খুঁজুন
রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

তীব্র গরমে আরাম পেতে যা করতে পারেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ
তীব্র গরমে আরাম পেতে যা করতে পারেন

তীব্র গরমে জনজীবন যখন বিপর্যস্ত হয়ে ওঠে, তখন তা কেবল অস্বস্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকিও তৈরি করে। শহর থেকে গ্রাম, সব জায়গাতেই টানা কয়েক দিনের উচ্চ তাপমাত্রা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে।

বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের জন্য এই সময়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। এর সঙ্গে যদি লোডশেডিংয়ের মতো সমস্যা যুক্ত হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

অতিরিক্ত তাপে শরীর তার স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হলে হিট স্ট্রোক বা হিট এক্সহস্টনের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসব অবস্থায় হৃদযন্ত্র ও কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা কখনো কখনো জীবনহানির কারণও হতে পারে। তাই এ সময়টাতে নিজেকে ও পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষিত রাখতে সচেতনতা এবং দৈনন্দিন অভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি।

চলুন জেনে নেওয়া যাক এই গরমে কিছুটা স্বস্তি পেতে আমরা যা করতে পারি।

গরমে ঘর শীতল রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হলেও কিছু সহজ উপায়ে তা সম্ভব। সন্ধ্যার পর যখন বাইরের বাতাস ঠান্ডা হয়, তখন জানালা খুলে দিন। দিনের বেলা রোদ বেশি থাকলে জানালা বন্ধ রেখে পর্দা বা ব্লাইন্ড ব্যবহার করুন। অপ্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক যন্ত্র বন্ধ রাখলে ঘরের তাপ কমে।

ফ্যান ও এসি ব্যবহারের নিয়ম

তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকলে ফ্যান ব্যবহার করা ভালো। এর বেশি হলে ফ্যান উল্টো শরীরকে গরম অনুভব করাতে পারে। এসি ব্যবহার করলে ২৭ ডিগ্রিতে সেট করে সঙ্গে ফ্যান চালালে ঘর বেশি ঠান্ডা লাগে এবং বিদ্যুৎও সাশ্রয় হয়।

শরীরের যত্ন

গরমে আরাম পেতে হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতির কাপড় পরুন। ঠান্ডা পানিতে গোসল করুন এবং প্রয়োজনে ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছুন বা পানি স্প্রে করুন। তৃষ্ণা না পেলেও নিয়মিত পানি পান করুন— প্রতিদিন অন্তত ২-৩ লিটার। প্রস্রাবের রং গাঢ় হলে বুঝতে হবে শরীরে পানির ঘাটতি হয়েছে।

খাবারে সতর্কতা

এই সময়ে ভাজাপোড়া, তেল-চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। প্রক্রিয়াজাত খাবার ও চিপসে থাকা অতিরিক্ত লবণ শরীরকে দ্রুত পানিশূন্য করে। ক্যাফেইন ও বেশি চিনি যুক্ত পানীয়ও ক্ষতিকর। বেশি ফ্যাটযুক্ত দুধ বা চিজ হজমে সমস্যা করে এবং শরীরের তাপ বাড়ায়।

মাথা ঘোরা, বমিভাব বা বিভ্রান্তি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। বিশেষ করে যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা কিডনির সমস্যা আছে, তাদের বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। সচেতন থাকলেই এই তীব্র গরমে নিজেকে ও পরিবারকে নিরাপদ রাখা সম্ভব।

সূত্র : দ্য টাইমস ম্যাগাজিন, ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন

দলমত নয়, ১৭ কোটি মানুষের সেবায় কাজ করবে বিএনপি সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:১৯ পূর্বাহ্ণ
দলমত নয়, ১৭ কোটি মানুষের সেবায় কাজ করবে বিএনপি সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু বলেছেন, ‘বিএনপি দেশের জনগণের সেবায় নিয়োজিত একটি সরকার। আমাদের কে ভোট দিছে আর কে দেয় নাই, সেই হিসেব আমরা করি না। কে কোন দল করে তাও আমরা দেখবো না। বিএনপি সরকার ১৭ কোটি মানুষের। দলমত নির্বিশেষে আমরা সকলের জন্যই কাজ ও সেবা করতে চাই।’

শনিবার (২৫ এপ্রিল) নিজ নির্বাচনী এলাকা ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের সেনহাটি খাল পনঃখনন কর্মসুচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, গত ১৭ বছর আওয়ামী সরকারের আমলে কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে কোনো কাজ হয়নি। খাল ও নদী-নালা খননের মতো কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়নি। যেকারণে আমাদের দেশের নদী-নালা ও খালগুলো শুকিয়ে গেছে। এমন অবস্থায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা করেছেন। খালগুলো আমরা ধীরে ধীরে খনন করবো। এটা কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়নে একটা যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

