খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ২ আষাঢ়, ১৪৩৩

পাকা আম কতটুকু পরিমাণে খাওয়া নিরাপদ?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৭:৫৩ পূর্বাহ্ণ
পাকা আম কতটুকু পরিমাণে খাওয়া নিরাপদ?

দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় মৌসুমি ফল আম সাধারণত গ্রীষ্মকালে পাওয়া যায়। আবহাওয়া ও জাতভেদে এই ফলের আগমন ও শেষ হওয়ার সময় কিছুটা ভিন্ন হয়ে থাকে। বাংলাদেশে আমের মৌসুম শুরু হয় সাধারণত এপ্রিলের শেষ দিক থেকে মে মাসে।

এরপর মে ও জুন মাসে বাজারে আমের সরবরাহ সবচেয়ে বেশি থাকে। জুলাই মাস পর্যন্ত বিভিন্ন জাতের আম পাওয়া গেলেও কিছু জাতের পাকা আম আগস্টের শুরু পর্যন্ত বাজারে পাওয়া যায়।

জনপ্রিয় মৌসুমি ফল আম শুধু স্বাদেই নয়, পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। আন্তর্জাতিক পুষ্টি ডাটাবেজ ও স্বাস্থ্য গবেষণা অনুযায়ী, প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা আমে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ ক্যালোরি শক্তি থাকে। এতে কার্বোহাইড্রেট থাকে ১৫ থেকে ১৭ গ্রাম, প্রোটিন ০.৫ থেকে ০.৮ গ্রাম এবং ফ্যাটের পরিমাণ খুবই কম, প্রায় ০.২ থেকে ০.৪ গ্রাম। পাশাপাশি ডায়েটারি ফাইবার থাকে প্রায় ১.৫ থেকে ২ গ্রাম।

ভিটামিনের মধ্যে আমে ভিটামিন সি থাকে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিলিগ্রাম, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া এতে ভিটামিন এ (বিটা-ক্যারোটিন) থাকে ৫০০ থেকে ১০০০ আই ইউ , যা চোখের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন বি৬ থাকে ০.১ থেকে ০.২ মিলিগ্রাম, ফোলেট বি৯ থাকে প্রায় ১৪ থেকে ২০ মিলিগ্রাম এবং ভিটামিন ই এবং সামান্য ভিটামিন কে-ও এতে পাওয়া যায়।

এছাড়া, খনিজ উপাদানের ক্ষেত্রে আমে পটাশিয়াম থাকে প্রায় ১৫০ থেকে ১৭০ মিলিগ্রাম, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। এছাড়া ম্যাগনেসিয়াম প্রায় ১০ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম প্রায় ১০ থেকে ১২ মিলিগ্রাম, ফসফরাস থাকে প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিলিগ্রাম, আয়রন প্রায় ০.২ থেকে ০.৩ মিলিগ্রাম এবং অল্প পরিমাণে জিঙ্ক বিদ্যমান থাকে।

এছাড়া আমে প্রাকৃতিক শর্করা (ফ্রুক্টোজ, গ্লুকোজ ও সুক্রোজ) এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেমন ক্যারোটিনয়েড ও পলিফেনল থাকায় এটি শরীরের কোষ সুরক্ষায় সাহায্য করে। তবে বিভিন্ন সময়ে পুষ্টিবিদরা বলে থাকেন, আম পুষ্টিকর হলেও এতে প্রাকৃতিক চিনি বেশি থাকায় পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ, বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে।

আম কতটুকু খাওয়া নিরাপদ ?

একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি দিনে গড়ে ১ থেকে ২টি মাঝারি আকারের আম বা প্রায় ২০০–৩০০ গ্রাম আম খেতে পারেন। এর বেশি খেলে শরীরে অতিরিক্ত চিনি ও ক্যালরি জমে যেতে পারে।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা

চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে আম খাওয়ার বিষয়টি আরও সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। কারণ আমে প্রাকৃতিক চিনি (ফ্রুকটোজ ও গ্লুকোজ) থাকায় এটি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়াতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীরা সাধারণত— দিনে সর্বোচ্চ অর্ধেক থেকে ১টি ছোট আম খেতে পারেন তবে একবারে বেশি না খেয়ে অল্প পরিমাণে ভাগ করে খাওয়া উচিত। খালি পেটে আম না খাওয়াই ভালো এবং নিয়মিত রক্তে শর্করা পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণে না থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে আম খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

অতিরিক্ত আম খেলে যে সমস্যা হতে পারে

পুষ্টিবিদদের মতে, বেশি আম খেলে রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়া, ওজন বৃদ্ধি, হজমে সমস্যা ও গ্যাস্ট্রিক ,ত্বকে অ্যালার্জি বা ব্রণ ইত্যাদি সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কখন ও কীভাবে আম খাওয়া ভালো

একবারে বেশি না খেয়ে ভাগ করে খাওয়া, খাবারের পর বা স্ন্যাকস হিসেবে খাওয়া, আমের সঙ্গে দই বা বাদাম খেলে শর্করার প্রভাব কিছুটা কমে। সর্বোপরি পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা উচিত।

