খুঁজুন
শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

যে কারণে নিজের সঙ্গে সৎ হওয়া প্রয়োজন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ২:২৭ অপরাহ্ণ
যে কারণে নিজের সঙ্গে সৎ হওয়া প্রয়োজন?

প্রায়ই এমন অনেক কথা বলা বা ভাবতে হয় যা নিজের প্রকৃত অনুভূতির সঙ্গে মেলে না।

ধরা যাক কাজটি ভালো লাগছে না, তবুও বলা ‘ঠিক আছে’। সম্পর্কের ভেতরে অস্বস্তি থাকলেও বলা ‘কোনো সমস্যা নেই’, কিংবা নিজের ভেতরের কষ্টকে ছোট করে বলা- ‘এটা বড় কিছু নয়’।

এই ধরনের আচরণ জীবনে ধীরে ধীরে মানসিক চাপ, বিভ্রান্তি এবং অসন্তুষ্টি তৈরি করে। নিজের সঙ্গে সৎ হওয়া মানে নিজের অনুভূতি, প্রয়োজন, ভয়, স্বপ্ন ও সীমাবদ্ধতাকে সত্যিকারভাবে স্বীকার করা।

তবে কাজটি সহজ নয়, কারণ সত্য মেনে নেওয়া মানেই পরিবর্তনের মুখোমুখি হওয়া।

তবুও মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, “নিজের সঙ্গে সততা জীবনে স্পষ্টতা, আত্মবিশ্বাস এবং সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তুলতে প্রভাব রাখে।”

নিজের সঙ্গে সৎ হওয়া বলতে যা বোঝায়

নিজের সঙ্গে সৎ হওয়া মূলত নিজের অনুভূতি ও বাস্তবতার মধ্যে কোনো ফাঁক না রাখা। অনেক সময় এমন সিদ্ধান্ত নিতে বা এমন কথা বলতে হয় যা ভেতরের অনুভূতির সঙ্গে মেলে না।

বাইরে থেকে হাসি বা সম্মতি জানালেও ভেতরে অস্বস্তি, চাপ বা অনিচ্ছা অনুভব হয়।

এই দ্বন্দ্বই নিজের ভেতরের সততার সংকেত। তবে শরীর অনেক সময় আগে থেকেই তা বুঝিয়ে দেয়। হঠাৎ অস্থিরতা, বুক ধড়ফড় করা, বা কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর অদ্ভুত অস্বস্তি।

এগুলো উপেক্ষা না করে বুঝতে চেষ্টা করাই নিজের সঙ্গে সৎ হওয়ার প্রথম ধাপ।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক ধ্যান ও মানসিক সুস্থতা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘ক্যালম’-এর গবেষক ও পরামর্শক মেগান রেইটজ মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘কাম ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “নিজের অনুভূতির দিকে মনোযোগ দিলে, ভেতরের সত্য সম্পর্কে ধীরে ধীরে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়।”

নিজের সঙ্গে সৎ হওয়া যে কারণে কঠিন

অনেকেই ভাবেন, সত্য বলা তো সহজ— তাহলে নিজের সঙ্গে সৎ হওয়া কঠিন কেন?

রেইটজ বলেন, “বাস্তবে এর পেছনে বেশ কিছু মনস্তাত্ত্বিক কারণ রয়েছে।”

প্রথমত, সত্য স্বীকার করলে অনেক সময় জীবনে পরিবর্তন আনতে হয়। যেমন— কোনো কাজ বা সম্পর্ক সুখ দিচ্ছে না, তা বুঝতে পারলে হয়তো সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এই পরিবর্তনের ভয় অনেককে সত্য থেকে দূরে রাখে।

দ্বিতীয়ত, অনেক মানুষের মধ্যে অন্যকে খুশি রাখার প্রবণতা থাকে। দীর্ঘদিন ধরে সবাইকে সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করতে করতে গিয়ে তারা নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিতে ভুলে যায়।

তৃতীয়ত, সামাজিক প্রত্যাশাও একটি বড় কারণ। পরিবার, সমাজ বা কর্মক্ষেত্রের প্রত্যাশা পূরণ করতে গিয়ে অনেকেই নিজের আসল ইচ্ছাকে চাপা দিয়ে রাখেন।

আর শেষ ধাপ, মানসিক চাপের সময় মানুষ অনেক কিছুই এড়িয়ে যেতে চায়। তখন সত্যের মুখোমুখি হওয়ার চেয়ে সমস্যা থেকে দূরে থাকা সহজ মনে হয়।

নিজের সঙ্গে সৎ থাকার উপকারিতা

নিজের সঙ্গে সততা শুধু মানসিক স্বস্তিই দেয় না, বরং জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

মেগান রেইটজের ভাষা, “এটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে স্পষ্টতা এনে দেয়। যখন জানা সম্ভব যে- আসলে কী চাই, আর তখন সিদ্ধান্ত নেওয়াও সহজ হয়ে যায়।”

