খুঁজুন
রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯ ফাল্গুন, ১৪৩২

ফরিদপুরের ভাষা সৈনিকদের নেই পূর্ণাঙ্গ তালিকা, হারাচ্ছে ইতিহাস, রক্ষায় নেই উদ্যোগ

হারুন-অর-রশীদ ও এস.এম. মাসুদুর রহমান তরুন, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৫৯ এএম
ফরিদপুরের ভাষা সৈনিকদের নেই পূর্ণাঙ্গ তালিকা, হারাচ্ছে ইতিহাস, রক্ষায় নেই উদ্যোগ

মাতৃভাষা বাংলার জন্য ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়। এই আন্দোলনের বীর শহীদদের নাম—সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার—জাতীয়ভাবে স্মরণ করা হলেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অসংখ্য ত্যাগী ভাষা সৈনিক আজও অজানাই রয়ে গেছেন। তেমনি এক বিস্মৃত অধ্যায়ের নাম ফরিদপুরের ভাষা সৈনিকরা। তাদের অবদান ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে সময়ের স্রোতে, আর নতুন প্রজন্ম জানতেই পারছে না নিজ জেলার এই বীরত্বগাথা।

ফরিদপুরে ভাষা আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা আজও তৈরি হয়নি। স্থানীয় গবেষক, প্রবীণ নাগরিক ও সচেতন মহল বলছেন, সরকারি বা বেসরকারি কোনো উদ্যোগেই এখনো এই ইতিহাস সংরক্ষণের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে একসময় যারা ঢাকার রাজপথ কাঁপানো আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন কিংবা জেলার বিভিন্ন স্থানে ভাষার দাবিতে প্রতিবাদ গড়ে তুলেছিলেন, তাদের স্মৃতিচিহ্ন আজ প্রায় বিলীন।

বিস্মৃতির আড়ালে ফরিদপুরের বীরেরা:

ফরিদপুরের ভাষা সৈনিকদের স্মৃতি এখন মূলত শহরের দু-একটি সড়কের নাম, কিছু স্মৃতিফলক এবং জেলা জাদুঘরের কয়েকটি ছবির ফ্রেমে সীমাবদ্ধ। অথচ এই জেলার অনেক তরুণই ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ফরিদপুর শহরের সন্তান ডা. মোহাম্মদ জাহেদ ১৯৪৮ সালের জানুয়ারি থেকেই ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। সে সময় তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। পরে ১৯৫২-৫৩ সালে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় সংগ্রাম পরিষদের সক্রিয় সদস্য ছিলেন।

একইভাবে ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলীর বাসিন্দা ডা. ননী গোপাল সাহা ১৯৫২ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। ২১ ফেব্রুয়ারির সেই ঐতিহাসিক সকালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের আমতলায় ছাত্র-জনতার সমাবেশে যোগ দেন এবং মিছিলে অংশ নেন। সেই মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে বহু মানুষ আহত হন, শহীদ হন অনেকে। এই ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী ছিলেন ফরিদপুরের আরেক কৃতি সন্তান অ্যাডভোকেট এ.কে.এম. শামসুল বারী (মিয়া মোহন)।

তিনি নিজেও আহত হন, তবুও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে তিনি শহীদ আবদুল বরকতকে কাঁধে তুলে ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। ভাষার জন্য জীবন বাজি রাখা এই সাহসিকতার গল্প আজ প্রায় বিস্মৃত।

জেলার আরও ভাষা সৈনিক:

ফরিদপুরের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ঘাঁটলে আরও অনেক নাম উঠে আসে। তাদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক আবদুল গফুর, মহিউদ্দিন আহমেদ, ইমাম উদ্দিন আহমেদ, রওশন জামাল খান, এজহারুল হক সূর্য মিয়া, সাংবাদিক লিয়াকত হোসেন, সামসুদ্দিন মোল্যা, মনোয়ার হোসেন, এস.এম. নুরুন্নবীসহ আরও অনেকে।

তাদের কেউ সরাসরি ঢাকায় আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন, কেউবা ফরিদপুরে সংগঠিত করেছেন প্রতিবাদ, মিছিল ও জনমত। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাদের জীবনী, অবদান বা সংগ্রামের পূর্ণাঙ্গ কোনো দলিল আজও সংরক্ষিত হয়নি।

ফরিদপুরেও হয়েছিল প্রতিবাদ:

