খুঁজুন
সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন, ১৪৩২

মন ভালো রাখতে বিজ্ঞানসম্মত ৯ উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম
মন ভালো রাখতে বিজ্ঞানসম্মত ৯ উপায়

প্রতিটি দিন শুরু মানেই নতুন করে ভাবার সুযোগ। আগের দিনের দুশ্চিন্তা, চাপ আর হতাশা পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা থাকে সবারই। কিন্তু শুধু সিদ্ধান্ত নিলেই যে মন ভালো থাকবে, তা নয়। ভালো খবর হলো, বিজ্ঞান আমাদের দেখিয়েছে কিছু বাস্তব ও কার্যকর উপায়, যেগুলো অনুসরণ করলে মানসিক সুস্থতা অনেকটাই বাড়ানো সম্ভব।

রাগকে কাজে লাগানো থেকে শুরু করে গান গাওয়া বা ছোট্ট ঘুম—এমনই ৯টি বিজ্ঞানসম্মত উপায় তুলে ধরা হলো, যা আপনাকে আরও ভালো অনুভব করতে সাহায্য করতে পারে। চলুন জেনে নিই সেই উপায়গুলো।

নিখুঁত হওয়ার চেষ্টা বন্ধ করুন
অনেকেই মনে করেন সবকিছু নিখুঁতভাবে করা ভালো গুণ। কিন্তু বাস্তবে অতিরিক্ত পারফেকশনিস্ট হওয়া মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। গবেষণায় দেখা গেছে, নিখুঁত হওয়ার চাপ থেকে হতাশা, উদ্বেগ, অনিদ্রা এমনকি আত্মহত্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

পারফেকশনিস্ট মানুষ নিজের জন্য অবাস্তব মানদণ্ড ঠিক করে এবং তা পূরণ না হলে নিজেকেই দোষ দেয়। এর ফলে আত্মবিশ্বাস কমে যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর সবচেয়ে ভালো সমাধান হলো নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া। ভুল করলে নিজেকে ছোট না করে বরং বোঝার চেষ্টা করুন যে ভুল মানুষমাত্রই করে। পরিবারে এমন পরিবেশ তৈরি করুন, যেখানে ভুল করাকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখা হয়।

বন্ধুত্ব আরও শক্ত করুন
ভালো বন্ধুত্ব শুধু মন ভালো রাখে না, শরীরকেও সুস্থ রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, ভালো বন্ধু থাকলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে এবং আয়ু বাড়ে।

তবে শুধু বন্ধু থাকা নয়, আপনি কেমন বন্ধু, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। কারও সুখের খবরে আন্তরিক আনন্দ প্রকাশ করুন, তার সাফল্য উদযাপন করুন। এতে সম্পর্ক আরও গভীর হয় এবং দুজনেরই মন ভালো থাকে।

সামাজিক কোনো শখ শুরু করুন
নতুন শখ শুরু করার জন্য বয়স কোনো বাধা নয়। ছবি আঁকা, গান শেখা, নাটক, খেলাধুলা বা কোনো ক্লাবে যোগ দেওয়া—এসব কাজ মানসিক চাপ কমায়।

দলগত খেলাধুলা বা গ্রুপ অ্যাক্টিভিটি বিশেষভাবে উপকারী। একসঙ্গে কাজ করার ফলে মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরি হয় এবং একাকিত্ব কমে।

রাগকে ভালো কাজে লাগান
রাগ সাধারণত নেতিবাচক মনে হলেও সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এটি শক্তিতে পরিণত হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, রাগ চেপে রাখলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।

বরং রাগ এলে তা কাজে লাগান—দৌড়ানো, ব্যায়াম, খেলাধুলা বা সৃজনশীল কাজে। তবে রাগ যেন কারও ক্ষতি না করে, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। প্রতিক্রিয়া দেওয়ার আগে একটু সময় নিন।

কৃতজ্ঞতার তালিকা লিখুন
প্রতিদিন তিনটি ভালো ঘটনার কথা লিখে রাখার অভ্যাস মানসিক স্বাস্থ্যে দারুণ প্রভাব ফেলে— এটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত।

দিনের শেষে ছোট হলেও ভালো তিনটি বিষয় লিখুন এবং ভাবুন—কেন সেগুলো আপনাকে ভালো লাগিয়েছে। এতে ধীরে ধীরে মন ইতিবাচক দিকগুলো খুঁজে নিতে শেখে।

ফোনকে নিজের পক্ষে ব্যবহার করুন
আমাদের অনেকেরই দিনে অগণিতবার ফোন হাতে নেওয়ার অভ্যাস আছে। অতিরিক্ত ফোন ব্যবহার মনোযোগ ও ঘুমের ক্ষতি করতে পারে।

