খুঁজুন
সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন, ১৪৩২

কীভাবে ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় ফিরেছিল বিএনপি?

রাকিব হাসনাত
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:০৫ এএম
কীভাবে ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় ফিরেছিল বিএনপি?

বাংলাদেশে ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপির ক্ষমতায় আসা এখনো দেশের নির্বাচন ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বড় একটি বিস্ময় হিসেবেই অনেকের কাছে বিবেচিত, কারণ ওই নির্বাচনের আগে এই ধারণাই বেশি প্রকাশ পাচ্ছিলো যে–– আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে।

কারও কারও মতে, অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতার দলত্যাগের কারণে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা ছিল দুর্বল, সে তুলনায় আওয়ামী লীগ তখন সাংগঠনিকভাবে শক্তিধর ছিল। এ সত্ত্বেও আওয়ামী লীগকে ওই নির্বাচনে যেভাবে বিএনপি পরাজিত করেছিলো, তা দেশের রাজনীতির গতিধারাই পাল্টে দিয়েছিল।

এর মাধ্যমেই বাংলাদেশে কার্যত দ্বি-দলীয় রাজনীতির সূচনা হয়, পাশাপাশি ওই সংসদের মাধ্যমেই বাংলাদেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়েছিল।

আবার সব দলের সম্মতির ভিত্তিতে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে হলে নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হওয়ার যে ধারণা- তারও আনুষ্ঠানিক প্রয়োগ হয়েছিলো ১৯৯১ সালের ২৭শে ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচনেই।

সেই ভোটে বিএনপির হয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা একজন নেতা বলছিলেন, নির্বাচনের আগে জাতির উদ্দেশে দুই নেত্রী- শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার দেওয়া ভাষণের পরপরই তারা আঁচ করতে পারছিলেন যে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বিএনপির অনুকূলে আসছে।

বিশ্লেষকরা অবশ্য বলছেন যে, ওই ভাষণ ছাড়াও নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে আওয়ামী লীগের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস এবং দলটির নেতাদের বক্তৃতা বিবৃতিতে নিজেদের বড়াই বা দম্ভের বহিঃপ্রকাশ বিএনপিকে সুবিধা করে দিয়েছিল।

এছাড়া তখনকার বিএনপি নেতৃত্বাধীন সাত দলীয় জোটের নেত্রী খালেদা জিয়ার স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ‘আপসহীনতার ভাবমূর্তি’ই ওই নির্বাচনে দলটির বিস্ময়কর সাফল্যের মূল কারণ বলে তারা মনে করেন।

প্রসঙ্গত, এই নির্বাচনে বিএনপি ১৪০টি আসনে জয়লাভ করে ক্ষমতায় ফিরে এসেছিল। আর আওয়ামী লীগকে ৮৪টি আসন নিয়ে সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসতে হয়েছিল।

এছাড়া জাতীয় পার্টি ৩৫টি আসনে এবং জামায়াতে ইসলামী ১৮টি আসনে জয়লাভ করে ওই নির্বাচনে।

পরে জামায়াতের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেছিল খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি এবং তিনি দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন।

বিএনপি জয় আঁচ করতে পেরেছিলো?

বিএনপির একাধিক নেতা বলেছেন, ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে এটা বিশ্বাস করা অনেকটা কঠিন ছিল যে আওয়ামী লীগ হারিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসতে পারবে।

মূলত এর আগে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের নয় বছরে দলটির অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা দল ছেড়ে যাওয়ায় অনেক জায়গায় সাংগঠনিক অবস্থা ছিল খুবই নড়বড়ে।

লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলছেন, তখন তার কাছে মনে হয়েছিলো–– বিএনপি নেতারা বরং বিশ্বাস করছিলেন যে তারা শেষ পর্যন্ত বিরোধী দলেই বসতে যাচ্ছেন।

“আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে অনেক বিস্তৃত ছিল। আর জেনারেল এরশাদ তার নয় বছরে বারবার বিএনপি ভাঙার চেষ্টা করেছেন। অনেক নেতাকে ভাগিয়ে নিয়েছিলেন। ফলে বিএনপি আসলে অনেক জায়গায় প্রার্থীও ঠিকমতো দিতে পারেনি সেই নির্বাচনে। এসব কারণেই সবার মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছিল যে আওয়ামী লীগই জিতবে,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

