খুঁজুন
বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫ ফাল্গুন, ১৪৩২

পেট ফাঁপা কমাতে সাহায্য করবে যে ৫টি ঘরোয়া ব্যায়াম?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:১৯ এএম
পেট ফাঁপা কমাতে সাহায্য করবে যে ৫টি ঘরোয়া ব্যায়াম?

প্রোটিন, চর্বি, মিষ্টি এবং অ্যালকোহল সমৃদ্ধ খাবার এবং টেটের সময় ব্যায়ামের অভাবের সাথে মিলিত হয়ে অনেক মানুষের পেট ফাঁপা, গ্যাস এবং বদহজম হতে পারে।

বড় খাবারের পর, বিশেষ করে টেট (চন্দ্র নববর্ষ) উদযাপনের সময়, উচ্চ-শক্তিসম্পন্ন খাবার প্রক্রিয়াজাত করার জন্য পাচনতন্ত্র অতিরিক্ত পরিশ্রম করে। যখন শরীর দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকে বা শুয়ে থাকে, তখন অন্ত্রের গতিশীলতা হ্রাস পায় এবং পরিপাকতন্ত্রে সহজেই গ্যাস জমা হয়, যার ফলে পেট ফুলে যায়, পেটে ভারী অনুভূতি হয় এবং এমনকি বমি বমি ভাব বা রিফ্লাক্সও হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে যে হালকা ব্যায়াম সাহায্য করে:

কন্টেন্ট

 ১. গভীরভাবে শ্বাস নেওয়ার সময় স্থির হয়ে হাঁটা পেট ফাঁপা এবং বদহজম কমাতে সাহায্য করতে পারে।

 ২. হাঁটু থেকে পেট পর্যন্ত বাঁকানো নড়াচড়া (কিউ-মুক্ত করার ভঙ্গি)

 ৩. বসার সময় আপনার শরীরের উপরের অংশটি আলতো করে ঘোরান।

 ৪. বিড়াল-গরু ভঙ্গি

 ৫. পেটের ম্যাসাজের সাথে ডায়াফ্রাম্যাটিক শ্বাস-প্রশ্বাস।

– অন্ত্রের গতিবিধি উদ্দীপিত করে, খাবারের হজমকে উৎসাহিত করে।

– পেট এবং অন্ত্রে গ্যাস জমা কমায়।

– পরিপাকতন্ত্রে রক্ত ​​প্রবাহ উন্নত করে।

– স্নায়বিক উত্তেজনা হ্রাস করুন, যা কার্যকরী হজমের ব্যাধিকে বাড়িয়ে তোলে।

তবে, খাওয়ার পরপরই উচ্চ-তীব্রতার ব্যায়াম করা উচিত নয়; পরিবর্তে, ধীর শ্বাস-প্রশ্বাস এবং স্বল্প সময়ের জন্য হালকা ব্যায়ামকে অগ্রাধিকার দিন।

চন্দ্র নববর্ষের ছুটিতে বয়স্ক এবং সীমিত শারীরিক পরিশ্রমের জন্য উপযুক্ত ৫টি সহজ, নিরাপদ ব্যায়ামের তালিকা এখানে দেওয়া হল:

১. গভীরভাবে শ্বাস নেওয়ার সময় স্থির হয়ে হাঁটা পেট ফাঁপা এবং বদহজম কমাতে সাহায্য করতে পারে।

পেট ফাঁপা কমানোর জন্য এটি একটি সহজ কিন্তু অত্যন্ত কার্যকরী ব্যায়াম। হালকা হাঁটা অন্ত্রের গতিবিধিকে উদ্দীপিত করে, অন্যদিকে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস হজমের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, ডায়াফ্রামকে শিথিল করতে সাহায্য করে।

এটা কিভাবে করবেন:

– সোজা হয়ে দাঁড়ান, জায়গায় হালকাভাবে হাঁটুন অথবা ঘরের চারপাশে হেঁটে যান।

– নাক দিয়ে গভীরভাবে শ্বাস নেওয়ার সাথে মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন।

– ৫-৭ মিনিট ধরে রাখুন।

২. হাঁটু থেকে পেট পর্যন্ত বাঁকানো নড়াচড়া (কিউ-মুক্ত করার ভঙ্গি)