তবে ফোনের ভালো ব্যবহারও আছে। নোট নেওয়া, কাজের তালিকা তৈরি করা বা রিমাইন্ডার সেট করা মস্তিষ্কের চাপ কমায়। নোটিফিকেশন একসঙ্গে পাওয়ার সেটিং ব্যবহার করলে মনোযোগ নষ্ট কম হয়। চাইলে কিছু সময় ফোন অন্য ঘরে রেখে কাজ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

শীতের অন্ধকার দিনগুলোকে গ্রহণ করুন
শীতে দিনের আলো কমে যাওয়ায় অনেকের মন খারাপ থাকে। তবে গবেষণা বলছে, শীতের ভালো দিকগুলো দেখার চেষ্টা করলে মন ভালো থাকে।

শীতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে ঘরোয়া সময়, প্রিয় সিনেমা; এসব উপভোগ করার মানসিকতা গড়ে তুলুন। মানুষ স্বাভাবিকভাবেই শীতে একে অন্যের কাছাকাছি থাকতে চায়।

মন ভালো করতে গান গান
একাই হোক বা দল বেঁধে গান গাওয়া মানসিক চাপ কমায়। গান গাওয়ার সময় মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ একসঙ্গে কাজ করে, যা আনন্দের অনুভূতি তৈরি করে।

গান গাওয়া হৃদযন্ত্র ভালো রাখে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ব্যথাও কমাতে পারে। এটি এক ধরনের হালকা ব্যায়ামও বটে। তাই বাথরুমে হোক বা রান্নাঘরে—মন চাইলে গান গাইতেই পারেন।

অল্প সময়ের ঘুম নিন
অনেক দেশে দুপুরে অল্প ঘুম নেওয়া স্বাভাবিক বিষয়। গবেষণায় দেখা গেছে, ৫-১৫ মিনিটের ঘুম মস্তিষ্ককে সতেজ করে এবং কাজের দক্ষতা বাড়ায়। তবে খেয়াল রাখতে হবে—২০ মিনিটের বেশি ঘুমালে মাথা ভার লাগতে পারে। সবচেয়ে ভালো সময় দুপুর ২টা থেকে ৪টার মধ্যে।

ভালো থাকার জন্য বড় কোনো পরিবর্তন দরকার হয় না। দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট অভ্যাসই পারে আমাদের মন ও শরীর সুস্থ রাখতে। নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া, সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়া, কৃতজ্ঞতা চর্চা করা কিংবা একটু গান গাওয়া—এসব সহজ কাজই ২০২৬ সালকে আরও সুন্দর করে তুলতে পারে। মনে রাখবেন, ভালো থাকা কোনো বিলাসিতা নয়—এটি একটি প্রয়োজন। আজ থেকেই ছোট একটি পরিবর্তন দিয়ে শুরু করুন।

সূত্র : BBC

 

১৫ বছর পর আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনূরের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৯:৪৪ পিএম
১৫ বছর পর আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনূরের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার

সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনূর মিয়ার বিরুদ্ধে দেওয়া বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করেছে সরকার। এ বিষয়ে সোমবার (৯ মার্চ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-১ শাখা থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক উপকমিশনার (পশ্চিম) কোহিনূর মিয়ার বরখাস্তকালকে চাকরিকাল হিসেবে গণ্য করা হবে। পাশাপাশি তিনি বিধি অনুযায়ী সব ধরনের বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্য সুবিধা পাবেন। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কোহিনূর মিয়ার বিরুদ্ধে দুটি বিভাগীয় মামলা হয়েছিল। এ কারণে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণের গুরুদণ্ডও দেওয়া হয়। পরে তিনি ফৌজদারী মামলা দুটির অভিযোগ থেকে আদালতের মাধ্যমে নির্দোষ প্রমাণ হয়ে খালাস পান।

এছাড়া তার গুরুদণ্ডাদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন রাষ্ট্রপতি মঞ্জুর করায় আরোপিত চাকরি থেকে বরখাস্তের আদেশটি বাতিল করা হয়। তাই কোহিনূর মিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলায় ২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করা হলো। একই সঙ্গে তার বরখাস্তকালকে চাকরিকাল হিসেবে গণ্য করা হলো এবং তিনি বিধি মোতাবেক সব ধরনের বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্য সুবিধা পাবেন। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

 

 

বয়স ৮৭, তবু থামেননি—পুকুরপাড়ে বসেই চলছে অকিল শীলের সেলুন

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর ও লাবলু মিয়া, সালথা:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৮:৫৯ পিএম
বয়স ৮৭, তবু থামেননি—পুকুরপাড়ে বসেই চলছে অকিল শীলের সেলুন