অনেকে মনে করেন ভাষা আন্দোলন কেবল ঢাকাকেন্দ্রিক ছিল, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুরেও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল। সে সময় ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাজেন্দ্র কলেজের শিক্ষার্থীরা মিছিল বের করেন। মিছিলটি জেলা স্কুল হয়ে থানা রোড ও জেলখানার সামনে গেলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এতে কয়েকজন আহত হন এবং দু-একজনকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানা যায়।

এই ঘটনাগুলোই প্রমাণ করে যে, ভাষার দাবিতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও মানুষ একযোগে প্রতিবাদে নেমেছিল। অথচ সেই ইতিহাস এখন পাঠ্যবই বা গবেষণায় খুব একটা জায়গা পায় না।

নতুন প্রজন্ম জানে না নিজেদের ইতিহাস:

ফরিদপুরের তরুণদের বড় একটি অংশ নিজ জেলার ভাষা সৈনিকদের নামই জানে না। এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকরা।

ভাষা সৈনিক সাংবাদিক লিয়াকত হোসেনের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন রনি বলেন, “মাতৃভাষার জন্য যারা জীবন বাজি রেখেছেন, তাদের স্মরণ করা আমাদের দায়িত্ব। ফরিদপুরের ভাষা সৈনিকদের স্মৃতি সংরক্ষণে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে একটি স্থায়ী স্মৃতিফলক নির্মাণ করা জরুরি। একুশে বইমেলায় তাদের স্মৃতিগাথা তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।”

গণমাধ্যমকর্মী ও নাগরিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক পান্না বালা বলেন, “ঢাকার পাশাপাশি ফরিদপুরেও ভাষা আন্দোলনের জোয়ার ছিল। রাজেন্দ্র কলেজের শিক্ষার্থীরা সংগঠিত হয়ে বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে সচেতনতা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু তাদের অবদান সেভাবে স্বীকৃতি পায়নি। অনেকের নামে রাস্তার নাম থাকলেও সেখানে ‘ভাষা সৈনিক’ পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “ডা. ননী গোপাল সাহার বাড়ির সামনে যে নামফলক ছিল, সেটিও এখন আর দেখা যায় না। আমরা যদি আমাদের বীর সন্তানদের ভুলে যাই, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অনুপ্রাণিত হবে কীভাবে?”

গবেষণা ও সংরক্ষণে ঘাটতি:

স্থানীয় ইতিহাসবিদ ও সংস্কৃতিকর্মীরা মনে করেন, ফরিদপুরের ভাষা সৈনিকদের নিয়ে এখনও কোনো বিস্তৃত গবেষণা হয়নি। ফলে অনেক তথ্য হারিয়ে গেছে, অনেক নাম অজানা রয়ে গেছে।

ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মফিজ ইমাম মিলন জানান, নব্বইয়ের দশকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জেলা শাখার উদ্যোগে কয়েকজন ভাষা সৈনিককে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই উদ্যোগ ধারাবাহিকতা পায়নি।

তার মতে, এখনই যদি উদ্যোগ নেওয়া না হয়, তাহলে খুব শিগগিরই এই ইতিহাস পুরোপুরি হারিয়ে যাবে।

শিক্ষার্থীদের দাবি:

বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীরাও ভাষা সৈনিকদের স্মরণে কার্যকর উদ্যোগ দেখতে চান। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থী আবরার নাদিম ইতু বলেন, “আমরা আমাদের জেলার ভাষা সৈনিকদের সম্পর্কে তেমন কিছুই জানি না। তাদের নাম, ঠিকানা, অবদান—কিছুই সংরক্ষিত হয়নি। অথচ তাদের ত্যাগের কারণেই আমরা বাংলায় কথা বলতে পারছি।”

তিনি বলেন, “স্মৃতিফলক নির্মাণ, বইমেলায় বিশেষ স্টল এবং ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরি করা জরুরি।”

শিক্ষার্থী জেবা তাহসিন বলেন, “শুধু সড়কের নামকরণে সীমাবদ্ধ না থেকে স্কুল-কলেজে তাদের নিয়ে আলোচনা, কুইজ, রচনা প্রতিযোগিতা আয়োজন করা যেতে পারে। এমনকি শ্রেণীকক্ষ বা হোস্টেলের নামও ভাষা সৈনিকদের নামে রাখা যেতে পারে।”

করণীয় কী?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফরিদপুরের ভাষা সৈনিকদের ইতিহাস সংরক্ষণে জরুরি ভিত্তিতে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন—

ভাষা সৈনিকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন

মৌখিক ইতিহাস সংগ্রহ করে ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরি

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে স্মৃতিফলক নির্মাণ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থানীয় ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করা

