খুঁজুন
সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

গোপন কথা চেপে রাখতে পারেন না?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১:৫৭ অপরাহ্ণ
গোপন কথা চেপে রাখতে পারেন না?

এমন কোনও কথা আপনার কানে এল, যা কাউকে বলা যাবে না। আপনি প্রতিশ্রুতিও দিলেন, ‘কাকপক্ষীতেও টের পাবে না! কিন্তু কিছু সময় যেতেই অস্বস্তি শুরু হলো।

মনে হতে লাগল, কাউকে না বললে যেন শান্তি মিলছে না। শেষ পর্যন্ত আর চেপে রাখতে না পেরে অন্য কাউকে বলে ফেললেন সেই গোপন কথাই।

এই অভিজ্ঞতা অনেকের কাছেই পরিচিত। কিন্তু কেন এমন হয়? কেন কেউ কেউ গোপন কথা সহজে চেপে রাখতে পারেন না?

মনোবিজ্ঞান বলছে, এর পেছনে রয়েছে মানসিক চাপ, আবেগের দ্বন্দ্ব এবং নিজের ভেতরের অস্বস্তি।

এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন মনোবিদরা।
তাদের মতে, গোপন কথা চেপে রাখা মানে শুধু চুপ করে থাকা নয়, এটি এক ধরনের মানসিক ভারও তৈরি করে।

কারও গোপন কথা জানার অর্থ হলো একটি দায়িত্ব বহন করা। কেউ যদি সেই দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করতে পারেন, তাকে ভরসাযোগ্য মনে করা হয়। আর যিনি পারেন না, তার প্রতি আস্থাও কমে যেতে পারে।
মনোবিদের জানালেন, অনেক সময় মানুষ একইসঙ্গে দুটি বিপরীত অনুভূতির মধ্যে পড়ে যান। একদিকে তিনি কথাটি গোপন রাখতে চান, অন্যদিকে সেটি অন্য কারও সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার প্রবল ইচ্ছা তৈরি হয়। মনোবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে বলা হয় ‘কগনিটিভ ডিসোন্যান্স’।

উদাহরণ হিসেবে, ধরুন দু’জন মানুষ সম্পর্কে রয়েছেন। একজন চান সম্পর্কটি গোপন থাকুক, অন্যজন আনন্দের খবরটি কাছের মানুষদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চান। কিন্তু সঙ্গীর ইচ্ছার প্রতি সম্মান দেখিয়ে চুপ থাকছেন। এই টানাপড়েনই মানসিক অস্বস্তি তৈরি করে।

বিশেষজ্ঞদের বলছেন, কোনও গোপন বিষয় নিয়ে দীর্ঘ সময় ভাবতে থাকলে তা দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব ফেলতে পারে। বাড়তে পারে উদ্বেগ, অপরাধবোধ এবং মানসিক চাপ। অনেকের কাছে এই চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে মনের ভার কমাতেই তারা কাউকে না কাউকে কথাটি বলে ফেলেন।

গোপন কথা বলে ফেলার পর অনেকেই এক ধরনের স্বস্তি অনুভব করেন। কারণ তখন আর নিজেকে আটকে রাখতে হয় না। নিজের ভেতরের দ্বন্দ্বও কিছুটা কমে যায়।

বিশেষজ্ঞরা সতর্কও করছেন। আবেগের বশে সব কথা সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া ঠিক নয়। হঠাৎ বলা কোনও গোপন কথা সম্পর্কের ক্ষতি করতে পারে বা নতুন সমস্যার জন্ম দিতে পারে। তাই কোথায়, কাকে এবং কতটা বলা উচিত, সেই সচেতনতা থাকাও জরুরি।

মনোবিদদের মতে, মনকে হালকা রাখতে বিশ্বস্ত কারও সঙ্গে কথা বলা যেমন প্রয়োজন, তেমনি নিজের ও অন্যের নিরাপত্তা ও বিশ্বাসের জায়গা রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ফরিদপুরে এনসিপির স্মারকলিপি

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১০:৫০ অপরাহ্ণ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ফরিদপুরে এনসিপির স্মারকলিপি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের অবাধ চলাচল বন্ধ এবং তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে ফরিদপুরে স্মারকলিপি প্রদান করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

সোমবার (০১ জুন) এনসিপির ফরিদপুর জেলা শাখার উদ্যোগে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপিটি মাননীয় সংসদ সদস্য (ফরিদপুর-৩), জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং পুলিশ সুপার (এসপি), ফরিদপুর বরাবর জমা দেওয়া হয়।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় প্রকাশ্যে ছাত্র-জনতার ওপর হামলায় জড়িত এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলার আসামিরা এখনও ফরিদপুর শহরে অবাধে চলাফেরা করছে। তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ, আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।

