খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

টিনএজ প্রেম: আবেগ-বাস্তবতা ও অভিভাবকদের করণীয়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৭:৫০ পূর্বাহ্ণ
টিনএজ প্রেম: আবেগ-বাস্তবতা ও অভিভাবকদের করণীয়

কৈশোর মানেই শরীর-মনজুড়ে নতুন অনুভূতির সময়। এই বয়সে হঠাৎ কাউকে ভালো লাগা, তার সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছে করা কিংবা কাছে থাকলে অদ্ভুত এক অনুভূতি কাজ করা খুব স্বাভাবিক ঘটনা।

অনেক সময় এই ভালো লাগা বন্ধুত্বের সীমা পেরিয়ে প্রেমের রূপ নেয়। তবে টিনএজের এই সম্পর্ক সব সময় পরিণত ভালোবাসা হয়ে ওঠে না; কখনো তা সাময়িক মোহ, কখনো আবেগের ঝড়।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, ১৩ থেকে ১৯ বছর বয়সে শরীরের হরমোনগত পরিবর্তনের কারণে কিশোর-কিশোরীদের আবেগ অনেক বেশি তীব্র হয়ে ওঠে। এ সময় মস্তিষ্কে ডোপামিন, সেরোটোনিনসহ বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানের পরিবর্তনে বিপরীত লিঙ্গের কারও প্রতি আকর্ষণ তৈরি হতে পারে।

ফলে একজন আরেকজনকে বিশেষভাবে অনুভব করতে শুরু করে।

প্রেম, নাকি সাময়িক ভালো লাগা?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভালোবাসার মধ্যে থাকে অন্তরঙ্গতা, আবেগ এবং দায়বদ্ধতা।

কিন্তু টিনএজ সম্পর্কে অনেক সময় আবেগ থাকলেও দায়বদ্ধতা তৈরি হয় না। তখন সম্পর্কটি স্থায়ী হওয়ার বদলে সাময়িক আকর্ষণ বা ‘ক্রাশ’র সীমাবদ্ধ থাকে।

এই বয়সে আবেগের ওঠানামা খুব দ্রুত ঘটে। কখনো মনে হয় প্রিয় মানুষটিকে ছাড়া জীবন অসম্পূর্ণ, আবার সম্পর্কের টানাপোড়েনে হতাশা, রাগ কিংবা হিংসাও তৈরি হতে পারে। তাই আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখা কিশোর-কিশোরীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

টিনএজ প্রেমে যেসব ঝুঁকি দেখা দিতে পারে

কৈশোরের সম্পর্কগুলোতে কিছু সাধারণ সমস্যা প্রায়ই দেখা যায়। যেমন: একতরফা ভালোবাসা থেকে হতাশা। সম্পর্ক ভেঙে গেলে মানসিক ভেঙে পড়া। ঈর্ষা ও আক্রমণাত্মক আচরণ। নিজের ক্ষতি করার প্রবণতা। পরিবার ও বন্ধুদের থেকে দূরে সরে যাওয়া। অতিরিক্ত ফোন বা সামাজিক মাধ্যমে আসক্তি। মিথ্যা বলা বা গোপনীয়তা তৈরি। পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যাওয়া। ঝুঁকিপূর্ণ শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, টিনএজাররা অনেক সময় ব্যর্থতা সহজভাবে নিতে পারে না। ফলে সম্পর্ক ভেঙে গেলে কেউ কেউ চরম সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেলতে পারে। তাই পরিবার ও শিক্ষকদের সচেতন ভূমিকা জরুরি।

বাবা-মায়েরা কী করবেন?

সন্তানের সম্পর্কের কথা শুনেই রাগ বা শাস্তির পথ বেছে না নিয়ে আগে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করতে হবে। কৈশোরে কারও প্রতি আকর্ষণ তৈরি হওয়া কোনো অপরাধ নয়, এ বিষয়টি মনে রাখা জরুরি।

অভিভাবকদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলুন। খোলামেলা আলোচনা করুন। পড়াশোনাকে অগ্রাধিকার দিতে উৎসাহ দিন। সম্পর্ক নিয়ে অপমান বা হুমকি দেবেন না।

অতিরিক্ত ফোন ব্যবহারে নজর রাখুন। বিজ্ঞানভিত্তিক যৌন ও মানসিক শিক্ষা দিন।

সন্তানের আবেগকে গুরুত্ব দিন, কিন্তু ভুল সিদ্ধান্তে সমর্থন নয়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভয় বা কড়া নিষেধাজ্ঞা অনেক সময় সন্তানকে আরও গোপনীয় ও বিদ্রোহী করে তোলে। বরং বোঝাপড়া ও মানসিক সমর্থন তাদের সুস্থ সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।

শিক্ষকদের ভূমিকা

স্কুল-কলেজে কিশোর-কিশোরীরা দিনের বড় সময় কাটায়। ফলে শিক্ষকদেরও দায়িত্ব রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ বা প্রকাশ্যে অপমান না করে সংবেদনশীল আচরণ করা প্রয়োজন।

সহশিক্ষা, পারস্পরিক সম্মানবোধ এবং সামাজিক দক্ষতা বাড়ানোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুস্থ মানসিক বিকাশে সহায়তা করা যেতে পারে।

আবেগ নিয়ন্ত্রণে কী করবে কিশোর-কিশোরীরা?