শামা ওবায়েদ বলেন, খাল খনন কর্মসূচি অত্র অঞ্চলের উন্নয়নের সূতিকাগার হয়ে থাকবে। শুধু খাল খনন নয়, পর্যায়ক্রমে রাস্তা-ঘাট, কালভার্ট, ব্রিজ যা যা প্রয়োজন অবকাঠামো সকল প্রকার উন্নয়ন বিএনপি সরকারের হাত ধরেই হবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের পর থেকে থানায় যে মামলা গুলো হচ্ছে, সেগুলো নিজেদের মধ্যে মারামারির মামলা। এখন আর কোনো রাজনৈতিক মামলা হচ্ছে না। সবারই নিজ নিজ দল করার অধিকার রয়েছে। প্রতিহিংসাবসত কারো বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা এই মাটিতে হবে না।

সালথায় চলমান সহিংসতার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপির এই নেত্রী বলেন, পুলিশ প্রশাসন আপনাদের সহযোগিতা ও নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য কাজ করছে। কিন্তু আপনারা যদি গ্রুপের বশবর্তী হয়ে পুলিশের উপর বা তাদের গাড়িতে হামলা করেন, তাহলে সংসদ সদস্য হিসেবে এটা আমি একেবারেই ভালোভাবে নিব না। আমি কঠোর অবস্থানে আছি, আপনারা পুলিশ প্রশাসনও  কঠোর অবস্থানে থাকবেন।

তিনি বলেন, যারা সহিংসতায় জড়াচ্ছে তারা বিএনপির হোক বা আমার কাছের লোক হোক, সেটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেখার বিষয়। কেউ সহিংসতায় জড়ালে তাকে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। সে যে দলের হোক। সমাজে অশান্তি সৃষ্টিকারী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দবির উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সহকারী পুলিশ সুপার মো. মাহমুদুল হাসান, সালথা থানার ওসি বাবলুর রহমান খান, সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আসাদ মাতুব্বর, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার খায়রুল বাসার আজাদ, যুবদল নেতা তৈয়বুর রহমান মাসুদ, এনায়েত হোসেন, হাসান আশরাফ, মাহফুজুর রহমান, শাফিকুল ইসলাম, বিএনপি নেতা মুরাদুর রহমান প্রমূখ।

বর্তমান যুদ্ধ কি কেয়ামতের লক্ষণ, কোরআন-হাদিস কী বলে?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৭ পূর্বাহ্ণ
বর্তমান যুদ্ধ কি কেয়ামতের লক্ষণ, কোরআন-হাদিস কী বলে?

বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ, সংঘাত ও অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে মানুষের মনে এক ধরনের অজানা শঙ্কা ও প্রশ্ন জেগে উঠেছে, এই পরিস্থিতি কি কেয়ামতের পূর্বলক্ষণ? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের আলোচনায় বারবার উঠে আসছে এই বিষয়টি।

কেউ কেউ মনে করছেন, এত ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ, রক্তপাত ও নৈতিক অবক্ষয় কেয়ামতের অতি নিকটবর্তী হওয়ার ইঙ্গিত বহন করছে। আবার অনেকেই এ বিষয়ে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছেন—আসলেই ইসলাম কী বলে, কোরআন-হাদিসে এ বিষয়ে কী নির্দেশনা রয়েছে, আর বর্তমান যুদ্ধবিগ্রহকে কীভাবে দেখা উচিত?

এই প্রশ্নগুলোকে সামনে রেখে কোরআন-হাদিসের আলোকে কেয়ামতের ধারণা, এর আলামতসমূহ এবং বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে এর সম্পর্ক কতটুকুইসলামি স্কলারদের কাছ থেকে তা জানার চেষ্টা করেছে ফরিদপুর প্রতিদিন।

কেয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার ঘোষণা

পবিত্র কোরআন আজ থেকে প্রায় সাড়ে চৌদ্দশ বছর আগেই ঘোষণা করেছে যে, কেয়ামত নিকটবর্তী। মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘কেয়ামত নিকটবর্তী হয়েছে এবং চাঁদ বিদীর্ণ হয়েছে।’ (সুরা আল-ক্বামার : ০১)