ওই নির্বাচনে বিএনপির হয়ে ১৪০টি নির্বাচনী আসনের মনিটরিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন দলটির এখনকার স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি ওই নির্বাচনের পরে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে হওয়া মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।

পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির জয় তারা কোনোভাবে আঁচ করতে পেরেছিলেন কি-না কিংবা নির্বাচনের ফল দলের জন্য আসলেই বিস্ময় ছিল কি-না -এমন প্রশ্নের জবাবে মি. রায় বলেছেন, তারা নির্বাচনের সপ্তাহ খানেক আগে থেকে ‘ভালো বাতাস’ পাচ্ছিলেন।

“অনেকের কাছে বিস্ময়কর ফল মনে হলেও আমরা যারা আসনভিত্তিক কাজ করছিলাম তারা কিছুটা উপলব্ধি করছিলাম যে পরিস্থিতি অনুকূল হচ্ছে। রেডিও টিভিতে দুই নেত্রীর ভাষণের পর ঢাকায় মূলত আওয়ামী লীগ উড়ে গিয়েছিল,” বিবিসি বাংলাকে বলেছেন তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অনেকে বলে থাকেন যে, সেবার নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ ও আট দলীয় জোট নেত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশে যে ভাষণ দিয়েছিলেন তা বেশ সমালোচিত হয়েছিলো। বরং সেই তুলনায় বিএনপি ও সাত দলীয় জোট নেত্রী খালেদা জিয়ার ভাষণ প্রশংসিত হচ্ছিলো।

সিনিয়র সাংবাদিক মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু অবশ্য বলছিলেন, তখন রাজনৈতিক নেতা, নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকসহ সবার ধারণা ছিল শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগই জিতবে।

“মনে হচ্ছিলো আওয়ামী লীগই জিতবে। আসলে দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের মনোভাব তখন কেউ সেভাবে আঁচ করতে পারেনি। পরে অনেক বিশ্লেষণেই বিএনপির জয়ের কারণগুলো উঠে এসেছে,” বলছিলেন তিনি।

বিএনপির জয়ের ফ্যাক্টরগুলো কী ছিল

বিশ্লেষক ও রাজনীতিক সবাই মানছেন যে, পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনই ছিল দেশের প্রথম অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন যা একটি দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নির্বাচনের সময় তখন ইত্তেফাকের একটি সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছিল, “এবারের নির্বাচনের বৈশিষ্ট্য এই যে -এই প্রথম এদেশে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইতেছে এবং আশা করা চলে যে, ভোটাররা নির্ভয়ে-নিরুপদ্রবে নিজ ইচ্ছামত প্রার্থী বাছাইয়ে তাহাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করিবেন”।

আর নির্বাচনের পর দোসরা মার্চ দৈনিক সংবাদের সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছিলো, “নির্দলীয় ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে বহু আকাঙ্ক্ষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ যাবত তৃতীয় বিশ্বের কোনো দেশে এ ধরনের অভূতপূর্ব শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি”।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলছেন, আসলে ঠিকমতো সুযোগ পেলে মানুষ নিজের অজান্তেও সঠিক রায় দেয় এবং ১৯৯১ সালে ঠিক তা-ই ঘটেছিলো বলে তারা মনে করেন।

“এখানে বড় ফ্যাক্টর ছিল এরশাদবিরোধী আন্দোলন খালেদা জিয়ার আপসহীন ভূমিকায় তৈরি হওয়া জনপ্রিয়তা আর শেখ হাসিনার দাম্ভিকতাপূর্ণ বক্তব্য,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

মি. রায় জানান, নির্বাচনের চার দিন আগে ঘরোয়া এক বৈঠকে তারা জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে অনানুষ্ঠানিক কথা বলেছিলেন মিসেস জিয়ার সাথে, তিনি সবাইকে আরও পরিশ্রম করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

এছাড়া বিশ্লেষকদের মতে, সেবার নির্বাচনী প্রচারণায় শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তৃতার ভাষা নিয়ে বেশ সমালোচনা হচ্ছিলো। এর বিপরীতে খালেদা জিয়া মূলত ভারতবিরোধী বক্তৃতা দিয়ে যাচ্ছিলেন।

