খুঁজুন
, ,

খাবার হজম হতে কতক্ষণ সময় লাগে?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ৭:৩৫ পূর্বাহ্ণ
খাবার হজম হতে কতক্ষণ সময় লাগে?

স্কুল থেকে ফিরেই তুমি হয়তো খেতে বসে যাও। কিন্তু গিলে ফেলার পর এই খাবার তোমার পেটের ভেতর ঠিক কতক্ষণে ও কীভাবে হজম হয়, তা কি জানো? খাবার খেতে যত সহজ, এই প্রশ্নের উত্তরটি তত সহজ নয়। কারণ, একেক ধরনের খাবার আমাদের শরীরে ভিন্ন ভিন্ন গতিতে হজম হয়। বিজ্ঞানীদের মতে, দুজন সুস্থ মানুষের শরীরেও খাবার হজম হওয়ার গতি আলাদা হতে পারে। কিন্তু খাবার পুরোপুরি হজম হতে ঠিক কতক্ষণ সময় লাগে?

আমাদের পেটের ভেতর সব খাবার কিন্তু একই গতিতে হজম হয় না। একেক খাবার একেক সময়ে ভেঙে পুষ্টিতে পরিণত হয়। এর মানে হলো, তোমার খাওয়া কোনো খাবারের কিছু অংশ যখন হজম হয়ে বৃহদন্ত্রে চলে যায়, বাকি অংশ তখনো হয়তো পাকস্থলীতেই রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটি বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেছে। তারা জানায়, একেকজন সুস্থ মানুষের শরীরে খাবার হজম হওয়ার গতি একেক রকম হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক।

কোনো খাবার আমাদের পুরো পরিপাকনালি পার হতে কতক্ষণ সময় নেয়, বিজ্ঞানীরা তা মাপার জন্য একটি গবেষণা করেছেন। একে বলা হয় গাট ট্রানজিট টাইম। এ পরীক্ষায় তাঁরা মানুষকে এমন কিছু বিশেষ ক্যাপসুল গিলিয়ে দেন, যা পেটের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় সেটির পুরো চলার পথ ট্র্যাক করা যায়। এই পরীক্ষা থেকে দেখা গেছে, খাবার শুধু পাকস্থলী থেকে বের হতেই শূন্য দশমিক ৪ থেকে ১৫ দশমিক ৩ ঘণ্টা সময় নিতে পারে। এরপর ক্ষুদ্রান্ত্র পার হতে সময় লাগে ৩ দশমিক ৩ থেকে ৭ ঘণ্টা। ২০২৩ সালের জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল মেডিসিন–এ প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, সবশেষে খাবারের অপাচ্য বা বাকি অংশ বৃহদন্ত্রে গিয়ে প্রায় ১৫ দশমিক ৯ থেকে ২৮ দশমিক ৯ ঘণ্টা পর্যন্ত জমা থাকতে পারে।

আমেরিকান গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র ও গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডক্টর নিনা নন্দী বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেছেন। তিনি জানান, যেসব খাবারে ডায়েটারি ফাইবার বা আঁশ, প্রোটিন, জটিল কার্বোহাইড্রেট ও চর্বি বেশি থাকে, সেগুলো হজম হতে বেশি সময় লাগে।

ফাইবার বা আঁশজাতীয় উপাদান খাবারের আয়তন বাড়িয়ে দেয়, যা পরিপাকনালির ভেতর দিয়ে খাবারের চলাচলকে ধীরগতির করে। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত বা প্রক্রিয়াজাত করা খাবার খুব দ্রুত হজম হয়ে যায়। কারণ, সেগুলোয় ফাইবারের অভাব থাকে। অন্যদিকে আমাদের পাকস্থলী ও ক্ষুদ্রান্ত্র কম পুষ্টির খাবার খুব দ্রুত হজম করতে পারলেও প্রোটিন ও চর্বিসমৃদ্ধ খাবারকে ভেঙে শরীরের শোষণ উপযোগী করতে অনেক বেশি সময় নেয়।

একইভাবে জটিল শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট হজম হতে সরল শর্করার চেয়ে বেশি সময় নেয়। এই জটিল শর্করা সাধারণত লাল চাল, ডাল ও আলু বা শ্বেতসারযুক্ত সবজিতে পাওয়া যায়। এর কারণ হলো, জটিল শর্করা তিন বা তার চেয়ে বেশি শর্করার অণুর একটি লম্বা ও জটিল শিকল দিয়ে তৈরি হয়। অন্যদিকে সরল শর্করায় মাত্র এক বা দুটি শর্করার অণু থাকে।

শরীর এই জটিল শর্করাকে সরাসরি গ্রহণ করতে পারে না। তাই শোষণের আগে আমাদের পরিপাকতন্ত্রকে এই জটিল শৃঙ্খল ভেঙে সরল শর্করায় পরিণত করতে হয়। তবে ফাইবার বা আঁশও একধরনের জটিল শর্করা হলেও আমাদের শরীর একে একেবারেই ভাঙতে বা হজম করতে পারে না।

