খুঁজুন
সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ২৮ বৈশাখ, ১৪৩৩

‘একমুঠো জোনাকি নীরব বারান্দায়’

হারুন আনসারী রুদ্র
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬, ৮:১৮ পূর্বাহ্ণ
‘একমুঠো জোনাকি নীরব বারান্দায়’

আবরার রাহাদের জীবনের প্রতিটি সকাল শুরু হতো একটা চাপা হুং’কার দিয়ে। সেটা তাঁর নিজের ভেতরে নয়, তাঁর পত্রিকার হেডলাইনে। চল্লিশোর্ধ্ব এই জীবনে সে এখন আর সাধারণ কোন রিপোর্টার নয়; বরং সিস্টেমের কাঁ’টা, সমাজের র’ন্ধ্রে র’ন্ধ্রে ঢুকে পড়া অনৈ’তিক’তা, দু’র্নী’তি আর গড’ফা’দারদের প্রতি’পক্ষ সে।

তাঁর তী’ক্ষ্ণ লেখনী শহরের কর্তাবাবু থেকে বড় অফিসার আর প্রভাবশালী ঠিকাদারদের রাতের ঘুম কেড়ে নেয়। ​প্রকাশ্যে কেউ কিছু না বললেও, গোপন ফিসফিসানি আর ঈ’র্ষা তাঁর পিছু ছাড়ে না। সাংবাদিকতার ভেতরের মহলও তাঁকে হিং’সা করে—কেউ কেউ তো সরাসরি শ’ত্রু।

​তবু রাহাদ থামেনা। থামতে পারেনা। তাঁর প্রেরণা আসে সেই ‘মানুষের জিম্মা’ থেকে, যাদের জন্য সে লড়ে যায়। ​তাঁর এই কণ্ট’কা’কীর্ণ পথ বড় পিচ্ছিল। মাঝে মাঝে যখন চারপাশের সব বন্ধুত্বের মুখোশ খসে পড়ে, তখন আরো শক্তি জুগিয়ে এগোতে থাকে।

মাঝেমধ্যে নিজের কাছেই নিজেকে অচেনা লাগে। তখন তাঁর হৃদয় একটু উষ্ণতা খুঁজে ফিরে। যে অনুভব তাঁর এই পথ চলার সব ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলে নিমিষেই।

এজন্য মনের প্রশান্তি পেতে রাহাদ তাঁর স্রষ্টার দরবারে নিরবে সেজদায় লুটিয়ে পড়ে কখনো। গভীর আকুতি নিয়ে প্রার্থনা করে। সবকিছু তাঁর পালনকর্তার কাছে খুলে বলে নিজেকে হালকা করে নেয়। তা নাহলে হয়তো বইপত্রের মধ্যে নিবিষ্ট হয়ে মনোযোগ ঘোরানোর চেষ্টা করে।

​বর্তমানের এই ইন্টারনেট আর ফেসবুকের আমলে পেশাগত কারণেই তাঁকে ফেসবুকের দিকে নজর রাখতে হয়। আর সেখানেই, ফেসবুকে, একদিন তাঁর চোখ আটকে যায় একটি পোস্টে।
মনে হচ্ছিলো- ওই পোস্টের শব্দগুচ্ছের এমন ভারী আর মোলায়েম সৃজন যেনো তাঁরই জবাবের প্রতিধ্বনি ছিল। এমন কিছুই কি খুঁজছিলো সে মনে মনে।

​তাহমিনা জেরান তখন থেকেই তাঁর কাছে যেন নীরবতার আলপনা হয়ে গেছে। যার লেখার সীমা হিমালয়ের মতো উঁচু, কিন্তু সেখানে কি যেন এক নিচু, শান্ত এবং একাকী একটি অবমূর্তির ছায়া। ঠিক ঠাউরে উঠতে পারেনা তাঁকে।

