খুঁজুন
, ,

সালথায় বিকল্প পথ ছাড়াই চলছে ব্রিজ নির্মাণ, ভোগান্তিতে কয়েক হাজার মানুষ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৫:০১ অপরাহ্ণ
সালথায় বিকল্প পথ ছাড়াই চলছে ব্রিজ নির্মাণ, ভোগান্তিতে কয়েক হাজার মানুষ

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে নির্মাণাধীন দুটি ব্রিজকে কেন্দ্র করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। উপজেলার বালিয়াগট্টি বাজার ও সালথা বাজার এলাকায় চলমান ব্রিজ নির্মাণকাজের কারণে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজারো যাত্রী, পরিবহন চালক ও ব্যবসায়ীদের। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থা ছাড়াই কাজ শুরু করায় জনদুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

ফরিদপুর-সালথা সড়কটি জেলার অন্যতম ব্যস্ত সড়ক হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন এ পথ ব্যবহার করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যাতায়াত করেন। কিন্তু ব্রিজ নির্মাণের কারণে সরাসরি যান চলাচল বন্ধ থাকায় এখন যাত্রীদের চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প ও সংকীর্ণ সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে একদিকে সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়াও।

সালথা বাজারের ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম মারুফ বলেন, “আগে কয়েক মিনিটে বাজারে আসা যেত, এখন ঘুরে আসতে অনেক সময় লাগে। পরিবহন খরচও বেড়ে গেছে। এতে ব্যবসায় বড় ক্ষতি হচ্ছে।”

স্থানীয় কলেজছাত্রী সুমাইয়া আক্তার জানান, প্রতিদিন কলেজে যেতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “সকালে সময়মতো বের হলেও যানজটের কারণে ক্লাসে পৌঁছাতে দেরি হয়। বৃষ্টির দিনে কাঁচা বিকল্প রাস্তা দিয়ে চলাচল আরও কষ্টকর হয়ে পড়ে।”

এদিকে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বাস ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালকরা। সরু বিকল্প রাস্তায় বড় যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছে ট্রাক ও বাস। স্থানীয়দের অভিযোগ, জরুরি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সও বিকল্প সড়কের কারণে দ্রুত চলাচল করতে পারছে না।

পণ্যবাহী ট্রাকচালক আব্দুল কাদের বলেন, “রাস্তা সরু হওয়ায় গাড়ি ঘোরাতে সমস্যা হয়। একটু বৃষ্টি হলেই কাদায় আটকে যেতে হয়। এতে সময় নষ্টের পাশাপাশি অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ হচ্ছে।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, উন্নয়ন কাজ অবশ্যই প্রয়োজন। তবে জনদুর্ভোগ কমাতে আগে বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা উচিত ছিল। তারা দ্রুত সাময়িক চলাচলের উপযোগী রাস্তা নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, “নির্মাণাধীন ব্রিজের আশপাশে বিকল্প রাস্তার জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা পাওয়া যায়নি। স্থানীয়ভাবে কেউ জায়গা দিলে দ্রুত বিকল্প পথের ব্যবস্থা করা হবে।”

স্মার্টফোনে বারবার বিজ্ঞাপনের বিরক্তি, এক সেটিংসেই মিলবে সমাধান

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৮:০০ পূর্বাহ্ণ
স্মার্টফোনে বারবার বিজ্ঞাপনের বিরক্তি, এক সেটিংসেই মিলবে সমাধান

স্মার্টফোনে অ্যাপ ব্যবহার বা ওয়েবসাইট ব্রাউজ করার সময় হঠাৎ ফুল-স্ক্রিন বিজ্ঞাপন, ভিডিও অ্যাড বা একের পর এক পপ-আপ অনেকের জন্যই বিরক্তির কারণ। শুধু ব্যবহারেই বিঘ্ন ঘটে না, এসব বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফিশিং বা ভুয়া ওয়েবসাইটে প্রবেশের ঝুঁকিও থাকে।

তবে অ্যান্ড্রয়েড ৯ (পাই) বা এর পরের সংস্করণ ব্যবহারকারীরা অতিরিক্ত কোনো অ্যাপ ইনস্টল না করেই একটি সেটিংস পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেক বিজ্ঞাপন বন্ধ করতে পারেন। এর জন্য ব্যবহার করতে হবে প্রাইভেট ডিএনএস সুবিধা।

প্রাইভেট ডিএনএস ফোনের ইন্টারনেট সংযোগকে নির্দিষ্ট ডিএনএস সার্ভারের মাধ্যমে পরিচালনা করে। যদি অ্যাডগার্ড ডিএনএস এর মতো বিজ্ঞাপন-ফিল্টারিং ডিএনএস ব্যবহার করা হয়, তাহলে পরিচিত বিজ্ঞাপন, ট্র্যাকিং এবং কিছু ক্ষতিকর ডোমেইন আগেই ব্লক হয়ে যায়। ফলে অনেক অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন লোডই হয় না।

