সকালে মোবাইল কোর্টে জরিমানা, বিকেলে সেই দোকানের দই ইফতারে!
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানার কয়েক ঘণ্টা পরই একই দোকান থেকে উপজেলা প্রশাসনের ইফতার মাহফিলের জন্য দই কেনার ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (০৯ মার্চ) উপজেলার বাগাট এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মধুখালী উপজেলার বাগাট বাজারে অবস্থিত রাজকুমার মিষ্টান্ন ভান্ডারের কারখানায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরফানুর রহমান। অভিযানের সময় কারখানায় ব্যবহৃত তেলে ময়লা, পুরোনো মিষ্টির সিরা সংরক্ষণ এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুতের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান শেষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে খাদ্য প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরই বিকেল ৩টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলের জন্য একই প্রতিষ্ঠান থেকে দই সংগ্রহ করা হয় বলে জানা গেছে। রাজকুমার মিষ্টান্ন ভান্ডার থেকে প্রায় ১৩৫ কাপ দই উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সহকারীরা কিনে নিয়ে যান। পরে ওই দই উপজেলা প্রশাসনের ইফতার মাহফিলে অন্যান্য খাবারের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়।
এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—যে প্রতিষ্ঠানের খাদ্য প্রস্তুত প্রক্রিয়ায় অনিয়ম পেয়ে জরিমানা করা হলো, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই প্রতিষ্ঠান থেকে খাবার কেনা কতটা যৌক্তিক।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মধুখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. এরফানুর রহমান বলেন, “আমি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছি। সেখানে অনিয়ম পাওয়ায় আইন অনুযায়ী জরিমানা করা হয়েছে। ইফতার মাহফিলের খাবার কেনার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের অন্য দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।”
অন্যদিকে, রাজকুমার মিষ্টান্ন ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী সুকুমার ঘোষ দাবি করেন, কারখানায় থাকা তেলের ব্যারেলটি নতুন ছিল এবং সেটি খোলা হয়নি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের কর্মকর্তারাই সেটি খুলে দেখেন এবং তাতে ময়লা পাওয়ার কথা বলেন। তিনি আরও জানান, উপজেলা প্রশাসনের অফিস থেকে লোক এসে ১৩৫ কাপ দই নিয়ে গেছে এবং তার মূল্যও পরিশোধ করেছে।
এ বিষয়ে মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রওশনা জাহান বলেন, “একটি প্রতিষ্ঠানের সবকিছুই খারাপ নয়। যেসব বিষয়ে অনিয়ম পাওয়া গেছে সেগুলোর জন্য জরিমানা করা হয়েছে। সবকিছু খারাপ হলে দোকানটি সিলগালা করা হতো।”
এদিকে বিষয়টি নিয়ে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্যা বলেন, “দুপুরে জরিমানা করা প্রতিষ্ঠানের পণ্য বিকেলে ইফতারে নেওয়া হয়েছে—এটি কিছুটা সাংঘর্ষিক। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন তুলেছেন।

আপনার মতামত লিখুন
Array