানুষ কেন পরকীয়ায় জড়ায়, এর উত্তর একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম। কারও কাছে এটি সাময়িক আকর্ষণ, কারও কাছে মানসিক শূন্যতা পূরণের চেষ্টা।

আবার ‘মাইক্রোচিটিং’ থেকে শুরু করে পূর্ণাঙ্গ সম্পর্ক; পরকীয়ার ধরনও ভিন্ন হতে পারে। এমনকি কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া যায়, বুদ্ধিমান ব্যক্তিরাও অনেক সময় সম্পর্কে একঘেয়েমি এড়াতে নতুন কিছু খোঁজেন।

সম্প্রতি বিবাহিতদের জন্য সম্পর্ক তৈরির ওয়েবসাইট অ্যাশলি ম্যাডিসন-এর এক জরিপে উঠে এসেছে, কোন পেশার মানুষেরা তুলনামূলক বেশি পরকীয়ায় জড়ান। ১,০৭৪ জন সদস্যের ওপর করা এই জরিপে তাদের পেশা ও ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

মজার বিষয় হলো, যারা সম্পর্কে অবিশ্বস্ত, তাদের অনেকেই কিন্তু কর্মজীবনে বেশ স্থির। জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৪৪ শতাংশ উত্তরদাতা কখনো চাকরি পরিবর্তন করেননি, আর যারা করেছেন, তারা গড়ে ১০ বছরে একবার পরিবর্তন করেছেন।

চলুন দেখে নেওয়া যাক, পুরুষ ও নারীদের ক্ষেত্রে শীর্ষ ১২টি পেশা, যেখানে পরকীয়ার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে।

পুরুষদের ক্ষেত্রে শীর্ষ ১২ পেশা

১২. সামাজিক সেবা – ২%

১১. কৃষি – ৩%

১০. শিল্প ও বিনোদন – ৩%

৯. শিক্ষা – ৪%

৮. আইন পেশা – ৪%

৭. চিকিৎসা – ৫%

৬. মার্কেটিং ও কমিউনিকেশন – ৬%

৫. ফাইন্যান্স – ৮%

৪. রিটেইল ও হসপিটালিটি – ৮%

(যেমন—ওয়েটার, বারটেন্ডার, হোটেল কর্মী)

৩. উদ্যোক্তা

নিজের মতো করে চলার প্রবণতা থাকায় তারা ব্যক্তিগত জীবনেও স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে আগ্রহী, এমনটাই বলছে জরিপ।

২. আইটি – ১২%

১. ট্রেডস – ২৯%

এই পেশায় অনিয়মিত সময়সূচি ও শিফট ডিউটি থাকায় গোপনে সম্পর্ক বজায় রাখা তুলনামূলক সহজ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নারীদের ক্ষেত্রে শীর্ষ ১২ পেশা

১২. রাজনীতি – ১%

১১. শিল্প ও বিনোদন – ৪%

১০. আইন পেশা – ৪%

৯. ট্রেডস – ৪%

৮. মার্কেটিং ও কমিউনিকেশন – ৪%

৭. আইটি – ৮%

৬. রিটেইল ও হসপিটালিটি – ৯%

৫. সামাজিক সেবা – ৯%

৪. ফাইন্যান্স – ৯%

৩. উদ্যোক্তা

স্বাধীনতা ও নিজস্ব সিদ্ধান্তের প্রবণতার কারণে পুরুষদের মতোই নারীদের ক্ষেত্রেও উদ্যোক্তারা তালিকার শীর্ষে।

২. শিক্ষা – ১২%

১. চিকিৎসা – ২৩%

দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, মানসিক চাপ এবং সেই চাপ থেকে বের হওয়ার মানসিক চাহিদাই এখানে বড় কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জরিপ যা বলছে

জরিপ পরিচালনাকারীরা বলছেন, পেশার ধরন, কাজের পরিবেশ, সময়সূচি এবং মানসিক চাপ— সবকিছুই ব্যক্তিগত জীবনে প্রভাব ফেলে।

বিশেষ করে যেসব পেশায় অনিয়মিত সময়, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বা উচ্চ মানসিক চাপ থাকে, সেসব ক্ষেত্রেই পরকীয়ার প্রবণতা কিছুটা বেশি দেখা যেতে পারে।

তবে মনে রাখা জরুরি, পেশা কোনো মানুষের চরিত্র নির্ধারণ করে না। একই পেশার ভেতরেও মানুষের মূল্যবোধ, পারিবারিক বন্ধন এবং ব্যক্তিগত নৈতিকতা ভিন্ন হতে পারে। এই জরিপ তাই একটি সামগ্রিক প্রবণতা তুলে ধরে, ব্যক্তিগত বাস্তবতা সবসময়ই আলাদা।