হাঁটু থেকে পেট পর্যন্ত ক্রাঞ্চ করার পরামর্শ প্রায়শই স্পোর্টস মেডিসিন এবং থেরাপিউটিক যোগব্যায়ামে দেওয়া হয়। এই নড়াচড়া পেটের গহ্বরে মৃদু চাপ প্রয়োগ করে, অতিরিক্ত গ্যাস বের করে দিতে এবং পেট ফাঁপা কমাতে সাহায্য করে।

এটা কিভাবে করবেন:

– মাদুর বা বিছানায় পিঠের উপর ভর দিয়ে শুয়ে পড়ুন, এক বা উভয় হাঁটু পেটের দিকে বাঁকুন এবং আলতো করে হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরুন।

– ১৫-২০ সেকেন্ড ধরে রাখুন, সমানভাবে শ্বাস নিন।

৫-৮ বার পুনরাবৃত্তি করুন।

৩. বসার সময় আপনার শরীরের উপরের অংশটি আলতো করে ঘোরান।

বসার সময় শরীরের উপরের অংশ মৃদুভাবে ঘোরানো বয়স্কদের জন্য বা যারা ব্যায়ামের সাথে অপরিচিত তাদের জন্য উপযুক্ত। এই ব্যায়ামটি হজম অঙ্গগুলিকে আলতো করে ম্যাসাজ করে এবং পেটের গহ্বরে রক্ত ​​সঞ্চালন উন্নত করে।

এটা কিভাবে করবেন:

– তোমার চেয়ারে সোজা হয়ে বসো, তোমার হাত তোমার উরুতে রাখো।

– ধীরে ধীরে আপনার শরীরের উপরের অংশটি বাম এবং ডানে ঘোরান।

– প্রতিটি পাশে ৮-১০ বার।

৪. বিড়াল-গরু ভঙ্গি

এটি একটি ক্লাসিক ভঙ্গি যা হজমশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে। বিড়াল-গরু ভঙ্গি পরিপাকতন্ত্রের কার্যকলাপকে উদ্দীপিত করে এবং প্রচুর খাবার খাওয়ার পরে পেট ফাঁপা কমায়।

এটা কিভাবে করবেন:

– মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বসুন, হাত এবং হাঁটু মেঝেতে রাখুন।

– শ্বাস নিন, আপনার পিঠ নিচের দিকে বাঁকান (গরুর ভঙ্গি)।

– শ্বাস ছাড়ুন, আপনার পিঠ বাঁকান (বিড়ালের ভঙ্গি)।

– ৮-১২টি পুনরাবৃত্তি করুন।

৫. পেটের ম্যাসাজের সাথে ডায়াফ্রাম্যাটিক শ্বাস-প্রশ্বাস।

এটি একটি মৃদু ব্যায়াম, টেট (ভিয়েতনামী নববর্ষ) এর সন্ধ্যার জন্য উপযুক্ত। এটি মানসিক চাপ কমাতে, মস্তিষ্ক-অন্ত্রের অক্ষ নিয়ন্ত্রণ করতে এবং দক্ষ হজমে সহায়তা করে।

এটা কিভাবে করবেন:

এক হাত পেটের উপর রেখে আরাম করে শুয়ে পড়ুন বা বসুন।

– পেট প্রসারিত না হওয়া পর্যন্ত গভীরভাবে শ্বাস নিন, তারপর ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন।

– ঘড়ির কাঁটার দিকে পেট ম্যাসাজ করুন।

– এটি ৩-৫ মিনিটের জন্য করুন।

খাবারের পরে পেট ফাঁপা এড়াতে ব্যায়ামের নীতিগুলি:

– সঠিক সময় বেছে নিন: খাবারের প্রায় 30-60 মিনিট পরে ব্যায়াম করুন এবং পেট ভরে খাবার খাওয়ার পরপরই ব্যায়াম করা এড়িয়ে চলুন।

– উপযুক্ত সময়কাল: ১০-১৫ মিনিট স্থায়ী প্রতিটি সেশন অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে হজমকে উদ্দীপিত করার জন্য যথেষ্ট।

– নিম্ন থেকে মাঝারি তীব্রতা: এমন একটি স্তরে ব্যায়াম করুন যেখানে আপনি শ্বাসকষ্ট ছাড়াই ব্যায়াম করতে পারবেন এবং ব্যায়াম করার সময় কথা বলতে পারবেন।

– মৃদু ব্যায়ামকে অগ্রাধিকার দিন: স্ট্রেচিং, পেটের ব্যায়াম এবং গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের উপর মনোযোগ দিন।