আমাদের জীবনযাত্রার বিভিন্ন অভ্যাসও পেটের ভেতর খাবার চলাচলের সময়কে বদলে দেয়। খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়া ও পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা হজমের প্রক্রিয়াকে দ্রুত করতে সাহায্য করে। ভালোভাবে চিবানোর ফলে খাবারের উপরিভাগ ভেঙে ছোট ছোট টুকরা হয়ে যায়, যা পাচক রস বা এনজাইমকে সহজে কাজ করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া পানি খাবারকে নরম করে তোলে। ব্যায়াম করলে আমাদের অন্ত্রের নড়াচড়া বা সঞ্চালন বাড়ে এবং পেরিস্টালসিস প্রক্রিয়াটি শুরু হয়। এই পেরিস্টালসিস হলো পরিপাকনালির পেশিগুলোর একধরনের ছন্দোবদ্ধ সংকোচন, যা খাবারকে সামনের দিকে ঠেলে দেয়। আর বসে থাকলে বা শারীরিক পরিশ্রম না করলে এই পেরিস্টালসিস প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়।

একজন মানুষের বয়স ও মানসিক চাপও তার হজমের প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব ফেলে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের পাকস্থলীতে অ্যাসিড ও পাচক রস বা এনজাইম তৈরি কমে যায়। একই সঙ্গে তাদের অন্ত্রের খাবার নড়াচড়া করার ক্ষমতাও কমে আসে। মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা অন্ত্রের এই নড়াচড়ার স্বাভাবিক নিয়মকে বদলে দেয়। ফলে পরিপাকতন্ত্রে রক্ত চলাচল কমে যায়। এতে খাবার হজম হতে অনেক বেশি সময় লাগে। দুশ্চিন্তার কারণে পেটে যে অস্বস্তি হয়, তা আসলে শরীরের জরুরি অবস্থার প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কারণে ঘটে। এই ব্যবস্থা চালু হলে শরীর সাময়িকভাবে পাকস্থলী ও ক্ষুদ্রান্ত্রের হজমের প্রক্রিয়া ধীর করে দেয়, কিন্তু বৃহদন্ত্রকে বেশি মাত্রায় সক্রিয় করে তোলে। অর্থাৎ সব ঠিক থাকলে সাধারণত মুখ থেকে শুরু করে পুরো পরিপাকনালি পার হয়ে খাবার পুরোপুরি হজম ও নিষ্কাশন হতে ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।

সূত্র: লাইভ সায়েন্স

ফরিদপুরে গরুর ডাকে ঘুম ভাঙলো মালিকের, ধাওয়ায় গরু ফেলে পালাল চোর

নগরকান্দা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ৪:১৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে গরুর ডাকে ঘুম ভাঙলো মালিকের, ধাওয়ায় গরু ফেলে পালাল চোর

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার একটি গ্রামে গভীর রাতে গরু চুরির চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে গরুর ডাকেই। গোহালে ঢুকে শিকল কেটে গরু নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও গরুর অস্বাভাবিক ডাক ও শব্দে মালিকের ঘুম ভেঙে যায়।

পরে পরিবারের সদস্যদের ধাওয়ায় চোর গরু রেখেই পালিয়ে যায়। পুরো ঘটনাটি বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হওয়ায় ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

বুধবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ৪টার দিকে নগরকান্দা উপজেলার লস্কারদিয়া ইউনিয়নের গয়েশপুর গ্রামের লাভলু শেখের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সিসিটিভির ৩ মিনিট ২৪ সেকেন্ডের ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি বড় আকারের লোহার কাটার দিয়ে গোহালের শিকল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর গোহালের দরজার ছিটকিনি খুলতে গিয়ে বিকট শব্দ হয়। এতে গরুগুলো আতঙ্কিত হয়ে ছুটাছুটি শুরু করে এবং জোরে ডাকতে থাকে। একপর্যায়ে গরুর ডাক শুনে ঘুম ভেঙে যায় বাড়ির মালিকের। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি ও পরিবারের অন্য সদস্যরা বাইরে বেরিয়ে এসে চিৎকার শুরু করলে চোর গরু ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়।

গরুর মালিক লাভলু হোসেন জানান, বাড়ি ও গোহালজুড়ে নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো রয়েছে। রাতের অন্ধকারে চোর তিনটি গরু চুরির উদ্দেশ্যে আসে। প্রথমে একটি সাদা রঙের ছোট বাছুরকে টেনে-হিঁচড়ে গোহাল থেকে বের করে নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু বাছুরটির চিৎকার ও অন্য গরুগুলোর ডাকাডাকিতে পরিবারের সদস্যরা জেগে ওঠেন। পরে সবাই ‘চোর-চোর’ বলে চিৎকার করলে চোরের দল বাছুরটি রেখেই পালিয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরির ঘটনা বেড়েছে। ফলে খামারি ও গৃহস্থদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, রাতের টহল জোরদার এবং গরু চুরির সঙ্গে জড়িত চক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি দেখে অনেকেই গৃহপালিত পশুর নিরাপত্তায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের গুরুত্বের কথাও তুলে ধরছেন। স্থানীয়দের আশা, ভিডিও ফুটেজের সূত্র ধরে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

