খুঁজুন
, ,

বিশ্বরেকর্ড করলেন লিওনেল মেসি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ৮:০৩ পূর্বাহ্ণ
বিশ্বরেকর্ড করলেন লিওনেল মেসি

লিওনেল মেসি মাঠে নামবেন আর নতুন কোনো রেকর্ড হবে না- এ যেন অবিশ্বাস্য। চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে বেশ কিছু রেকর্ড গড়েছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডটাও এখন তার দখলে। 

জর্ডানের বিপক্ষে শুরুর একাদশে ছিলেন না। ম্যাচের ৬০ তম মিনিটে বদলি হিসেবে নামলেন। তার কিছু পরই ফ্রি-কিক থেকে জালের দেখা পেলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

এ নিয়ে বিশ্বকাপে টানা ৭ ম্যাচে গোল করার অনন্য এক কীর্তিতে নাম লেখালেন লিওনেল মেসি। এর আগে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোলের দিনে টানা ৬ ম্যাচে গোল করে ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন (১৯৫৮) ও ব্রাজিলের জেয়াজিনহোর (১৯৭০) সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন।

এ ছাড়া চলমান বিশ্বকাপে নিজের ষষ্ঠ গোল করলেন মেসি। এর আগে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের পর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন।

ফরিদপুরে রাসেল’স ভাইপার হতে রক্ষায় গামবুট ও স্প্রে মেশিন পেলেন চরাঞ্চলের কৃষকরা

শিশির খাঁন
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৩৫ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে রাসেল’স ভাইপার হতে রক্ষায় গামবুট ও স্প্রে মেশিন পেলেন চরাঞ্চলের কৃষকরা

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পদ্মা নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলে রাসেল’স ভাইপার সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকদের মাঝে ৩’শ গামবুট ও ৩’শ স্প্রে মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে চরভদ্রাসন উপজেলা চর ঝাউকান্দা ইউনিয়নের কৃষকদের মাঝে গামবুট ও স্প্রে মেশিন বিতরণ করেন ফরিদপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাজহারুল ইসলাম।

জানা যায়, চরভদ্রাসনে পদ্মা নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলে ২০১৬ সালে দেখা মিলে বিষধর রাসেল’স ভাইপার সাপ। গত বছর এই ইউনিয়নের চরাঞ্চলসহ উপজেলা সদরের বিভিন্ন গ্রামে রাসেল’স ভাইপার সাপের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকদের মাঝে ভীতির সঞ্চার হয়। গত বছর অত্র উপজেলায় মানুষের হাতে মারা পড়েছে রাসেলস ভাইপার সহ বিভিন্ন প্রজাতির সাপ। এছাড়া গত কয়েক বছরে এই উপজেলায় সাপের কামড়ে বেশ কয়েকজন মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

গামবুট নিতে আসা চাষি ইয়াসিন মিয়া
বলেন, এতোদিন সাপের ভয়ে ক্ষেতে যেতে পারিনি। গামবুট পেয়েছি এখন নিশ্চিন্তে ক্ষেতে যেতে পারবো, ক্ষেতের ফসল তুলে ঘরে আনতে পারবো। অনেক ফসল ইতোমধ্যে ক্ষেতেই নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া শ্রমিকরাও ভয়ে ক্ষেতে নামছিল না। এখন সবাই ক্ষেতের ফসল ঘরে আনতে পারবো।

ইমারুন বেগম বলেন, নদীর পাশেই আমাদের বাড়ি। সাপের ভয়ে ঘর থেকে বের হতে পারি না। জেলা প্রশাসক স্যার আমাদেরকে গামবুট দিয়েছেন, এখন গামবুট পড়ে ক্ষেতে যেতে পারবো। চলাচলেও কোনও সমস্যা হবে না। নিশ্চিন্তে ফসল ঘরে তুলে আনতে পারবো।

তিনি আরও বলেন, স্বামীসহ সন্তানরা মিলে আমরা সবাই ক্ষেতে কাজ করি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনেক সময় ক্ষেতে যেতে হয়েছে। সাপের ভয়ে তিল ক্ষেত থেকে তুলতেই পারিনি এখনও। তিল ক্ষেতের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। গামবুট পেয়েছি, এখন ক্ষেতে যেতে সমস্যা হবে না।

আরেক চাষি নাজমুল হাসান বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাদাম কিছুটা তুলেছি। গামবুট পেয়েছি এখন ক্ষেতে গিয়ে ফসল তুলতে পারবো। কৃষি শ্রমিকরাও ক্ষেতে যেতে চায় না। একারণে নিজেদেরই ঝুঁকি নিয়ে ফসল তুলতে হচ্ছে। গামবুট পেয়ে আমরা অনেক খুশি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ বলেন, রাসেলস ভাইপারের আতঙ্কে কৃষকেরা খেতের ফসল তুলতে পারছিলেন না। তাঁরা আতঙ্কিত ছিলেন। স্থানীয়দের থেকে বিষয়টি জানার পর কৃষকদের কথা চিন্তা করে তাঁদের সাপের কামড় থেকে বাঁচাতে গামবুট ও স্প্রে মেশিন দেওয়া হয়েছে। চরাঞ্চলের ৩০০ জনের মধ্যে গামবুট ও ৩০০ জনকে স্প্রে মেশিন দেওয়া হলো। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ইউনিয়নের চাষিদের মধ্যে গামবুট বিতরণ করা হবে। কৃষকদের সচেতনতা সৃষ্টিতে মাইকিংসহ নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম বলেন, রাসেলস ভাইপারের ভয়ে কৃষকরা ক্ষেতে ফসল তুলতে যেতে পারছিল না। কৃষকদের কথা চিন্তা করে সাপের কামড় থেকে বাঁচাতে গামবুট দেয়া হয়েছে। চরাঞ্চলের চাষিদের মাঝে আজ গামবুট দেয়া হলো। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ইউনিয়নের চাষিদের মাঝে গামবুট বিতরণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জুলহাস হোসেন সৌরভের সভাপতিত্বে এসময় চর ঝাউকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান মৃধা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সফর আলী, কৃষি কর্মকর্তা ইমরান বিন ইসলাম, গাজীরটেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইয়াকুব আলী, চর হরিরামপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর কবিরসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুরে সিজারের পর পেটে গজ রেখে সেলাই, দুই মাসের মাথায় প্রসূতির মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সিজারের পর পেটে গজ রেখে সেলাই, দুই মাসের মাথায় প্রসূতির মৃত্যু

