খুঁজুন
শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৫ আষাঢ়, ১৪৩৩

ফাঁকা বেঞ্চ, স্তব্ধ পাঠদান: সংকটে ঐতিহ্যবাহী সরকারি নগরকান্দা কলেজ

এহসানুল হক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
ফাঁকা বেঞ্চ, স্তব্ধ পাঠদান: সংকটে ঐতিহ্যবাহী সরকারি নগরকান্দা কলেজ

ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি নগরকান্দা কলেজ এখন গভীর সংকটের মুখে। একসময় যে প্রতিষ্ঠানটি এ অঞ্চলের শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত ছিল, বর্তমানে সেখানে শিক্ষাব্যবস্থার চিত্র ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। প্রশাসনিক দুর্বলতা, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে কলেজটি ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীশূন্য হয়ে পড়ছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সচেতন মহল।

১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটি দীর্ঘ পথচলায় বহু মেধাবী শিক্ষার্থী গড়ে তুলেছে। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে জাতীয়করণের মাধ্যমে এটি সরকারি মর্যাদা লাভ করে। জাতীয়করণের পর শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধায় দৃশ্যমান উন্নতি এলেও শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে সেই তুলনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি। বরং স্থানীয়দের অভিযোগ, জাতীয়করণের পরপরই অনেক অভিজ্ঞ শিক্ষক ভালো প্রতিষ্ঠানে বদলির জন্য প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েন, ফলে কলেজটিতে দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষক সংকট তৈরি হয়।

এই শিক্ষক সংকটের কারণে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম ভেঙে পড়ে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত পাঠগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হয়। এর ফলে ধীরে ধীরে কলেজে এক ধরনের জবাবদিহিতাহীনতার সংস্কৃতি গড়ে ওঠে, যা আজও পুরোপুরি কাটেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক সময় ক্লাস সূচি থাকলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি, ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনাগ্রহ তৈরি হয়।

বর্তমানে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে বিসিএসের মাধ্যমে কয়েকজন নতুন শিক্ষক এই কলেজে যোগদান করেছেন, তবুও শিক্ষার পরিবেশে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। শিক্ষক উপস্থিত থাকলেও শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। অনেক শ্রেণিকক্ষে দেখা যায়, হাতে গোনা কয়েকজন শিক্ষার্থী নিয়ে ক্লাস পরিচালিত হচ্ছে, আবার কোথাও কোথাও শিক্ষার্থী কম থাকায় ক্লাসই নেওয়া হচ্ছে না—এমন অভিযোগও রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়মিত ও মানসম্মত ক্লাস না হওয়ায় তারা ধীরে ধীরে কলেজমুখী হওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। অনেকেই কোচিং সেন্টার বা অন্য প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। কেউ কেউ ভালো শিক্ষার আশায় অন্য কলেজে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে, অন্যদিকে কলেজের সামগ্রিক পরিবেশও স্থবির হয়ে পড়ছে।

অভিভাবকদের মধ্যেও এ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তারা মনে করছেন, একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে এমন পরিস্থিতি অগ্রহণযোগ্য। তাদের দাবি, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং শিক্ষার মান উন্নয়ন, নিয়মিত ক্লাস নিশ্চিতকরণ এবং কঠোর প্রশাসনিক তদারকি এখন সময়ের দাবি।

কলেজের এই অব্যবস্থাপনার প্রভাব ইতোমধ্যেই একাডেমিক ফলাফলেও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মোট ৪২০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১৫৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, আর ২৬৬ জন অনুত্তীর্ণ হয়েছে। ফলে পাশের হার নেমে এসেছে মাত্র ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশে, যা একটি সরকারি কলেজের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক। শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এমন ফলাফল কেবল শিক্ষার্থীদের দায় নয়, বরং পুরো ব্যবস্থার দুর্বলতার প্রতিফলন।

এ বিষয়ে নগরকান্দা কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি আলী আকবার শরীফ আরমান বলেন, “নগরকান্দার একমাত্র সরকারি কলেজ আজ অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও উদাসীনতার চাপে ধুঁকছে। নেই কোনো কার্যকর উন্নয়ন পরিকল্পনা, নেই জবাবদিহিতা। শিক্ষক থাকলেও ক্লাস হয় না, শিক্ষার্থীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। শিক্ষা সফরের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে, জাতীয় দিবস ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমেও দেখা যায় চরম অবহেলা। সব মিলিয়ে কলেজটি ধীরে ধীরে অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে।”

তিনি আরও বলেন, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে এ কলেজ তার ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলবে এবং শিক্ষার্থীরা সম্পূর্ণভাবে অন্য প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকে পড়বে।

অন্যদিকে কলেজ প্রশাসনও সমস্যার বিষয়টি স্বীকার করেছে, তবে তারা এর পেছনে শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতিকেও একটি বড় কারণ হিসেবে দেখছে। কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর জাহিদুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে না এলে শিক্ষকদের পক্ষে পাঠদান কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। আমরা ইতোমধ্যে উপস্থিতি বাড়াতে নোটিশ জারি করেছি, যেখানে বলা হয়েছে ন্যূনতম ৭০ শতাংশ উপস্থিতি না থাকলে একাদশ থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা হবে না এবং নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগও দেওয়া হবে না।”

তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীদের ক্লাসমুখী করতে শিগগিরই অভিভাবক সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষকদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে প্রশাসনিকভাবে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হবে। নিয়মিত ক্লাস মনিটরিং, একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুসরণ এবং ফলাফল উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের সংকট উত্তরণে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। শুধু প্রশাসন বা শিক্ষক নয়, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। নিয়মিত ক্লাস নিশ্চিত করা, শিক্ষকদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা, শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা এবং আধুনিক শিক্ষণ পদ্ধতি চালু করা—এসব পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি।

এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রয়োজনে বিশেষ অডিট, একাডেমিক পরিদর্শন এবং কর্মক্ষমতা মূল্যায়নের মাধ্যমে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, সরকারি নগরকান্দা কলেজ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে একসময়কার গৌরবময় এই প্রতিষ্ঠানটি তার স্বকীয়তা ও অবস্থান হারাতে পারে। তবে সঠিক পরিকল্পনা, আন্তরিকতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এখনও এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব—এমনটাই আশা করছেন স্থানীয়রা।

ফরিদপুরের মধুমতী নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনে অভিযান, বাল্কহেড-ড্রেজার জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ১০:২১ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরের মধুমতী নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনে অভিযান, বাল্কহেড-ড্রেজার জব্দ

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার মধুমতী নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে একটি বাল্কহেড, একটি ড্রেজার ও একটি আনলোডার মেশিন জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেল ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের গয়েশপুর ঘাট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন মধুখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিক দত্ত। এলাকাটি মধুখালী উপজেলা এবং মাগুরা সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র মধুমতী নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এমন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালানো হয়। এ সময় নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়ায় ঘটনাস্থল থেকে নড়াইল জেলার বুড়িখালী গ্রামের বাসিন্দা মো. বেলায়েত মোল্লা (৪৫)কে আটক করা হয়। তিনি মো. হান্নান মোল্লার ছেলে।

পাশাপাশি বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত একটি বাল্কহেড, একটি ড্রেজার ও একটি আনলোডার মেশিন জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে জব্দকৃত যন্ত্রপাতি কামারখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রাকিব হোসেন চৌধুরী ইরানের জিম্মায় রাখা হয়েছে। আটক ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানা হেফাজতে সোপর্দ করা হয়েছে।

অভিযান শেষে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিক দত্ত বলেন, “নদী ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অবস্থান কঠোর। যারা আইন অমান্য করে নদী থেকে বালু উত্তোলন করবে, তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

তিনি আরও জানান, মধুখালী উপজেলায় দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ভূমি দখল, অবৈধ বালু উত্তোলনসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে এবং জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

একসঙ্গে কতটা লিচু খেলে বিপদ হতে পারে? যা বলছেন বিশেষজ্ঞ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৮:২৯ পূর্বাহ্ণ
একসঙ্গে কতটা লিচু খেলে বিপদ হতে পারে? যা বলছেন বিশেষজ্ঞ

