খুঁজুন
, ,

জ্বালানি সংকট কি কৃত্রিম?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ৭:৪১ পূর্বাহ্ণ
জ্বালানি সংকট কি কৃত্রিম?

আব্দুল্লাহ রাফি। একজন মোটরসাইকেল রাইডার। গত সোমবার ঈদ শেষে ঢাকায় ফেরেন। গতকাল মঙ্গলবার তার নিয়মিত পেশা মোটরসাইকেল রাইডিংয়ের জন্য সকাল ৮টায় শ্যামলীর বাসা থেকে বের হন। সকাল সাড়ে ৯টায় আসাদগেটে অবস্থিত সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য লাইনে অপেক্ষারত এই রাইডারের সঙ্গে কথা হয়।

রাফি জানান, মোটরসাইকেল চালিয়ে তিনি তার তিনজনের সংসার চালান। গতকাল বের হওয়ার সময় মোটরসাইকেলে অল্প পরিমাণ তেল ছিল। সেটা দিয়ে আসাদগেট আসেন তেলের জন্য। এখানে আসার অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে পাম্প থেকে বলা হয়, তেল নেই। দুপুর ২টার পর ডিপো থেকে তেল এলে দেওয়া হবে। রাফি জানান, ঈদের আগে থেকেই তেল নিতে পাম্পে পাম্পে ঘুরতে হয়েছে তাকে, এখনো হচ্ছে।

মোটরবাইক রাইডার রাফির সঙ্গে যখন কথা হচ্ছিল, তখন সোনার বাংলা পাম্পের সামনে শতাধিক মোটরসাইকেলকে তেলের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। একইভাবে ২০ থেকে ২৫টি প্রাইভেটকার, দুটি মিনি ট্রাক ও একটি বাস তেলের জন্য অপেক্ষায় ছিল।

আব্দুল্লাহ রাফি আরও বলেন, রাজধানীর অধিকাংশ পাম্পেই তেল থাকে না। তেল সংগ্রহ করতেই পুরো দিন চলে যাচ্ছে। এ অবস্থায় তেলের পয়সা তুলে সংসারের খরচের টাকা আয় করা অসম্ভব। সরকার বলছে তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। আর পাম্পে এলে তেল পাই না।

শুধু সোনার বাংলা নয়, বিপরীত দিকে অবস্থিত বন্ধ থাকা তালুকদার ফিলিং স্টেশনের সামনেও লম্বা লাইন। বিকেলের দিকে তেল আসবে তার জন্যই অপেক্ষায় অসংখ্য যানবাহন। কারণ লাইন ছেড়ে বেরিয়ে গেলে আর ঢুকতে পারবেন না। অন্য কোনো পাম্পেও তেল নেই। যে কারণে বাধ্য হয়েই পুরোদিন তেলের অপেক্ষায় কাটিয়ে দিতে হচ্ছে তাদের।

তবে দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের প্রবণতা (প্যানিক বায়িং) এবং গুজবের কারণে পাম্পগুলোতে সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিয়মিত চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত তেল কেনার কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অতিরিক্ত চাহিদার কারণে সরবরাহের প্রক্রিয়াটা ভেঙে গেছে। সরকারের এই কথার সঙ্গে একমত নন পেট্রোল পাম্পের মালিকরা। তাদের অভিযোগ, ডিপো থেকে চাহিদার বিপরীতে অনেক কম তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে এক থেকে দুই ঘণ্টা বিক্রির পর আর পাম্পে তেল থাকছে না। যে কারণে রাজধানীর প্রতিটি পাম্পেই জ্বালানি তেলের জন্য লম্বা লাইন লেগেই আছে।