এনসিপি নেতৃবৃন্দ বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হামলার ঘটনাগুলো শুধু ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ওপর আক্রমণ ছিল না, বরং গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও জনগণের ন্যায্য দাবির বিরুদ্ধে সহিংসতার বহিঃপ্রকাশ। তাই অভিযুক্তদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা জরুরি।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানানো হয়।

স্মারকলিপি প্রদানকালে এনসিপি ফরিদপুর জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানান।

ফরিদপুরে বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ৯:১১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার

ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের চক ভবানীপুর গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে স্ত্রীকে জোরপূর্বক সঙ্গে নিতে এসে পিস্তল প্রদর্শন ও গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি ৯ এমএম পিস্তল ও এক রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। অভিযুক্ত রেজাউল শিকদার বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

সোমবার (০১ জুন) সকাল ১০টার দিকে চক ভবানীপুর গ্রামের সালেহা বেগমের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, উদ্ধারকৃত পিস্তলের চেম্বারে একটি তাজা গুলি পাওয়া গেলেও এর ম্যাগাজিন উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার উত্তমপুর গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল শিকদার ও তার স্ত্রী শারমিন আক্তারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। প্রায় এক বছর ধরে তারা আলাদা বসবাস করছিলেন। সম্প্রতি ঈদের ছুটিতে সন্তানদের নিয়ে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন শারমিন।

রোববার গভীর রাতে রেজাউল শিকদার শ্বশুরবাড়িতে এসে স্ত্রীকে সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় শারমিন যেতে অস্বীকৃতি জানালে উভয়ের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে রেজাউল কোমর থেকে একটি পিস্তল বের করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে তিনি এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন বলেও দাবি করেন স্থানীয়রা।

এ সময় উপস্থিত পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। পরে শারমিনের মা সালেহা বেগম কৌশলে পিস্তলটি নিজের হেফাজতে নেন। রাত পেরিয়ে সকালে বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পুলিশকে জানানো হলে কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অস্ত্র ও গুলি জব্দ করে।

তবে পুলিশের আগমনের খবর পেয়ে কিংবা স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত রেজাউল শিকদার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি পিস্তলের ম্যাগাজিন সঙ্গে নিয়ে পালিয়েছেন।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, “উদ্ধারকৃত বিদেশি পিস্তল ও গুলি থানায় জব্দ রাখা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।”

‘জুলাই আন্দোলন কি ভুল ছিল?’—কান্নাভেজা সেই লাইভ থেকে নেতৃত্বের মঞ্চে বৈশাখী

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ৬:১৮ অপরাহ্ণ
‘জুলাই আন্দোলন কি ভুল ছিল?’—কান্নাভেজা সেই লাইভ থেকে নেতৃত্বের মঞ্চে বৈশাখী

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার একটি সাধারণ কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া এক তরুণীর নাম বৈশাখী ইসলাম বর্ষা। বয়সে তরুণ হলেও সাহস, প্রতিবাদী মনোভাব এবং সামাজিক সচেতনতার কারণে ইতোমধ্যে তিনি স্থানীয়ভাবে পরিচিত একটি নাম। ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক সচেতনতা এবং নিজের স্বপ্ন পূরণের সংগ্রাম—সব মিলিয়ে বৈশাখী ইসলাম বর্ষার জীবন যেন এক চলমান লড়াইয়ের গল্প।

২০০৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের ভবুকদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বৈশাখী ইসলাম বর্ষা। তার বাবা মো. ছাবু শেখ কৃষিকাজের পাশাপাশি গাছের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। মা একজন গৃহিণী। চার ভাই-বোনের মধ্যে বৈশাখী সবার বড়। মেঝো বোন চৈতী বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষার্থী, ছোট ভাই ফাহিম নবম শ্রেণিতে এবং মাহিম পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।

ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ও স্বপ্নবাজ ছিলেন বৈশাখী। গ্রামের ৩৩ নম্বর ভবুকদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১৭ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিএসসি) পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৮৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এরপর মাধ্যমিক পর্যায়ে ফুলসুতি আব্দুল আলেম চৌধুরী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। ২০২৩ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৮৯ অর্জন করেন। পরবর্তীতে ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ থেকে ২০২৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৩.৮৯ পেয়ে উত্তীর্ণ হন।

বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির লক্ষ্যে দ্বিতীয়বারের মতো প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফরিদপুরের তুষারস কেয়ার নামক একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য নিরলস পরিশ্রম করছেন।

তবে বৈশাখীর পরিচয় শুধু একজন শিক্ষার্থী হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি নিজেকে সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করতে চান। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণ তার জীবনদর্শনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে। সেই আন্দোলনের অভিজ্ঞতা তাকে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখায়।

জুলাই আন্দোলনের সময় রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন বৈশাখী। আন্দোলনের পর তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ফরিদপুর জেলার সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আন্দোলনের সময়কার অভিজ্ঞতা তাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে আরও সচেতন করে তোলে।