সিলেটের দারুল উলুম কানাইঘাট মাদ্রাসার নায়েবে শায়খুল হাদিস মাওলানা শামছুদ্দীন দুর্লভপুরী বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর আঙুলের ইশারায় চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়া ছিল কেয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার একটি বড় মোজেজা বা নিদর্শন। নবী কারীম (সা.) নিজের আবির্ভাব ও কেয়ামতের দূরত্ব বোঝাতে গিয়ে বলেছেন যে, তাঁর আবির্ভাব এবং কেয়ামত এই দুটি ঘটনা দুটি আঙুলের মতো পাশাপাশি অবস্থান করছে; অর্থাৎ তাঁর পরে আর কোনো নবী আসবেন না এবং তাঁর পরের বড় ঘটনাই হবে কেয়ামত।

তিনি বলেন, সামাজে কোনো যুদ্ধ বা দুর্যোগ দেখা দিলেই অনেকে কেয়ামতের দিনক্ষণ গণনা শুরু করেন। কিন্তু কেয়ামতের নির্দিষ্ট সময় বা ইলম একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছেই আছে। নবী কারীম (সা.)-কে যখন কেয়ামত কবে হবে তা জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি উত্তর দিয়েছিলেন যে, এ বিষয়ে প্রশ্নকর্তার চেয়ে উত্তরদাতা বেশি জানেন না।

কোরআন কেয়ামত নিকটবর্তী বলার পর আরও সাড়ে চৌদ্দশ বছর পার হয়ে গেছে; সামনে আরও কত বছর বাকি আছে, তা ২০ বছর হতে পারে কিংবা ২০০০ বছর- তা একমাত্র আল্লাহই জানেন। তাই চলমান যুদ্ধ দেখে ঘরবাড়ি ছেড়ে দিয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকার সুযোগ ইসলামে নেই।

কেয়ামতের আলামতসমূহ

ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ইউটিউব চ্যানেলে এক আলোচনায় বলেন, কেয়ামতের আলামত প্রধানত দুই প্রকার, বড় আলামত ও ছোট আলামত।

বড় আলামত : এগুলো কেয়ামতের ঠিক আগে প্রকাশ পাবে। যেমন—সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হওয়া (যার পর তওবার দরজা বন্ধ হয়ে যাবে), দাজ্জালের আবির্ভাব, ঈসা (আ.)-এর অবতরণ, ইয়াজুজ-মাজুজের আত্মপ্রকাশ এবং বড় ধরনের কিছু ভূমিধস। হাদিসে এরকম ১০টি বড় আলামতের কথা বলা হয়েছে।

ছোট আলামত : এগুলো অনেক আগে থেকেই প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। যেমন—নবী (সা.)-এর নিজের আগমনই একটি আলামত। অন্যান্য ছোট আলামতের মধ্যে রয়েছে, সন্তান কর্তৃক মায়ের সাথে দাসীর মতো আচরণ করা, সমাজের নিচু স্তরের বা সাধারণ রাখালদের অট্টালিকার মালিক হয়ে যাওয়া এবং সময়ের বরকত চলে যাওয়া (অর্থাৎ সপ্তাহ যাবে দিনের মতো আর মাস যাবে সপ্তাহের মতো)। কোনো কোনো স্কলারের মতে কেয়ামতের ছোট আলামত প্রায় ১৩১টি।

প্রকৃত প্রস্তুতি কী হওয়া উচিত?

রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের সিনিয়র মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী বলেন, এক সাহাবি নবী কারীম (সা.)-কে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘কেয়ামত কবে হবে?’ উত্তরে নবীজি (সা.) তাকে পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘কেয়ামতের জন্য তোমার প্রস্তুতি কী?’। সাহাবি উত্তর দিয়েছিলেন যে, তাঁর অনেক বেশি আমল না থাকলেও আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ভালোবাসা আছে। নবীজি (সা.) তখন বলেছিলেন, ‘মানুষ পরকালে তার সাথেই থাকবে যাকে সে ভালোবাসে।’

সুতরাং, কেয়ামত কবে হবে সেই দিনক্ষণ না খুঁজে মুমিনের প্রধান কাজ হলো আখেরাতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া। কারণ প্রত্যেক মানুষের মৃত্যু মানেই তার ব্যক্তিগত কেয়ামত শুরু হয়ে যাওয়া। বিশ্বের পরিস্থিতি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে পৃথিবী নশ্বর, তাই সুন্নাহর পথে চলে নিজেকে সেই মহাপ্রলয়ের জন্য প্রস্তুত করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

প্রবাসীদের সুখী পরিবার গঠনের সহজ ২ উপায়

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৪৫ পূর্বাহ্ণ
প্রবাসীদের সুখী পরিবার গঠনের সহজ ২ উপায়