কীভাবে চালু করবেন

এই সুবিধা চালু করতে প্রথমে ফোনের সেটিংস থেকে নেটওয়ার্ক অ্যান্ড ইন্টারনেট বা কানেকশনস মেনুতে যান। এরপর প্রাইভেট ডিএনএস অপশন নির্বাচন করে প্রাইভেট ডিএনএস প্রোভাইডার হোস্টনেম বেছে নিন। সেখানে ডিএনএস ডট অ্যাডগর্ডস ডট কম (dns.adguard.com) লিখে সেভ করুন। এরপর থেকেই অনেক বিজ্ঞাপন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্লক হতে শুরু করবে।

তবে সব স্মার্টফোনে এই অপশনের অবস্থান এক নয়। অনেক ডিভাইসে এটি মোর কানেকশন, অ্যাডভান্সড সেটিংস, কিংবা ডিএনএস নামে থাকতে পারে। প্রয়োজন হলে সেটিংসের সার্চ বক্সে প্রাইভেট ডিএনএস লিখেও খুঁজে পাওয়া যাবে।

তবে এই পদ্ধতিতে সব ধরনের বিজ্ঞাপন বন্ধ হয় না। যেসব বিজ্ঞাপন সরাসরি অ্যাপের নিজস্ব সার্ভার থেকে আসে, সেগুলো অনেক ক্ষেত্রে দেখা যেতে পারে। তবুও অপ্রয়োজনীয় বিজ্ঞাপন কমানোর পাশাপাশি পরিচিত ট্র্যাকিং, অ্যাডওয়্যার এবং কিছু ফিশিং ও ম্যালওয়্যার-সংশ্লিষ্ট ডোমেইন থেকেও অতিরিক্ত সুরক্ষা পাওয়া যায়। ফলে মাত্র একটি সেটিংস পরিবর্তনেই স্মার্টফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা আরও পরিচ্ছন্ন, দ্রুত ও তুলনামূলক নিরাপদ হতে পারে।

সূত্র : যুগান্তর

সুস্থ দেহ ও প্রশান্ত মনের জন্য ১২টি ইসলামিক অভ্যাস, জেনে নিন এক পলকে

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪৪ পূর্বাহ্ণ
সুস্থ দেহ ও প্রশান্ত মনের জন্য ১২টি ইসলামিক অভ্যাস, জেনে নিন এক পলকে

ব্যস্ত এই নাগরিক জীবনে আমরা প্রতিনিয়ত সময়ের পেছনে ছুটছি। একে একে দৈনন্দিন কাজের তালিকা শেষ করতে গিয়ে দিনের শেষে দেখা যায়, নিজের যত্ন নিতেই আমরা ভুলে গেছি। অন্যের সেবা করা বা দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজের প্রতি এই ক্রমাগত অবহেলা দীর্ঘমেয়াদে আমাদের শরীর ও মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

অথচ প্রতিটি নতুন দিন আমাদের জন্য নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার এবং জীবনকে সুন্দর করার এক অনন্য সুযোগ নিয়ে আসে। ইসলাম আমাদের এমন এক পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান উপহার দিয়েছে, যেখানে কেবল আধ্যাত্মিক ইবাদত নয়, বরং শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার প্রতিও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একটি গাছ যেমন রোদ ও পানি ছাড়া বেড়ে উঠতে পারে না, আমাদের জীবনকেও তেমনি মন, শরীর ও আত্মার যথাযথ যত্নের মাধ্যমে সতেজ রাখতে হয়।

যেকোনো পরিবর্তন শুরুর আগে আমরা প্রায়ই দ্বিধায় ভুগি, ‘কীভাবে শুরু করব’ বা ‘কবে শুরু করব’। এই দ্বিধা কাটাতে প্রতিদিন নিজেকে তিনটি সহজ প্রশ্ন করার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে: আজ আমি আমার মন, শরীর এবং আত্মার জন্য কী করেছি?

জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে এবং সুস্থ থাকার জন্য ১২টি কার্যকরী ইসলামিক অভ্যাসের কথা আজ তুলে ধরা হলো—

মনের সুস্থতায়

১. ডায়েরি বা জার্নাল লেখা: প্রতিদিনের প্রাপ্তি ও প্রতিবন্ধকতাগুলো লিখে রাখুন। বিশেষ করে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের বিষয়গুলো ডায়েরিতে স্থান দিন। মেধা ও জ্ঞানের চর্চা: নতুন কিছু শেখা বা জ্ঞান অন্বেষণ করা একজন মুসলমানের দায়িত্ব। নতুন কোনো ভাষা বা বিষয় শিখে নিজের মেধাকে শাণিত করুন।

২. ভালো সঙ্গ: এমন বন্ধুদের সাথে সময় কাটান যাদের সাহচর্য আপনাকে উপকৃত করে। ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখা উম্মাহর স্বাস্থ্যের জন্যও জরুরি।

শরীরের যত্নে

৩. প্রতিদিন হাঁটাহাঁটি: শরীর সচল রাখতে প্রতিদিন অন্তত ২০-৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটুন। সুস্থ দেহ আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্যের জন্যও সহায়ক।

৪. হালকা ব্যায়াম বা স্ট্রেচিং: সকালে ঘুম থেকে উঠে বা রাতে ঘুমানোর আগে শরীর স্ট্রেচিং বা হালকা ব্যায়াম করে নিন, এতে জড়তা কাটবে ও সতেজ অনুভব করবেন।

৫. সময়মতো ঘুম: শরীর ঠিক রাখতে পর্যাপ্ত ঘুমের বিকল্প নেই। দ্রুত ঘুমানোর অভ্যাস আপনাকে ফজর সালাত সময়মতো পড়তে সাহায্য করবে।

৬. সচেতন খাদ্যাভ্যাস: আপনি প্রতিদিন কী খাচ্ছেন সেদিকে নজর দিন। খাদ্যতালিকায় নিয়মিত ফলমূল ও শাকসবজি রাখুন, যা আপনার শরীরকে প্রাণবন্ত রাখবে।

৭. পর্যাপ্ত পানি পান: পানিশূন্যতা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তাই সারাদিন নিয়ম করে পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

আত্মার প্রশান্তিতে

৮. সময়মতো সালাত: সালাতের সময় হলে অন্য সব কাজ সরিয়ে রাখুন। শয়তানের প্ররোচনায় সালাতে দেরি করা উচিত নয়, কারণ সালাতেই নিহিত রয়েছে প্রকৃত সাফল্য।

৯. কোরআনের সাথে সময় কাটানো: প্রতিদিন কুরআনের একটি অংশ পড়ার জন্য সময় বরাদ্দ করুন। আল্লাহর কালাম হৃদয়ে প্রশান্তি বয়ে আনে।

১০. আল্লাহর জিকির: জিহ্বাকে সর্বদা আল্লাহর জিকিরে সিক্ত রাখুন। জিকির পরকালের পাল্লাকে ভারী করবে।

১১. তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর ওপর ভরসা: যেকোনো পরিস্থিতিতে সবার আগে আল্লাহর ওপর ভরসা করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

১২. বিশেষ দোয়া

অলসতা ও বার্ধক্যজনিত অক্ষমতা থেকে বাঁচতে মহানবী (সা.) এই দোয়াটি পাঠ করতেন, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল কাসালি ওয়াল হারামি।’

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি অলসতা, অতি বার্ধক্য, গোনাহ এবং ঋণ থেকে।

প্রতিটি দিন আমাদের জন্য নতুন সুযোগ। এই অভ্যাসগুলো অনুশীলনের মাধ্যমে আমরা গতকালের চেয়ে একটি সুন্দর ও সুস্থ আগামী গড়ে তুলতে পারি।

দ্য মুসলিম ভাইব অবলম্বনে

‘জীবনের অর্থাবলি’

মোহাম্মদ নূরুল্লাহ্
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩০ পূর্বাহ্ণ
‘জীবনের অর্থাবলি’

জীবনের অর্থ যদি কেবল অর্থই হয়,
তবে অর্থের পেছনে ঝাঁপিয়ে পড়ো
আমার আপত্তি নেই।
তবে, জীবনের অর্থ যদি কেবল অর্থ না হয়, তাহলে জ্ঞানের সন্ধানে থাকো।
জ্ঞানীগুণীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করো।
প্রশান্তি পাবে মনে;
বিশ্বাস না হলে —
একবার পরীক্ষা করে দেখো।

জীবনকে যদি সার্থক করতে চাও —
দু’কলম লিখো, বপন করো শব্দাবলি,
রোপন করো সাহিত্যের কানাকড়ি।

জীবনে যদি সফল হতে চাও
ভালোবাসার ডালি নিয়ে বসো;
মানুষকে ভালোবাসো, প্রাণিকুলকে মমতার বন্ধনে আবদ্ধ করো।

জীবনকে যদি কল্যাণকামী করতে চাও
প্রভুর ধ্যানে নিমগ্ন হও।
নিজেকে চেনো, প্রভুকে জানো,
প্রভুর দেয়া প্রকৃতির মাঝে শতকোটি নেয়ামত নিয়ে একটু হলেও ভাবো, চিন্তা করো।
তবেই তুমি খুঁজে পাবে জীবনের অর্থাবলি।

লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ফরিদপুর।