সূত্র : ইন্ডিপেন্ডেন্ট

চরভদ্রাসনে স্পিডবোটে অতিরিক্ত ভাড়া: ঘাটের ইজারাদারকে জরিমানা

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৪:১০ অপরাহ্ণ
চরভদ্রাসনে স্পিডবোটে অতিরিক্ত ভাড়া: ঘাটের ইজারাদারকে জরিমানা

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে গোপালপুর-মৈনট নৌপথে স্পিডবোটে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের দায়ে ইজারাদারকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

​বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার গোপালপুর ঘাটে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা আদায় করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ।

​আদালত সূত্র জানায়, বাংলা ১৪৩৩ সনের জন্য ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে স্বপন ব্যাপারী নামে এক পাটনিকে ৬১ লাখ টাকায় গোপালপুর ঘাটটি ইজারা দেওয়া হয়। এতে স্পিডবোটে যাত্রীপ্রতি ভাড়া ১৭৫ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে ইজারাদার শর্ত ভঙ্গ করে যাত্রীদের কাছ থেকে ১৮০ টাকা করে ভাড়া আদায় করছিলেন। খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪০ ধারায় ইজারাদারকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

​অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করে ঘাট মালিকপক্ষের প্রতিনিধি আলি মৃধা বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে ১৭৫ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অনেক সময় খুচরা টাকা না থাকায় ভাংতি দিতে গিয়ে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়।’

ফরিদপুরে আকিকার অনুষ্ঠানের মিষ্টি খেয়ে অসুস্থ ৮ শিশু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১:৩৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে আকিকার অনুষ্ঠানের মিষ্টি খেয়ে অসুস্থ ৮ শিশু

ফরিদপুর সদর উপজেলার বাখুন্ডায় এক স্বজনের বাড়ির আকিকা অনুষ্ঠান থেকে কেনা মিষ্টি খেয়ে আট শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় দায় অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট মিষ্টি দোকানের মালিক।

​মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে বাখুন্ডা পূর্বপাড়ায় আকরাম খান ও মাসুদের বাড়িতে মিষ্টি খাওয়ার পরপরই শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। চিকিৎসাধীন শিশুরা হলো— তাসফিয়া, তাওহিদ, সুমাইয়া, সামিয়া, সানভীর, শাহাদ, মাহাদি ও সাইম। তাদের সবার বয়স ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে।

​পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আকিকার অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা স্বজন হারুন সরদার দুপুর ১২টার দিকে স্থানীয় খলিল মন্ডলের হাটের ‘মোল্লা হোটেল অ্যান্ড মিষ্ঠান্ন ভাণ্ডার’ থেকে মিষ্টি কেনেন। খাওয়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে শিশুরা একের পর এক বমি করতে শুরু করে। প্রথমে ওরস্যালাইন দিয়ে চেষ্টা করা হলেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সন্ধ্যা সাড় ৭টার দিকে তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে ভর্তি করা হয়।

​দায় অস্বীকার করে মোল্লা হোটেল অ্যান্ড মিষ্ঠান্ন ভাণ্ডারের মালিক জিয়ারত মোল্লা বলেন, “আমার দোকান থেকে নিয়মিত বহু মানুষ মিষ্টি নিচ্ছেন, কেউ অসুস্থ হয়নি। আপনারা পরীক্ষা করে দেখতে পারেন। মিষ্টি কেনার পর অন্য কোনো কারণে বা ভেজালের কারণে এমনটা হতে পারে।”

​হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, শিশু দুটিকে জরুরি সেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

​ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করে চরমাধবদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান তুহিনুর রহমান মন্ডল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ওই দোকানের মিষ্টি খেয়েই শিশুরা অসুস্থ হয়েছে। বাজার কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সালথায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ: কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৫ অপরাহ্ণ
সালথায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ: কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় ফরিদপুরের সালথায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন কৃষকলীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

​বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের চান্দাখোলা মোন্তারমোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

​গ্রেপ্তার হওয়া মো. আমিন খন্দকার (৪৫) সোনাপুর ইউনিয়নের চান্দাখোলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক।

​পুলিশ জানায়, সোনাপুর ইউনিয়নের বড় বাংরাইল গ্রামের মনির বিশ্বাসের সঙ্গে মিশরু মিয়ার জমিজমা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জের ধরে মঙ্গলবার বিকেলে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী চলে এই ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া।

​সংঘর্ষের সময় অন্তত ১০টি বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকিদের দেওয়া হয়েছে প্রাথমিক চিকিৎসা।

​সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান জানান, মঙ্গলবার বিকেলের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় দায়ের করা মামলার আসামি ছিলেন আমিন খন্দকার। এছাড়া তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। বুধবার সকালে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।