খুঁজুন
শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

গোড়ায় গলদ রেখে নকল দমন: শিক্ষার মানোন্নয়ন কি তবে কেবলই শ্লোগান?

এহসানুল হক মিয়া
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩৩ অপরাহ্ণ
গোড়ায় গলদ রেখে নকল দমন: শিক্ষার মানোন্নয়ন কি তবে কেবলই শ্লোগান?

দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় নকল প্রতিরোধ দীর্ঘদিনের আলোচিত একটি বিষয়। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী বারবার এই ইস্যুকে সামনে আনছেন—যা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে বাস্তবতা হলো, বর্তমানে প্রচলিত সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতিতে আগের মতো সরাসরি নকলের সুযোগ অনেকটাই কমে এসেছে। কারণ এখন প্রশ্ন মুখস্থনির্ভর নয়; বরং বিশ্লেষণধর্মী ও প্রয়োগভিত্তিক

তবুও প্রশ্ন থেকে যায়—নকল কমলেই কি শিক্ষার মান বেড়েছে? উত্তরটি এতটা সরল নয়।

সৃজনশীল পদ্ধতি চালুর আগে পরীক্ষায় মূল্যায়ন ছিল কঠোর—গণিত বিষয়ের ক্ষেত্রে সঠিক উত্তরে পূর্ণ নম্বর, ভুল হলে শূন্য। কিন্তু নতুন পদ্ধতিতে আংশিক সঠিক উত্তরের জন্য আংশিক নম্বর দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। নীতিগতভাবে এটি শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে নম্বর প্রদানে অতিরিক্ত উদারতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে প্রকৃত মেধা যাচাই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং ভালো ও দুর্বল শিক্ষার্থীর মধ্যে পার্থক্য ক্রমেই অস্পষ্ট হয়ে উঠছে।

এখন নকল দমন নয়, বরং বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে মূল্যায়নের মান নিশ্চিত করা।

শিক্ষাব্যবস্থার এই পর্যায়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি—

প্রথমত, শিক্ষকদের নিয়মিত ও কার্যকর প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। শুধু কারিকুলাম পরিবর্তন করলেই হবে না, সেই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য শিক্ষকদের দক্ষ করে তোলা অপরিহার্য।

দ্বিতীয়ত, পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বশীল তদারকি জোরদার করতে হবে, যাতে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ থাকে।

তৃতীয়ত, খাতা মূল্যায়নে স্বচ্ছতা ও কঠোরতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ না করলে শিক্ষার গুণগত মান ধরে রাখা সম্ভব নয়।

চতুর্থত, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মান উন্নয়নে নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালু করতে হবে। বাস্তবতা হলো, অনেক ক্ষেত্রেই শ্রেণিকক্ষের শিক্ষাদান কাঙ্ক্ষিত মানে পৌঁছাতে পারছে না, যার প্রভাব সরাসরি পরীক্ষার ফলাফলে পড়ছে।

এর পাশাপাশি শিক্ষকদের আর্থিক ও পেশাগত প্রণোদনা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন অনুপ্রাণিত শিক্ষকই একটি মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি।

নতুন কারিকুলাম (জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০২১) , বাস্তবায়ন ২০২৩, তবে ২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থানের পরে তা স্থগিত ও পুনর্বিবেচনার পর্যায়ে রয়েছে। এটা নিয়ে নানা বিতর্ক থাকলেও এর ইতিবাচক দিকও রয়েছে। বিশেষ করে গণিতসহ কিছু বিষয়ের বই যথেষ্ট আধুনিক ও সমৃদ্ধ হয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে নম্বরভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি হঠাৎ করে বাতিল করার সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পরিমাপের একটি কার্যকর মাধ্যমকে দুর্বল করে দিয়েছে। উন্নত পাঠ্যবই ও নম্বরভিত্তিক মূল্যায়নের সমন্বয় ঘটানো গেলে শিক্ষার মান আরও উন্নত হতে পারত।

নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নে যে সমস্যাগুলো স্পষ্ট হয়েছে, সেগুলোও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই—

– তড়িঘড়ি করে বাস্তবায়ন, যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবক কেউই প্রস্তুত ছিল না

– সব শ্রেণি ও বিষয়ে একযোগে পরিবর্তন আনার অযৌক্তিকতা

– মূল্যায়ন কাঠামোর হঠাৎ পরিবর্তনে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্তি

শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এটি চাপিয়ে দেওয়া যায় না; বরং সময় নিয়ে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে হয়। অতীতে সৃজনশীল পদ্ধতি ধাপে ধাপে চালু হওয়ায় তা সহজে গ্রহণযোগ্য হয়েছিল। নতুন কারিকুলামের ক্ষেত্রেও যদি একই কৌশল অনুসরণ করা হতো, তাহলে হয়তো আজকের চিত্র ভিন্ন হতে পারত।