সুস্বাদু, রসালো আর সুগন্ধে অতুলনীয় লিচু গ্রীষ্মকালের অন্যতম জনপ্রিয় ফল। তবে এই লোভনীয় ফলের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে এক মরণঘাতী ঝুঁকি, যা অনেকেরই অজানা। বিশেষ করে খালি পেটে অতিরিক্ত লিচু খাওয়া প্রাণঘাতী হতে পারে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মাইকেল গ্রেগারের মতে, লিচুর এই বিষক্রিয়া এবং এর নিরাপদ মাত্রা সম্পর্কে আমাদের সচেতন হওয়া জরুরি।

লিচুর আড়ালে লুকিয়ে থাকা ‘বিষ’

লিচুতে ‘মিথাইলিন সাইক্লোপ্রোপাইল-গ্লাইসিন’ নামক একটি প্রাকৃতিক টক্সিন বা বিষ থাকে, যা ‘হাইপোগ্লাইসিন’ (hypoglycin) জাতীয় টক্সিনের মতোই। এই বিষটি শরীরের যকৃৎ বা লিভারকে রক্তে শর্করা বা সুগার তৈরিতে বাধা দেয়। ফলে শরীরে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে অনেক কমে গিয়ে বিপত্তি ঘটে।

কেন এটি বিপজ্জনক হতে পারে?

ভারত ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলোতে লিচু কাটার মৌসুমে শিশুদের মধ্যে এক রহস্যময় মস্তিষ্কের রোগ বা ‘এনসেফালোপ্যাথি’ দেখা যেত, যাকে স্থানীয়ভাবে ‘নাইটমেয়ার’ বলা হতো।

গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশু পুষ্টিহীনতায় ভুগছিল এবং দীর্ঘ সময় না খেয়ে বা খালি পেটে লিচু বাগান থেকে প্রচুর লিচু খেয়েছিল, তাদের শরীর এই বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়। রক্তে শর্করা মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় শিশুরা খিঁচুনি এবং মস্তিষ্কের সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে মারাও যেত।

একসঙ্গে কয়টি লিচু নিরাপদ?

বিশেষজ্ঞদের গবেষণায় লিচু খাওয়ার নির্দিষ্ট সীমার কথা উল্লেখ করা হয়েছে—

শিশুদের জন্য: চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের জন্য এক বসায় ৩০ থেকে ১০০টি লিচু খাওয়া অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং বিপজ্জনক হতে পারে।

প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য: সুস্থ সবল প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে লিচু খাওয়ার ঝুঁকি কম হলেও সাবধানতা প্রয়োজন। গবেষণার তথ্যানুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির একবারে ২০০টির বেশি লিচু খাওয়া উচিত নয়। তবে একজন সাধারণ ওজনের পুরুষ প্রায় ৪৫টি লিচু খেলেও তার রক্তে টক্সিনের মাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছায় না বলে একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে।

নিরাপদ থাকার উপায়

বিশেষজ্ঞরা লিচুর বিষক্রিয়া থেকে বাঁচতে কিছু সহজ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন:

খালি পেটে লিচু নয়: কখনো খালি পেটে বা দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার পর লিচু খাবেন না।

শিশুদের ক্ষেত্রে সতর্কতা: শিশুদের রাতে অবশ্যই ভালো করে খাবার খাইয়ে ঘুমাতে দেওয়া উচিত। রাতে খাবার না খেয়ে থাকলে পরের দিন সকালে তাদের লিচু খেতে দেওয়া একেবারেই অনুচিত।

পরিমিত খাওয়ার অভ্যাস: লিচু সুস্বাদু হলেও একবারে অতিরিক্ত পরিমাণ না খেয়ে অল্প পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস করা উচিত।

পুষ্টিকর খাবার: পুষ্টিহীনতায় ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে লিচু খাওয়ার ব্যাপারে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

লিচু একটি চমৎকার পুষ্টিকর ফল যদি তা নিয়ম মেনে এবং সঠিক পরিমাণে খাওয়া হয়। সামান্য একটু সতর্কতা আপনার এবং আপনার পরিবারের জন্য এই গ্রীষ্মের আনন্দকে নিরাপদ রাখতে পারে।

তথ্যসূত্র: নিউট্রেশন ফ্যাক্ট

কর্মক্ষেত্রে বিষাক্ত বস চিনবেন যেভাবে?

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৮:২০ পূর্বাহ্ণ
কর্মক্ষেত্রে বিষাক্ত বস চিনবেন যেভাবে?