কোনো কোনো পাম্পে তেলের ক্রেতারা উত্তেজিত হয়ে পড়ারও ঘটনা ঘটছে।

রাজধানীর তিনটি জ্বালানি তেলের পাম্প মালিকরা জানান, সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহের কথা বলা হলেও বাস্তবতা হচ্ছে অনেক কম তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ঢাকার ভেতর একমাত্র ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন ছাড়া আর সবাই কম তেল পাচ্ছে। ৯ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার গাড়িতে তেল দেওয়া হচ্ছে আড়াই থেকে তিন হাজার লিটার। আর সাড়ে ১৩ হাজার লিটারের গাড়িতে দেওয়া হচ্ছে সাড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার লিটার। ডিপো থেকে কম তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স ডিস্ট্রিবিউটরস এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল এ প্রসঙ্গে উপমা দিয়ে বলেন, আমাদের ডিপোগুলো হচ্ছে ‘হরমুজ প্রণালি’। এগুলো পুরোদমে খুলে দিলেই তেলের সংকট থাকবে না। তিনি বলেন, মাঠের এই সংকট মূলত কৃত্রিম। কৃত্রিম এই সংকটের কারণে ডিপো থেকে তেল কম পাচ্ছি আমরা। একমাত্র ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন তাদের চাহিদার পুরোটাই ডিপো থেকে সরবরাহ পেয়ে থাকে। এ ছাড়া অন্য পাম্পগুলোতে চাহিদার বিপরীতে অনেক কম তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। এ সময় তিনি সরকারের পক্ষ থেকে বাড়তি সরবরাহের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমার প্রশ্ন এই বাড়তি সরবরাহ কোথায় যাচ্ছে?

তেলের ক্রেতাদের বিষয়ে সাজ্জাদুল করিম বলেন, যারা আগে দু-তিন লিটার তেল নিতেন, এখন তারা পুরো ট্যাংকি ভরে তেল নিচ্ছেন। এটা বেশি হচ্ছে মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে। একটি মোটরসাইকেলের তেলের ট্যাংকি ধারণক্ষমতা নিম্ন ৯ লিটার থেকে সর্বোচ্চ ১২-১৩ লিটার। এই হিসাবে সর্বোচ্চ তিনগুণ বেশি তেল কিনছেন তারা। এই চাহিদাটা বেড়েছে ১০-১৫ দিন ধরে। সারা দেশে কোটি খানেক মোটরসাইকেল আছে। এখন হিসাব করেন, হুট করে কী পরিমাণ চাহিদা বেড়ে গেছে।

রাজধানীর বাইরের তেলের পাম্পগুলোর অবস্থা আরও নাজুক বলে জানান সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল। তিনি বলেন, ডিপো থেকে এখন যে পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, তাতে ঢাকার বাইরে অন্যান্য জেলা থেকে আসা গাড়ির খরচও ওঠে না। এ ছাড়া ডিপো থেকে তেল নিতে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ কারণে অনেক এলাকায় পাম্পের মালিকরা পাম্প বন্ধ করে দিয়েছেন। সরবরাহ ব্যবস্থা ভালো হলে আবার চালু করবেন তারা।

এদিকে চট্টগ্রাম ব্যুরো জানিয়েছে, পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে আবারও চট্টগ্রামের ফিলিং স্টেশনগুলোতে বাইকার ও অন্যান্য যানবাহনের তীব্র চাপ দেখা গেছে। গতকাল দুপুরে নগরীর গণিবেকারি এলাকায় কিউসি ফিলিং স্টেশন ও ওয়াসা মোড় সংলগ্ন এসএইচ ফিলিং স্টেশনে বাইকারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। বাইক ছাড়াও প্রাইভেট কার, সিএনজি ও ম্যাক্সিমা গাড়িকেও দীর্ঘ লাইনে তেল নিতে দেখা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ কেন্দ্র করে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল সরবরাহ না থাকায় অনেক চালক পাম্পগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করেও তেল সংগ্রহ করতে পারছেন না। এ সংকটের কারণে পরিবহন খাতে সৃষ্টি হয়েছে বড় ধরনের অচলাবস্থা। ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে শুরু করে গণপরিবহন—সব ক্ষেত্রেই পড়েছে এর প্রভাব। নগরজীবনের ব্যস্ত ছন্দের মধ্যে এ জ্বালানি সংকট নতুন করে ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সাধারণ মানুষের জন্য।

‘অতিরিক্ত চাহিদায় সরবরাহের প্রক্রিয়াটা ভেঙে পড়েছে’: গ্রাহকদের অতিরিক্ত চাহিদার কারণে জ্বালানি তেল সরবরাহের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াটা ভেঙে পড়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত আপাতত নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি। গতকাল ঈদের পর প্রথম কর্মদিবসে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরের সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ কথা জানান।

ইকবাল হাসান মাহমুদ আরও বলেন, ‘একটা বিষয় বুঝতে হবে যে, হঠাৎ করে মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ছে পেট্রোল পাম্পে। একটা প্রসেসে পেট্রোল পাম্প চলে। আমরা যেভাবে তেল দিই, সেই নিয়মটা এখন ভেঙে পড়েছে। এত ভিড়, প্রতিদিন পেট্রোল পাম্পের যে তেল দেওয়া হয়, সেটাই থাকে। কিন্তু গ্রাহক তো বেড়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবে তেলে লাইন থাকবে।’