এছাড়া মানসিক চাপ কমে। সত্য লুকিয়ে রাখা বা ভেতরের অনুভূতি চাপা দিয়ে রাখা অনেক শক্তি খরচ করে। নিজের অনুভূতিকে স্বীকার করলে সেই চাপ কমে যায়।

আবার এতে করে সম্পর্ক আরও বাস্তব ও শক্তিশালী হয়। নিজের অনুভূতি বোঝার ফলে অন্যদের সঙ্গেও খোলামেলা হওয়া যায়।

একই সঙ্গে নিজের প্রতি বিশ্বাসও তৈরি হয়। প্রতিবার সত্য স্বীকার করার মাধ্যমে একজন বুঝতে পারে যে, সে বাস্তবতার মুখোমুখি হতে সক্ষম।

অন্যাদিকে জীবনের লক্ষ্য ও কাজের মধ্যে অর্থবোধও তৈরি করা সম্ভব। তখন মানুষ শুধু অন্যের প্রত্যাশা পূরণ করে না, বরং নিজের মূল্যবোধ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

নিজের সঙ্গে অসৎ থাকার ফল

নিজের অনুভূতি অস্বীকার করে ভেতরের সত্য চাপা দিয়ে রাখলে মানসিক ক্লান্তি তৈরি হয়। কারণ তখন নিজের ভেতরের অনুভূতির বিরুদ্ধে গিয়ে আচরণ করতে হয়।

এছাড়া জীবনের লক্ষ্যও অস্পষ্ট হয়ে যেতে পারে। যখন সে জানেই না যে- সে কী চায়। ফলে সিদ্ধান্তগুলোও উদ্দেশ্যহীন হয়ে পড়ে।

এছাড়া সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হয়। নিজের অনুভূতি স্পষ্ট না হলে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ দুর্বল হয়ে যায় এবং ভুল বোঝাবুঝি বাড়ে।

সবচেয়ে বড় বিষয় হল- মানুষ নিজের সঙ্গেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।

নিজের সঙ্গে সৎ হওয়ার সহজ উপায়

নিজের সঙ্গে সততার অভ্যাস তৈরিতে প্রথমত নিজেকে সময় দেওয়া জরুরি। প্রতিদিন কিছু সময় শান্তভাবে বসে নিজের অনুভূতি সম্পর্কে ভাবা উপকারী।

রেইটজের পরামর্শ হলে- ব্যস্ততা থেকে সামান্য বিরতি নিলেই অনেক সময় ভেতরের চিন্তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নিজেকে সঠিক প্রশ্ন করাও গুরুত্বপূর্ণ।

যেমন- ‘আমি এখন কি এড়িয়ে যাচ্ছি?’, ‘আমি আসলে কি চাই? কোন বিষয় আমাকে অস্বস্তি দিচ্ছে? এসব প্রশ্ন নিজের ভেতরের সত্যকে সামনে আনতে সাহায্য করে।

নিজের ভাবনা লিখে রাখা আরেকটি কার্যকর পদ্ধতি। ডায়েরিতে খোলামেলা ভাবে অনুভূতি লিখলে অনেক সময় নিজের মনকে ভালোভাবে বোঝা যায়।

আবার শরীরের সংকেতের দিকে নজর দেওয়া দরকার। কোনো সিদ্ধান্তের সময় যদি শরীর অস্বস্তি অনুভব করে, তবে সেটি হয়তো ভেতরের দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত।

ছোট ছোট সত্য বলা দিয়ে শুরু করা যায়। যেমন— কোনো কাজে যেতে ইচ্ছা না করলে বিনয়ের সঙ্গে ‘না’ বলা, কিংবা ক্লান্ত হলে তা স্বীকার করা।

সালথায় বিকল্প পথ ছাড়াই চলছে ব্রিজ নির্মাণ, ভোগান্তিতে কয়েক হাজার মানুষ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৫:০১ অপরাহ্ণ
সালথায় বিকল্প পথ ছাড়াই চলছে ব্রিজ নির্মাণ, ভোগান্তিতে কয়েক হাজার মানুষ

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নির্মাণাধীন দুটি ব্রিজকে কেন্দ্র করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। উপজেলার বালিয়াগট্টি বাজার ও সালথা বাজার এলাকায় চলমান ব্রিজ নির্মাণকাজের কারণে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজারো যাত্রী, পরিবহন চালক ও ব্যবসায়ীদের। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থা ছাড়াই কাজ শুরু করায় জনদুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

ফরিদপুর-সালথা সড়কটি জেলার অন্যতম ব্যস্ত সড়ক হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন এ পথ ব্যবহার করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু ব্রিজ নির্মাণের কারণে সরাসরি যান চলাচল বন্ধ থাকায় এখন যাত্রীদের চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প ও সংকীর্ণ সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে একদিকে সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়াও।

