খুঁজুন
, ,

সালথায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০: বাড়িঘর ভাংচুর

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:২৫ অপরাহ্ণ
সালথায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০: বাড়িঘর ভাংচুর

ফরিদপুরের সালথায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে অন্তত ৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের বাতাগ্রাম এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষচলাকালে বেশ কয়েকটি বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, জমি সংক্রান্ত বিয়ষ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাতাগ্রাম এলাকার হেমায়েত মাতুব্বরের সাথে প্রতিপক্ষের মো. ফারুক মাতুব্বরের সমর্থক বাচ্চু চোকদারের বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিরা বিরোধপূর্ণ জমি মেপে সালিশের মাধ্যমে ঘটনাটি মিমাংসা করে দেওয়ার উদ্যোগ নেন। কিন্তু জমি মাপামাপির সময় উভয়পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একপর্যায় উভয়পক্ষের অন্তত ২০০ থেকে ৩০০ সমর্থক দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় ঘন্টাব্যাপী চলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ।

সংঘর্ষের সময় মেহেদী মুন্সী, মিন্টু মুন্সী, সেলিম মুন্সী, হালিম মীর, মান্দার শেখ, মিজা, সেলিম চোকদার ও আসাদ শেখের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয় বলে জানা গেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আব্বাস মাতুব্বর, তমিজদ্দিন মাতুব্বর, আসাদ শেখ, রাজ্জাক শেখ, পিকুল মাতুব্বর, লিটন মীর ও আলিম মীরকে নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ বিষয় বক্তব্য নেওয়ার জন্য হেমায়েত মাতুব্বর ও ফারুক মাতুব্বরের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাদেরকে পাওয়া যায়নি।

সালথা থানার ওসি (তদন্ত) ইন্দ্রজিৎ মল্লিক বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকার পরিবেশ এখন শান্ত। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

‘জীবনের অর্থাবলি’

মোহাম্মদ নূরুল্লাহ্
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩০ পূর্বাহ্ণ
‘জীবনের অর্থাবলি’

জীবনের অর্থ যদি কেবল অর্থই হয়,
তবে অর্থের পেছনে ঝাঁপিয়ে পড়ো
আমার আপত্তি নেই।
তবে, জীবনের অর্থ যদি কেবল অর্থ না হয়, তাহলে জ্ঞানের সন্ধানে থাকো।
জ্ঞানীগুণীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করো।
প্রশান্তি পাবে মনে;
বিশ্বাস না হলে —
একবার পরীক্ষা করে দেখো।

জীবনকে যদি সার্থক করতে চাও —
দু’কলম লিখো, বপন করো শব্দাবলি,
রোপন করো সাহিত্যের কানাকড়ি।

জীবনে যদি সফল হতে চাও
ভালোবাসার ডালি নিয়ে বসো;
মানুষকে ভালোবাসো, প্রাণিকুলকে মমতার বন্ধনে আবদ্ধ করো।

জীবনকে যদি কল্যাণকামী করতে চাও
প্রভুর ধ্যানে নিমগ্ন হও।
নিজেকে চেনো, প্রভুকে জানো,
প্রভুর দেয়া প্রকৃতির মাঝে শতকোটি নেয়ামত নিয়ে একটু হলেও ভাবো, চিন্তা করো।
তবেই তুমি খুঁজে পাবে জীবনের অর্থাবলি।

লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ফরিদপুর।

ফরিদপুরে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিলেন এক নারী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিলেন এক নারী

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন এক প্রসূতি। বিরল এ ঘটনায় চিকিৎসক, নার্স ও স্বজনদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে আনন্দের মধ্যেই নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া—জন্মের কিছুক্ষণ পরই পাঁচ নবজাতকের একজন মারা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে তিন ছেলে ও দুই মেয়েসহ মোট পাঁচ সন্তানের জন্ম দেন প্রসূতি মোছা. চাঁদনী আক্তার।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চাঁদনী আক্তার ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ভবুকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী মো. হাসান শেখ। প্রসববেদনা শুরু হলে বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তিনি স্বাভাবিকভাবে পাঁচ সন্তানের জন্ম দেন।

জন্ম নেওয়া পাঁচ নবজাতকের মধ্যে একটি সন্তান জন্মের পরপরই মারা যায়। বাকি চার নবজাতককে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের নবম তলার শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তারা চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রসূতি মা বর্তমানে শারীরিকভাবে স্থিতিশীল রয়েছেন। জীবিত চার নবজাতকেরও সার্বক্ষণিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। চিকিৎসকরা তাদের শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম (কুইন্টুপলেট) অত্যন্ত বিরল ঘটনা। এমন গর্ভধারণ ও প্রসবের ক্ষেত্রে মা ও নবজাতকদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসা এবং নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন হয়। তাই জীবিত চার নবজাতকের সুস্থতা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

গরুর জন্য ঘাস কেটে ফেরার পথে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, বোয়ালমারীতে যুবকের মৃত্যু

বোয়ালমারী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১০:০৩ অপরাহ্ণ
গরুর জন্য ঘাস কেটে ফেরার পথে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, বোয়ালমারীতে যুবকের মৃত্যু

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার চতুল ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মামুন বিশ্বাস (২৭) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মামুন বিশ্বাস রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং মো. লাখো বিশ্বাসের ছেলে। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে গরুর জন্য ঘাস কেটে বাড়ি ফিরছিলেন মামুন। পথে রাজাপুর এলাকার একটি মাছের পুকুরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সেখানে টানানো একটি জিআই (গ্যালভানাইজড আয়রন) তারের সংস্পর্শে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

জানা গেছে, স্থানীয় জাহিদ সিকদারের প্রায় ৮ বিঘা লিজ নেওয়া পুকুরে আধারকোঠা গ্রামের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ সরকার মাছ চাষ করে আসছিলেন। পুকুরের মাঝখানে রাতে আলো জ্বালানোর জন্য বাঁশের সঙ্গে বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। বাঁশটি স্থির রাখতে জিআই তার ব্যবহার করা হয়।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন না থাকায় ওই জিআই তার বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়ে। অসাবধানতাবশত সেই তারে জড়িয়ে পড়ায় ঘটনাস্থলেই মামুনের মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে বোয়ালমারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে মরদেহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়।

বোয়ালমারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মফিজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”