কৈশোরের আবেগকে অস্বীকার নয়, বরং নিয়ন্ত্রণ করতে শেখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাগের সময় তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত না নেওয়া।

অন্যের অবস্থান থেকেও বিষয়টি ভাবা। সম্পর্কের ক্ষেত্রে জোর বা চাপ প্রয়োগ না করা। পড়াশোনা, খেলাধুলা ও সৃজনশীল কাজে মন দেওয়া। পরিবার বা কাছের মানুষের সঙ্গে অনুভূতি ভাগ করে নেওয়া।

সবচেয়ে বড় কথা, ভালোবাসা কখনো জোর করে আদায় করা যায় না। সম্পর্কের ভিত্তি হতে হবে সম্মান, বোঝাপড়া ও পারস্পরিক সম্মতির ওপর।

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে ৮ বছরের বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৯:৪৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে ৮ বছরের বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় ৮ বছর বয়সী এক বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (২৫ মে) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব বিএস ডাঙ্গী অবস্থিত পরিত্যাক্ত জেলখানার একটি ভবনের বারান্দায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, শিশুটি প্রতি দিনের মতন বাড়ির পাশের পরিত্যাক্ত ওই জেলখানার উন্মুক্ত স্থানে খেলা করতে আসে। এ সময় শিশুটির সরলতার সুযোগ নিয়ে আলতাফ ওরফে আদু (৬৫) তাকে পাশেই পরিত্যাক্ত একটি ভবনের বারান্দায় ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। অভিযুক্ত আদু ওই ভবনের পাশেই একটি জরাজীর্ণ ছাপড়া ঘরে বসবাস করেন।

ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, আদুর বর্তমান স্ত্রী প্রতিবন্ধী। সে পেশায় একজন ভ্যান চালক। শিশুটি মাঝে মধ্যেই আদুর মেয়েদের সাথে খেলা করতে আদুর বাড়ির সামনে আসত।

ঘটনার প্রত্যক্ষ্যদর্শী এক নারী জানান, তিনি ও তার বোন সকালে জেলখানার সামনের ওই স্থান দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। হঠাৎ তিনি খারাপ কাজ করার দৃশ্য দেখতে পায়। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন স্বামী স্ত্রী হতে পারে, পরে তিনি আবার তাকিয়ে শিশুটিকে দেখতে পেয়ে ওই স্থানে এগিয়ে যান।

তিনি বলেন, তাকে দেখে আদু শিশুকে প্যান্ট পরিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টো করে। তখন ওই নারী এগিয়ে গিয়ে আদুকে শাসালে আদু পালিয়ে যায়।পরে শিশুটির পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। এই ঘটনায় স্থানীয়রা নিজেদের সন্তান নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।

এই ঘটনার বিষয়ে চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। এই ঘটনায় শিশুটির নানী বাদি হয়ে থানায় একটি ধর্ষণ চেষ্টার মামলা করেছেন।

সদরপুরে অনুমতি ছাড়াই বসেছে পশুর হাট, লাখ টাকার খাজনা আদায়ের অভিযোগ

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ণ
সদরপুরে অনুমতি ছাড়াই বসেছে পশুর হাট, লাখ টাকার খাজনা আদায়ের অভিযোগ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই পশুর হাট বসিয়ে লাখ টাকার খাজনা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে।

সোমবার (২৫ মে) দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের পিঁয়াজখালী বাজার এলাকায় এ পশুর হাট বসানো হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হান্নান চাকলাদার নামে এক ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা কোনো ধরনের সরকারি অনুমতি ছাড়াই কোরবানির পশুর হাট পরিচালনা করছেন। হাটে আগত ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের খাজনা আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই দীর্ঘ সময় ধরে একটি চক্র প্রভাব খাটিয়ে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এতে সরকার যেমন রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি সাধারণ ব্যবসায়ীরাও অতিরিক্ত খাজনার চাপে পড়ছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত হান্নান চাকলাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন বলেন, ওই বাজারে পশুর হাট বসানোর কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে উনারা জেলা প্রশাসকের আবেদন করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল বৃদ্ধের

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের সদরপুরে ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল বৃদ্ধের

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় বজ্রপাতে শেখ সামাদ (৭৬) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (২৫ মে) দুপুরে উপজেলার চর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সলিমুদ্দিন ফকিরের ডাঙ্গী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শেখ সামাদ ওই গ্রামের মৃত শেখ ইয়াজউদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুর দেড়টার দিকে শেখ সামাদ গরুর জন্য নিজ জমিতে ঘাস কাটতে যান। এ সময় হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বজ্রপাত শুরু হলে তিনি বজ্রাঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে তার স্ত্রী ছাহেরা বেগমের চিৎকারে স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সদরপুর থানা পুলিশকে জানালে উপ-পরিদর্শক (নি:) মো. মিনারুল কাজী সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন এবং মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।