সদরপুরে মাদক সেবন ও সাপ্লাইয়ের অপরাধে যুবকের ১৫ দিনের জেল-জরিমানা

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ৩:২২ অপরাহ্ণ
সদরপুরে মাদক সেবন ও সাপ্লাইয়ের অপরাধে যুবকের ১৫ দিনের জেল-জরিমানা

ফরিদপুরের সদরপুরে অভিযান চালিয়ে নুর ইসলাম (১৮) নামে এক ইয়াবাসেবী ও সাপ্লায়ারকে ৪ পিস ইয়াবা সহ আটক করে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত অনুমানিক সাড়ে ৮ টার দিকে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামে সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত আনজুম পিয়া এই দণ্ডাদেশ ও জরিমানা প্রদান করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ও জরিমানা কৃত নুর ইসলাম নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের শ্রীরামদিয়া গ্রামের
আলামীন মাতুব্বরের ছেলে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, আজ শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮ টার দিকে সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামে অভিযান চালিয়ে নুর ইসলাম (১৮) নামে এক ইয়াবাসেবী ও ইয়াবা সাপ্লায়ারকে আটক করা হয়।

তল্লাশীকালে তার কাছ থেকে ৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬ এর ৫ ধারা মোতাবেক তাকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। জব্দকৃত ইয়াবা বড়ি জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতকে সহযোগিতা করেন সদরপুর থানার একদল পুলিশ সদস্য ।

সদরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত আনজুম পিয়া বলেন, সমাজে মাদকের বিস্তার রোধে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ফরিদপুরে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে অবৈধ ডিএনসির অভিযোগ

এন কে বি নয়ন, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে অবৈধ ডিএনসির অভিযোগ

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের এক পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার বিরুদ্ধে সরকারি কক্ষে অর্থের বিনিময়ে অবৈধভাবে ডিএনসি (ডাইলেশন অ্যান্ড কিউরেটেজ) করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ডিএনসির পর এক গৃহবধূর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

অভিযুক্ত পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার নাম জাহানারা বেগম। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, রোগীর কাছ থেকে কোনো টাকা নেননি।

ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুলাই নগরকান্দা উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের দক্ষিণ কান্দী গ্রামের রফিকুল ইসলামের স্ত্রী হিরামনি দুই মাসের গর্ভধারণজনিত শারীরিক জটিলতা নিয়ে ভাঙ্গা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে যান। সেখানে গর্ভপাতের উদ্দেশ্যে ডিএনসি করার জন্য তার পরিবারের কাছ থেকে আড়াই হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরে সরকারি কার্যালয়ের একটি কক্ষেই পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা জাহানারা বেগম ডিএনসি করেন।

পরিবারের দাবি, ডিএনসির তিন দিন পর হিরামনির শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। পুনরায় জাহানারা বেগমের কাছে গেলে তিনি আবারও ডিএনসি করার কথা বলেন এবং এ জন্য আরও এক হাজার টাকা দাবি করেন। একই সঙ্গে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন।

কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে হিরামনিকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার আরও অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক গত বৃহস্পতিবার তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি স্বাস্থ্যসেবায় এ ধরনের সেবার জন্য রোগীর কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার বিধান নেই। এছাড়া একজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার ডিএনসি করার আইনগত বা প্রশাসনিক এখতিয়ারও নেই। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী হিরামনি বলেন, “আমি অসুস্থ হওয়ার পর জাহানারা ম্যাডাম টাকা নিয়ে হাসপাতালের কক্ষেই আমার ডিএনসি করেন। পরে আবার অসুস্থ হলে তিনি বলেন, আবার ডিএনসি করতে হবে এবং টাকা নিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি হতে বলেন।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা জাহানারা বেগম বলেন, “আমি হিরামনির কাছ থেকে কোনো টাকা নেইনি। তিনি নিজের ইচ্ছায় অন্যত্র চলে গেছেন।”

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সোহাগ মিয়া বলেন, “ডিএনসির পর অসুস্থ হয়ে ভর্তি হওয়া রোগী হিরামনির শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।”

এ বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মা ও শিশু স্বাস্থ্যবিষয়ক মেডিকেল অফিসার ডা. ইব্রাহীম খলিল বলেন, একজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার ডিএনসি করার কোনো সুযোগ বা বিধান নেই। তবে তিনি ক্যামেরার সামনে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।