সালথা বাজারের ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম মারুফ বলেন, “আগে কয়েক মিনিটে বাজারে আসা যেত, এখন ঘুরে আসতে অনেক সময় লাগে। পরিবহন খরচও বেড়ে গেছে। এতে ব্যবসায় বড় ক্ষতি হচ্ছে।”

স্থানীয় কলেজছাত্রী সুমাইয়া আক্তার জানান, প্রতিদিন কলেজে যেতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “সকালে সময়মতো বের হলেও যানজটের কারণে ক্লাসে পৌঁছাতে দেরি হয়। বৃষ্টির দিনে কাঁচা বিকল্প রাস্তা দিয়ে চলাচল আরও কষ্টকর হয়ে পড়ে।”

এদিকে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালকরা। সরু বিকল্প রাস্তায় বড় যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছে ট্রাক ও বাস। স্থানীয়দের অভিযোগ, জরুরি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সও বিকল্প সড়কের কারণে দ্রুত চলাচল করতে পারছে না।

পণ্যবাহী ট্রাকচালক আব্দুল কাদের বলেন, “রাস্তা সরু হওয়ায় গাড়ি ঘোরাতে সমস্যা হয়। একটু বৃষ্টি হলেই কাদায় আটকে যেতে হয়। এতে সময় নষ্টের পাশাপাশি অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ হচ্ছে।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, উন্নয়ন কাজ অবশ্যই প্রয়োজন। তবে জনদুর্ভোগ কমাতে আগে বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা উচিত ছিল। তারা দ্রুত সাময়িক চলাচলের উপযোগী রাস্তা নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, “নির্মাণাধীন ব্রিজের আশপাশে বিকল্প রাস্তার জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা পাওয়া যায়নি। স্থানীয়ভাবে কেউ জায়গা দিলে দ্রুত বিকল্প পথের ব্যবস্থা করা হবে।”

ফরিদপুরে বিকল ট্রাক সারতে গিয়ে বাসের চাপায় ঝরে গেল বাবা-ছেলের প্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে বিকল ট্রাক সারতে গিয়ে বাসের চাপায় ঝরে গেল বাবা-ছেলের প্রাণ

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মালবাহী ট্রাকের চাকা মেরামতের সময় অজ্ঞাত একটি বাসের চাপায় নিহত হয়েছেন ট্রাকচালক ও তার বাবা। নিহত দুইজন সম্পর্কে পিতা-পুত্র বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (১৬ মে) ভোর রাত ৪টার দিকে ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের বগাইল টোলপ্লাজার সামনে বগাইল ও বামনকান্দা এলাকার মাঝামাঝি স্থানে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— যশোর সদর উপজেলার রুপদিয়া এলাকার বাসিন্দা ইউসুফ আলী (৫০) ও তার ছেলে ইয়াকুব আলী (২৬)। ইয়াকুব মালবাহী ট্রাকটির চালক ছিলেন এবং তার বাবা ইউসুফ আলী হেলপার হিসেবে সঙ্গে কাজ করতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ভাঙ্গাগামী একটি মালবাহী ট্রাক ভোররাতে বগাইল টোলপ্লাজা এলাকায় পৌঁছালে ট্রাকটির পিছনের একটি চাকা বিকল হয়ে যায়। পরে সড়কের পাশে ট্রাকটি থামিয়ে চালক ইয়াকুব ও তার বাবা ইউসুফ আলী মিলে চাকা মেরামতের কাজ শুরু করেন। এসময় দ্রুতগতির একটি অজ্ঞাত বাস পেছন দিক থেকে এসে তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাবা-ছেলের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পর বাসটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ট্রাকটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি শিবচর হাইওয়ে থানা পুলিশ তদন্ত করছে।

এ বিষয়ে শিবচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। নিহতদের মধ্যে ছেলে ট্রাকের ড্রাইভার এবং বাবা হেলপার ছিলেন। দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটিকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

এই ৬ গুণ থাকলে বুঝবেন আপনি জান্নাতি

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৭:৪৮ পূর্বাহ্ণ
এই ৬ গুণ থাকলে বুঝবেন আপনি জান্নাতি

পৃথিবীর এই ক্ষণস্থায়ী জীবন শেষে মুমিনের একমাত্র কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য হলো মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং জান্নাত লাভ করা। জান্নাত এমন এক চিরসুখের নীড়, যার বিশালতা আসমান ও জমিনের সমান এবং যা কেবল মুত্তাকিদের জন্যই প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে।

মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনের সুরা আল ইমরানের ১৩৩ থেকে ১৩৬ নম্বর আয়াতে মুত্তাকিদের বিশেষ কিছু গুণের কথা বর্ণনা করেছেন, যা অর্জন করতে পারলে কেয়ামতের সেই ভয়াবহ দিনে আল্লাহর পক্ষ থেকে মাগফেরাত বা ক্ষমা এবং পরম শান্তির জান্নাত নিশ্চিত করা সম্ভব।

