খুঁজুন
রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৬ বৈশাখ, ১৪৩৩

যুদ্ধের কালো ছায়া : মানবতার অশ্রু

রেহেনা ফেরদৌসী
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ১২:২৬ অপরাহ্ণ
যুদ্ধের কালো ছায়া : মানবতার অশ্রু

পৃথিবীর ইতিহাসে যত যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে, সেখানে কেউই আসলে পরাজিত কিংবা বিজয়ী হয়নি! বরং প্রতিটি যুদ্ধেই মানবতা চরমভাবে পরাজিত হয়েছে।

ইতিহাসের পাতায় আমরা বহু যোদ্ধার বীরত্বগাথা ভূমিকা দেখতে পাই। যুগ যুগ ধরে সাহিত্য, লোকগীতি, মঞ্চনাটক ও কবিতায় যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের অবদানকে গৌরবান্বিত করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, যুদ্ধের এ গৌরবান্বিত ধারণাটি যুদ্ধের এক ভয়াল ও অন্ধকার সত্যকে আড়াল করেছে।

এ সত্যটি হলো, যুদ্ধ সর্বদাই মানবতার জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে আনে। বীরত্বের স্তুতিনামা বরাবরই নিরীহ মানুষের মৃত্যু, ধ্বংসপ্রাপ্ত নগরী, বিবর্ণ জনপদ, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক ক্ষতির চিত্র তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়।

যুদ্ধের পক্ষে যে কোনো যুক্তির ঊর্ধ্বে এটি ধ্বংস, যন্ত্রণা ও বর্বরতার প্রতীক।একেকটি যুদ্ধ মানবজাতিকে কোটি কোটি মানুষের লাশ ছাড়া কিছুই দিতে পারেনি। এসব যুদ্ধে যোদ্ধাদের যত বড় বীরত্বের গল্পই থাকুক না কেন, যুদ্ধগুলো মানবজাতিকে ইতিবাচক কিছু দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
যুদ্ধক্ষেত্রে বীরত্বের ধারণা প্রায়ই সহিংসতাকে স্বাভাবিক হিসাবে তুলে ধরে। কিন্তু সহিংসতার স্বাভাবিকীকরণই মানবজাতির জন্য ভয়াবহ ও দুর্বিষহ ভবিষ্যৎকে ত্বরান্বিত করে।

যখন বীরত্বের খোলসে সহিংস আচরণ, বর্বর হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসলীলার তারিফ করা হয়, তখন তা পরবর্তী প্রজন্মকে অমানবিক বীরত্বের জন্য উৎসাহিত করে। যখন হত্যাকা- সাহসিকতার সমার্থক হয়ে ওঠে, তখন এটি মানবজীবনের পবিত্রতাকে কলুষিত করে। যুদ্ধের কঠিন বাস্তবতাকে আড়াল করে সৈনিক কৃর্তক হত্যাকা-ের তারিফ করার অবশ্যম্ভাবী ফলাফল স্বরূপ পৃথিবীতে সংঘটিত হচ্ছে এত যুদ্ধবিগ্রহ ও প্রাণহানি।

যদিও বাহ্যিকভাবে আমরা দেখি, যুদ্ধে একদল বিজয়ী ও অন্যপক্ষ পরাজিত হয়েছে। যদি প্রশ্ন করা হয়, এ বিজয় কিসের বিনিময়ে? উত্তর হচ্ছে-অসংখ্য মানুষের মৃত্যু, বহু মানুষের অসহায় পঙ্গুত্ব, অর্থনীতির পতন, জাতীয় জীবনে অস্থিরতা ও নিরাপদ আশ্রয়স্থলের জন্য নিরুপায় সাধারণ মানুষের দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করার বিনিময়ে। যা যুদ্ধের যে কোনো ইতিবাচক অর্জনের ওপর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে।