যারা বেশি সতর্ক থাকবেন

ডায়াবেটিস রোগী ছাড়াও শিশু, গর্ভবতী নারী এবং যাদের ওজন বেশি—তাদের ক্ষেত্রে আম খাওয়ার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

আম পুষ্টিকর হলেও পরিমিত খাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আম খাওয়ার বিষয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া উচিত— না হলে উপকারের বদলে ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।

ফরিদপুরে ময়লারস্তুপে কুকুরে টানছিল নবজাতকের লাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৯:৫২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ময়লারস্তুপে কুকুরে টানছিল নবজাতকের লাশ

ফরিদপুরে এক নবজাতকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নবজাতকটির গর্ভকালীন বয়স আনুমানিক বয়স ৫ থেকে ৬ মাস হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

সোমবার (১৪ জুন) বিকালে জেলা সদরের কানাইপুর বাজারের কানাইপুর স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান ফটক সংলগ্ন ময়লার স্তুপ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ময়লার স্তুপে একদল কুকুর নবজাতকের রক্তমাখা মরদেহটি নিয়ে টানাটানি করছিল৷ এছাড়া মাঝে মাঝে কামড়িয়ে খাচ্ছিল। বিষয়টি দেখে স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি এগিয়ে যায় এবং নিশ্চিত হয়ে ৯৯৯- এ কল দিয়ে পুলিশকে অবগত করেন। পরে কোতয়ালী থানা পুলিশ এসে মরদেহটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়৷

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কোতয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল বাশার বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে নবজাতকের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা যাচ্ছে, কেউ গর্ভপাত করে রাতের আঁধারে ফেলে রেখে গিয়েছে৷ ঘটনাটি নিয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে দাফন করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ফরিদপুরে নারী ও তরুণদের মধ্যে জরায়ু ক্যানসার প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা 

হাসানউজ্জামান, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৮:১৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে নারী ও তরুণদের মধ্যে জরায়ু ক্যানসার প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা 

ফরিদপুরে নারী ও তরুণদের মধ্যে সার্ভিকাল (জরায়ু) ক্যানসার প্রতিরোধ, HPV ভ্যাকসিন এবং নিয়মিত স্ক্রিনিং সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কমিউনিটি সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৪ ও ১৫ জুন দিনব্যাপী ফরিদপুর শহরের রবিদাসপল্লী এবং বিন্দুপাড়ায় এ কার্যক্রমের আয়োজন করে উন্নয়ন সংস্থা নন্দিতা সুরক্ষা। বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (BLAST)-এর সূচনা প্রকল্পের আওতায়
সভাগুলোতে সার্ভিকাল ক্যানসারের কারণ, লক্ষণ, ঝুঁকির কারণ, প্রতিরোধের উপায়, HPV ভ্যাকসিনের গুরুত্ব এবং নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সচেতনতামূলক সভায় রবিদাস পল্লিতে রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের গাইনী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক  ডা. সুলতানা বেগম। বিন্দুপাড়ার সভায় উপস্থিত ছিলেন- ফরিদপুরের ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালের গাইনী বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. ফয়জুন্নাহার হেমা।

তারা দুটি এলাকার ৬০ জন নারীর মাঝে সার্ভিকাল ক্যানসারের ঝুঁকির কারণ, লক্ষণ, HPV সংক্রমণ, HPV ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা এবং নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

নন্দিতা সুরক্ষার নির্বাহী পরিচালক তাহিয়াতুল জান্নাত রেমি বলেন, বাংলাদেশে সার্ভিকাল ক্যানসার নারীদের মধ্যে অন্যতম সাধারণ ক্যানসার হলেও সময়মতো সচেতনতা, HPV টিকা গ্রহণ এবং নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে এ রোগ অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। তবে তথ্যের অভাব, সামাজিক সংকোচ এবং স্বাস্থ্যসেবায় সীমিত প্রবেশাধিকারের কারণে এখনও অনেক নারী প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

তিনি জানান, নন্দিতা সুরক্ষা মোট পাঁচটি সেশনে  ১৫০ জন নারী ও তরুণ-তরুণীর অংশগ্রহণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। নারীর স্বাস্থ্য অধিকার, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার (SRHR) এবং স্বাস্থ্যসেবায় সমঅধিকার নিশ্চিত করতে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে নন্দিতা সুরক্ষা।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সার্ভিকাল ক্যানসার সম্পর্কে সঠিক ধারণা বৃদ্ধি পাবে, ভুল ধারণা ও সামাজিক সংকোচ কমবে এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে উঠবে।

 

ফরিদপুরে ২০ বছরের কাঁচা রাস্তায় ভোগান্তিতে ১০ গ্রামবাসী

মাহবুব হোসেন পিয়াল, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ২০ বছরের কাঁচা রাস্তায় ভোগান্তিতে ১০ গ্রামবাসী