ফরিদপুরে সিজারিয়ান অপারেশনের পর পেটের ভেতরে সার্জিক্যাল গজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। অপারেশনের প্রায় দুই মাস পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় কনিকা মন্ডল নামের এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার অভিযোগ এনে বিচার দাবি করেছেন নিহতের পরিবার।

​মৃত কনিকা মন্ডল রাজবাড়ীর জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের বাঘুটিয়া গ্রামের অশান্ত মন্ডলের স্ত্রী। এ দম্পতির ঘরে বর্তমানে প্রায় দুই মাসের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

​নিহতের স্বামী অশান্ত মন্ডল জানান, গত ২৯ জুন কনিকা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ফরিদপুর শহরের ঝিলটুনির সমরিতা জেনারেল হাসপাতাল লিমিটেডে ভর্তি করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় ডা. লক্ষ্মী রানী দত্তের তত্ত্বাবধানে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন কনিকা।

​অশান্ত মন্ডলের অভিযোগ, অপারেশনের পরদিনই তার স্ত্রীর পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায় এবং তীব্র ব্যথা শুরু হয়। বিষয়টি চিকিৎসককে একাধিকবার জানানো হলেও তিনি বিভিন্ন অজুহাতে তা এড়িয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে গত ৩ জুলাই কনিকাকে রাজধানীর কল্যাণপুরের ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৭ জুলাই ডা. আব্দুল জলিলের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষার পর তার পেটের ভেতরে সার্জিক্যাল গজ-ব্যান্ডেজ থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে।

​পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওইদিনই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কনিকার পেট থেকে গজ-ব্যান্ডেজ বের করা হয়। এরপর দীর্ঘ দিন ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত বুধবার (১৯ আগস্ট) দিবাগত রাত সোয়া দুইটার দিকে মারা যান তিনি।

​অশান্ত মন্ডলের দাবি, অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. লক্ষ্মী রানী দত্ত হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো এক বার্তায় ভুল স্বীকার করে ক্ষমাও চেয়েছেন। ওই বার্তায় লেখা ছিল, “ভুল মানুষেরই হয়… আমি ভুল করে ফেলেছি… আবারো ক্ষমা চাচ্ছি।”

​অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সমরিতা হাসপাতালে গিয়ে ডা. লক্ষ্মী রানী দত্তকে পাওয়া যায়নি। এমনকি তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে তার বাসায় গেলে দারোয়ান জানান, চিকিৎসক বাসায় আছেন, তবে কাউকে সাক্ষাৎ না দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।

​সমরিতা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মহশিন শরীফ এ বিষয়ে বলেন, “আমার হাসপাতালে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন সাংবাদিক আমাকে ফোন করে জানিয়েছেন।”

​ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলে তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ফরিদপুরে সীমানাপ্রাচীর টপকে চুরি, ৩৮ লাখ টাকার মালামাল লুট

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৯:২৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সীমানাপ্রাচীর টপকে চুরি, ৩৮ লাখ টাকার মালামাল লুট

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বসতবাড়ির সীমানাপ্রাচীর টপকে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকাসহ প্রায় ৩৮ লাখ টাকার মালামাল লুটে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

​বুধবার (১৯ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার পাচুড়িয়া ইউনিয়নের ধুলঝুড়ি গ্রামে এই চুরির ঘটনা ঘটে।

​এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহকর্তা মো. ফিরোজুর রহমান মুকুল (৫৫) বাদী হয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

​স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফিরোজুর রহমান মুকুল পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় বসবাস করছেন। গ্রামে তার বাড়ির পাশেই ছোট ভাই থাকেন। বুধবার গভীর রাতে ছোট ভাই ঘুম থেকে উঠে মুকুলের বাড়ির মূল গেট ও ভেতরের ঘরের দরজার তালা ভাঙা দেখতে পান। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ফোনে ঢাকার অবস্থানরত মুকুলকে জানানো হয়। খবর পেয়ে তিনি ঢাকা থেকে গ্রামে ফিরে দেখেন ঘরের ভেতরের সবকিছু তছনছ অবস্থায় পড়ে আছে।

​ভুক্তভোগী মুকুল জানান, চোরচক্র দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে সাড়ে ১২ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৫ লাখ টাকা, ১৯টি ঘড়ি এবং একটি রাউটারসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে গেছে। যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩৮ লাখ টাকা।

​বিষয়টি নিশ্চিত করে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল-আমীন জানান, চুরির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।