দৈনিক ইত্তেফাক তার একটি বক্তব্যের শিরোনাম করেছিলো, “বাংলাদেশকে বিদেশীদের গোলামীর চুক্তিতে আবদ্ধ করিতে না চাহিলে ধানের শীষে ভোট দিন”।

গয়েশ্বর রায় দাবি করছেন, শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার পর ঢাকার আসনগুলোতে আওয়ামী লীগের পরাজয় নিশ্চিত হয়ে পড়েছিলো।

এছাড়া সেসময়ে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এমন কেউ কেউ মনে করেন, ড. কামাল হোসেন ও মোস্তফা মহসিন মন্টুসহ কিছু দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে আওয়ামী লীগেরই একটি প্রভাবশালী অংশ অবস্থান নেওয়ার প্রভাবও পড়েছিলো পুরো নির্বাচনী ফলাফলে।

“আওয়ামী লীগ নেতাদের কথা শুনে তখন মনে হতো যে তারা ক্ষমতায় এসে পড়েছে। এটি মানুষ ভালোভাবে নেয়নি,” বলছিলেন মি. রায়।

১৯৯১ সালের ওই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বরগুনার একটি আসন থেকে জিতেছিলেন নূরুল ইসলাম মনি। পরে ১৯৯৪ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলেন।

“তখন যারা মোটামুটি বয়স্ক ভোটার তাদের বেশিরভাগই স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের শাসনামল নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিল। আবার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে খালেদা জিয়ার ভূমিকা তাকে তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় করেছিলো। এছাড়া নির্বাচনে আগে শেখ হাসিনার কথাবার্তাও সমালোচিত ছিল। আমার মনে হয় বিএনপির বিস্ময়কর জয়ের কারণ এগুলোই,” বলেছেন তিনি।

শেখ হাসিনার ভাষণে কী ছিল

১৯৯১ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি ঢাকায় জনসভা করে শেষ নির্বাচনী দেওয়ার পাশাপাশি রেডিও টেলিভিশনেও ভাষণ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া। দুই নেত্রীর দুটি করে ভাষণই পরদিন সংবাদপত্রে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল।

শেখ হাসিনা তার ৫০ মিনিটের ভাষণের অধিকাংশ সময়জুড়েই দুই সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান ও হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের শাসনামলের কঠোর সমালোচনা করেন।

ভাষণের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, “জেনারেল জিয়া রেডিও টিভি ভাষণে জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে সেনা ছাউনিতে ফিরে যাওয়ার ওয়াদা ভঙ্গ করে প্রথমে জাগদল, এরপর ফ্রন্ট, অতপর ১৯ দফা বাস্তবায়ন কমিটি এবং সবশেষে বিএনপি গঠন করেন। তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে জনদল, ফ্রন্ট, ১৮ দফা বাস্তবায়ন কমিটি ও জাতীয় পার্টি গঠন করেন”।

ওই ভাষণে তিনি স্বাধীনতা পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে পরবর্তী জিয়াউর রহমান ও এরশাদের শাসনামলের তুলনামূলক চিত্র বর্ণনা করে ওই দুই শাসনামলের তীব্র সমালোচনা করেন।

মূলত প্রতিপক্ষকে তীব্রভাবে আক্রমণ আর স্বাধীনতা পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের ভুলত্রুটি এড়িয়ে যাওয়া ছাড়াও শেখ হাসিনার বলার ভঙ্গি নিয়ে তখন রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা শুরু হয়।

অন্যদিকে খালেদা জিয়ার ভাষণে স্বাধীনতা পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকার এবং জেনারেল এরশাদের নয় বছরের শাসনামলের তুমুল সমালোচনার পাশাপাশি তিনি বা তার দল সরকার গঠন করলে কী কী করবেন তার কিছু সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার করেছিলেন।

মিসেস জিয়া তার ভাষণের একাংশে আওয়ামী লীগ সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেছিলেন, “সেই দুঃস্বপ্নের দিনগুলো মানুষ ভুলতে পারে না। এই অত্যাচার, অবিচার, অপশাসনের পটভূমিতেই জাতীয়তাবাদী দলের উত্থান”।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, শেখ হাসিনার চেয়ে খালেদা জিয়ার ভাষণের টোন বা কথা বলার ভঙ্গীতে ভোটের একটি আকুতি প্রকাশ পেয়েছিল, যা তখন অনেক ভোটারকে প্রভাবিত করতে পেরেছিল বলে তারা মনে করেন।