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মাঝারদিয়া বাজারের পুকুরপাড়ে একটি ছোট কাঠের পিঁড়ি। নেই কোনো ঘর, নেই আধুনিক সেলুনের ঝাঁ চকচকে সাজসজ্জা। তবু এই পুকুরপাড়েই প্রতিদিনের মতো বসে মানুষের চুল-দাড়ি কাটেন ৮৭ বছর বয়সী অকিল শীল। হাতে পুরোনো কাঁচি আর ক্ষুর—এই সামান্য সরঞ্জাম নিয়েই তিনি টানা ৬৬ বছর ধরে মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন।

আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামেও এখন গড়ে উঠেছে অসংখ্য সেলুন। উন্নত চেয়ার, আয়না, বৈদ্যুতিক ট্রিমার আর সাজানো দোকান—সবই আছে সেখানে। কিন্তু মাঝারদিয়া বাজারের এই পুকুরপাড়ে বসা বৃদ্ধ নাপিতের কাছে এখনও ভিড় করেন অনেকেই। কারণ তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু বছরের স্মৃতি, বিশ্বাস আর গ্রামীণ জীবনের এক সরল অধ্যায়।

শৈশবেই পেশায় যুক্ত:

অকিল শীলের বাড়ি পাশের নগরকান্দা উপজেলার সদর গ্রামের চৌমুখা এলাকায়। তাঁর পিতা হরিবদন শীল ছিলেন পেশায় নাপিত। ছোটবেলা থেকেই বাবার পাশে বসে তিনি এই কাজ শেখেন। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না। তাই কৈশোরেই জীবিকার তাগিদে পেশাটিকে বেছে নিতে হয় তাকে।

প্রথমদিকে বাবার সঙ্গে বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে মানুষের চুল-দাড়ি কাটতেন তিনি। পরে ধীরে ধীরে নিজেই কাজ শুরু করেন। প্রায় ৬৬ বছর আগে মাঝারদিয়া বাজারের পুকুরপাড়ে বসেই তিনি নিজের কর্মজীবনের যাত্রা শুরু করেন। সেই শুরু থেকে আজও একই জায়গায় বসেই কাজ করে যাচ্ছেন অকিল শীল।

হাটের দিনেই জমে ওঠে সেলুন:

মাঝারদিয়া বাজারে সপ্তাহে দুই দিন হাট বসে। সাধারণত হাটের দিন সকাল থেকেই পুকুরপাড়ে চলে আসেন অকিল শীল। সঙ্গে থাকে একটি ছোট কাঠের পিঁড়ি, পুরোনো কাঁচি, ক্ষুর আর কয়েকটি প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম।

পুকুরপাড়ে পিঁড়ি পেতে বসেই শুরু হয় তাঁর দিনের কাজ। গ্রামের মানুষজন একে একে এসে বসেন তাঁর সামনে। কেউ দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন, কেউ আবার সিরিয়াল ধরে বসে থাকেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বয়সের ভারে শরীর কিছুটা নুয়ে পড়লেও কাজের প্রতি তাঁর আগ্রহে কোনো ঘাটতি নেই। মনোযোগ দিয়ে ধীরে ধীরে কাঁচি চালিয়ে চুল কাটছেন তিনি। মাঝে মাঝে ক্ষুর দিয়ে দাড়িও ছেঁটে দেন।

এই পুকুরপাড়ের ছোট্ট জায়গাটিই যেন তাঁর সেলুন, আবার কর্মজীবনের স্মৃতিবহ স্থান।

গ্রাহকদের কাছে প্রিয় ‘অকিল দা’:

স্থানীয় অনেকেই এখনও আধুনিক সেলুন ছেড়ে অকিল শীলের কাছেই চুল কাটতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কারণ তাঁদের শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই বৃদ্ধ নাপিতের সঙ্গে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী মাতুব্বর বলেন, “আমি সেলুনে চুল কাটাই না। ছোটবেলা থেকে অকিল দার কাছেই চুল কাটাই। এখন বয়স হয়েছে, তবু তাঁর হাতের কাঁচির ওপর ভরসা আছে।”

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম বলেন, “ওনার কাছে ধনী-গরিব সবাই চুল কাটান। কেউ তাকে অবহেলা করে না। বরং অনেকেই গল্প করতে করতে চুল কাটান। ওনার কাছে চুল কাটাতে অন্যরকম একটা আনন্দ আছে।”

স্থানীয়দের ভাষ্য, অকিল শীল শুধু একজন নাপিত নন, তিনি যেন বাজারের একটি জীবন্ত ইতিহাস।

সামান্য আয়েই চলে সংসার:

অকিল শীল জানান, বর্তমানে তিনি প্রতি জনের চুল কাটার জন্য ৫০ টাকা নেন। হাটের দিনে তাঁর কাছে গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন গ্রাহক আসেন। সেই হিসেবে প্রতিদিন খুব বেশি আয় হয় না।

