খুঁজুন
, ,

সালথায় নছিমন-ইজিবাইক সংঘর্ষে প্রাণ গেল চালকের

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৮:৫২ পূর্বাহ্ণ
সালথায় নছিমন-ইজিবাইক সংঘর্ষে প্রাণ গেল চালকের

ফরিদপুরের সালথায় গাছ বোঝাই একটি নছিমনের সঙ্গে ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে জুলহাস মাতুব্বর (২৮) নামে এক চালক নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের শৈলডুবি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত জুলহাস মাতুব্বর উপজেলার নিধিপট্টি গ্রামের ওহিদ মাতুব্বরের ছেলে। তিনি দুর্ঘটনা কবলিত নছিমন চালক ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

স্থানীয়রা জানান, শৈলডুবি এলাকায় গাছ বোঝাই একটি লাইসেন্সবিহীন নছিমনের সঙ্গে একটি ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ইজিবাইক চালক জুলহাস গুরুতর আহত হন। পরে গুরুতর আহত জুলহাসকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এব্যাপারে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পরিচিত কেউ টাকা ধার চাচ্ছে? সম্পর্ক ঠিক রেখে ‘না’ বলার সহজ উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ
পরিচিত কেউ টাকা ধার চাচ্ছে? সম্পর্ক ঠিক রেখে ‘না’ বলার সহজ উপায়

মাসের শেষ দিকে এসে হাতের সঞ্চয় ফুরিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। তখন কেউ কেউ নির্দ্বিধায় বন্ধু-বান্ধব বা পরিবারের কাছ থেকে টাকা ধার নেন।

আবার অনেকেই ধার নিতে নিতে অভ্যাসে পরিণত করেন, কারও কাছে বিষয়টি লজ্জারও। উল্টো দিকে, পরিচিত কেউ বারবার টাকা চাইলে নিজের সামর্থ্যের কথা না ভেবেই অনেকেই ‘না’ বলতে না পেরে ধার দিয়ে বসেন। কিন্তু এই ছোট্ট ‘না’ বলতে না পারার অভ্যাসই কখনও কখনও বড় আর্থিক ও সম্পর্কের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আর্থিক সেবা সংস্থা Bankrate-এর ২০২৪ সালের ‘আর্থিক ট্যাবু’ জরিপে দেখা গেছে, প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষ এমন ভেবে টাকা ধার দিয়েছেন যে, পরে তা ফেরত পাবেন। কিন্তু বাস্তবে সেই টাকা আর ফিরে আসেনি। এর ফলে সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

অনেকেই আগে থেকেই ধরে নেন, ধার দিলে টাকা আর ফেরত পাওয়া যাবে না। তাই নিজের আর্থিক অবস্থার কথা ভেবে এ বিষয়ে সচেতন হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। না হলে নিজেই আর্থিক সংকটে পড়তে পারেন, এমনকি প্রয়োজনের সময় নিজের জন্য টাকা না-ও থাকতে পারে। এ সমস্যা থেকে বের হওয়ার সহজ উপায়, নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে জানানো।

তাহলে সম্পর্ক ঠিক রেখে ‘না’ বলবেন কীভাবে?

এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন আর্থিক থেরাপি বিশেষজ্ঞ এজা ইভান্স। তার মতে, প্রথমেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, কেউ টাকা চাইলে আপনি আদৌ ধার দিতে পারবেন কি না। যদি না পারেন, তাহলে সরাসরি জানাতে হবে যে আপনি সাহায্য করার অবস্থায় নেই। অন্যকে সাহায্য করতে গিয়ে নিজের আর্থিক অবস্থাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা উচিত নয়।

তবে এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলা সব সময় সহজ নয়। কারণ, ঘনিষ্ঠ মানুষরা আপনার জীবনযাপন সম্পর্কে অনেক কিছুই জানেন, কোথায় খরচ করছেন, কী কিনছেন ইত্যাদি। সেসব দেখে তারা আপনার আর্থিক অবস্থা নিয়ে ধারণা করে নিতে পারেন।

তাই নিজেকে মনে করিয়ে দিন, আপনার খরচের হিসাব আপনার চেয়ে ভালো কেউ জানে না। শুধু ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা আছে বলেই যে তা ধার দেওয়া সম্ভব, এমন নয়।

কেউ টাকা চাইলে সরাসরি ‘না’ বলা কঠিন হলে ছোট থেকে শুরু করতে পারেন। যেমন, কেউ যদি ৫ হাজার টাকা চান, কিন্তু তা দিলে আপনার বাজেটে চাপ পড়ে, তাহলে ৫০০ বা ১০০০ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিতে পারেন। অর্থাৎ নিজের সামর্থ্যের মধ্যে থেকে সহায়তা করুন। প্রয়োজনে নিজের বর্তমান আর্থিক অবস্থাও খোলাখুলি জানাতে পারেন, এতে উভয়ের জন্যই বিষয়টি সহজ হয়।

