খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে চার মণ ভেজাল কালোজিরা জব্দ, আতঙ্কে পালালো বিক্রেতা

মধুখালী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে চার মণ ভেজাল কালোজিরা জব্দ, আতঙ্কে পালালো বিক্রেতা

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলা সদরে ভেজাল কালোজিরা বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। কেনাবেচার সময় সন্দেহ হলে পরীক্ষা চালিয়ে ভেজালের প্রাথমিক প্রমাণ পান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেওয়া হলে আনুমানিক চার মণ কালোজিরা ফেলেই সটকে পড়েন কথিত এক বিক্রেতা।

​বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মধুখালী বাজারের চার রাস্তার মোড় সংলগ্ন মন্দির প্রাঙ্গণে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে ওই কালোজিরাগুলো বিনষ্ট করেন ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা। এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আকু বিশ্বাস, মনিরুল বিশ্বাস, ইমামুল বিশ্বাস ইমাম, ইমরান হোসেন ও তৌফিক বিশ্বাসসহ বাজার কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

​ব্যবসায়ীরা জানান, গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) হাটের দিনে কয়েকজন কথিত কৃষক কালোজিরা বিক্রি করতে মধুখালী বাজারে আসেন। তারা মধুখালী বাজার ব্যবসায়ী পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম লটাই বিশ্বাসের ভূষিমালের দোকানে এগুলো বিক্রি করতে নিয়ে যান। মান পরীক্ষা করতে গিয়ে এতে ভেজাল উপাদান মেলানোর সন্দেহ হয় লটাই বিশ্বাসের।

​তিনি কৌশলে ওই বিক্রেতাকে দোকানে বসিয়ে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি জানান। তবে পুলিশ আসার সুযোগ পেয়ে প্রায় চার মণ কালোজিরা রেখে চতুর বিক্রেতা সেখান থেকে পালিয়ে যান।

​পরবর্তীতে ভেজাল কালোজিরা বিনষ্ট করার সময় খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাহবুব এলাহী এবং মধুখালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুজ্জামান।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহবুব এলাহী জানান, দৃশ্যমান পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কালোজিরায় ভেজাল উপাদান মেশানোর প্রমাণ মিলেছে। তবে পুরোপুরি নিশ্চিত হতে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগৃহীত নমুনা মসলা গবেষণা কেন্দ্রে পাঠানো হবে এবং ল্যাব টেস্টের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফরিদপুরে পুত্রবধূকে ধর্ষণের দায়ে শ্বশুরের যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে পুত্রবধূকে ধর্ষণের দায়ে শ্বশুরের যাবজ্জীবন

ফরিদপুরের মধুখালীতে পুত্রবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে হাফিজার শেখ (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

​মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বিয়ের পর থেকেই পুত্রবধূকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন হাফিজার শেখ। ২০২২ সালের ২৫ আগস্ট সকালে কৌশলে নিজ ঘরে ডেকে নিয়ে তিনি প্রথমবার ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের ফলে ভুক্তভোগী গর্ভবতী হয়ে পড়লে জোরপূর্বক তার গর্ভপাত করানো হয়। বিষয়টি স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির স্বজনদের জানালেও তারা কোনো সুরাহা না করায় বাধ্য হয়ে বাবার বাড়ি চলে যান ভুক্তভোগী।

​পরবর্তীতে ওই বছরের ১০ সেপ্টেম্বর মধুখালী থানায় মামলা দায়ের করেন তিনি। তদন্ত শেষে মধুখালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ তোফাজ্জল হোসেন আসামি হাফিজার শেখের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত আজ এই রায় দেন।

​রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক এই সাজা দিয়েছেন। আদালতের এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে।

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে স্কুলমাঠে মাদক সেবন, তিন শ্রমিকের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:১২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে স্কুলমাঠে মাদক সেবন, তিন শ্রমিকের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে বিদ্যালয় মাঠে প্রকাশ্যে মাদক সেবনের অপরাধে তিন নির্মাণশ্রমিককে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একইসঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

​বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুলহাস হোসেন সৌরভের নেতৃত্বে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।

​দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন—মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাজারপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান (৪০), একই উপজেলার কোদালকাঠি গ্রামের আশরাফুল (৪৫) এবং ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের বাবুল (৪৭)। তাঁরা সবাই এলাকায় বিভিন্ন নির্মাণকাজের শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

​ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার মাথাভাঙ্গা ও মৌলভীরচর এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে মৌলভীরচর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রকাশ্যে মাদক সেবনরত অবস্থায় ওই তিনজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরবর্তীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(৫) ধারা অনুযায়ী অপরাধ স্বীকার করায় তাঁদের এই দণ্ড দেওয়া হয়।

​অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ জানান, এলাকাকে মাদকমুক্ত রাখতে উপজেলা প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। জনস্বার্থে এ ধরনের মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

ভাইভায় যে কাজগুলো কখনো করবেন না?