– উচ্চ-তীব্রতার ব্যায়াম এড়িয়ে চলুন: খাওয়ার পর জোরে জোরে সিট-আপ করবেন না, দ্রুত দৌড়াবেন না বা ওজন তুলবেন না।

– আপনার শরীরের প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করুন: পেটের সমস্যা, রিফ্লাক্স, বা হৃদরোগের সমস্যাযুক্ত ব্যক্তিদের খুব আস্তে আস্তে শুরু করা উচিত এবং যদি তারা কোনও অস্বস্তি অনুভব করেন তবে বন্ধ করা উচিত।

– এটিকে একটি স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার সাথে একত্রিত করুন: পেট ফাঁপা এবং বদহজমের ঝুঁকি কমাতে একটি সুষম খাদ্য খান এবং অ্যালকোহল গ্রহণ সীমিত করুন।

সূত্র: https://suckhoedoisong.vn/5-bai-tap-tai-nha-giup-giam-day-bung-sau-tiec-tet-169260206143502864.htm

বোয়ালমারীতে গাছের গুড়ির নিচে চাপা পড়ে প্রাণ গেল শিশুর

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
বোয়ালমারীতে গাছের গুড়ির নিচে চাপা পড়ে প্রাণ গেল শিশুর

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে রাস্তার পাশে ফেলে রাখা গাছের গুড়ির নিচে চাপা পড়ে হুসাইন (০৯) নামের এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ইউনিয়নের বড়গা এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। শিশুটি উপজেলার বড়গা গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা সোহেল শেখের ছেলে এবং বারাংকুলা কওমী মাদরাসার ছাত্র।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হুসাইন বাড়ি থেকে দুপুরের খাবার খেয়ে মাদ্রাসায় ফিরছিল। এলাকার গাছ ব্যবসায়ী কদর মোল্যার রাস্তার পাশে ফেলে রাখা মেহগনি গাছের গুড়ির উপর খেলা করতে গিয়ে হঠাৎ গুড়ির উপর থেকে নিচে চাপা পড়ে হুসাইন। রাস্তা দিয়ে যাওয়া পথচারী ও আশপাশের লোকজন দেখতে পেয়ে হুসাইনকে উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বোয়ালমারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শিমুল মোল্যা বলেন, গাছের গুড়ির উপর দিয়ে হাঁটতে সময় নিচে পড়ে মারা যায়। কোথাও কাটা-ফাটা নাই। ছেলের মৃত্যুর জন্য তার বাবা কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নাই বলে জানিয়েছেন।

চাঁদা না পেয়ে ফরিদপুরে বাস কাউন্টারে হামলা, ম্যানেজারকে রক্তাক্ত জখম

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:২২ পিএম
চাঁদা না পেয়ে ফরিদপুরে বাস কাউন্টারে হামলা, ম্যানেজারকে রক্তাক্ত জখম

ফরিদপুরে চাঁদার দাবিকৃত টাকা না পেয়ে একটি পরিবহন কাউন্টারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বিকাশ পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার নাজির বিশ্বাসকে (৪৫) দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা প্রায় ১১টার দিকে ফরিদপুর শহরের পৌর বাস টার্মিনালে অবস্থিত বিকাশ পরিবহনের কাউন্টারে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত ব্যক্তির ভাষ্য অনুযায়ী, ৫ থেকে ৬ জন দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র ও লোহার রড নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলার সময় তাদের হাতে রামদা, লোহার দণ্ডসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ছিল।

আহত নাজির বিশ্বাস নড়াইলের লোহাগাড়া উপজেলার লাহুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘ তিন বছর ধরে বিকাশ পরিবহনের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। প্রতিষ্ঠানের মালিকের মৃত্যুর পর থেকে তিনিই কার্যত প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। প্রতিদিন এখান থেকে দূরপাল্লার উদ্দেশ্যে প্রায় ১২টি ট্রিপ পরিচালিত হয় বলে তিনি জানান।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নাজির বিশ্বাস জানান, দীর্ঘদিন ধরেই একটি চক্র তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। প্রথমে তারা প্রতিটি ট্রিপ থেকে ৮টি করে সিট দাবি করে এবং প্রতিটি সিটের জন্য ১০০ টাকা করে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পরে তারা প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে এবং সর্বশেষ দুই লাখ টাকা এককালীন দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে।

তিনি আরও জানান, ঘটনার দিন সকালে দুর্বৃত্তরা এসে হুমকি দিয়ে যায়—চাহিদা পূরণ না করলে পরিবহন চলতে দেওয়া হবে না। কিছুক্ষণ পর তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফিরে এসে তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। একপর্যায়ে লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং রামদা দিয়ে কোপ দেওয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি হাত দিয়ে ঠেকিয়ে দেন। এতে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে।

নাজির বিশ্বাস দাবি করেন, হামলাকারীদের মধ্যে স্থানীয় মিলন, সবুজ ও প্রিন্স নামে তিনজনকে তিনি চিনতে পেরেছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন পরিবহন শ্রমিক ও সহকর্মীরা।

এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

ফরিদপুর থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী—যেভাবে শামা ওবায়েদের রাজনৈতিক উত্থান?

হারুন-অর-রশীদ ও মো. নুর ইসলাম, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪২ পিএম
ফরিদপুর থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী—যেভাবে শামা ওবায়েদের রাজনৈতিক উত্থান?

ফরিদপুর-২ (সালথা–নগরকান্দা) আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে অবশেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর শপথ নিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম।

নতুন সরকারের ২৪ সদস্যের প্রতিমন্ত্রী তালিকায় তার নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু একটি মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির ঘটনা নয়; বরং তৃণমূল রাজনীতি থেকে জাতীয় নেতৃত্বে উত্তরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

শপথ গ্রহণের এই মুহূর্তে শামা ওবায়েদ শুধু একজন সংসদ সদস্য বা দলের সাংগঠনিক নেতা নন, বরং দেশের পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যুক্ত একজন নীতিনির্ধারক। ফলে তার ওপর প্রত্যাশা যেমন বেড়েছে, তেমনি দায়িত্বও হয়েছে বহুগুণ বেশি।

উত্তরাধিকার থেকে নেতৃত্বে উত্তরণ:

শামা ওবায়েদ ইসলামের রাজনৈতিক পরিচয় শুরু হয় পারিবারিক ঐতিহ্যের মধ্য দিয়ে। তিনি বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও প্রভাবশালী রাজনীতিক কে এম ওবায়দুর রহমানের কন্যা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে কে এম ওবায়দুর রহমান ছিলেন একজন দক্ষ সংগঠক ও দূরদর্শী নেতা হিসেবে পরিচিত। তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং নেতৃত্বগুণ এখনো দলীয় নেতাকর্মীদের অনুপ্রাণিত করে।

তবে শামা ওবায়েদের রাজনৈতিক পথচলা কেবল উত্তরাধিকার নির্ভর নয়। বাবার মৃত্যুর পর তিনি যে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন, তা তাকে নতুনভাবে রাজনীতির ময়দানে দাঁড়াতে বাধ্য করে। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথম অংশগ্রহণ করে পরাজিত হলেও তিনি রাজনীতি থেকে সরে যাননি। বরং পরাজয়কে শক্তিতে পরিণত করে ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান গড়ে তুলেছেন।

তৃণমূল রাজনীতির শক্ত ভিত:

রাজনীতিতে নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করতে শামা ওবায়েদ বেছে নেন তৃণমূলকেন্দ্রিক কৌশল। ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে সংগঠন পুনর্গঠন, কর্মীসংগ্রহ এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখেন। বিশেষ করে নারী ও তরুণদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রে তার উদ্যোগ দলীয়ভাবে প্রশংসিত হয়।

দলীয় সূত্র জানায়, তিনি মাঠে নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন, কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতেন এবং স্থানীয় সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করতেন। ফলে ধীরে ধীরে তিনি একজন ‘মাঠমুখী নেতা’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে তার সক্রিয় ভূমিকা দলের উচ্চপর্যায়ের আস্থা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিপুল ভোটে জয়, জনসমর্থনের প্রতিফলন:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-২ আসনে শামা ওবায়েদ ইসলাম ১ লাখ ২১ হাজার ৬৯৪ ভোট পেয়ে ৩২ হাজার ৩৮৯ ভোটের বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হন। এই জয় শুধু একটি নির্বাচনী সাফল্য নয়, বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিশ্রম ও জনসংযোগের প্রতিফলন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী শরীফ ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে জানান, শামা ওবায়েদের ব্যক্তিগত যোগাযোগ, সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ এবং সংকটে পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা তাকে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। ফলে তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হতে সক্ষম হন।