এভাবে আপনি হয়তো পুরো চাহিদা পূরণ করতে পারবেন না, কিন্তু নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়াতে পারবেন।

অন্যদিকে, কাউকে ‘না’ বলার পর অপরাধবোধ হওয়াটা খুব স্বাভাবিক। মনে হতে পারে, সে কী ভাবল, সম্পর্ক খারাপ হলো কি না। তবে নিজের বাস্তবতা মনে রাখুন। কারণ, ভবিষ্যতে আর্থিক সংকটে পড়লে সেই চাপ আপনাকেই নিতে হবে।

ধরা যাক, আপনি ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করতে চান, বেতনের একটি অংশ নিয়মিত জমাতে চান। এমন লক্ষ্য থাকলে সেটি লিখে রাখুন। এতে কাউকে ‘না’ বলার পর অপরাধবোধ কিছুটা কমবে। নিজেকে বারবার মনে করিয়ে দিন, আপনি কী অর্জন করতে চান এবং কেন।

প্রয়োজনে মানসিক চাপ কমাতে পছন্দের কাজেও সময় দিতে পারেন। এতে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ে এবং সিদ্ধান্তে স্থির থাকা সহজ হয়।

সবশেষে, নিজের আর্থিক সীমা নির্ধারণ করা এবং তা মেনে চলা শুরুতে কঠিন মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল পাওয়া যায়। এতে আপনি যেমন নিজের আর্থিক লক্ষ্য পূরণ করতে পারবেন, তেমনি সম্পর্কও অপ্রয়োজনীয় চাপ থেকে রক্ষা পাবে।

তথ্যসূত্র : সিএনবিসি

ভাঙ্গায় দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে গুলিতে প্রাণ গেল যুবকের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
ভাঙ্গায় দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে গুলিতে প্রাণ গেল যুবকের

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় একটি স্কুলে যাতায়াতকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে সুমন শেখ (২৩) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার পূর্ব হাসামদিয়া ও কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নিহত সুমন শেখ কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মিলন শেখের ছেলে। তিনি একটি রেস্টুরেন্টে কর্মরত ছিলেন। রাত ১১টার দিকে তার মৃত্যুর বিষয়টি ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে নিশ্চিত করেন নিহতের বড় ভাই জিহাদ শেখ।

স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি স্কুলে যাতায়াতের পথ নিয়ে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে সুমনকে লক্ষ্য করে শর্টগান থেকে গুলি ছোড়া হলে একটি গুলি তার গলায় বিদ্ধ হয়।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মারা যান।

সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের পরিচয় জানা যায়নি।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, “দুই গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। নিহতের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ফরিদপুরের ২২ সাংস্কৃতিক সংগঠনকে ১২ লক্ষাধিক টাকার অনুদান দিল সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৯:৩১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের ২২ সাংস্কৃতিক সংগঠনকে ১২ লক্ষাধিক টাকার অনুদান দিল সরকার

ফরিদপুরের বিভিন্ন সংস্কৃতি সংগঠন, শিল্পী ও সংস্কৃতি সেবীদের আর্থিক অনুদান দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের এই অনুদানের পাশাপাশি সরকারি চাকরিরত অবস্থায় নিহত পরিবারের সদস্যদেরকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে।

ফরিদপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ২২ টি সংগঠনকে দুটি ক্যাটাগরিতে ১২ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা অনুদানের চেক তুলে দেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাজহারুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় মিলনায়তনে এক সভায় অনুদানের চেকগুলে তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম বলেন, আজ শিল্প ও সংস্কৃতিতে পুরো সমাজ অনেক পিছিয়ে পড়ছে। যে সমাজে সাহিত্য সংস্কৃতির চর্চা নেই সে সমাজ মৃতসমাজ। আর এর মূল কারণ আমাদের ভোগ বিলাসিতার দিকে অধিক মনোযোগ দেয়া। আমাদের সন্তানদেরকে এখান থেকে ফেরাতে হবে। বেশি বেশি সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চা করতে হবে, তাহলে একটি মননশীল নৈতিকতা সম্পন্ন, উন্নত সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে উঠবে। সেই সমাজে কিশোর গ্যাং থাকবে না, মাদকাসক্তি ও যৌন হয়রানি থেকে সে সমাজ আমাদের রক্ষা করবে।

জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে ওই অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সোহরাব হোসেন, জেলা কালচারাল অফিসার সুজিত কুমার সাহা, ফরিদপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক হাসানউজ্জামান, শিশু সংগঠন ফুলকি’র সভাপতি অঞ্জলি বালা, বাউল শিল্পী আজমল হোসেন, খেয়ালী নাট্য সম্প্রদায়ের আলম খান, ফরিদপুর টাউন থিয়েটারের পলাশ খান, বাংলা থিয়েটারের আনিসুর রহমান, ফরিদপুর আবৃত্তি সংসদের জাহিদুল ইসলাম সহ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক এবং শিল্পাঙ্গনে নেতৃবৃন্দ।