তবুও এই সামান্য আয়ের ওপরই ভর করে তিনি নিজের সংসার চালানোর চেষ্টা করেন।

তিনি বলেন, “ছোটবেলা থেকেই এই কাজ করছি। তখন বাজারে কোনো সেলুন ছিল না। পুকুরপাড়ে বসেই মানুষের চুল কেটে সংসার চালিয়েছি। এখন অনেক সেলুন হয়েছে, তবুও পুরোনো গ্রাহকেরা আসে।”

বয়সের কারণে কাজ করা কঠিন হলেও তিনি এখনো থামতে চান না।

অকিল শীল বলেন, “বয়স তো অনেক হয়েছে। শরীরও আগের মতো শক্তি পায় না। কিন্তু কাজ না করলে মন ভালো লাগে না। তাই যতদিন পারি কাজ করেই যেতে চাই।”

পরিবারের কেউ নেননি পেশা:

অকিল শীলের পাঁচ ছেলে-মেয়ে রয়েছে। তবে তাঁদের কেউই বাবার পেশাকে অনুসরণ করেননি। সবাই ভিন্ন ভিন্ন পেশায় যুক্ত হয়েছেন।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি কখনো জোর করিনি। তারা যার যার মতো কাজ করছে। আমি আমার কাজ নিয়েই খুশি।”

তবে তাঁর জীবনের এই দীর্ঘ কর্মযাত্রা এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে।

গ্রামীণ ঐতিহ্যের এক প্রতীক:

স্থানীয়দের মতে, মাঝারদিয়া বাজারের পুকুরপাড় মানেই অকিল শীল। বহু বছর ধরে তিনি এই জায়গাটিকে নিজের কর্মস্থল হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

একসময় গ্রামে এভাবেই খোলা আকাশের নিচে বসে নাপিতেরা মানুষের চুল-দাড়ি কাটতেন। আধুনিকতার ঢেউয়ে সেই দৃশ্য প্রায় হারিয়ে গেছে। কিন্তু মাঝারদিয়া বাজারে এখনও সেই পুরোনো দিনের স্মৃতি ধরে রেখেছেন অকিল শীল।

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা ছোটবেলা থেকেই দেখছি উনি এখানে বসে চুল কাটছেন। বাজারের অনেক পরিবর্তন হয়েছে, দোকানপাট বেড়েছে, কিন্তু উনার জায়গা বদলায়নি।”

কাঁচির টুংটাং শব্দে লেখা জীবনের গল্প:

পুকুরপাড়ে বসে কাঁচির টুংটাং শব্দ তুলতে তুলতে যেন নিজের জীবনের গল্পই লিখে চলেছেন অকিল শীল।

গ্রামীণ জীবনের সরলতা, পরিশ্রম আর আত্মমর্যাদার এক অনন্য উদাহরণ তিনি। বয়সের ভার, আধুনিকতার চাপ—কিছুই তাকে থামাতে পারেনি।

হাটের দিনগুলোতে এখনো মাঝারদিয়া বাজারের পুকুরপাড়ে দেখা যায় সেই পরিচিত দৃশ্য—একটি ছোট পিঁড়ি, হাতে কাঁচি ও ক্ষুর, আর সামনে বসা গ্রাহক।

সময়ের স্রোতে অনেক কিছু বদলে গেলেও, অকিল শীল যেন এখনো ধরে রেখেছেন সেই পুরোনো দিনের গল্প। তাঁর কাঁচির টুংটাং শব্দেই যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে গ্রামীণ বাংলার এক হারিয়ে যাওয়া অধ্যায়।

ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

সোহাগ মাতুব্বর, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:২৫ পিএম
ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়ে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় ভাঙ্গা উপজেলার হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে হাসপাতালের চেয়ারম্যান সহিদুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মানবসেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। দক্ষ ও মানবিক মনোভাবসম্পন্ন সেবাকর্মী তৈরি করতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের চর্চাও প্রয়োজন। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ভবিষ্যতে মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করার আহ্বান জানান।

ইফতার মাহফিলে হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের বিভিন্ন ট্রেডের প্রশিক্ষক, প্রশিক্ষণার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। ইফতারের আগে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রমজানের তাৎপর্য, সংযম ও মানবিকতার শিক্ষা নিয়ে বক্তব্য রাখেন উপস্থিত অতিথিরা।

পরে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং হাসপাতালের সার্বিক উন্নতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের কল্যাণ এবং সকলের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, এ ধরনের আয়োজন তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। একই সঙ্গে রমজানের পবিত্রতা ও সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে নতুন করে অনুপ্রাণিত হতে সহায়তা করে।

সর্বশেষে উপস্থিত সবাই একসঙ্গে ইফতার গ্রহণ করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও প্রশিক্ষণার্থীদের অংশগ্রহণে এ ধরনের সামাজিক ও ধর্মীয় আয়োজন অব্যাহত থাকবে।