তার বিজয়ের পর থেকেই এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। শপথ গ্রহণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে।

মন্ত্রিসভায় নারী নেতৃত্বের প্রতীক:

নতুন মন্ত্রিসভায় তিনজন নারী প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে একজন শামা ওবায়েদ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি দেশের নারী নেতৃত্বের অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। বিএনপির মতো বড় রাজনৈতিক দলে নারী নেতৃত্বের বিকাশে তার অন্তর্ভুক্তি ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।

সালথা উপজেলা বিএনপি সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “শামা শুধু ওবায়দুর রহমানের কন্যা নন, তিনি নিজেই একজন দক্ষ সংগঠক। দীর্ঘদিন ধরে মাঠে কাজ করে তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন। তার এই পদোন্নতি প্রাপ্য।”

শিক্ষিত ও আধুনিক নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি:

শামা ওবায়েদ ইসলামের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত অভিজ্ঞতা। ১৯৭৩ সালের ১৪ মে ফরিদপুরের নগরকান্দায় লস্করদিয়ায় জন্মগ্রহণ করা শামা ওবায়েদ ঢাকার ভিকারুননিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন।

পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পড়াশোনা শেষে প্রায় ছয় বছর করপোরেট খাতে কাজ করেন। এই অভিজ্ঞতা তাকে প্রশাসনিক দক্ষতা ও আধুনিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর চিন্তাভাবনা ও ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা তাকে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে এগিয়ে রাখবে।

ব্যক্তিগত জীবন ও পারিবারিক ভারসাম্য:

রাজনৈতিক ব্যস্ততার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও শামা ওবায়েদ একজন সফল নারী। তার স্বামী সোভন ইসলাম একজন ব্যবসায়ী। তিনি দুই সন্তানের জননী। পারিবারিক দায়িত্ব ও রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে চলার সক্ষমতা তাকে আরও দৃঢ় নেতৃত্বে পরিণত করেছে।

তার ঘনিষ্ঠজনরা জানান, ব্যস্ত রাজনৈতিক জীবনেও তিনি পরিবারকে সময় দেন এবং সন্তানদের শিক্ষার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেন। এই ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপন তার ব্যক্তিত্বকে আরও পরিপূর্ণ করেছে।

অঙ্গীকার ও দায়িত্বের নতুন অধ্যায়:

নির্বাচনের আগে এক সাক্ষাৎকারে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছিলেন, “আমি রাজনীতিতে সুবিধা নিতে আসিনি; মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনই আমার লক্ষ্য।”

এখন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তার সামনে রয়েছে নতুন চ্যালেঞ্জ। দেশের পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং বৈদেশিক কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি তাকে নিজের নির্বাচনী এলাকার মানুষের প্রত্যাশাও পূরণ করতে হবে।

বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তার বড় দায়িত্ব হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ:

সালথা উপজেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আসাদ মাতুব্বর ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, শামা ওবায়েদের এই পদোন্নতি ভবিষ্যতে তাকে আরও বড় দায়িত্বের পথে নিয়ে যেতে পারে। তার সাংগঠনিক দক্ষতা, মাঠমুখী রাজনীতি এবং জনসংযোগের ক্ষমতা তাকে বিএনপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

অনেকে মনে করছেন, যদি তিনি সফলভাবে তার বর্তমান দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তবে ভবিষ্যতে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবেও তার সম্ভাবনা উজ্জ্বল।

ফরিদপুর থেকে জাতীয় মঞ্চে:

ফরিদপুরের আঞ্চলিক রাজনীতি থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ—শামা ওবায়েদের এই যাত্রা অনেক তরুণ নেতার জন্য অনুপ্রেরণার গল্প। তার রাজনৈতিক জীবন প্রমাণ করে, শুধু পারিবারিক পরিচয় নয়, বরং অধ্যবসায়, পরিশ্রম এবং জনগণের সঙ্গে সংযোগই একজন নেতাকে প্রতিষ্ঠিত করে।

শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তার সামনে এখন নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। এই অধ্যায়ে তাকে প্রমাণ করতে হবে—তিনি কেবল একজন রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী নন, বরং একজন দক্ষ নীতিনির্ধারক ও জননেত্রী।

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন চোখ শামা ওবায়েদের দিকে—তিনি কতটা সফলভাবে এই নতুন দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সেটিই দেখার বিষয়।