এমনকি বিজয়ী যোদ্ধারাও বাকি জীবনটা যুদ্ধের মানসিক ক্ষত বহন করে চলেন। প্রতিটি যুদ্ধেই কে হারবে আর কে জিতবে, তা অনির্ধারিত হলেও এটা নির্ধারিত যে, যুদ্ধে মানবতা পরাজিত হবে। অর্থাৎ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে বাহ্যিক দৃষ্টিতে বিজয়ীরাও যুদ্ধে পরাজয়ই বরণ করে।মোট কথা, বিজয়ী ও পরাজিত শক্তি উভয়ের জন্যই যুদ্ধের চূড়ান্ত পরিণতি হলো পরাজয়, ক্ষতি ও নৈতিকতার অবক্ষয়।

যুদ্ধের পর বীরত্বকে উদযাপন করা কখনো কখনো প্রতিশোধ পরায়ণতা ও ঘৃণার চক্রকে উসকে দিয়ে নতুন সংঘাত সৃষ্টি করে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যখন অক্ষশক্তি পরাজিত হয়, তখন তাদের ওপর কিছু লজ্জাজনক শর্ত আরোপ করা হয়। অন্যদিকে মিত্রশক্তি তখন যুদ্ধ জয়ের উল্লাসে ব্যস্ত। তাদের এ বিজয়োল্লাসই অক্ষশক্তিকে প্রতিশোধ পরায়ণ করে তোলে, যার ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়, যা পৃথিবীকে প্রায় ৭ কোটি মানুষের মরদেহ উপহার দেয়।

এভাবেই প্রতিশোধের চক্র চলতে থাকে বিধায় পুরো মানবজাতিই ভোগান্তির শিকার হয়। অথচ, যুদ্ধের রসদ ক্রয় না করে এ অর্থ যদি একটি দেশ তার দারিদ্র‍্য দূরীকরণ, শিক্ষার প্রসারসহ বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যয় করতে পারে, তাহলে তা দেশকে সমৃদ্ধির শিখরে আরোহণে সহায়তা করবে।
এ পর্যায়ে মনে প্রশ্ন আসতেই পারে…তবে কি বীরত্ব প্রদর্শন অপরাধ? মোটেও না; তবে সত্য, ন্যায়, মজলুমকে রক্ষা, স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম, শত্রুর আক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য বীরত্ব লালন করা প্রয়োজন।

মনে রাখতে হবে, শান্তিপূর্ণ সমাধানই মহান বীরত্বের প্রতীক। অপরদিকে, পৈশাচিক বীরত্ব প্রদর্শন মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অপরাধ অর্থাৎ যুদ্ধাপরাধ। আমরা বরং প্রকৃত বীরত্বের ধারণাকে বিশ্লেষণ ও উৎসাহিত করতে পারি। প্রকৃত বীরত্ব যুদ্ধক্ষেত্রে নয়; বরং এটি শান্তি, বোঝাপড়া, সহমর্মিতা ও সহাবস্থানের পথে বিদ্যমান। যারা সমস্যার সমাধান রক্তপাতহীনভাবে করতে পারে, বিভক্ত জাতিকে শান্তিপূর্ণভাবে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে এবং মানবাধিকার রক্ষার জন্য নিজেদের উৎসর্গ করেন, তারাই প্রকৃত বীর।

যুদ্ধ ও মানবতার বিপর্যয় একে অপরের সাথে গভীরভাবে জড়িত। যুদ্ধ কেবল ভৌগোলিক সংঘাত নয় বরং এটি লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু,বাস্তুচ্যুতি, চরম দারিদ্র‍্য এবং মনস্তাত্ত্বিক বিপর্যয়ের কারণ যা সভ্যতাকে পিছিয়ে দেয়। পূর্ব কাল থেকে শুরু করে বর্তমানের যুদ্ধ গুলো প্রমাণ করে যে, যুদ্ধ মানেই মানবতা ও উন্নয়নমূলক অবকাঠামোর চরম ধ্বংসলীলা।