কর্মক্ষেত্রে কাজের পাশাপাশি মানসিক স্বস্তিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে কর্মজীবনে এমন বস বা ঊর্ধ্বতন থাকেন, যার আচরণ কর্ম পরিবেশকে অস্বস্তিকর করে তোলে।

কখনও অকারণে কঠোর সমালোচনা, কখনও অসম্মানজনক আচরণ, আবার কখনও কর্মীর ব্যক্তিগত সীমারেখা উপেক্ষা।

এসব কারণে ধীরে ধীরে কর্মীদের আত্মবিশ্বাস কমে যেতে পারে। দীর্ঘদিন এমন পরিবেশে কাজ করলে উদ্বেগ, মানসিক চাপ, এমনকি অবসাদও দেখা দিতে পারে।

একাধিক বিশেষজ্ঞ মনে করেন- বিষাক্ত নেতৃত্ব শুধু কাজের ক্ষতি করে না, মানসিক সুস্থতাকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করে।

অফিসে সুস্থ নেতৃত্বের অধিকারী কর্মকর্তা নিজে কী চান, কীভাবে কাজ করতে হবে বা কোন লক্ষ্য অর্জন করতে হবে— তা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেন। তবে বিষাক্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রায়ই নিজের সিদ্ধান্ত বদলান।

একদিন যে কাজের প্রশংসা করেন, পরদিন একই কাজের জন্য তীব্র সমালোচনা করেন। কখন তিনি রেগে যাবেন বা কোন বিষয় নিয়ে অসন্তুষ্ট হবেন, তা কর্মীরা বুঝে উঠতে পারেন না।

যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েশিভা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও ক্লিনিক্যাল মনোবিজ্ঞানী সাবরিনা রোমানোফ রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “এমন কর্মকর্তার অধীনে কাজ করলে কর্মীরা সব সময় সতর্ক অবস্থায় থাকেন। তারা প্রতিটি কথাবার্তা বা কাজের আগে ভাবেন, এতে আবার কোনো সমস্যা তৈরি হবে কি না। এই অনিশ্চয়তা ধীরে ধীরে মানসিক ক্লান্তি বাড়িয়ে দেয়।”

ক্ষমতার অপব্যবহার

অনেক সময় কিছু কর্মকর্তা, নিজের অবস্থানকে ব্যবহার করে কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেন। কারও সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখেন, আবার কাউকে অকারণে ছোট করেন।

ব্যক্তিগতভাবে বলা কোনো কথা পরে অন্যদের সামনে তুলে ধরেন কিংবা সহকর্মীদের একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দেন।

মার্কিন মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শক ট্রেসি ভাদাকুমচেরির মতে, “যদি কোনো কর্মকর্তা নিয়মিত অন্য সহকর্মীদের সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করেন, তবে সেটিও সতর্ক হওয়ার লক্ষণ। কারণ একইভাবে অন্যদের কাছেও তিনি আপনার বিষয়ে নেতিবাচক কথা বলতে পারেন।”

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মনোবিজ্ঞানী ও পারিবারিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ প্যাট্রিস লে গোয় বলেন, “অনেক ক্ষেত্রে কর্মীদের ভালো কাজের কৃতিত্ব নিজের নামে নিয়ে নেন বিষাক্ত কর্মকর্তা। অথবা গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে দূরে রাখেন। এতে কর্মীরা ধীরে ধীরে নিজেদের অযোগ্য ভাবতে শুরু করেন।

ব্যক্তিগত সীমারেখার প্রতি সম্মান না দেখানো

সুস্থ কর্মপরিবেশে ব্যক্তিগত জীবন ও কর্মজীবনের মধ্যে একটি ভারসাম্য থাকে। তবে বিষাক্ত বস অনেক সময় কর্মীদের ছুটির দিনেও কাজের নির্দেশ দেন। রাতের বেলায় বারবার বার্তা পাঠান বা ব্যক্তিগত সমস্যার প্রতি কোনো সহানুভূতি দেখান না।

প্যাট্রিস লে গোয় বলেন, “ভালো নেতৃত্বের বস, কাজের পাশাপাশি কর্মীর ব্যক্তিগত প্রয়োজনের প্রতিও সম্মান দেখান। তবে বিষাক্ত বস মনে করেন, কর্মীর পুরো সময়ই যেন প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ।”

অনেক সময় সভার মধ্যেই কর্মীর ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে মন্তব্য করা বা অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন করাও এই ধরনের আচরণের অংশ হতে পারে।

মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব

কর্মস্থলের চাপ সাময়িক হতে পারে। তবে প্রতিদিন অপমান, ভয় বা অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করতে হলে, এর প্রভাব শরীর ও মনে দীর্ঘদিন থেকে যায়।

প্যাট্রিস লে গোয় বলেন, “এমন পরিবেশে কাজ করলে উদ্বেগ, আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি, হতাশা এবং কর্মস্থলে যাওয়ার আগেই ভীতির অনুভূতি তৈরি হতে পারে।”

অনেকের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের মানসিক চাপের কারণে হজমের সমস্যা, মাথাব্যথা কিংবা শরীরের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথাও দেখা দেয়।

সাবরিনা রোমানোফের মতে, “কর্মস্থলের সম্পর্ক অনেকটা পরিবারের মতো। সেখানে বস অনেক সময় অভিভাবকের মতো ভূমিকায় থাকেন। ফলে তার ধারাবাহিক সমালোচনা বা অবমূল্যায়ন মানুষের পুরানো মানসিক ক্ষতকে আবারও জাগিয়ে তুলতে পারে।”

নিজেকে দোষারোপ না করা

এ ধরনের পরিস্থিতিতে অনেক কর্মী ভাবতে শুরু করেন, হয়ত সমস্যাটা তাদের মধ্যেই রয়েছে।

তবে প্যাট্রিস লে গোয় বলেন, “প্রথমেই নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিতে হবে। যদি প্রতিদিন কর্মস্থলে যাওয়ার আগে ভয়, উদ্বেগ বা অস্বস্তি তৈরি হয়, তবে সেটিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।”

সাবরিনা রোমানোফও মনে করেন, “নিজের সহ্য করার সীমা কোথায়, তা পরিষ্কারভাবে বুঝতে হবে। কঠোর ব্যবস্থাপনা আর মানসিক নির্যাতনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সেই সীমা অতিক্রম হলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে।”

ঘটনাগুলো লিখে রাখা

কোন দিন কী ঘটেছে, কে উপস্থিত ছিলেন, কী ধরনের মন্তব্য করা হয়েছে— এসব তথ্য লিখে রাখা প্রয়োজন হতে পারে।

সাবরিনা রোমানোফ বলেন, “লিখিত তথ্য শুধু ভবিষ্যতে প্রয়োজনেই কাজে আসে না, বরং নিজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে সন্দেহ তৈরি হলেও বাস্তবতা মনে করিয়ে দেয়। ইলেকট্রনিক বার্তা বা লিখিত নির্দেশ সংরক্ষণ করাও উপকারী হতে পারে।”

আলাপ সীমিত রাখা

ট্রেসি ভাদাকুমচেরির পরামর্শ, “প্রয়োজন ছাড়া ব্যক্তিগত আলোচনা না করে কাজের বিষয়েই কথোপকথন সীমাবদ্ধ রাখা ভালো। এতে অপ্রয়োজনীয় বিরোধ কমে আসে।”

প্যাট্রিস লে গোয় বলেন, “নিজের সময়, কাজের পরিমাণ এবং দায়িত্ব সম্পর্কে যতটা সম্ভব স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া উচিত। যদিও সব কর্মক্ষেত্রে তা সহজ নয়, তবু সীমারেখা তৈরির চেষ্টা প্রয়োজন।

সহায়তা চাইতে দ্বিধা না করা

কর্মস্থলের চাপ একা বহন করা সব সময় সম্ভব হয় না। পরিবার, বিশ্বস্ত সহকর্মী কিংবা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বললে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সহজ হতে পারে।

প্যাট্রিস লে গোয় বলেন, “এমন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন, যারা নিজের সক্ষমতার কথা মনে করিয়ে দেন। এতে আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা সহজ হয়।”

ট্রেসি ভাদাকুমচেরি অবশ্য সতর্ক করে বলেন, “প্রতিষ্ঠানের উচ্চপর্যায়ে অভিযোগ করার আগে, সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া সম্পর্কেও ভেবে নেওয়া উচিত।”