আলেমদের মতে, কোরআন-হাদিসে মুত্তাকিদের অসংখ্য গুণ থাকলেও এই আয়াতে বর্ণিত ছয়টি বৈশিষ্ট্য একজন ঈমানদারকে জান্নাতের পথে অনেক দূর এগিয়ে দেয়। নিচে সেই গুরুত্বপূর্ণ ৬টি গুণ বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১. সচ্ছল ও অসচ্ছল সর্বাবস্থায় দান করা

জান্নাতি মানুষের প্রথম গুণ হলো তারা কেবল সচ্ছল থাকলেই দান করেন না, বরং অভাব বা টানাটানির সময়েও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যয় করে। তাদের দানের মূল উদ্দেশ্য থাকে কেবল আল্লাহকে খুশি করা, মানুষের বাহবা পাওয়া নয়। বিশেষ করে গোপনে দান করা মুত্তাকিদের একটি বড় বৈশিষ্ট্য, যেখানে এক হাত দান করলে অন্য হাতও তা টের পায় না। আল্লাহর কাছে দানের পরিমাণের চেয়ে দাতার নিষ্ঠা বা এখলাস বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

২. ক্রোধ সংবরণ করা

রাগ বা ক্রোধ মানুষের হিতাহিত জ্ঞান কেড়ে নেয় এবং সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করে। জান্নাতি মানুষের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো প্রচণ্ড রাগের মুহূর্তেও নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা। যারা আল্লাহর ভয়ে নিজের রাগকে হজম করে ফেলে, তারা আল্লাহর অত্যন্ত প্রিয় বান্দা। নবী কারীম (সা.)-এর মতে, প্রকৃত বীর সেই নয় যে অন্যকে কুস্তিতে হারিয়ে দেয়, বরং সেই ব্যক্তিই প্রকৃত বীর যে রাগের সময় নিজেকে সংবরণ করতে পারে।

৩. মানুষকে ক্ষমা করা

অন্যের ভুল বা অন্যায়কে ক্ষমা করার জন্য একটি বড় কলিজার প্রয়োজন হয়। ছোট মনের মানুষ কখনো ক্ষমা করতে পারে না। জান্নাতি ব্যক্তিরা বিশ্বাস করেন যে, কিয়ামতের দিন যদি তারা আল্লাহর কাছে ক্ষমা পেতে চান, তবে দুনিয়াতে আল্লাহর বান্দাদের ক্ষমা করা শিখতে হবে। মানুষকে ক্ষমা করলে নিজের মন হালকা ও নির্ভার হয় এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ পুরস্কার নিশ্চিত হয়।

৪. এহসান বা পরোপকার করা

মুত্তাকিরা সর্বদা মানুষের উপকার করার মানসিকতা লালন করেন। মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান আনার পর সবচেয়ে বড় আমল হলো মানুষের উপকার করা এবং সবচেয়ে বড় অপরাধ হলো মানুষের পিছে লাগা বা কারও ক্ষতি করা। ঈমানদার ব্যক্তি কখনো অন্যের ছিদ্রান্বেষণ করে না, বরং সর্বদা মানুষের কল্যাণকামী হয়ে এহসান বা অনুগ্রহ করে থাকে।

৫. গোনাহের পর দ্রুত তওবা করা

মানুষ হিসেবে ভুল বা গুনাহ হয়ে যাওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু মুত্তাকি ব্যক্তির বিশেষত্ব হলো, কোনো অন্যায় বা অশ্লীল কাজ করে ফেললে সাথে সাথে তার আল্লাহর কথা মনে পড়ে যায় এবং তিনি বিলম্ব না করে কায়মনোবাক্যে তওবা করেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে, আল্লাহ ছাড়া আর কেউ গুনাহ মাফ করার নেই।

৬. গোনাহের পুনরাবৃত্তি না করা

একবার ভুল করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার পর মুত্তাকি ব্যক্তি সেই অপরাধের পথে আর পা বাড়ান না। তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরে নিজেকে সংশোধন করেন এবং সেই পাপে লিপ্ত না হওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন।

যাদের মধ্যে এই ছয়টি গুণের সমন্বয় থাকবে, কেয়ামতের ময়দানে আল্লাহ তায়ালা তাদের জন্য মাগফেরাত এবং এমন জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন, যার তলদেশ দিয়ে নহর প্রবাহিত হবে এবং সেখানে তারা চিরকাল বসবাস করবেন। আসুন, আমরা নিজেদের জীবনকে এই গুণগুলোর আলোকে সাজানোর চেষ্টা করি।

ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর বয়ান অবলম্বনে