সরকার আবার রেশনিংয়ে যাবে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘এখন এটা বলা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আমরা মানুষকে বলেছি আপনারা প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল নিয়েন না। এতে আমরা সরবরাহ ঠিক রাখতে পারব না। তেল আছে, আপনারা তেল পাবেন।’

মানুষের অতিরিক্ত তেল মজুত রোধে কোনো পদক্ষেপ নেবেন কি না জানতে চাইল মন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের যা যা দায়িত্ব পালন করা দরকার, সেটা আমরা পালন করব।’ দাম বাড়ানোর বিষয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা তো বলছি, এখনো তো বাড়াইনি। দাম বাড়ানোর বিষয়টা তো মন্ত্রণালয় দেখে না, সেপারেট এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন।

তিনি আরও বলেন, ‘চাহিদা এবং জোগানের মধ্যে যখন গ্যাপ তৈরি হয়, তখন হঠাৎ করে ডিমান্ড বেড়ে যায়। ডিমান্ড বেড়ে গেলে সেখানে তো একটু ক্রাইসিস হবে। সে ক্রাইসিসটা হচ্ছে। এটা তো সাধারণ জ্ঞান। তেলের অভাবে তো ঈদে কোনো গাড়ি বন্ধ ছিল না। ঈদে সবাই বাড়ি গেলো কোনো তো অসুবিধা হয়নি। তেল নিয়ে কোনো অসুবিধা হয়েছে? তাহলে আমার মনে হয়, এখনো কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু মানুষকে বুঝতে হবে অকারণে মজুত করার কোনো প্রয়োজন নেই।’

জ্বালানি আমদানির অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলাপ চলছে—অর্থমন্ত্রী: গতকাল সচিবালয়ে আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, জ্বালানি আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এপ্রিলে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হবে সংস্থাটির স্প্রিং মিটিং, যেখানে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচনা হবে।

মন্ত্রী বলেন, আইএমএফ থেকে পরবর্তী কিস্তি হিসেবে ১৩০ কোটি ডলার পাওয়ার বিষয়ে এপ্রিলে বোর্ড সভায় চূড়ান্ত আলোচনা হবে। ধারণা করছি, জুলাইয়ে ঋণের কিস্তি পাওয়া যাবে। চলমান প্রোগ্রাম পুনর্মূল্যায়ন হবে। তবে, সব শর্ত একসঙ্গে পূরণ করা সম্ভব নয়। প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতি অনুযায়ী শর্তগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করতে হবে।

অর্থমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, জ্বালানি সংকটের মুহূর্তে সরকার একা এ পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে না। দেশবাসীকে সংযমী ও সহানুভূতিশীল হতে হবে। দেশের পরিবহন ও গার্মেন্টস খাতে কোনো সমস্যা হয়নি। তেলের অভাবে কোনো পরিবহন বন্ধ হয়নি।

দেশে তেলের মজুত পরিস্থিতি: বিপিসির দেওয়া তথ্যানুযায়ী, দেশে ডিজেল মজুতের সক্ষমতা ৬ লাখ ২৪ হাজার ১৮৯ টন। গতকাল পর্যন্ত সরবরাহযোগ্য মজুত ছিল ১ লাখ ৮৫ হাজার টন, যা মোট সক্ষমতার প্রায় ২৯ শতাংশ। এই মজুত দিয়ে প্রায় ১৪ দিনের চাহিদা পূরণ সম্ভব। গত ১ মার্চ থেকে গত রোববার পর্যন্ত দেশে ডিজেল বিক্রি হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৬৪ হাজার টন। সে হিসাবে দৈনিক গড় বিক্রি প্রায় ১২ হাজার টন। গত বছরের একই সময়ে তা ছিল সাড়ে ১২ হাজার টনের কাছাকাছি।