একুশে বইমেলায় ভাষা সৈনিকদের স্মৃতি তুলে ধরা

– গবেষণা ও প্রকাশনার উদ্যোগ গ্রহণ

ইতিহাস বাঁচানোর আহ্বান:

ভাষা আন্দোলন শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, এটি বাঙালির আত্মপরিচয়ের ভিত্তি। সেই আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের অবদানই এই সংগ্রামকে শক্তিশালী করেছে। ফরিদপুরের ভাষা সৈনিকদের অবদানও সেই ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

কিন্তু যথাযথ সংরক্ষণ ও স্বীকৃতির অভাবে তাদের স্মৃতি আজ হারিয়ে যাওয়ার পথে। এখনই যদি উদ্যোগ নেওয়া না হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের সম্পর্কে জানার সুযোগ হারাবে।

জেলাবাসীর দাবি—ফরিদপুরের ভাষা সৈনিকদের ইতিহাস নতুন করে তুলে ধরতে হবে, সংরক্ষণ করতে হবে এবং সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করতে হবে। কারণ, যে জাতি তার বীর সন্তানদের ভুলে যায়, সে জাতি কখনোই সামনে এগিয়ে যেতে পারে না।

ফরিদপুরে জামায়াত কর্মীদের বাড়িতে হামলা-ভাংচুর, শিশুসহ আহত ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:০১ পিএম
ফরিদপুরে জামায়াত কর্মীদের বাড়িতে হামলা-ভাংচুর, শিশুসহ আহত ৩

ফরিদপুর সদর উপজেলার শহরতলীর বাখুন্ডা এলাকায় জামায়াত কর্মীদের বাড়ি ও দোকানে হামলা, ভাংচুর এবং মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় একটি শিশুসহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে, তবে পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের খোঁজখবর নেন জেলা জামায়াতের নেতারা। পরে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর ও দোকান ঘুরে দেখেন এবং ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেন।

আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় থাকা মো. আজিজুলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া জামায়াত কর্মী আলমগীর হোসেন ও সজিব আহত হয়েছেন। ভাংচুরের সময় জানালার কাচ ভেঙে সজিবের ঘুমন্ত সন্তানের ওপর পড়ে তার কানে আঘাত লাগে বলে জানা গেছে।

জেলা জামায়াতের নেতারা অভিযোগ করেন, শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে তারাবির নামাজ শেষে বাখুন্ডা রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী সংঘবদ্ধ হয়ে এ হামলা চালায়। তারা কয়েকটি দোকান ভাংচুর করে এবং আলমগীর হোসেন ও তার সহকর্মী সজিবের বাড়িতে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়।

অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা আলমগীর হোসেনের ভাই আজিজুলকে ধাওয়া করে বাড়ির পাশের ফসলের জমিতে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করে। এতে তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। একই সময় আলমগীর হোসেনকেও লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়।

ঘটনার সময় ভুক্তভোগীরা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে অভিযুক্ত হিসেবে যাদের নাম এসেছে, তাদের একজন গেরদা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রাসেদ খান মিলন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

এলাকায় গণ্ডগোলের খবর পেয়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছি।” তিনি আরও দাবি করেন, একটি দোকানে বসা অবস্থায় জুয়েল নামে এক ব্যক্তির ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

ঘটনার পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য প্রফেসর আবদুত তাওয়াব টেলিফোনে ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং রাজনৈতিক সহিংসতা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। এ বিষয়ে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন সংসদ সদস্য।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মো. বদরউদ্দিন, সেক্রেটারি প্রফেসর আব্দুল ওহাব, কোতোয়ালি থানা আমীর মো. জসীম উদ্দিনসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা রোধ করা সম্ভব হবে।

ফরিদপুর-১: শপথ শেষে এলাকায় এমপি ইলিয়াস মোল্লা, ফুলেল বরণে উন্নয়নের অঙ্গীকার

মো. ইনামুল খন্দকার, মধুখালী:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
ফরিদপুর-১: শপথ শেষে এলাকায় এমপি ইলিয়াস মোল্লা, ফুলেল বরণে উন্নয়নের অঙ্গীকার

ফরিদপুর-১ (মধুখালী, বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা শপথ গ্রহণ শেষে নিজ এলাকায় ফিরে উষ্ণ সংবর্ধনা পেয়েছেন।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় মধুখালী উপজেলায় পৌঁছালে উপজেলা ও পৌর জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে বরণ করে নেন। এ সময় পুরো এলাকা উৎসবমুখর পরিবেশে ভরে ওঠে।