আওয়ামী লীগের প্রতিক্রিয়া, সরকার গঠন

নির্বাচনের রাতে যখন বিএনপির জয় অনেকটাই নিশ্চিত, তখন আওয়ামী লীগসহ অনেকের মধ্যেই ছিল বিস্ময়।

শেখ হাসিনা পরে নির্বাচনের পরাজয়ের জন্য সূক্ষ্ম কারচুপির অভিযোগ করেছিলেন, যা অনেকদিন রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা কুড়িয়েছে।

“ভোটাররা আমাদের ভোট দিয়েছে, কিন্তু চিহ্নিত অগণতান্ত্রিক শক্তি সূক্ষ্ম কারচুপি, কালো টাকা, সন্ত্রাস এবং এক অদৃশ্য শক্তির সাথে ষড়যন্ত্র করে ভোটের রায়ের ফল পাওয়া থেকে ভোটারদের বঞ্চিত করেছে,” শেখ হাসিনা বলেছিলেন।

নির্বাচনে পরাজয়ের কারণে দলীয় প্রধানের পদ থেকে সরে যাওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তিনি, যদিও তার দলের নেতাকর্মীদের চাপেই আবার পদত্যাগ থেকে বিরত থাকেন।

কিন্তু আওয়ামী লীগের বিপর্যয় নিয়ে তখন দলটির নেতা ড. কামাল হোসেন দলের কার্যনির্বাহী কমিটিতে একটি চিঠি দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, “অতি আত্মবিশ্বাস, আত্মম্ভরিতা এবং কর্মবিমুখতার কারণেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয় হয়েছে”।

“২৭শে ফেব্রুয়ারির অনেক আগেই আমরা আমাদের বিজয় সম্পর্কে অতিমাত্রায় বিশ্বাসী হইয়া উঠি। নির্বাচনকে আমরা আনুষ্ঠানিকতা ও সময়ের ব্যাপার হিসেবে ধরিয়া নেই। আমাদের নেতাকর্মীরা নিশ্চিত বিজয়ের আগাম পর্বে মাতোয়ারা হইয়া উঠে,” মি. হোসেন তার চিঠিতে লিখেছিলেন।

ওদিকে নির্বাচনের পর ১৯ মার্চ তখনকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমদ বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন। একই সঙ্গে ১০ জন মন্ত্রী ও ২১ জন প্রতিমন্ত্রীর সমন্বয়ে মন্ত্রিপরিষদও গঠন করা হয়। ২০শে মার্চ খালেদা জিয়া শপথ গ্রহণ করেন।

এরপর দৈনিক সংবাদ ২২শে মার্চ সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করে, “…স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গত ডিসেম্বরে গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়ে ঐক্যবদ্ধ বিরোধীদলগুলো অবাধ নির্বাচনের পথ খুলে দিয়েছে। তারই পরিণতিতে এই প্রথমবারের মতো জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন অনুযায়ী গণতান্ত্রিক বিধিমতে মন্ত্রীপরিষদ গঠিত হয়েছে। গণতন্ত্রের পথে উত্তরণে দেশ আরও এক ধাপ অগ্রসর হয়েছে”।

বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলছেন যে, “মূলত খালেদা জিয়ার ক্যারিশমা আর শেখ হাসিনার দুর্বিনীত উক্তির কারণেই বিশাল সংখ্যা সুইং ভোটারদের ভোট বিএনপি পেয়েছে, যা আওয়ামী লীগের পরাজয় নিশ্চিত করেছে। আর ওই নির্বাচনের মাধ্যমেই বাংলাদেশে দ্বিদলীয় রাজনীতির সূচনা হয়েছিল, যা আগে ছিল না”।

প্রসঙ্গত, এই নির্বাচনের আগে সবগুলো জাতীয় নির্বাচনই ক্ষমতাসীন দল সরকারে থেকে নির্বাচন করেছে। প্রতিটি নির্বাচনেই ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ উঠেছিলো।