অকটেনের মজুদ ক্ষমতা ৫৩ হাজার ৬১৬ টন। বর্তমানে মজুত আছে প্রায় ১১ হাজার টন, যা দিয়ে প্রায় ৯ দিনের চাহিদা পূরণ সম্ভব। পেট্রোলের মোট সংরক্ষণ সক্ষমতা ৩৭ হাজার ১৩ টন। এর মধ্যে মজুত রয়েছে ১৬ হাজার ৬০৫ টন, যা দিয়ে প্রায় ১১ দিন সরবরাহ বজায় রাখা যাবে। আর ফার্নেস তেলের মজুত রয়েছে ৭০ হাজার ৮৩৩ টন, যা দিয়ে প্রায় ২৯ দিনের চাহিদা পূরণ সম্ভব। জেট ফুয়েলের মজুত ৩৪ হাজার ৮৭৭ টন, যা দিয়ে প্রায় ২৩ দিন সরবরাহ চালানো যাবে। কেরোসিনের মজুত ৮ হাজার ৫৭১ টন, যা দিয়ে ৪৬ দিন চাহিদা মেটানো যাবে। মেরিন ফুয়েলের মজুত আছে প্রায় দেড় হাজার টন, যা দিয়ে ৪৪ দিন সরবরাহ সম্ভব। এ ছাড়া দেশের একমাত্র শোধানাগার ইস্টার্ন রিফাইনারিতে বর্তমানে ৮০ হাজার টন অপরিশোধিত তেল মজুদ আছে। দৈনিক গড়ে সাড়ে ৪ হাজার টন শোধনক্ষমতা বিবেচনায় এই মজুত দিয়ে আরও ১৭ থেকে ১৮ দিন উৎপাদন চালানো সম্ভব।

আগামী দুই মাসের পরিকল্পনা: পরিস্থিতি সামাল দিতে এপ্রিল ও মে মাসের জন্য প্রাথমিক আমদানি সূচি তৈরি করেছে বিপিসি। এপ্রিলে সমুদ্রপথে ১৪টি জাহাজ এবং পাইপলাইনে ৩টি পার্সেলের মাধ্যমে মোট ৩ লাখ টন ডিজেল, ৫০ হাজার টন জেট ফুয়েল, ২৫ হাজার টন অকটেন এবং ৫০ হাজার টন ফার্নেস তেল আমদানির পরিকল্পনা করেছে সরকার। তবে এখন পর্যন্ত মাত্র ১ লাখ ১০ হাজার টন ডিজেল এবং পাইপলাইনে ২০ হাজার টন সরবরাহের নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে।

দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোয় জ্বালানি সরবরাহ করে রাষ্ট্রায়ত্ত তিন প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও যমুনা অয়েল কোম্পানি। সারা দেশে তাদের ডিপো রয়েছে। এসব ডিপো থেকে প্রায় আড়াই হাজার ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি পাঠানো হয়। মে মাসে ১৭টি জাহাজে সাড়ে ৩ লাখ টন ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানি আসার সূচি ঠিক করা হয়েছে। তবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো চূড়ান্ত মত দেয়নি। এ ছাড়া সরকার বিকল্প বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি তেল কেনার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে রাশিয়া , মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড এবং স্পট মার্কেট থেকে। তবে বিষয়গুলো এখনো নিশ্চিত হয়নি। এ ছাড়া ভারতের সঙ্গে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানির বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি মার্চ মাসের প্রথম ২২ দিনে বন্দরে মোট ২৫টি জ্বালানিবাহী জাহাজ থেকে খালাস সম্পন্ন হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব জাহাজের মাধ্যমে এলএনজি, এলপিজি ও বিভিন্ন ধরনের তেল দেশে এসেছে এবং আরও দুটি জাহাজ ২৫ মার্চ বা আজকের মধ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

মাঠপর্যায়ে নজরদারি দরকার: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে এখনো বড় ধরনের জ্বালানি সংকট তৈরি হয়নি; কিন্তু অস্বাভাবিক চাহিদা বৃদ্ধি, জাহাজ আসতে বিলম্ব, সীমিত মজুত এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধি ইত্যাদি চাপ একসঙ্গে তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক এবং জ্বালানি ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন কালবেলাকে বলেন, অতিরিক্ত মজুত বা কৃত্রিম সংকট তৈরির প্রবণতা বন্ধে মাঠপর্যায়ে নজরদারি বাড়াতে হবে।

সূত্র : কালবেলা

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৪৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ১১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও নগদ ৩০ হাজার টাকাসহ বাশার মিয়া ওরফে চোরা বাশার (৫৫) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে ফরিদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।

বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর ১২ টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার পূর্ব বাকপুরা গ্রামে ফরিদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি চৌকস দল এ অভিযান পরিচালনা করেন। গ্রেপ্তার বাশার মিয়া পূর্ব বাকপুরা গ্রামের শাহজাহান মিয়ার ছেলে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, অভিযানকালে বাশারের পরিহিত লুঙ্গির সামনের ডান দিকে গোজা একটি টিস্যু ব্যাগের ভেতর থেকে জীপারযুক্ত নীল রঙের পলিপ্যাকেটে রাখা কমলা বর্ণের মেথামফেটামিন (ইয়াবা) ১১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার মোট ওজন ১১ গ্রাম। এ সময় মাদক বিক্রির ৩০ হাজার টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়।

ফরিদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শিরীন আক্তার বলেন, এ ঘটনায় ফরিদপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক বেলায়েত হোসেন বাদী হয়ে বাশার মিয়ার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ (সংশোধিত) অনুযায়ী ভাঙ্গা থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন ও আসামীকে কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের এই কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

চরভদ্রাসনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্পেন প্রবাসীর ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৯:১৯ অপরাহ্ণ
চরভদ্রাসনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্পেন প্রবাসীর ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ

লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলায় শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে চরভদ্রাসন উপজেলার সদর ইউনিয়নে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সামগ্রী বিতরণ করেছে স্পেন প্রবাসী ল স্পেন বিএনপির সহ-সভাপতি আলী ইউনুছ আলী প্রামানিক।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) উপজেলার সদর ইউনিয়নের বিশ্বাস বাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নিকট ২ সেট জার্সি ও একটি ফুটবল উপহার হিসেবে বিতরন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্বাস বাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান বিশ্বাস জানান, এসব ক্রীড়া সরঞ্জাম হাতে পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার সুযোগ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

স্পেন বিএনপির সহ-সভাপতি ইউনুছ আলী প্রামানিক বলেন, অর্থের অভাবে যেন কোনো অসচ্ছল শিক্ষার্থীর পড়াশোনা বিঘ্নিত না হয়, সে ভাবনা থেকেই তিনি ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষার্থীদের পাশে দাড়িয়েছি। আগামীতে আরও কয়েকটি বিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে ক্রিয়া সামগ্রী বিতরণ করা হবে বলে জানান তিনি।

শিক্ষানুরাগী ও সংশ্লিষ্টদের মতে, উপহার হিসেবে পাওয়া এসব সামগ্রী শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রাতিষ্ঠানিক পাঠদানের পাশাপাশি খেলাধুলা ও শিক্ষার প্রতি গভীর আগ্রহ তৈরি করবে।

ফরিদপুরে মাদ্রাসাছাত্র অপহরণ মামলায় যুবকের ৫ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মাদ্রাসাছাত্র অপহরণ মামলায় যুবকের ৫ বছরের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের নগরকান্দায় মাদ্রাসাছাত্র অপহরণ মামলায় রুবেল খন্দকার (২০) নামে এক যুবককে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরো তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ মামলার অপর আসামি সোহেল মোল্লাকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১২ আগস্ট) ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আসামি পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার এজাহার ও অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, নগরকান্দা থানাধীন একটি মাদ্রাসায় প্রায় ছয় মাস ধরে আবাসিক থেকে পড়াশোনা করছিল ১০ বছর বয়সী মাদ্রাসাছাত্র হেদায়েত উল্লাহ। ২০১৬ সালের ১৪ জানুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মাদ্রাসার সামনের পশ্চিম পাশে জুরদী বাসস্ট্যান্ডে যাওয়ার কথা বলে সহপাঠীদের সঙ্গে মাদ্রাসা থেকে বের হয় সে। এরপর আর মাদ্রাসায় ফিরে আসেনি।

শিশুটিকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও না পেয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক ক্বারী মো. ইউনুস আলী তার পরিবারকে বিষয়টি জানান। পরে শিশুটির বাবা মো. কামাল খন্দকার নগরকান্দা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

এজাহারে বলা হয়, শিশুটি নিখোঁজের পরদিন ১৫ জানুয়ারি দুপুরে একটি মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে তার বাবার কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে শিশুটিকে হত্যা করে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। একই দিন রাতে আবার ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং শিশুটির সঙ্গে কথা বলিয়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা নগরকান্দা থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে একই মাদ্রাসার ছাত্র রুবেল খন্দকার ও সোহেল মোল্লার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। মামলার নথিতে রুবেলকে পলাতক আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে বুধবার আদালত রুবেল খন্দকারকে দোষী সাব্যস্ত করে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাঁকে আরো তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর আসামি সোহেল মোল্লাকে খালাস দেওয়া হয়।

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী বলেন, শিশু অপহরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত রুবেল খন্দকারকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন।