খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

“ভোট চাইবো সেবা দিয়ে, ধর্ম বিক্রি করে নয়” — শামা ওবায়েদ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০১ পিএম
“ভোট চাইবো সেবা দিয়ে, ধর্ম বিক্রি করে নয়” — শামা ওবায়েদ

ফরিদপুর-২ (সালথা–নগরকান্দা) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু বলেছেন, ইসলাম পালন করার জিনিস, বিক্রি করার জিনিস নয়।

রবিবার (০১ ফেব্রুয়ারি) রাতে সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বালিয়া গট্টি গ্রামে এক নির্বাচনী প্রচারণা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা যারা সত্যিকার মুসলমান হতে চাই, তারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি, রোজা রাখি, হজ করি। কিন্তু কে জান্নাতে যাবে আর কে দোজখে যাবে, সেই সিদ্ধান্ত একমাত্র আল্লাহ তায়ালার। আমরা কেউ এ বিষয়ে গ্যারান্টি দিতে পারি না, কেবল দোয়া করতে পারি। যারা এ বিষয়ে নিশ্চয়তা দেয়, তারা নাফরমানির কাজ করে।

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই নির্বাচন নির্ধারণ করবে আগামী দিনের বাংলাদেশ কেমন হবে, নতুন প্রজন্মের জন্য কেমন সালথা উপজেলা গড়ে উঠবে। গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সবাই যেন স্বাধীন, স্বচ্ছ ও নিরাপদ পরিবেশে ভোট দিতে পারে, সে আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, দল-মত গ্রুপিংয়ের ঊর্ধ্বে উঠে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিতে হবে। গ্রামের নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নেতৃত্বের প্রমাণ দিতে হলে প্রতিটি কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ভোট নিশ্চিত করতে হবে। সময় খুব কম, তাই ঘরে ঘরে গিয়ে ধানের শীষের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।

ভোটার আইডি কার্ড বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, ভোটার আইডি কার্ড একজন নাগরিকের ব্যক্তিগত সম্পদ ও গোপন তথ্য। সরকার ছাড়া কেউ এটি চাইতে পারে না। বাড়িতে গিয়ে কেউ যদি ভোটার আইডি কার্ড বা নম্বর চায়, তবে তা বেআইনি। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে সেনাবাহিনী বা পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, আমরা শহীদ জিয়ার সৈনিক, জনগণের পাশে থাকব, তাদের সেবা করব এবং মন দিয়ে ভোট চাইব। আপনাদের একটি ভোট আমাদের অনেক কিছু করার সুযোগ করে দেবে।

স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সালথা ও নগরকান্দায় মানসম্মত হাসপাতাল নেই। বিদ্যমান হাসপাতালকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করে আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্যসেবায় রূপান্তর করতে হবে, যাতে স্বল্প খরচে এলাকার মানুষ চিকিৎসা নিতে পারে।

শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিয়ে তিনি বলেন, এই এলাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করতে হবে এবং যুব সমাজের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।

বিএনপির ৩১ দফা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে প্রতিটি পরিবারকে মায়ের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাওয়া যাবে। কৃষকদের জন্য থাকবে ‘কৃষক কার্ড’, যাতে তারা বঞ্চিত না হন।

সালথা উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খাইরুল বাশার আজাদের সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক ফজলুল হক টুলু মিয়া, সালথা উপজেলার বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ওয়াহিদুজ্জামান, সাবেক গট্টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইনামুল হোসেন তারা মিয়া, খন্দকার রেজাউর রহমান চয়ন মিয়া।

এছাড়া এসময় উপস্থিত ছিলেন- স্থানীয় বিএনপি নেতা জাহিদ মাতুব্বর, রফিকুল ইসলাম, ইব্রাহিম মোল্যা, পাভেল রায়হান, কামরুল হাসান মজনু, সায়েম হোসেন টিটন, সাফিকুল, বিল্লাল মাতুব্বর, শাহিন বেপারী সহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৭:১১ এএম
ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

পবিত্র ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দ, ভালোবাসা আর পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধনকে নতুন করে দৃঢ় করার এক মহিমান্বিত উপলক্ষ। এদিন ছোটদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং আপনজনদের সঙ্গে হৃদ্যতার সম্পর্ক আরও গভীর করতে আমাদের সমাজে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়ার একটি সুন্দর প্রচলন রয়েছে।

তবে এই প্রথার ধর্মীয় অবস্থান কী, এটি কি ইবাদত, নাকি কেবল সামাজিক রীতি? শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি বোঝা জরুরি, যেন আমরা আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি ইসলামের সঠিক নির্দেশনাও মেনে চলতে পারি।

রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী বলেন, ইসলামের মূলনীতি হলো, যে কোনো কাজ ততক্ষণ বৈধ, যতক্ষণ না তা শরিয়তের কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে ঈদের দিনে কাউকে খুশি করার উদ্দেশে অর্থ বা উপহার দেওয়া নিঃসন্দেহে বৈধ। বরং হাদিসে উপহার আদান-প্রদানের মাধ্যমে ভালোবাসা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তাই ছোটদের আনন্দ দেওয়া, আত্মীয়তার সম্পর্ক দৃঢ় করা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ানোর নিয়তে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া একটি সুন্দর ও প্রশংসনীয় আমল হতে পারে।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখতে হবে, ঈদ সালামি কোনো ইবাদত নয় এবং এটি ইসলামের নির্ধারিত কোনো বিধানও নয়। এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রথা মাত্র। সুতরাং একে বাধ্যতামূলক মনে করা বা না দিলে দোষারোপ করা ঠিক নয়।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ইউটিউব চ্যানেলে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ইসলামে সালামের পরিভাষা রয়েছে। কোরআনে আছে, ‘তোমাদেরকে কেউ যদি কোনো অভিবাদন জানায় বা সালাম পেশ করে, তাহলে সে যে ভাষায় তোমাকে সালাম দিয়েছে, সে ভাষায় তুমি জবাব দাও। অথবা এর চেয়ে উত্তম শব্দ ব্যবহার করে সালাম দাও।’ হজরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদেরকে সালাম দিতে নির্দেশ করেছেন। মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে পরস্পরের শান্তি কামনা করা হলো সালাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের সালামি পেতে বাচ্চারা বড়দের সালাম দিলে তারা সালামের উত্তর দেবেন। সালামের জবাব দিয়ে তাদের কিছু হাদিয়া দেবেন, এটা আমাদের দেশের সংস্কৃতি। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কোরআন-হাদিসের সঙ্গে এর কোনো সংঘর্ষ নেই। পা ছুঁয়ে সালাম করলে সালামি দিতে হবে, এটা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সে সালাম দিলে জবাব দিয়ে তাকে সালামি দিয়ে দেওয়া উচিত। পা ছুঁয়ে সালাম করতে তাকে বাধ্য করা উচিত নয়।’

সূত্র : কালবেলা

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।