​তাঁর মধ্যে স্থিতিশীলতা থাকলেও এক ধরনের অজানা শূন্যতা রয়েছে। প্রেম আর অপ্রাপ্তির মিশেলের এই বহিঃপ্রকাশ অবশ্য পাঠকের বেশ খ্যাতি পেয়েছে; কিন্তু কি যেন একটা অপূর্ণতা রয়েছে তাতে। তাহমিনা জেরানের এই দুর্বোধ্যতাই তাঁর কাছে ‘দোয়াপড়া দরজার’ মতো হয়ে উঠেছে।

​রাহাদ প্রথমদিনেই তাহমিনার লেখা পড়ে ভীষণভাবে আকৃষ্ট হয়েছিলো। শব্দের এমন গভীর আর গম্ভীর বুনন সচরাচর বন্ধুদের কারো মাঝে দেখেনি সে। তবে সংকোচ থেকে সেখানে কোনো মন্তব্য করতে পারেনি সেদিন। এরও পরে একদিন তাহমিনার লেখার নিচে মন্তব্যের ঘরে দু’লাইনের একটি অভিব্যক্তি লিখে দেওয়ার পর প্রথম সেই জড়তা কাটলো।

মনে হলো- এই প্রতুত্তরের অপেক্ষা ছিলো। তাহমিনা সেই মন্তব্য পড়ে ধন্যবাদ জানিয়ে একটা হার্টের রিঅ্যাক্ট দিলো। সেই থেকে তাঁদের মধ্যে এক ধরনের অদেখা যোগাযোগ। রাহাদের বিপদসংকুল একঘেয়ে জীবনে এই প্রাপ্তিটুকু প্রশ্রয় পেয়ে ভাললাগার একটা নিরাপদ বারান্দা হয়ে উঠলো। যেখানে রয়েছে উপমা আর ইঙ্গিতের নীরব চালুনির বর্ণমালা।

​রাহাদ লিখলো: “যে আলোটুকু ছুঁতে বারণ, সেটুকু দেখাই জীবনের শেষ বিলাসিতা।”
​তাহমিনার জবাব এল: “আপনার কাব্য-কুসুমগুলো এমন এক দুর্লভ বাগানে ফোটে, যার চাবি আপনার কাছে থাকলেও দরজায় তালা দেওয়া।”

​রাহাদ বুঝলো, তাহমিনা তাঁর জীবনের এই ঝুঁ’কি ও একাকীত্বকে ইঙ্গিত করছে। ​সে জবাব দিলো: “আমি হলাম সেই পুরোনো সেতুর মতো, তাহমিনা, যার নীচে জলের ধারা বয়ে গেলেও উপরে শুধু দায়িত্বের ভার।”
​তাহমিনা জানতো, রাহাদের এই ভার আসলে তাঁর জীবনের আপসহীন ল’ড়াই। তাঁর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

একরাতে, রাহাদ তাঁর পত্রিকার অফিস থেকে বেরিয়ে বাসার পথে হাঁটছিলো। হাতে কেবলই ছাপা হওয়া একটি পত্রিকার কপি, হেঁটে যেতে পথে যখন বাসার কাছের মোড়টি ঘুরতে যাবে রাহাদ, একটি মোটরসাইকেলে চড়ে হেলমেট পরা দুই হা’ম’লাকারী আ’ক’স্মিক তাঁর কাছাকাছি চলে এলো। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁর ঘাড়ের পেছনে স’জো’রে কিছু দিয়ে আ’ঘা’ত করলো। তী’ব্র য’ন্ত্র’ণায় রাহাদের পা টলে উঠলো। সাথে সাথেই আবার দ্বিতীয় আ’ঘা’তে কাবু করার চেষ্টা।