বিদেশে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে আমাদের প্রবাসী ভাইয়েরা যখন পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে চান, তখন তাদের একটি বড় অংশই এক অদ্ভুত সংকটের মুখোমুখি হন। মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া বা কোরিয়া।

যেখানেই আমাদের প্রবাসী ভাইয়েরা থাকুন না কেন, তাদের একটি কমন অনুযোগ হলো, ভাই, না পারি মাকে খুশি করতে, না পারি বউকে খুশি করতে।’ মায়ের কাছে গেলে বউর নামে কথা শুনতে হয়, আবার বউর কাছে গেলে মায়ের নামে অনুযোগ শুনতে হয়। এই দ্বিমুখী চাপে অনেক প্রবাসী ভাই দিশেহারা হয়ে পড়েন।

এই সমস্যার সমাধানে জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে অত্যন্ত চমৎকার ও বাস্তবসম্মত দুটি উপায় জানিয়েছেন। তার মতে, পারিবারিক জীবনে সুখী হতে হলে পুরুষকে মাঝে মাঝে কিছুটা ‘বেকুব’ বা ‘বোকা’ সাজতে হয়। কারণ সব জায়গায় চালাকি চলে না।

বোকা পুরুষ বনাম চালাক পুরুষ

পরিবারের দ্বন্দ্বে অনেক পুরুষ বোকামি করে বসেন। স্ত্রী যখন মায়ের নামে কিছু বলে, তখন তিনি স্ত্রীর সাথে ঝগড়া শুরু করেন। আবার মা যখন স্ত্রীর নামে কিছু বলে, তখন মায়ের সাথেও তর্কে লিপ্ত হন। এতে দুই পক্ষই অসন্তুষ্ট হয়।

শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, বুদ্ধিমান পুরুষ সেই, যে কৌশলী হতে জানে। একে তিনি নাম দিয়েছেন ‘বেকুব সাজা’। এটি মূলত এক প্রকার বুদ্ধিবৃত্তিক কৌশল যা পরিবারের ভারসাম্য রক্ষা করে।

স্ত্রীর অভিযোগ সামলানোর কৌশল

স্ত্রী যখন শাশুড়ি বা ননদের নামে অভিযোগ করে, তখন তাকে থামিয়ে দিয়ে ঝগড়া না করে বরং তার প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করুন। আপনি বলতে পারেন, ‘আমার মা এটা বলল! শুনে আমার কলিজা ছিঁড়ে যাচ্ছে। কোরআন-হাদিস যদি মাকে সম্মান করার কথা না বলত, তবে আজ আমি এর একটা বিহিত করতাম।’

এই ছোট্ট একটি কৌশলে স্ত্রীর মন শান্ত হয়ে যাবে। সে ভাববে তার স্বামী অন্তত তার কষ্টটা অনুধাবন করেছেন। যদিও সে আপনাকে অপারক বা বোকা মনে করবে, কিন্তু আপনার প্রতি তার ভালোবাসা কমবে না।

মায়ের সামনে ছেলের ভূমিকা

একইভাবে মায়ের কাছ থেকে যখন স্ত্রীর নামে নালিশ শুনবেন, তখন মাকে বলতে পারেন, ‘মা, শরিয়তে যদি বউ পেটানো জায়েজ হতো, তবে আজ আমি হাতা গুটিয়ে নিতাম। কিন্তু রাসুল (সা.) কখনো নারীর গায়ে হাত তোলেননি।’ এতে মা ভাববেন যে, ছেলে অনেক ধার্মিক এবং কিছুটা সোজা-সরল, তাই সে কিছু করতে পারছে না। ফলে আপনার প্রতি মায়ের মহব্বতও অটুট থাকবে।

দ্বীনদারী ও পারিবারিক সুখের মূলমন্ত্র

দ্বীন আমাদের শেখায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চমৎকার বোঝাপড়া তৈরি করতে। দাম্পত্য সুখের জন্য দুটি জিনিস অপরিহার্য- সবর (ধৈর্য) এবং শোকর (কৃতজ্ঞতা)। এই দুটি গুণের সমন্বয় থাকলে পারিবারিক জীবন জান্নাতি হয়ে ওঠে। শায়খ আহমাদুল্লাহ মনে করেন, জ্ঞান-বিজ্ঞানে পশ্চিমা বিশ্ব এগিয়ে থাকলেও পারিবারিক সুখের ক্ষেত্রে আমাদের সংস্কৃতি ও ইসলামি মূল্যবোধ অনেক বেশি সমৃদ্ধ।