“স্বাধীন বাংলাদেশের চারটি নির্বাচন হয়েছিলো। ওই নির্বাচনগুলোর বৈশিষ্ট্যই ছিল যে সবসময় ক্ষমতাসীন দল জয়ী হয়েছে। ক্ষমতায় বসে দল বানিয়ে তারা জিতেছিল। ৯১ সালে নতুন অভিজ্ঞতা হলো- ক্ষমতায় ছিল নির্দলীয় সরকার,” বলছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু।

তিনি বলেন, ১৯৮১ সালে জেনারেল জিয়া হত্যাকাণ্ড হলো এবং এরপর খালেদা জিয়ার ভূমিকা বিএনপির জয়ে ভূমিকা রেখেছে।

“সেই তুলনায় আওয়ামী লীগের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন ছিল জনমনে। তারা এরশাদের অধীনে নির্বাচন করেছিলো। ফলে সবাই আওয়ামী লীগকে জয়ী ভাবলেও জনমনে ভিন্ন চিন্তাই বিস্তৃত হয়েছিল তখন, যার বহিঃপ্রকাশ হয়েছে নির্বাচনের ফলে,” বলছিলেন তিনি।

তথ্য সূত্র : বিবিসি বাংলা

১৫ বছর পর আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনূরের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৯:৪৪ পিএম
১৫ বছর পর আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনূরের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার

সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনূর মিয়ার বিরুদ্ধে দেওয়া বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করেছে সরকার। এ বিষয়ে সোমবার (৯ মার্চ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-১ শাখা থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক উপকমিশনার (পশ্চিম) কোহিনূর মিয়ার বরখাস্তকালকে চাকরিকাল হিসেবে গণ্য করা হবে। পাশাপাশি তিনি বিধি অনুযায়ী সব ধরনের বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্য সুবিধা পাবেন। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কোহিনূর মিয়ার বিরুদ্ধে দুটি বিভাগীয় মামলা হয়েছিল। এ কারণে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণের গুরুদণ্ডও দেওয়া হয়। পরে তিনি ফৌজদারী মামলা দুটির অভিযোগ থেকে আদালতের মাধ্যমে নির্দোষ প্রমাণ হয়ে খালাস পান।

এছাড়া তার গুরুদণ্ডাদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন রাষ্ট্রপতি মঞ্জুর করায় আরোপিত চাকরি থেকে বরখাস্তের আদেশটি বাতিল করা হয়। তাই কোহিনূর মিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলায় ২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করা হলো। একই সঙ্গে তার বরখাস্তকালকে চাকরিকাল হিসেবে গণ্য করা হলো এবং তিনি বিধি মোতাবেক সব ধরনের বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্য সুবিধা পাবেন। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

 

 

বয়স ৮৭, তবু থামেননি—পুকুরপাড়ে বসেই চলছে অকিল শীলের সেলুন

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর ও লাবলু মিয়া, সালথা:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৮:৫৯ পিএম
বয়স ৮৭, তবু থামেননি—পুকুরপাড়ে বসেই চলছে অকিল শীলের সেলুন

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মাঝারদিয়া বাজারের পুকুরপাড়ে একটি ছোট কাঠের পিঁড়ি। নেই কোনো ঘর, নেই আধুনিক সেলুনের ঝাঁ চকচকে সাজসজ্জা। তবু এই পুকুরপাড়েই প্রতিদিনের মতো বসে মানুষের চুল-দাড়ি কাটেন ৮৭ বছর বয়সী অকিল শীল। হাতে পুরোনো কাঁচি আর ক্ষুর—এই সামান্য সরঞ্জাম নিয়েই তিনি টানা ৬৬ বছর ধরে মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন।

আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামেও এখন গড়ে উঠেছে অসংখ্য সেলুন। উন্নত চেয়ার, আয়না, বৈদ্যুতিক ট্রিমার আর সাজানো দোকান—সবই আছে সেখানে। কিন্তু মাঝারদিয়া বাজারের এই পুকুরপাড়ে বসা বৃদ্ধ নাপিতের কাছে এখনও ভিড় করেন অনেকেই। কারণ তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু বছরের স্মৃতি, বিশ্বাস আর গ্রামীণ জীবনের এক সরল অধ্যায়।

শৈশবেই পেশায় যুক্ত:

অকিল শীলের বাড়ি পাশের নগরকান্দা উপজেলার সদর গ্রামের চৌমুখা এলাকায়। তাঁর পিতা হরিবদন শীল ছিলেন পেশায় নাপিত। ছোটবেলা থেকেই বাবার পাশে বসে তিনি এই কাজ শেখেন। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না। তাই কৈশোরেই জীবিকার তাগিদে পেশাটিকে বেছে নিতে হয় তাকে।

প্রথমদিকে বাবার সঙ্গে বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে মানুষের চুল-দাড়ি কাটতেন তিনি। পরে ধীরে ধীরে নিজেই কাজ শুরু করেন। প্রায় ৬৬ বছর আগে মাঝারদিয়া বাজারের পুকুরপাড়ে বসেই তিনি নিজের কর্মজীবনের যাত্রা শুরু করেন। সেই শুরু থেকে আজও একই জায়গায় বসেই কাজ করে যাচ্ছেন অকিল শীল।

হাটের দিনেই জমে ওঠে সেলুন:

মাঝারদিয়া বাজারে সপ্তাহে দুই দিন হাট বসে। সাধারণত হাটের দিন সকাল থেকেই পুকুরপাড়ে চলে আসেন অকিল শীল। সঙ্গে থাকে একটি ছোট কাঠের পিঁড়ি, পুরোনো কাঁচি, ক্ষুর আর কয়েকটি প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম।

পুকুরপাড়ে পিঁড়ি পেতে বসেই শুরু হয় তাঁর দিনের কাজ। গ্রামের মানুষজন একে একে এসে বসেন তাঁর সামনে। কেউ দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন, কেউ আবার সিরিয়াল ধরে বসে থাকেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বয়সের ভারে শরীর কিছুটা নুয়ে পড়লেও কাজের প্রতি তাঁর আগ্রহে কোনো ঘাটতি নেই। মনোযোগ দিয়ে ধীরে ধীরে কাঁচি চালিয়ে চুল কাটছেন তিনি। মাঝে মাঝে ক্ষুর দিয়ে দাড়িও ছেঁটে দেন।

এই পুকুরপাড়ের ছোট্ট জায়গাটিই যেন তাঁর সেলুন, আবার কর্মজীবনের স্মৃতিবহ স্থান।

গ্রাহকদের কাছে প্রিয় ‘অকিল দা’:

স্থানীয় অনেকেই এখনও আধুনিক সেলুন ছেড়ে অকিল শীলের কাছেই চুল কাটতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কারণ তাঁদের শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই বৃদ্ধ নাপিতের সঙ্গে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী মাতুব্বর বলেন, “আমি সেলুনে চুল কাটাই না। ছোটবেলা থেকে অকিল দার কাছেই চুল কাটাই। এখন বয়স হয়েছে, তবু তাঁর হাতের কাঁচির ওপর ভরসা আছে।”

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম বলেন, “ওনার কাছে ধনী-গরিব সবাই চুল কাটান। কেউ তাকে অবহেলা করে না। বরং অনেকেই গল্প করতে করতে চুল কাটান। ওনার কাছে চুল কাটাতে অন্যরকম একটা আনন্দ আছে।”

স্থানীয়দের ভাষ্য, অকিল শীল শুধু একজন নাপিত নন, তিনি যেন বাজারের একটি জীবন্ত ইতিহাস।

সামান্য আয়েই চলে সংসার:

অকিল শীল জানান, বর্তমানে তিনি প্রতি জনের চুল কাটার জন্য ৫০ টাকা নেন। হাটের দিনে তাঁর কাছে গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন গ্রাহক আসেন। সেই হিসেবে প্রতিদিন খুব বেশি আয় হয় না।

তবুও এই সামান্য আয়ের ওপরই ভর করে তিনি নিজের সংসার চালানোর চেষ্টা করেন।

তিনি বলেন, “ছোটবেলা থেকেই এই কাজ করছি। তখন বাজারে কোনো সেলুন ছিল না। পুকুরপাড়ে বসেই মানুষের চুল কেটে সংসার চালিয়েছি। এখন অনেক সেলুন হয়েছে, তবুও পুরোনো গ্রাহকেরা আসে।”

