খুঁজুন
, ,

“ভোট চাইবো সেবা দিয়ে, ধর্ম বিক্রি করে নয়” — শামা ওবায়েদ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:০১ অপরাহ্ণ
“ভোট চাইবো সেবা দিয়ে, ধর্ম বিক্রি করে নয়” — শামা ওবায়েদ

ফরিদপুর-২ (সালথা–নগরকান্দা) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু বলেছেন, ইসলাম পালন করার জিনিস, বিক্রি করার জিনিস নয়।

রবিবার (০১ ফেব্রুয়ারি) রাতে সালথা উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বালিয়া গট্টি গ্রামে এক নির্বাচনী প্রচারণা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা যারা সত্যিকার মুসলমান হতে চাই, তারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি, রোজা রাখি, হজ করি। কিন্তু কে জান্নাতে যাবে আর কে দোজখে যাবে, সেই সিদ্ধান্ত একমাত্র আল্লাহ তায়ালার। আমরা কেউ এ বিষয়ে গ্যারান্টি দিতে পারি না, কেবল দোয়া করতে পারি। যারা এ বিষয়ে নিশ্চয়তা দেয়, তারা নাফরমানির কাজ করে।

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই নির্বাচন নির্ধারণ করবে আগামী দিনের বাংলাদেশ কেমন হবে, নতুন প্রজন্মের জন্য কেমন সালথা উপজেলা গড়ে উঠবে। গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সবাই যেন স্বাধীন, স্বচ্ছ ও নিরাপদ পরিবেশে ভোট দিতে পারে, সে আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, দল-মত গ্রুপিংয়ের ঊর্ধ্বে উঠে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিতে হবে। গ্রামের নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নেতৃত্বের প্রমাণ দিতে হলে প্রতিটি কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ভোট নিশ্চিত করতে হবে। সময় খুব কম, তাই ঘরে ঘরে গিয়ে ধানের শীষের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।

ভোটার আইডি কার্ড বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, ভোটার আইডি কার্ড একজন নাগরিকের ব্যক্তিগত সম্পদ ও গোপন তথ্য। সরকার ছাড়া কেউ এটি চাইতে পারে না। বাড়িতে গিয়ে কেউ যদি ভোটার আইডি কার্ড বা নম্বর চায়, তবে তা বেআইনি। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে সেনাবাহিনী বা পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, আমরা শহীদ জিয়ার সৈনিক, জনগণের পাশে থাকব, তাদের সেবা করব এবং মন দিয়ে ভোট চাইব। আপনাদের একটি ভোট আমাদের অনেক কিছু করার সুযোগ করে দেবে।

স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সালথা ও নগরকান্দায় মানসম্মত হাসপাতাল নেই। বিদ্যমান হাসপাতালকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করে আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্যসেবায় রূপান্তর করতে হবে, যাতে স্বল্প খরচে এলাকার মানুষ চিকিৎসা নিতে পারে।

শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিয়ে তিনি বলেন, এই এলাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করতে হবে এবং যুব সমাজের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।

বিএনপির ৩১ দফা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে প্রতিটি পরিবারকে মায়ের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাওয়া যাবে। কৃষকদের জন্য থাকবে ‘কৃষক কার্ড’, যাতে তারা বঞ্চিত না হন।

সালথা উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খাইরুল বাশার আজাদের সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক ফজলুল হক টুলু মিয়া, সালথা উপজেলার বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ওয়াহিদুজ্জামান, সাবেক গট্টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইনামুল হোসেন তারা মিয়া, খন্দকার রেজাউর রহমান চয়ন মিয়া।

এছাড়া এসময় উপস্থিত ছিলেন- স্থানীয় বিএনপি নেতা জাহিদ মাতুব্বর, রফিকুল ইসলাম, ইব্রাহিম মোল্যা, পাভেল রায়হান, কামরুল হাসান মজনু, সায়েম হোসেন টিটন, সাফিকুল, বিল্লাল মাতুব্বর, শাহিন বেপারী সহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে সেক আব্দুল্লাহ (৫) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত আব্দুল্লাহ উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের চর অমরাপুর গ্রামের সেক শাহেদের ছেলে। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল পরিবারের সবার ছোট এবং অত্যন্ত আদরের সন্তান।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে বাড়ির পেছনে খেলাধুলা করছিল আব্দুল্লাহ। এ সময় একটি কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে থাকা বিষাক্ত সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। কামড় খাওয়ার পর শিশুটি বাড়িতে এসে মাকে জানায়, তাকে ‘ব্যাঙে কামড় দিয়েছে’। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না নেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে নিয়ে যান, যিনি নিজেকে ঝাড়ফুঁক ও চিকিৎসাজ্ঞানসম্পন্ন বলে পরিচয় দেন।

শিশুটির চাচি আখি আক্তার জানান, স্থানীয় শহীদ ফকির নামে এক ব্যক্তির কাছে নেওয়ার পর তিনি কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন, এটি সাপের কামড় নয়। তার কথায় আশ্বস্ত হয়ে কিছু সময় সেখানে কাটানো হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই আব্দুল্লাহর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে শুরু করে।

পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও দুপুরের দিকে শিশুটি মারা যায়।

গাজিরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “প্রথমে শিশুটিকে স্থানীয় এক ফকিরের কাছে নেওয়া হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”

আব্দুল্লাহর অকাল মৃত্যুতে পরিবারজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো চর অমরাপুর গ্রাম। প্রতিবেশীরাও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে শ্বশুরবাড়িতে এসে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন আব্দুল কারিম মুন্সী (৪২) নামে এক ব্যক্তি।

শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের আলগাদিয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল কারিম মুন্সী ভাঙ্গা উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মৃত জালাল মুন্সীর ছেলে। তিনি নগরকান্দার আলগাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ওমর আলী শেখের জামাতা ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল কারিম ও তার স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং কোনো স্থায়ী পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এসব কারণে তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি লেগেই থাকত। একপর্যায়ে কোরবানির ঈদের প্রায় এক সপ্তাহ আগে তার স্ত্রী একতরফাভাবে তাকে তালাক দেন।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের ধারণা, তালাকের পর থেকেই আব্দুল কারিম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। ঘটনার আগের রাতে তিনি শ্বশুরবাড়িতে আসেন। পরে শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় শ্বশুর ওমর আলী শেখের টিনশেড বসতঘরের সিঁড়ির আড়ার সঙ্গে দড়ি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে খবর পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নে শ্বশুরের সেবাযত্নকে কেন্দ্র করে স্বামীর সঙ্গে বিরোধের জেরে রিমা আক্তার (৩৩) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২০ জুন) ভোরে সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজউদ্দিন মুন্সির ডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিমা আক্তার ওই এলাকার শাহেদ আলীর স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রিমার শ্বশুর জহির উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন। তাকে দেখাশোনা ও সেবাযত্ন করার বিষয় নিয়ে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় শ্বশুরের দেখভাল করা নিয়ে রিমা আক্তার ও তার স্বামী শাহেদ আলীর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে রিমা আক্তার স্বামীকে বিভিন্ন কথা বলেন। পরে রাতের খাবার খেয়ে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।

পরদিন শনিবার ভোরে শাহেদ আলী ঘুম থেকে উঠে ঘরের বাইরে গেলে ওই সুযোগে রিমা আক্তার ঘরের বাঁশের ধরনার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।কিছুক্ষণ পর তার মেয়ে সাবিহা (৯) মাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে শাহেদ আলী ওড়না কেটে তাকে নিচে নামালেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল বাশার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে এসআই খায়রুল বাশার বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”