এমনিতেই সারাদিনের ক্লান্তিতে অবসন্ন শরীর। ভারসাম্য রাখতে না পেরে রাহাদ রাস্তার পাশে ড্রেনের উপর পড়ে গেল। এরপর ইচ্ছেমতো চললো বেধ’ড়ক মা’রপি’ট। তাঁর শরীর যেন নি’থ’র হয়ে এলো। আর তাকে এভাবে আ’ঘা’ত করার পর ওরা যেভাবে এসেছিলো, সেভাবেই মোটরসাইকেল চালিয়ে দ্রুতই আবার অন্ধকার পথে অদৃশ্য হয়ে গেলো।

আচমকা এমন আ’ক্র’মণের শিকার রাহাদ বেশ কিছুক্ষণ পড়ে থাকলো রাস্তায়। এর কিছুক্ষণ পর কোনোমতে একটু ধাতস্থ হলো সে। শরীরের শক্তি সঞ্চয় করে নিজেই নিজেকে টেনে তুললো। হাটতে হাটতে বাসার সামনে যেয়ে পকেট থেকে চাবি বের করে দরজা খুললো। তারপর এক গ্লাস পানি খেয়ে সোজা বিছানায় গা এলিয়ে দিলো।

শুয়ে পড়ার সময় ব্য’থা’য় কু’কড়ে উঠলো তাঁর শরীর। আ’ঘা’ত এতটাই তী’ব্র ছিল যে শ্বাস নিতেও তাঁর ক’ষ্ট হচ্ছিল। সে দ্রুত বন্ধু মানুকে ফোন করলো। বিপদের বন্ধু মানু এসে সব জেনে এই মুহুর্তে আগে তাঁকে সুস্থ হয়ে উঠার পরামর্শ দিলো। শার্ট-প্যান্ট ছেড়ে কাপড় বদলাতে সাহায্য করলো তাঁকে। ফ্রিজে রাখা ঠান্ডা খাবার গরম করে খাওয়ালো। ব্যথার জন্য একটি প্যা’রা’সিটা’মল ওষুধও খাইয়ে বিদায় জানিয়ে চলে গেলো।

এই মুহুর্তে আবার রাহাদ একা হয়ে গেছে। এতো রাতে আর কাউকে ফোন দিয়ে বির’ক্ত করতে ইচ্ছে হলোনা তাঁর। বিছানায় শুয়ে পড়লো কিন্তু শ্বাস নিতে ক’ষ্ট হচ্ছে তাঁর। শরীরে আ’ঘা’তের স্থান জুড়ে ব্যথা করছে। এই একাকী মুহূর্তে, সে যেন এক মমতার আশ্রয় খুঁজতে চাইলো। মোবাইল হাতে নিতেই মনে পড়লো তাহমিনার কথা।
জীবনের সবচেয়ে দুর্বল মুহূর্তের স্বীকারোক্তিটুকু আপন মনেই বেরিয়ে এলো তাঁর আঙুলের টোকায়।

রাহাদ তাঁকে ম্যাসেজে লিখলো: “আমার পথে আজ র’ক্তে’র দাগ, তাহমিনা। আজ মনে হচ্ছে, এই যাত্রাপথে ফিরে আসার কোনো রাস্তা আর অবশিষ্ট রইলো না!”
তাহমিনা, গভীর রাতেও কি জেগে ছিলো? রাহাদ জানেনা। ম্যাসেজটি আরো অনেকক্ষণ পরে সিন হলো। রাহাদের জীবন যে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা সে জানতো।

তাহমিনা কিছুটা শান্তভাবে আঙুল চালিয়ে লিখলো: “আপনার পথে অনেক আঘাত আসে, তা জানি। এই জীবন কি কখনও আপনাকে থামতে বলে না?” এটুকু কথাতেই সে শব্দের আড়ালে ঢেলে দিলো তাঁর গভীর ভালবাসা ও উদ্বেগ।

