খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ১৭ বৈশাখ, ১৪৩৩

সাদা নাকি লাল, কোন ডিমে পুষ্টি বেশি? জেনে নিন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬, ৬:২৭ পূর্বাহ্ণ
সাদা নাকি লাল, কোন ডিমে পুষ্টি বেশি? জেনে নিন

ডিম বাঙালির প্রতিদিনের খাদ্যতালিকার অত্যন্ত পরিচিত ও পুষ্টিকর একটি খাবার। সকালের নাশতা থেকে শুরু করে দুপুর বা রাতের খাবার, অনেকেরই পাতে ডিম না থাকলে যেন খাবারই অসম্পূর্ণ মনে হয়। তবে বাজারে ডিম কিনতে গেলে প্রায়ই একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খায়, সাদা ডিম ভালো, নাকি লাল ডিম?

অনেকেই মনে করেন লাল ডিমের দাম বেশি হওয়ায় এতে পুষ্টিও বেশি। আবার কেউ কেউ বলেন, দুই ধরনের ডিমের মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্যই নেই। আসলে বিষয়টি কী? ডিমের খোলসের রং কি সত্যিই পুষ্টিগুণ নির্ধারণ করে?

বিশেষজ্ঞদের মতামত ও গবেষণার তথ্য বলছে, এই ধারণার পেছনে আছে কিছু বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা, আবার কিছু প্রচলিত ভুল ধারণাও। চলুন জেনে নেওয়া যাক সাদা ও লাল ডিমের পার্থক্য, এর রঙ হওয়ার কারণ এবং পুষ্টিগুণের বাস্তব চিত্র।

ডিমের রঙ লাল বা সাদা হওয়ার কারণ কী

ডিমের রং মুরগির জাত ও জিনের ওপর নির্ভর করে। সাধারণত, সাদা পালকের মুরগির ডিম সাদা এবং গাঢ় রঙের পালকের মুরগির ডিম লাল হয়ে থাকে।

বিশেষ করে সাদা লেগহর্ন জাতের মুরগি বিভিন্ন রঙের হলেও তারা সবাই সাদা ডিম পাড়ে। অন্য দিকে প্লেমাউথ রকস বা রোড আইল্যান্ড মুরগিগুলো লাল ডিম পেড়ে থাকে। কিছু কিছু জাতের মুরগি সাদা হলেও লাল ডিম পাড়ে। ডিমের খোসার রঙ বাদামি হয় মূলত মুরগির জরায়ুর মধ্যে থাকা শেল গ্ল্যান্ডের কারণে।

প্রথমে মুরগির গর্ভে ডিমের কুসুম তৈরি হয়। তারপর তিন ঘণ্টা ধরে তৈরি হয় কুসুমের চারদিকে সাদা অংশ বা অ্যালবুমিন। এরপর এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তৈরি হয় খোসার নিচের ঝিল্লি।

এরপর ডিমটি লেজের কাছাকাছি শেল গ্ল্যান্ডে চলে যায়। এখানেই তৈরি হয় উপরের শক্ত খোসা। এই খোসা তৈরিতে সবচেয়ে বেশি সময় লাগে প্রায় ২০ ঘণ্টার মতো। সব ডিমের খোলস শুরুতে সাদাই থাকে। ডিম তৈরির একেবারে শেষ মুহূর্তে যোগ হয় রং। মুরগির দেহে থাকা এক রঞ্জক পদার্থ থেকে এই রং তৈরি হয়। তবে যেসব ডিম সাদা হয় সেগুলোয় রং যোগ হয় না।

আবার কিছু কিছু গবেষণায় এটাও বলা হয়েছে, মুরগির বয়স যতো বাড়তে থাকে, বা তারা যদি অনেক চাপে থাকে তাদের ডিমের রং হালকা হতে শুরু করে। সাধারণত ডুয়েল ব্রিড অর্থাৎ যেসব মুরগি ডিম ও মাংস দুটি উৎপাদনের উদ্দেশ্যে পালন করা হয় সেগুলো লাল রঙের ডিম পাড়ে। এসব মুরগি আকারে বড় হওয়ায় বেশি পরিমাণ খাবার দিতে হয়। ফলে ডিমের উৎপাদন খরচ বেশি পড়ে।

অন্যদিকে সাদা পালকের মুরগির প্রজনন খরচ কিছুটা কম। তারা বাদামি রঙের মুরগির চেয়ে খায়ও কম। এজন্য সাদা ডিমের দাম লাল মুরগির চেয়ে কিছুটা কম রাখা যায়।

কোন রঙের ডিমে পুষ্টি বেশি?