যুদ্ধে সামরিক মৃত্যুর চেয়ে বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা অনেক বেশি হয়। সরাসরি মৃত্যু ছাড়াও দুর্ভিক্ষ এবং যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট রোগব্যাধিতে লাখ লাখ মানুষ মারা যায়। মানুষ নিজের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়যা বিশ্বজুড়ে বিশাল শরণার্থী সংকটের সৃষ্টি করে। যুদ্ধ একটি দেশের রাস্তা, সেতু, বিদ‍্যালয় এবং হাসপাতাল ধ্বংস করে দেয় যা স্থানীয় অর্থনীতিকে পুরোপুরি স্থবির করে ফেলে এবং কর্মসংস্থান নষ্ট করে। যুদ্ধের ফলে বাস্তুতন্ত্র বিঘ্নিত হয় প্রাকৃতিক সম্পদ নষ্ট হয় এবং পরিবেশ দূষিত হওয়ার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হয়। যুদ্ধের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তীব্র উদ্বেগ দীর্ঘ মেয়াদে মনস্তাত্ত্বিক ক্ষত তৈরি করে। যুদ্ধের সময় স্কুলপড়–য়া শিশুদের মৃত্যুর ঘটনা সামগ্রিক সভ্যতার জন্য চরম লজ্জা এবং মানবতার পরাজয়।

পরিশেষে এতটুকু বলাই যায়…কোনো যুদ্ধেই আসলে কেউ জয়ী হয় না প্রতিবারই মানবতার পরাজয় ঘটে। অপেক্ষা…সময়ের, যখন মানবজাতি ভয়ংকর যুদ্ধবিধ্বস্ত অতীত থেকে মুক্তি পাবে। কোনো শক্তিই মানুষের ইচ্ছাশক্তিকে দমিয়ে রাখতে পারে না। ধর্ম, বর্ণ, জাতি বা ভৌগোলিক সীমারেখা সকল কিছুর ঊর্ধ্বে বিবেক জাগ্রত হোক, জয় হোক মানবতার

লেখক: সহ-সম্পাদক, সমাজকল্যাণ বিভাগ, কেন্দ্রীয় পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)।

ফরিদপুরে লরিকে ওভারটেক করতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল কলেজছাত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:২৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে লরিকে ওভারটেক করতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল কলেজছাত্রীর

ফরিদপুর শহরে লরিকে ওভারটেক করতে গিয়ে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় উপাসনা ঘোষ (২২) নামে এক কলেজছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক আকাশ (২৮) গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রোববার (১৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শহরের মেরিন ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজির সামনে পাকা সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত উপাসনা ঘোষ শহরের ঝিলটুলি এলাকার বাসিন্দা উত্তম ঘোষের মেয়ে। তিনি স্থানীয় একটি কলেজের ছাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। আহত আকাশ ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার রুপাপাত এলাকার বিধান সরকারের ছেলে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আকাশ তার মোটরসাইকেল (ডিসকভার ১০০ সিসি)যোগে উপাসনা ঘোষকে নিয়ে টেপাখোলা এলাকার একটি পেট্রলপাম্প থেকে জ্বালানি নিয়ে শহরের দিকে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে মেরিন ইনস্টিটিউটের সামনে পৌঁছালে সামনে চলন্ত একটি ইটভাটার মাটি বহনকারী লরি ট্রাককে ওভারটেক করার চেষ্টা করেন। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটি ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়।

দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে থাকা স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উপাসনা ঘোষকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত আকাশকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই সড়কে ভারী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। তারা দ্রুত কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লরি ট্রাকের চালক ও তার সহকারীকে হেফাজতে নিয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি জব্দ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ফরিদপুরে ইএনটি রোগে সার্জনের অপারেশন! শেষমেশ মৃত্যু, উঠছে অবহেলার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:১৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ইএনটি রোগে সার্জনের অপারেশন! শেষমেশ মৃত্যু, উঠছে অবহেলার অভিযোগ

ফরিদপুরে গলায় টিউমার অপারেশনকে কেন্দ্র করে মিম (১৫) নামে এক কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণেই এই মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে এবং দায়ীদের শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন স্বজনরা।

জানা গেছে, ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চর চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা শওকত মিয়ার মেয়ে মিম গলায় টিউমারের সমস্যায় গত ১৪ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ রাত ১০টার দিকে শহরের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অবস্থিত প্রভাতী (প্রাঃ) হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আতিকুল আহসানের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।

পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, অপারেশনের সময় অসাবধানতাবশত মিমের গলার একটি গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালী কেটে যায়। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে রোগীর অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটে। সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গুরুতর অবস্থায় মিমকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও তার শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি হতে থাকে। অবশেষে রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—মিম যে রোগে ভুগছিলেন, তা মূলত নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের আওতাধীন। কিন্তু সেখানে সার্জারি বিভাগের একজন চিকিৎসক অপারেশন করেন কেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। সচেতন মহলের মতে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব বা সমন্বয়হীনতার কারণে এমন ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, প্রভাতী (প্রাঃ) হাসপাতালটি অতীতেও অনিয়মের কারণে ২০২৫ সালে ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক সাময়িকভাবে সিলগালা করা হয়েছিল। ফলে প্রতিষ্ঠানটির সেবার মান নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

নতুন করে অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে ও মিটমাট করতে প্রভাবশালীদের পক্ষ থেকে রোগীর স্বজনদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। স্বজনদের আপোষ-মিমাংসায় বাধ্য করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

মিমের পরিবার জানায়, “আমাদের মেয়েকে ভুল চিকিৎসা দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। এখন আবার বিষয়টি চাপা দিতে আমাদের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত চাই এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি, যেন আর কোনো পরিবারকে এমন শোক বয়ে বেড়াতে না হয়।”

এ বিষয়ে ডা. আতিকুল আহসানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। তার সহকারীর সঙ্গেও যোগাযোগ করে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. দিলরুবা জেবা বলেন, “সার্জারি বিভাগের একজন চিকিৎসক গলার অপারেশন করতে পারেন, যদি তিনি এ বিষয়ে দক্ষ হন। তবে বর্তমানে এ ধরনের অপারেশন সাধারণত ইএনটি বিশেষজ্ঞরাই করে থাকেন। রোগীর পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অন্যদিকে, ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, “ঘটনাটি আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ফরিদপুরে শুরু হয়েছে ৪৭তম বিজ্ঞান মেলা

মানিক কুমার দাস, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৩২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে শুরু হয়েছে ৪৭তম বিজ্ঞান মেলা

ফরিদপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং বিজ্ঞান মেলা। “উদ্ভাবন নির্ভর বাংলাদেশ গঠনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই মেলার উদ্বোধন করা হয় রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে শহরের তারার মেলা ঈশান মেমোরিয়াল স্কুল প্রাঙ্গণে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান এবং জেলা শিক্ষা অফিসার বিষ্ণু পদ ঘোষাল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সোহরাব হোসেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে মেলার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। পরে অতিথিরা বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্প ঘুরে দেখেন। মেলায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা তথ্যপ্রযুক্তি, রোবোটিক্স, পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবন, কৃষি প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক বিভিন্ন প্রকল্প উপস্থাপন করে দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, আধুনিক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকল্প নেই। একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য উদ্ভাবনী চিন্তা ও গবেষণার প্রসার অপরিহার্য।

তারা আরও বলেন, তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায় থেকেই গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা ও হাতে-কলমে কাজের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে।

বক্তারা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, শুধু বইয়ের জ্ঞান নয়, বাস্তব সমস্যার সমাধানে নতুন নতুন উদ্ভাবনে এগিয়ে আসতে হবে। প্রযুক্তিকে ইতিবাচকভাবে ব্যবহার করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তারা শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।

জেলা প্রশাসন, ফরিদপুরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই মেলা জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের তত্ত্বাবধানে এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। মেলায় জেলার বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেছে, যা তাদের সৃজনশীলতা ও মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

মেলা প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে দিনভর প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা যায়। নতুন প্রজন্মের উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রদর্শনী ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা, যা ভবিষ্যতের বিজ্ঞানমনস্ক বাংলাদেশ গঠনে আশাব্যঞ্জক ইঙ্গিত দিচ্ছে।