সবশেষে বলা যায়, শুধুমাত্র নকল দমন দিয়ে শিক্ষার গুণগত উন্নয়ন সম্ভব নয়। প্রয়োজন একটি সমন্বিত, বাস্তবভিত্তিক ও ধীরস্থির পরিকল্পনা, যেখানে মূল্যায়নের ন্যায্যতা, শিক্ষার মান এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সক্ষমতা—সবকিছুকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে।

নইলে ‘নকলমুক্ত পরীক্ষা’ অর্জন হলেও ‘মানসম্মত শিক্ষা’ অধরাই থেকে যাবে।

লেখক:

সহকারী শিক্ষক (গণিত),

পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ফরিদপুর।

সাংবাদিক :

দৈনিক আজকালের খবর ও বিডি২৪লাইভ.কম।

ফরিদপুরের ভুবনেশ্বর নদে ভেসে উঠল অজ্ঞাত কিশোরীর মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৭:০১ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরের ভুবনেশ্বর নদে ভেসে উঠল অজ্ঞাত কিশোরীর মরদেহ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ভুবনেশ্বর নদ থেকে অজ্ঞাতনামা এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া মরদেহটি অনেকটাই বিবস্ত্র ও অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। নিহত কিশোরীর বয়স আনুমানিক ১৪ থেকে ১৫ বছর হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে উপজেলার চরকৃষ্ণপুর এলাকার ভুবনেশ্বর নদে মরদেহটি ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে সদরপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ১১টার দিকে নদীর পানিতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখতে পান কয়েকজন জেলে ও এলাকাবাসী। বিষয়টি দ্রুত স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল মিয়াকে জানানো হলে তিনি থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ উদ্ধার করে।

সদরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, “খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করি। মরদেহের পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ জানান, মরদেহটির পরিচয় শনাক্তে ফরেনসিক ও সিআইডি টিম কাজ করছে। এখন পর্যন্ত নিহত কিশোরীর কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এটি দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লন্ডনে ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেন ফরিদপুরের শামসুল আজম

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৬:৩১ পূর্বাহ্ণ
লন্ডনে ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেন ফরিদপুরের শামসুল আজম

লন্ডনের মাটিতে লাল-সবুজের আরও একটি গর্বের পতাকা উড়ল। যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে লন্ডনের মেইজব্রুক ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার কৃতী সন্তান এম. এম. শামসুল আজম। বৃটেনের রাজনৈতিক দল লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন তিনি।

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বুকে নিয়ে ২০০৩ সালে লন্ডনে পাড়ি জমিয়েছিলেন শামসুল আজম। পড়াশোনা শেষ করার পর লন্ডনেই চাকরি আর ব্যবসার পাশাপাশি জড়িয়ে পড়েন সমাজসেবামূলক কাজে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কমিউনিটির উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ সালে তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব লাভ করেন। এবার মেইজব্রুকের বাসিন্দারা ব্যালটের মাধ্যমে তাঁর সেই সেবার প্রতিদান দিলেন।

নির্বাচনে জয়লাভের পর শামসুল আজম বলেন, ‘এই বিজয় আমার একার নয়, এটি মেইজব্রুকের সকল বাসিন্দার বিজয়। আমি আপনাদের সেবা করতে এবং এলাকাকে আরও পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

বিদেশের মাটিতে বড় এই সাফল্যের পরও নিজের শিকড়কে ভুলে যাননি নবনির্বাচিত এই কাউন্সিলর। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে শামসুল আজম বলেন, ‘আমি যেখান থেকে এসেছি—বোয়ালমারী, ফরিদপুর—সেই মাটির প্রতি আমার গভীর মমতা রয়েছে। প্রবাসে থেকেও আমি বাংলাদেশের মান-সম্মান বৃদ্ধিতে কাজ করে যাব।’

শামসুল আজমের এই সাফল্যে যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনন্দন বার্তায় ভাসছেন তিনি। এদিকে তাঁর এই বড় অর্জনের খবর বোয়ালমারী ও ফরিদপুরে পৌঁছালে সেখানেও মিষ্টি বিতরণ ও উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। দূর পরবাসে দেশের মুখ উজ্জ্বল করায় তাঁকে নিয়ে গর্ব করছেন এলাকাবাসী।

সূত্র : ইনডিপেনডেন্ট টিভি

ফরিদপুরে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১

ফরিদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তানহা (১৮ মাস) নামে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ জনে। একই সঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬২ জন রোগী জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) হামের উপসর্গ নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তানহাকে। সে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার হাসানদিয়া গ্রামের দ্বীন ইসলামের মেয়ে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৬২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪১ জন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গে আক্রান্ত ১৭৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু।

তিনি আরও বলেন, হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় অভিভাবকদের শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, সর্দি, কাশি ও শরীরে লালচে দাগ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।