পুষ্টিবিদ সৈয়দ তাসনিম হাসিন চৌধুরী এবং পোল্ট্রি বিশেষজ্ঞ শাকিলা ফারুক দুজনই জানিয়েছেন, ডিমের রঙের সাথে এর পুষ্টিগুণের কোনো তারতম্য হয় না।

আবার নিউ ইয়র্কের এক দল গবেষকের মতে, লাল ডিমে ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড সামান্য বেশি রয়েছে। কিন্তু সেই পার্থক্য এতটাই সামান্য যে তাতে খুব একটা ফারাক হয় না। সেক্ষেত্রে বলা যায়, দুই রঙের ডিমের খাদ্যগুণ প্রায় সমান। তাই ডিম যে রঙেরই হোক আপনি তা নিশ্চিন্তে খেতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, একটি ৫০ গ্রাম ওজনের ডিমে ৭২ ক্যালোরি ও ৪.৭৫ গ্রাম ফ্যাট রয়েছে। সাদা ও লাল ডিমে এই পুষ্টিগুণের পরিমাণ প্রায় সমান।

তবে বাজারে ওমেগা থ্রি সমৃদ্ধ ডিম, অর্গানিক ডিম, জৈব এবং নন-জিএমও ফিড দেওয়া মুরগির ডিম, খোলামেলা জায়গায় পালন করা দেশি মুরগির ডিম ইত্যাদির বেশ কদর রয়েছে।

এক্ষেত্রে মুরগির ডিমের রং নয়, বরং মুরগি কী ধরনের খাবার খায় এবং কী ধরনের পরিবেশে বেড়ে ওঠে সেটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

যেমন যেসব মুরগিকে বেশি বেশি ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত কিংবা ভিটামিন এ বা ই-যুক্ত ফিড খাওয়ানো হয়, সেসব মুরগির ডিমে এসব পুষ্টি উপাদান বেশি থাকে। এই বিশেষ ফিডের জন্য দামটাও বেশি পড়ে।

পুষ্টিবিদ তাসনিম হাসিন চৌধুরীর মতে, যেসব মুরগি প্রাকৃতিক উপায়ে পুষ্টিকর খাবার খুঁজে খুঁজে খায়, সেসব মুরগির ডিমে ভিটামিন ই, ভিটামিন এ, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, খনিজ উপাদান এবং ফ্যাট বেশি থাকে।

অন্যদিকে খামারের মুরগির ডিমে এই ভিটামিন ও খনিজ কিছুটা কম থাকলেও প্রোটিনের পরিমাণ বেশি এবং ফ্যাটের পরিমাণ কম থাকে।

তবে পোল্ট্রি বিশেষজ্ঞ শাকিলা ফারুক বলছেন, গৃহস্থালির মুরগি রোদে বেশি থাকায় এগুলোর ডিমে ভিটামিন-এ ও ডি বেশি থাকে৷ আবার খামারে ভালো ফিড খাওয়ানো মুরগির ডিমের পুষ্টি অনেক সময় এসব গৃহস্থালি মুরগির ডিমের চাইতেও বেশি হয়। কারণ তাদের নিয়মিত ভালো মানের ফিড দেওয়া হয়।

ডিমের কুসুমের রং

আবার ডিমের পুষ্টির সাথে ডিমের খোলসের রঙের কোনো যোগ না থাকলেও ডিমের কুসুমের রঙের একটা প্রভাব আছে।পুষ্টিবিদদের মতে, যে ডিমের কুসুমের রং যতো গাঢ় সেই ডিমে ভিটামিন এ, ক্যারোটিন ও খনিজ উপাদানের মাত্রা ততো বেশি। ওই ডিমের স্বাদও বেশি। এদিকে, ডিমের কুসুমের রংও নির্ভর করে মুরগি কী খাচ্ছে তার ওপর। ক্যারোটিনয়েড নামের এক রকম রাসায়নিকের প্রভাবে ডিমের কুসুমের রং গাঢ় হয়।

অনেক খামারে কুসুমের রং গাঢ় করতে মুরগিকে ক্যারোটিনয়েড জাতীয় ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। কোথাও আবার লাল ক্যাপসিকাম খাওয়ানো হয়।

যেহেতু ডিমের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ মুরগির খাদ্যের ওপর নির্ভর করে। তাই যেসব মুরগি সাদা ডিম দেয় এবং যেগুলো লাল ডিম পাড়ে, তাদের সবাইকে একই ধরনের খাবার দিলে স্বাদে ও পুষ্টিতে তেমন কোনো পার্থক্য হবে না।

সূত্র : বিবিসি

“ভেজা চাদরের নিচে চাপা পড়ে থাকা এক পৃথিবীর কান্না”

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৮ অপরাহ্ণ
“ভেজা চাদরের নিচে চাপা পড়ে থাকা এক পৃথিবীর কান্না”

ফরিদপুর রেলস্টেশন। গভীর রাতের এক অদ্ভুত নিরবতা চারপাশে ছড়িয়ে আছে। দিনের কোলাহল, মানুষের ব্যস্ততা, ট্রেনের শব্দ—সব যেন কোথাও মিলিয়ে গেছে।

প্ল্যাটফর্মের লাইটগুলো মৃদু আলো ছড়াচ্ছে, যেন ক্লান্ত হয়ে পড়েছে তারাও। দূরে কোথাও একটি কুক চড়ুই ডাকছে, তার সেই একঘেয়ে শব্দ যেন রাতের নিস্তব্ধতাকে আরও গভীর করে তুলছে। আর মাঝেমধ্যে কয়েকটি কুকুর ঘেউ ঘেউ করে উঠছে, যেন তারা এই নির্জনতার একমাত্র প্রহরী।

আমি হাঁটছিলাম আনমনে। কোনো গন্তব্য ছিল না, কোনো তাড়া ছিল না। শুধু হাঁটছিলাম, নিজের ভেতরের অজানা ভাবনাগুলোর সঙ্গে। হঠাৎ চোখ পড়লো স্টেশনের এক কোণের পুরোনো একটি বেঞ্চে। সেখানে শুয়ে আছে একজন মানুষ। উসকোখুসকো চুল, এলোমেলো দাড়ি, শরীরজুড়ে একটি মলিন চাদর। প্রথমে মনে হলো তিনি হয়তো ঘুমাচ্ছেন। কিন্তু তার সেই নিশ্চুপ, নিস্তব্ধ পড়ে থাকা ভঙ্গি যেন অন্য কিছু বলছিল।

আকাশে তখন মেঘ জমেছে। দূরে কোথাও বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। মনে হচ্ছিল, বৃষ্টি নামতে আর দেরি নেই। অথচ মানুষটি তবুও নিশ্চুপ। যেন এই পৃথিবীর কোনো পরিবর্তনই তার কাছে আর গুরুত্বপূর্ণ নয়। তার শরীরের উপর জড়ানো চাদরটি বাতাসে একটু নড়ছে, কিন্তু তার ভেতরের মানুষটি যেন স্থির—একেবারে পাথরের মতো।

মনে হলো, তার কোনো ঘর নেই। মাথা গোঁজার মতো একটুখানি আশ্রয়ও নেই। তাই হয়তো এই রেলস্টেশনই তার ঠিকানা হয়ে গেছে। এই বেঞ্চই তার বিছানা, এই খোলা আকাশই তার ছাদ। রাতে সে খেয়েছে কি না—তার খবর রাখার মতো কেউ নেই। তার জীবনের হিসাব রাখারও কেউ নেই।