এমপি ইলিয়াস মোল্লা তার সফরের অংশ হিসেবে মধুখালী উপজেলার গাজনা ও রায়পুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যকে স্বাগত জানাতে ভিড় করেন এবং নানা প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। জনতার এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তার সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- মধুখালী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আলীমুজ্জামান, পৌর আমির মাওলানা রেজাউল করিম, উপজেলা সাধারণ সম্পাদক নওশের চৌধুরী, পৌর সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান, উপজেলা নায়েবে আমির মাওলানা হেমায়েতুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামাল হোসেনসহ দল ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এছাড়া যুব বিভাগ ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নেতারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ড. ইলিয়াস মোল্লা বলেন, “ফরিদপুর-১ আসনে অতীতে যারা সংসদ সদস্য ছিলেন, তারা মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। তবে এখনও অনেক উন্নয়নমূলক কাজ বাকি রয়েছে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের সম্পদ রক্ষা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা খেটে খাওয়া মানুষের প্রতিনিধি। রিকশাচালক, কৃষিশ্রমিকসহ নিম্নআয়ের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটানোই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। তাদের জীবনমান উন্নয়নে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হবে, ইনশাআল্লাহ।”

নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য উন্নয়ন ও সেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, জনগণের ভালোবাসা ও আস্থার প্রতিদান তিনি বাস্তবমুখী উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দিতে চান। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

স্থানীয়দের আশা, নতুন এমপির নেতৃত্বে ফরিদপুর-১ আসনে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর সমাধান করবেন।

ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা সোহেল রানার জন্মদিন আজ

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:০০ পিএম
ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা সোহেল রানার জন্মদিন আজ

ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা, পরিচালক ও প্রযোজক মাসুদ পারভেজ, যিনি সোহেল রানা হিসেবে চলচ্চিত্রপাড়ায় পরিচিত। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) জীবনের ৭৯টি বসন্ত পেরিয়ে ৮০ বছরে পদার্পণ করেন তিনি।

১৯৪৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আজকের এই দিনে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন সোহেল রানা। সিনেমার বাইরেও তার আরও একটি পরিচয়, তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

জন্মদিন প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেন সোহেল রানা। তিনি লেখেন, ‘মহান আল্লাহর অসীম রহমতে এবং দেশ-বিদেশে আমার বন্ধু-বান্ধব, ভক্ত সবার দোয়ায় আমি আজ ৭৯ পেরিয়ে আশিতে পদার্পণ করলাম।

আপনাদের সবাইকে আমার আন্তরিক ধন্যবাদ। আগামীতেও আপনাদের দোয়ায় আমাকে স্মরণে রাখবেন এটুকুই আমার বিনীত আশা। শুভেচ্ছা এবং দোয়া দেশ-বিদেশের সবার প্রতি। মঙ্গল হোক আমার দেশ আমার জাতির।’

কিংবদন্তি এই অভিনেতার পৈতৃক নিবাস বরিশাল জেলায়। মাত্র ১৪ বছর বয়সে ১৯৬১ সালে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। ছাত্র অবস্থায় ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেন এই অভিনেতা।

স্বাধীনতার পর তিনি যুক্ত হন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের সঙ্গে। প্রযোজক ও পরিচালক হিসেবে নিজের নাম মাসুদ পারভেজ ব্যবহার করলেও অভিনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন সোহেল রানা নামে।

প্রযোজক হিসেবে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘পারভেজ ফিল্মস’। এই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকেই চাষী নজরুল ইসলামের পরিচালনায় নির্মিত হয় বাংলাদেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’। ১৯৭৩ সালে অভিনেতা ও পরিচালক হিসেবে তার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু। ১৯৭৪ সালে কাজী আনোয়ার হোসেনের বিখ্যাত কাল্পনিক চরিত্র মাসুদ রানা সিরিজের একটি গল্প অবলম্বনে মাসুদ রানা চলচ্চিত্রে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ হয় তার। একই সিনেমার মাধ্যমে তিনি মাসুদ পারভেজ নামে পরিচালক হিসেবেও যাত্রা শুরু করেন।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করা এ অভিনেতার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘লালু ভুলু’, ‘অজান্তে’ ও ‘সাহসী মানুষ চাই’।

অভিনয় দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে দুইবার শ্রেষ্ঠ অভিনেতা এবং একবার শ্রেষ্ঠ পার্শ্বচরিত্রে অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। এছাড়া আজীবন সম্মাননাসহ জীবনে অসংখ্য পুরস্কার ভূষিত হয়েছেন রুপালি পর্দার জীবন্ত এই কিংবদন্তি। বর্তমানে অভিনয় থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন তিনি।