বৈশাখীর জীবনের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে ২০২৫ সালের ৩০ মে। অভিযোগ রয়েছে, সেদিন তার ছোট বোন চৈতীকে স্থানীয় কয়েকজন বখাটে ইভটিজিং করে। বিষয়টি জানতে পেরে বৈশাখী প্রকাশ্যে এর প্রতিবাদ করেন। এরপর স্থানীয় কিছু বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে তার ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে লাইভে এসে বৈশাখী প্রশ্ন তুলেছিলেন, “জুলাই আন্দোলন করা কি আমার ভুল ছিল? ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় আমাকে রাস্তায় ফেলে মারধর করা হলো!” তার সেই আবেগঘন বক্তব্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

এরপর জুলাই আন্দোলনের সহযোদ্ধারা তার পাশে দাঁড়াতে গেলে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হলে পুলিশ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এগিয়ে আসে। পরবর্তীতে বৈশাখী ইসলাম বর্ষা বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় দুটি মামলা দায়ের করেন। পাশাপাশি পুলিশও একটি পৃথক মামলা করে। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।

এই ঘটনার পর বৈশাখী উপলব্ধি করেন, সমাজ পরিবর্তনের জন্য শুধু ব্যক্তিগত প্রতিবাদ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সংগঠিত শক্তি। সেই উপলব্ধি থেকেই তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্র শক্তিতে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি সংগঠনটির ফরিদপুর জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

রাজনীতি সম্পর্কে বৈশাখীর দৃষ্টিভঙ্গি কিছুটা ব্যতিক্রমী। তার মতে, রাজনীতি হওয়া উচিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, বৈষম্য দূরীকরণ এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার হাতিয়ার। তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ ছাড়া দেশের ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব নয় বলেও তিনি মনে করেন।

শুধু রাজনীতি নয়, নিজের আর্থিক স্বাবলম্বিতার জন্যও সংগ্রাম করছেন এই তরুণী। উচ্চশিক্ষা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে অর্থনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। সেই প্রয়োজন থেকেই তিনি “বৈশাখী চৈতিকা” নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করেন। সেখানে নকশিকাঁথা ডিজাইনের শাড়ি, হাতের তৈরি জুয়েলারি, চুড়ি ও বিভিন্ন নারীদের পণ্য বিক্রি করেন।

বৈশাখী বলেন, “আমি চাই নিজের পায়ে দাঁড়াতে। পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি না করে নিজের পড়াশোনা ও রাজনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে। ব্যবসা থেকে যা আয় হয়, তা দিয়েই নিজের অনেক প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করি।”

তার এই উদ্যোক্তা মনোভাব অনেক তরুণ-তরুণীর জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে। পড়াশোনা, রাজনীতি এবং ব্যবসা—তিনটি ক্ষেত্র একসঙ্গে সামলানো সহজ নয়। কিন্তু বৈশাখী মনে করেন, কঠোর পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাস থাকলে অসম্ভব কিছু নয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ছোটবেলা থেকেই নেতৃত্ব দেওয়ার প্রবণতা ছিল তার মধ্যে। স্কুলজীবন থেকেই বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা তাকে সমবয়সীদের থেকে আলাদা করেছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে বৈশাখী ইসলাম বর্ষা বলেন, “আমি ভালো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চাই। একজন সৎ, শিক্ষিত ও মানবিক মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে চাই। পাশাপাশি আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন দেখি। কারণ আইন পেশার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করার সুযোগ রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি গ্রামের মেয়ে। গ্রামকে ভালোবাসি। ভবিষ্যতে গ্রামের মানুষের জন্য কিছু করতে চাই। বিশেষ করে নারীদের নিরাপত্তা, শিক্ষা ও অধিকার নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা আছে। যেন কোনো মেয়েকে ইভটিজিং বা সামাজিক হয়রানির শিকার হয়ে নীরবে কষ্ট পেতে না হয়।”

গ্রামের সাধারণ পরিবেশ থেকে উঠে আসা বৈশাখী ইসলাম বর্ষার জীবন সংগ্রাম, স্বপ্ন এবং সাহসিকতার এক অনন্য উদাহরণ। প্রতিবন্ধকতা, হামলা, হুমকি কিংবা সামাজিক চাপ—কোনো কিছুই তাকে তার অবস্থান থেকে সরাতে পারেনি। বরং প্রতিটি চ্যালেঞ্জ তাকে আরও দৃঢ় করেছে।

শিক্ষা, রাজনীতি, সামাজিক সচেতনতা এবং আত্মনির্ভরতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই তরুণীর ভবিষ্যৎ যাত্রা কোথায় গিয়ে পৌঁছাবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে এতটুকু বলা যায়, বৈশাখী ইসলাম বর্ষা ইতোমধ্যেই ফরিদপুরের তরুণ প্রজন্মের কাছে সাহস, প্রতিবাদ এবং স্বপ্ন দেখার এক প্রতীক হয়ে উঠেছেন।