একটু দূরে দাঁড়িয়ে আমি তাকে দেখছিলাম। মনে হচ্ছিল, এই মানুষটির জীবন যেন এক অজানা গল্পে ভরা। হয়তো একসময় তারও একটা পরিবার ছিল। কেউ তাকে ভালোবাসতো, কেউ তার জন্য অপেক্ষা করতো। হয়তো তারও ছিল স্বপ্ন—একটা ঘর, একটু শান্তি, একটু নিশ্চিন্ত জীবন। কিন্তু সময়ের নির্মমতায় সেই সবকিছুই হারিয়ে গেছে।

হঠাৎ ঝুমঝুম করে বৃষ্টি নামলো। বড় বড় ফোঁটা এসে পড়তে লাগলো প্ল্যাটফর্মে। কিছু মানুষ দৌড়ে আশ্রয় নিলো ছাদের নিচে। কিন্তু সেই মানুষটি—তিনি নড়লেন না। বৃষ্টির পানি ধীরে ধীরে ভিজিয়ে দিলো তার চাদর, তার শরীর, তার চুল। তবুও কোনো শব্দ নেই, কোনো প্রতিক্রিয়া নেই।

আমি বিস্মিত হয়ে তাকিয়ে রইলাম। একজন মানুষ কতটা কষ্ট পেলে এমন নির্বিকার হয়ে যেতে পারে? কতটা অভিমান জমে থাকলে নিজের ভিজে যাওয়াটাও আর গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় না? মনে হলো, তার ভেতরের অনুভূতিগুলো যেন অনেক আগেই মরে গেছে। অথবা হয়তো এতটাই ব্যথা জমেছে যে, আর নতুন করে কোনো অনুভূতি জাগে না।

বৃষ্টির শব্দের সঙ্গে মিশে যাচ্ছিলো তার নীরবতা। আশেপাশে কিছু মানুষ তাকে দেখে গেলো, কেউ একটু তাকালো, কেউ আবার তাকানোরও প্রয়োজন বোধ করলো না। যেন সে এই পৃথিবীর একজন মানুষ নয়—একটি অবহেলিত ছায়ামাত্র।

আমি ভাবলাম, আমরা কত সহজেই এমন মানুষদের পাশ কাটিয়ে যাই। তাদের কষ্ট, তাদের ক্ষুধা, তাদের অভাব—এসব যেন আমাদের চোখেই পড়ে না। অথচ তারাও আমাদের মতোই মানুষ। তাদেরও আছে অনুভূতি, আছে স্বপ্ন, আছে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা।

বৃষ্টি থামলো কিছুক্ষণ পর। প্ল্যাটফর্মে জমে থাকা পানিতে আলো পড়ে চিকচিক করছে। সেই মানুষটি তখনো শুয়ে আছেন, ভেজা শরীর নিয়ে। হয়তো তিনি ঠান্ডায় কাঁপছেন, হয়তো তার শরীর ক্লান্তিতে অবশ হয়ে গেছে। কিন্তু তার মুখে কোনো অভিযোগ নেই, কোনো চাওয়া নেই।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাত আরও গভীর হলো। ট্রেনের কোনো শব্দ নেই, মানুষের কোলাহল নেই। শুধু সেই মানুষটি, আর তার নিঃসঙ্গতা। মনে হচ্ছিল, এই পুরো স্টেশনটাই যেন তার জীবনের প্রতিচ্ছবি—শূন্য, নির্জন, আর অবহেলায় ভরা।

হয়তো মাঝেমধ্যে তার মনে প্রশ্ন জাগে—কেন এমন হলো জীবন? কোথায় হারিয়ে গেলো সবকিছু? কিন্তু সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মতো কেউ নেই। কেউ তার পাশে বসে শোনে না তার গল্প, কেউ তার চোখের জল দেখে না।

তার জীবনের মানে এখন হয়তো খুব ছোট হয়ে গেছে—এক মুঠো ভাত, এক মগ পানি, আর একটি রাত পার করার মতো একটি আশ্রয়। তবুও সে বেঁচে আছে। কারণ মানুষ বাঁচতে চায়, যত কষ্টই থাকুক না কেন।

আমি ধীরে ধীরে সেখান থেকে চলে আসছিলাম। কিন্তু সেই দৃশ্যটা বারবার চোখের সামনে ভেসে উঠছিল। মনে হচ্ছিল, আমরা কতটা ভাগ্যবান—যাদের মাথার ওপর একটা ছাদ আছে, যাদের পাশে কিছু মানুষ আছে, যারা খোঁজ নেয়।

