খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

চিকিৎসক সংকটে অচল সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বন্ধ জরুরি ও ইনডোর সেবা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:০৪ পিএম
চিকিৎসক সংকটে অচল সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বন্ধ জরুরি ও ইনডোর সেবা

ফরিদপুরের সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চরম চিকিৎসক সংকটের কারণে কার্যত ভেঙে পড়েছে স্বাস্থ্যসেবা। উপজেলার বালিয়াগট্টি বাজারসংলগ্ন এই সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানটিতে ৯টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৩ জন চিকিৎসক। ফলে আউটডোর কোনোভাবে চালু রাখা হলেও বন্ধ রয়েছে জরুরি বিভাগ ও ইনডোর সেবা। এতে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসা শতাধিক রোগী সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসকের পাশাপাশি এখানে দীর্ঘদিন ধরে নেই কোনো টেকনিশিয়ান ও নিরাপত্তা প্রহরী। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও টেকনিশিয়ানের অভাবে রোগীদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো সম্ভব হচ্ছে না। ব্যবহার না হওয়ায় যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

চিকিৎসা নিতে এসে ভোগান্তির শিকার খোয়াড় গ্রামের সানোয়ারা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “হাসপাতালটি চালু হওয়ার পর প্রথম দিকে জরুরি বিভাগ চালু থাকলেও এখন চিকিৎসক সংকট দেখিয়ে সেটি বন্ধ রাখা হয়েছে। সোমবার দুপুরে জরুরি বিভাগে এসে দেখি তালা ঝুলছে, কোনো চিকিৎসক নেই। অথচ বিকেল হলেই ওই চিকিৎসকদের অনেককে বাইরে প্রাইভেট চেম্বারে টাকা নিয়ে রোগী দেখতে দেখা যায়।”

একই অভিযোগ করেন সালথার আটঘর ইউনিয়নের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আমার বৃদ্ধ বাবাকে হঠাৎ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিয়ে আসি। জরুরি বিভাগ বন্ধ থাকায় চিকিৎসা না পেয়ে বাধ্য হয়ে ফরিদপুর শহরে নিতে হয়েছে। এতে সময় ও অতিরিক্ত খরচ—দুটোই বেড়েছে।”

আরেক ভুক্তভোগী সুজন মাতুব্বর বলেন, “ডাক্তারের অভাবে হাসপাতালে ভর্তি করানো যায় না। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্যও বাইরে যেতে হয়। তাহলে এই হাসপাতাল রেখে লাভ কী?”

সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শাহিনুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “আমাদের এখানে ৯ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে মাত্র ৩ জন রয়েছেন। এই স্বল্প জনবল দিয়ে জরুরি ও ইনডোর সেবা চালু রাখা সম্ভব নয়। পাশাপাশি নেই সিকিউরিটি গার্ড ও টেকনিশিয়ান। তাই পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি থাকলেও জরুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো যাচ্ছে না।”

তিনি আরও জানান, চিকিৎসক সংকট ও নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগের বিষয়ে একাধিকবার সিভিল সার্জনের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে, তবে এখনো কার্যকর সমাধান আসেনি।

এ ব্যাপারে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে অতিশ্রীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে এ বিষয়ে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, “আগামী ১ ফেব্রুয়ারি নতুন চিকিৎসকরা যোগদান করবেন। সেখান থেকে ৮ জন চিকিৎসক সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পদায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। চিকিৎসক যোগদান করা মাত্রই জরুরি বিভাগ পুনরায় চালু করা হবে।”

তিনি আরও জানান, সরকারি বরাদ্দ না থাকায় সিকিউরিটি গার্ড আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নেওয়া যায় কি না, সেটিও বিবেচনায় রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিয়ে সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

 

ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৭:১১ এএম
ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

পবিত্র ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দ, ভালোবাসা আর পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধনকে নতুন করে দৃঢ় করার এক মহিমান্বিত উপলক্ষ। এদিন ছোটদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং আপনজনদের সঙ্গে হৃদ্যতার সম্পর্ক আরও গভীর করতে আমাদের সমাজে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়ার একটি সুন্দর প্রচলন রয়েছে।

তবে এই প্রথার ধর্মীয় অবস্থান কী, এটি কি ইবাদত, নাকি কেবল সামাজিক রীতি? শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি বোঝা জরুরি, যেন আমরা আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি ইসলামের সঠিক নির্দেশনাও মেনে চলতে পারি।

রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী বলেন, ইসলামের মূলনীতি হলো, যে কোনো কাজ ততক্ষণ বৈধ, যতক্ষণ না তা শরিয়তের কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে ঈদের দিনে কাউকে খুশি করার উদ্দেশে অর্থ বা উপহার দেওয়া নিঃসন্দেহে বৈধ। বরং হাদিসে উপহার আদান-প্রদানের মাধ্যমে ভালোবাসা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তাই ছোটদের আনন্দ দেওয়া, আত্মীয়তার সম্পর্ক দৃঢ় করা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ানোর নিয়তে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া একটি সুন্দর ও প্রশংসনীয় আমল হতে পারে।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখতে হবে, ঈদ সালামি কোনো ইবাদত নয় এবং এটি ইসলামের নির্ধারিত কোনো বিধানও নয়। এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রথা মাত্র। সুতরাং একে বাধ্যতামূলক মনে করা বা না দিলে দোষারোপ করা ঠিক নয়।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ইউটিউব চ্যানেলে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ইসলামে সালামের পরিভাষা রয়েছে। কোরআনে আছে, ‘তোমাদেরকে কেউ যদি কোনো অভিবাদন জানায় বা সালাম পেশ করে, তাহলে সে যে ভাষায় তোমাকে সালাম দিয়েছে, সে ভাষায় তুমি জবাব দাও। অথবা এর চেয়ে উত্তম শব্দ ব্যবহার করে সালাম দাও।’ হজরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদেরকে সালাম দিতে নির্দেশ করেছেন। মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে পরস্পরের শান্তি কামনা করা হলো সালাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের সালামি পেতে বাচ্চারা বড়দের সালাম দিলে তারা সালামের উত্তর দেবেন। সালামের জবাব দিয়ে তাদের কিছু হাদিয়া দেবেন, এটা আমাদের দেশের সংস্কৃতি। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কোরআন-হাদিসের সঙ্গে এর কোনো সংঘর্ষ নেই। পা ছুঁয়ে সালাম করলে সালামি দিতে হবে, এটা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সে সালাম দিলে জবাব দিয়ে তাকে সালামি দিয়ে দেওয়া উচিত। পা ছুঁয়ে সালাম করতে তাকে বাধ্য করা উচিত নয়।’

সূত্র : কালবেলা

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।