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৭ অপরাহ্ণ
ভাইভায় যে কাজগুলো কখনো করবেন না?

একটি ইন্টারভিউ শুধু আপনার দক্ষতা প্রমাণের সুযোগ নয় বরং নিজের ব্যক্তিত্ব ও পেশাদারিত্ব ফুটিয়ে তোলার অন্যতম মাধ্যম। অনেক সময় শতভাগ প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও অসচেতনতাবশত করা ছোটখাটো কিছু ভুল পুরো সুযোগটি নষ্ট করে দিতে পারে। ইন্টারভিউ বোর্ডে আপনার প্রথম ইম্প্রেশন বা ইতিবাচক ভাবমূর্তি বজায় রাখতে যে কাজগুলো ভুলেও করা যাবে না—

দেরি করে পৌঁছানো: ইন্টারভিউ বোর্ডে দেরি করে যাওয়া আপনার অদক্ষতা ও দায়িত্বহীনতা প্রকাশ করে। তাই নির্দিষ্ট সময়ের অন্তত ১০-১৫ মিনিট আগে উপস্থিত থাকুন।

কোম্পানি সম্পর্কে না জেনে যাওয়া: প্রতিষ্ঠান ও যে পদের জন্য আবেদন করেছেন সে বিষয়ে ধারণা না নিয়ে ইন্টারভিউতে যাবেন না।

অনুপযুক্ত পোশাক পরা: খুব বেশি জাঁকজমকপূর্ণ বা ক্যাজুয়াল পোশাক পরবেন না। পরিবেশের সঙ্গে মানানসই পরিপাটি ও পেশাদার পোশাক বেঁছে নিন।

পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠান নিয়ে নেতিবাচক কথা বলা: আগের বস বা কোম্পানির বদনাম করবেন না, এতে আপনার পেশাদারিত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

মিথ্যা তথ্য দেওয়া: নিজের যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতা নিয়ে কোনো রকম অসত্য বা বাড়িয়ে কোনো তথ্য দেবেন না।

ইন্টারভিউয়ারকে বাধা দেওয়া: কথা বলার সময় কথার মাঝে কেটে ফেলবেন না বা অন্যকে কথা শেষ করতে না দিয়ে নিজে বলা শুরু করবেন না।

অতিরিক্ত কথা বলা বা এলোমেলো কথা বলা: কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় ও দীর্ঘ পেঁচিয়ে কথা বলবেন না। মূল পয়েন্টে স্পষ্ট উত্তর দিন। চোখের যোগাযোগ বা আই কন্টাক্ট না রাখা: কথা বলার সময় নিচের দিকে তাকিয়ে থাকা বা চোখ এড়িয়ে চলা আত্মবিশ্বাসের অভাব প্রকাশ করে।

মোবাইল ফোন খোলা রাখা: ইন্টারভিউ রুমে ঢোকার আগে অবশ্যই ফোন সাইলেন্ট বা বন্ধ রাখুন। ভুলেও ভাইব্রেশন বা রিংটোন বাজতে দেবেন না।

স্যালারি সম্পর্কিত প্রশ্ন এড়িয়ে চলুন: ইন্টারভিউর প্রাথমিক পর্যায়ে কখনই স্যালারি সম্পর্কে প্রশ্ন করবেন না। কারণ একজন চাকরিদাতা কখনোই তেমন বেতনভুক কর্মচারী আশা করবেন না যিনি শুধু অর্থের নিগড়ে বন্দি হয়ে তাদের কাজ করছেন। শুধু শুধু স্যালারির কথা প্রথমেই জিজ্ঞাসা করে নিজের লালবাতি নিজে জ্বালাবেন না। আপনি চাইলে ইন্টারভিউর শেষ পর্যায়ে স্যালারি সম্পর্কে যেকোনো প্রশ্ন করতে পারেন। সেটা চাকরিদাতারাও আশা করবেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় তারাই স্যালারি সম্পর্কিত তথ্য আবেদনকারীকে জানান।

প্রশ্ন না করা: ইন্টারভিউ শেষে সাধারণত জানতে চাওয়া হয় আপনার কোনো প্রশ্ন আছে কিনা। না বলবেন না, প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ বা কাজ সম্পর্কে বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্ন করুন। যেমন— প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বা কাজের পরিবেশ নিয়ে দু-একটি প্রশ্ন করুন। এরপর অত্যন্ত বিনীতভাবে ইন্টারভিউয়ারদের তাদের মূল্যবান সময়ের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং এই প্রতিষ্ঠানে কাজ করার ব্যাপারে আপনার প্রবল আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করুন। কক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় বা অনলাইন মিটিং লিভ করার আগে মুখে মৃদু হাসি বজায় রেখে, সবার সঙ্গে হ্যান্ডশেক বা ভদ্রভাবে বিদায় নিয়ে ইতিবাচক একটি মনোভাব রেখে বিদায় নিন।