আর সেই মানুষটি? তিনি হয়তো এখনো শুয়ে আছেন সেই বেঞ্চে, আরেকটি রাত পার করার অপেক্ষায়। হয়তো আগামীকালও একইভাবে কাটবে তার দিন, একইভাবে কাটবে তার রাত।

এই পৃথিবীতে কত গল্পই না ছড়িয়ে আছে—যেগুলো আমরা দেখি, কিন্তু বুঝি না। অনুভব করি না। অথচ সেই গল্পগুলোই আমাদের মানুষ হতে শেখায়, আমাদের হৃদয়কে নরম করে, আমাদের মনে করিয়ে দেয়—একটু ভালোবাসা, একটু যত্ন, আর সামান্য সহানুভূতি একজন মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে।

হয়তো আমরা সবাই মিলে একটু করে এগিয়ে এলে, সেই মানুষটির মতো আর কেউ একা পড়ে থাকবে না কোনো রেলস্টেশনের বেঞ্চে। হয়তো কোনো একদিন, এই পৃথিবীটা একটু হলেও বেশি মানবিক হয়ে উঠবে।

লেখক: হারুন-অর-রশীদ, সংবাদকর্মী, ফরিদপুর

আলফাডাঙ্গায় কৃষকদের দক্ষতা উন্নয়নে “পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস”

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
আলফাডাঙ্গায় কৃষকদের দক্ষতা উন্নয়নে “পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস”

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে “পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস–২০২৬”।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) আলফাডাঙ্গা মাল্টিপারপাস হলরুমে আয়োজিত এই কংগ্রেসে কৃষি উন্নয়ন, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদন, কৃষি উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান। তিনি বলেন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার এবং নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি করতে হবে। কৃষিকে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক খাতে রূপান্তর করতে হলে প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদের বিকল্প নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিশেষ অতিথি উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ তুষার সাহা বলেন, কৃষকদের মাঠ পর্যায়ের প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধিতে কৃষি বিভাগ ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পার্টনার প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হচ্ছে।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিফাত নূর মৌসুমী। তিনি বলেন, কৃষি খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এ ধরনের আয়োজন কৃষকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।

কংগ্রেসে কৃষকদের সফলতার গল্প উপস্থাপন, অভিজ্ঞতা বিনিময়, কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শনী এবং বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা সক্রিয়ভাবে মতবিনিময় করেন এবং আধুনিক কৃষি চর্চা সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ভুবেন বাইনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষক-কৃষাণী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকরা জানান, এ ধরনের কংগ্রেস কৃষকদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই কৃষি উন্নয়নে এটি কার্যকর অবদান রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয়। অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন আরও বিস্তৃতভাবে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

ফরিদপুরে কামড় দেওয়া জীবিত সাপ নিয়েই হাসপাতালে যুবক

সদরপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:৫৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে কামড় দেওয়া জীবিত সাপ নিয়েই হাসপাতালে যুবক

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় গোখরা সাপের ছোবলে আহত হয়ে সাপসহ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন রিপন শিকদার (৩৫) নামের এক যুবক।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে নিজ দোকানে একটি বয়ামে হাত দেওয়ার সময় ভেতরে লুকিয়ে থাকা একটি বিষধর গোখরা সাপ তাকে ছোবল দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

ঘটনার পরপরই রিপন শিকদার আশপাশের লোকজনের সহায়তায় দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। এসময় তিনি ছোবল দেওয়া সাপটিকেও সঙ্গে করে নিয়ে আসেন, যা উপস্থিত সবার মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

রিপন উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের আমিরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন দোকানদার।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আহত রিপনকে দ্রুত সাপের বিষনাশক (এন্টিভেনম) প্রয়োগ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. এফতেখার জানান, সময়মতো হাসপাতালে আনার কারণে তার অবস্থা এখন স্থিতিশীল থাকলেও পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দোকান বা ঘরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সাপ সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।