বয়সের কারণে কাজ করা কঠিন হলেও তিনি এখনো থামতে চান না।

অকিল শীল বলেন, “বয়স তো অনেক হয়েছে। শরীরও আগের মতো শক্তি পায় না। কিন্তু কাজ না করলে মন ভালো লাগে না। তাই যতদিন পারি কাজ করেই যেতে চাই।”

পরিবারের কেউ নেননি পেশা:

অকিল শীলের পাঁচ ছেলে-মেয়ে রয়েছে। তবে তাঁদের কেউই বাবার পেশাকে অনুসরণ করেননি। সবাই ভিন্ন ভিন্ন পেশায় যুক্ত হয়েছেন।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি কখনো জোর করিনি। তারা যার যার মতো কাজ করছে। আমি আমার কাজ নিয়েই খুশি।”

তবে তাঁর জীবনের এই দীর্ঘ কর্মযাত্রা এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে।

গ্রামীণ ঐতিহ্যের এক প্রতীক:

স্থানীয়দের মতে, মাঝারদিয়া বাজারের পুকুরপাড় মানেই অকিল শীল। বহু বছর ধরে তিনি এই জায়গাটিকে নিজের কর্মস্থল হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

একসময় গ্রামে এভাবেই খোলা আকাশের নিচে বসে নাপিতেরা মানুষের চুল-দাড়ি কাটতেন। আধুনিকতার ঢেউয়ে সেই দৃশ্য প্রায় হারিয়ে গেছে। কিন্তু মাঝারদিয়া বাজারে এখনও সেই পুরোনো দিনের স্মৃতি ধরে রেখেছেন অকিল শীল।

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা ছোটবেলা থেকেই দেখছি উনি এখানে বসে চুল কাটছেন। বাজারের অনেক পরিবর্তন হয়েছে, দোকানপাট বেড়েছে, কিন্তু উনার জায়গা বদলায়নি।”

কাঁচির টুংটাং শব্দে লেখা জীবনের গল্প:

পুকুরপাড়ে বসে কাঁচির টুংটাং শব্দ তুলতে তুলতে যেন নিজের জীবনের গল্পই লিখে চলেছেন অকিল শীল।

গ্রামীণ জীবনের সরলতা, পরিশ্রম আর আত্মমর্যাদার এক অনন্য উদাহরণ তিনি। বয়সের ভার, আধুনিকতার চাপ—কিছুই তাকে থামাতে পারেনি।

হাটের দিনগুলোতে এখনো মাঝারদিয়া বাজারের পুকুরপাড়ে দেখা যায় সেই পরিচিত দৃশ্য—একটি ছোট পিঁড়ি, হাতে কাঁচি ও ক্ষুর, আর সামনে বসা গ্রাহক।

সময়ের স্রোতে অনেক কিছু বদলে গেলেও, অকিল শীল যেন এখনো ধরে রেখেছেন সেই পুরোনো দিনের গল্প। তাঁর কাঁচির টুংটাং শব্দেই যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে গ্রামীণ বাংলার এক হারিয়ে যাওয়া অধ্যায়।

ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

সোহাগ মাতুব্বর, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:২৫ পিএম
ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়ে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় ভাঙ্গা উপজেলার হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে হাসপাতালের চেয়ারম্যান সহিদুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মানবসেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। দক্ষ ও মানবিক মনোভাবসম্পন্ন সেবাকর্মী তৈরি করতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের চর্চাও প্রয়োজন। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ভবিষ্যতে মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করার আহ্বান জানান।

ইফতার মাহফিলে হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের বিভিন্ন ট্রেডের প্রশিক্ষক, প্রশিক্ষণার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। ইফতারের আগে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রমজানের তাৎপর্য, সংযম ও মানবিকতার শিক্ষা নিয়ে বক্তব্য রাখেন উপস্থিত অতিথিরা।

পরে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং হাসপাতালের সার্বিক উন্নতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের কল্যাণ এবং সকলের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, এ ধরনের আয়োজন তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। একই সঙ্গে রমজানের পবিত্রতা ও সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে নতুন করে অনুপ্রাণিত হতে সহায়তা করে।

সর্বশেষে উপস্থিত সবাই একসঙ্গে ইফতার গ্রহণ করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও প্রশিক্ষণার্থীদের অংশগ্রহণে এ ধরনের সামাজিক ও ধর্মীয় আয়োজন অব্যাহত থাকবে।