ফরিদপুরে প্রায় ২০ বছর আগে এলাকাবাসীর উদ্যোগে নির্মিত কাঁচা রাস্তা নিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে অন্তত ১০ টি গ্রামের বাসিন্দাদের।  তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকার হয়ে গত ২০ বছর উন্নয়ন বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে রাস্তাটি পাকা করণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ভাঙাচোরা কাঁচা রাস্তাটি মেরামত করে পাকা করণের দাবিতে মানববন্ধনও করেছেন এলাকাবাসী। সোমবার (১৪ জুন) দুপুরে ফরিদপুর জেলা সদরের চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের কছিমউদ্দিন বেপারীর ডাঙ্গী গ্রামে বিধ্বস্ত সড়কের সামনে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করেন তারা। এতে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারাও অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, সড়কটি দিয়ে কছিমউদ্দিনের ডাঙ্গীর পাশাপাশি মিনাজউদ্দিন মোল্যার ডাঙ্গী, আনছার মাতুব্বরের ডাঙ্গী, মগরম মাতুব্বরের ডাঙ্গী, নিমাই শেখের পাড়া, দেলোনমল্লিকের ডাঙ্গী ও বাজু মোল্যার ডাঙ্গী সহ প্রায় ১০ টি গ্রামের মানুষের যাতায়াত রয়েছে। এছাড়াও সড়কটি দিয়ে চরমাধবদিয়া ময়েজউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়ে শতাধিক শিক্ষার্থীর।

বর্তমানে সড়কটি বেহালদশায় পরিণত হয়ে তীব্র ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাঁদের৷ স্থানীয় বাসিন্দারা কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে অ্যাম্বুলেন্স যাতায়াত করতে না পারায় কখনও ভ্যানে ঠেলে; কখনও কাঠের তৈরি চৌকি কাঁধে ঝুলিয়ে এক থেকে দেড় কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মূল সড়কে আসতে হয় তাঁদের। মাঠ থেকে ফসল বাড়িতে আনতেও কষ্ট হয় তাঁদের৷ কখনও কখনও ভ্যান উল্টে দুর্ঘটনার শিকারও হচ্ছেন। তবে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয় বর্ষা মৌসুমে। এ সময়ে সড়কটি পানিতে তলিয়ে যায়; আবার সামান্য বৃষ্টিতে কাঁদায় পরিণত হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, মমিনখার হাট-গোয়ালন্দ আঞ্চলিক সড়কের সংযোগ সড়ক এটি। আঞ্চলিক সড়কটির ইয়াছিন ব্রিজ থেকে দেলোন মল্লিকের ডাঙ্গী জামে মসজিদ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার জুড়ে সড়কটির দৈর্ঘ্য। সড়কটির শুরুতে প্রায় ২’শ মিটার ব্যক্তিগত উদ্যোগে ইট বিছিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় এক সৌদিপ্রবাসী৷ সেটিও বৃষ্টিতে ভেঙে পড়েছে। এরপর থেকে কাঁচা রাস্তাটির অধিকাংশ অংশজুড়ে দুই পাশ ভেঙে রয়েছে। বর্তমানে যা যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তারমধ্যে দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে ছুটে চলছে ছোট যানবাহনগুলো।

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা জলিল শেখ বলেন- ‘রাস্তাডার এমন অবস্থা হইছে যে কওয়ার (বলার) মতো জায়গ্যাই নাই! এই জায়গাডা যে এম্বায় (এভাবে) নইলো (রইলো)- কেউ দেখলো না। কেউ কয় না যে- রাস্তাডা সাইরা (মেরামত) দেই। এহন এই রাস্তাডা জানি পাকা হইয়্যা যায়- সেজন্য এমপির কাছে আবেদন জানাই।

স্থানীয় ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন- ” দীর্ঘদিন সরকার আসছে-গেছে কিন্তু আমাদের রাস্তার কোনো উন্নয়ন করেনি। অনেকবার কাজও এসেছে কিন্তু অন্য জায়গায় নিয়ে গেছে। কারন, আমরা আওয়ামীলীগরে কখনও ভোট না দেওয়ায় কোনঠাসা করে রাখা হয়েছে।’

তবে সড়কটি দীর্ঘদিন যাবৎ নিজ অর্থায়নে মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করার ব্যবস্থা করে আসছেন স্থানীয় সৌদ প্রবাসী ও ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক শেখ। তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগে কালভার্ট ও একটি নান্দনিক মসজিদও নির্মাণ করা হয়েছে। এই প্রবাসী বলেন- “গত ১৭ বছর আমাদের বলা হয়েছে- এই এলাকার মানুষ আওয়ামালীগকে ভোট দেয় না, কিছুই করা যাবে না। যার কারনে বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ রাস্তা মনে হয় এটিই।’

এ সময় তিনিসহ এলাকাবাসী ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফের কাছে সড়কটি অতিদ্রুত মেরামতসহ পাকাকরণের দাবি জানান। এছাড়া মানববন্ধনে ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরে বক্তব্য দেন জাহিদ ব্যাপারী, মোতালেব শেখ, মো. বাদশা মন্ডলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।