রাহাদ হাতের দুর্বল নখে অক্ষর টিপে লিখলো: “থামতে বললেও থামি না। কারণ, যে পথে সত্যের ইশারা আছে, সে পথে থামলেও পথ ফুরায় না। এই পথ তো আমি শুধু ‘মানুষের জিম্মায়’ পেয়েছি।”
সে আরও লিখলো: “আমি শুধু লিখে যাই। মনে হয়— এই ক’ঠিন যাত্রা শেষে কোথাও একটা নিরাপদ ‘বারান্দা’ আছে, যেখানে অপেক্ষমাণ কোন চোখ আমাকে দেখে, যা আমাকে শক্তি জোগায়।”

ম্যাসেজটি পড়ে তাহমিনার চোখ ভরে জল এলো।
সে রাহাদের জবাবে লিখলো: “এই পথে জানি আছে অনেক বাধা। কিন্তু আপনিও আ’পোষ করতে জানেন না। আপনাকে ল’ড়তেই হয় তাই। আমি আপনার বারান্দায় এক মুঠো জোনাকি রেখে গেলাম। কখনও পথ খুব অন্ধ’কার হলে, তা দিয়ে আলো খুঁজে নেবেন।”

রাহাদ তাকে যত্নের রিঅ্যাক্ট দিয়ে সেই বার্তার নীরবতা গ্রহণ করলো।
তাঁর মনে হলো— এই এক মুঠো জোনাকি যেনো একটি অপ্রকাশিত আশ্বাস। যা তাঁর শরীরের আ’ঘা’তের চেয়েও প্রবল হয়ে তাঁকে সাহস জোগায়।
আর তাহমিনা জানলো, রাহাদের এই নীরব বারান্দা হলো এক অব্যক্ত জগত, যা তাঁদের নিজ নিজ জীবনের ‘গোপন চুক্তির’ বাইরে এসে মুক্তভাবে বাঁচতে শেখায়।

[ডিসক্লেইমার: গল্পের এই চরিত্র ও তথ্যগুলো সম্পূর্ণ কাল্পনিক। বাস্তবতার সাথে এর কোন মিল নেই। যদি কারো চরিত্র বা ঘটনার সাথে কোনভাবে কোথাও সাদৃশ্য থাকে তবে সেটি হবে কাকতালীয়।]

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক, ফরিদপুর

ফরিদপুরে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে অনলাইন নিউজ পোর্টাল এশিয়া পোস্টের শুভ উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৫:২৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে অনলাইন নিউজ পোর্টাল এশিয়া পোস্টের শুভ উদ্বোধন

সারা দেশে একযোগে যাত্রা শুরু করলো নতুন অনলাইন সংবাদমাধ্যম “এশিয়া পোস্ট”। এ উপলক্ষে ফরিদপুরে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে কেক কেটে শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে এশিয়া পোস্ট অনলাইন প্ল্যাটফর্মটি।

সোমবার (১১ মে) দুপুর ১টায় ফরিদপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এশিয়া পোস্টের ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি তাওহিদুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কেক কেটে অনুষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিভাবে উদ্বোধন ঘোষণা করেন ফরিদপুর-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়েবা ইউসুফ এমপি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল, দৈনিক প্রথম আলোর ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি পান্না বালা, বাংলাভিশন টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি হারুন আনসারী ও ফরিদপুর মহানগর যুবদলের সভাপতি বেনজির আহমেদ তাবরিজসহ প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে বস্তুনিষ্ঠ ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে অনলাইন গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। “এশিয়া পোস্ট” সত্য ও নিরপেক্ষ সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে পাঠকদের আস্থা অর্জন করবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়েবা ইউসুফ এমপি বলেন, “সাংবাদিকতা হচ্ছে সমাজের দর্পণ। গণমাধ্যমকে বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। আমি আশা করি, এশিয়া পোস্ট দেশ ও মানুষের কল্যাণে ইতিবাচক সাংবাদিকতা উপহার দেবে এবং সামনের দিনগুলোতে সাফল্যের সাথে এগিয়ে যাবে।”

পরে অতিথিবৃন্দ কেক কেটে এশিয়া পোস্টের শুভ উদ্বোধন করেন এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক সফলতা কামনা করেন।

ফরিদপুরে হরিণ, ময়ূর ও গাড়লসহ ব্যতিক্রমী খামার আমেরিকান প্রবাসীর

সদরপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৫:০৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হরিণ, ময়ূর ও গাড়লসহ ব্যতিক্রমী খামার আমেরিকান প্রবাসীর

বিদেশের মাটিতে বসেও ভুলে যাননি নিজের শেকড়, দেশের প্রতি ভালোবাসা আর গ্রামীণ অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার স্বপ্ন নিয়ে নিজবাড়ি ফরিদপুরের সদরপুরে ব্যতিক্রমধর্মী একটি খামার গড়ে তুলেছেন আমেরিকা প্রবাসী রফিকুর রহমান। তাঁর খামারে রয়েছে হরিণ, ময়ূর, গরু, গাড়ল ও দেশী-বিদেশী জাতের ছাগলসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী।

উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের আমিরাবাদ গ্রামে শান্ত পরিবেশে গড়ে ওঠা এই খামারটি ইতোমধ্যে স্থানীয়দের কাছে আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ খামারটি দেখতে আসছেন। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের কাছে হরিণ ও ময়ূরের উপস্থিতি যেন বাড়তি আনন্দের উৎস হয়ে উঠেছে।

খামারটির তত্তাবধায়ক ওই প্রবাসীর বড় ভাই মো. দলিল উদ্দিন জানান, আধুনিক পদ্ধতিতে প্রাণী পালন ও পরিচর্যার মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাই রফিকুর রহমানের মূল লক্ষ্য। বর্তমানে খামারে কয়েকজন কর্মচারী নিয়মিত কাজ করছেন।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে খামার বলতে সাধারণত গরু-ছাগলকেই বোঝানো হয়। আমারা চেয়েছি একটু ভিন্ন কিছু করতে। যাতে মানুষ নতুন কিছু দেখতে পারে এবং তরুণ উদ্যোক্তারা উৎসাহ পায়।

স্থানীয়রা জানান, সদরপুরে এমন ব্যতিক্রমী খামার আগে দেখা যায়নি। এটি একদিকে যেমন বিনোদনের সুযোগ তৈরি করেছে, অন্যদিকে প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন সম্ভাবনার দিকও উন্মোচন করেছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সব্যসাচী মজুমদার জানান, প্রবাসী রফিকুর রহমান বন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের বিধি-বিধান মেনে খামার পরিচালনা করছেন। ব্যতিক্রমধর্মী এই উদ্যোগ স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং নতুন উদ্যোক্তাদের প্রাণিসম্পদ খাতে আগ্রহী করে তুলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, প্রাণিসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত খামারটি পরিদর্শন করা হচ্ছে এবং ভ্যাকসিন প্রদানসহ প্রয়োজনীয় সকল কারিগরি পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

সাংবাদিক দম্পতি শাকিল-ফারজানা রুপার জামিন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ১২:০৫ অপরাহ্ণ
সাংবাদিক দম্পতি শাকিল-ফারজানা রুপার জামিন

সাংবাদিক শাকিল আহমেদ ও তার স্ত্রী ফারজানা রুপাকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (১১ মে) বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

তারা পৃথক ১৩টি জামিন আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে রুপার আট মামলা এবং শাকিলের রয়েছে পাঁচ মামলা।

 

শাকিল আহমেদ বার্তাপ্রধান হিসেবে ও ফারজানা রুপা প্রধান প্রতিবেদক হিসেবে একাত্তর টেলিভিশনে কাজ করছিলেন। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় একাত্তর টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ।

২১ আগস্ট তাদের ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করে পুলিশ। সেদিন তারা টার্কিশ এয়ারলাইনসে প্যারিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন।