খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৩ বৈশাখ, ১৪৩৩

‘মব ভায়োলেন্স’ বন্ধ করতে পারবে কী বিএনপি সরকার?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩১ পূর্বাহ্ণ
‘মব ভায়োলেন্স’ বন্ধ করতে পারবে কী বিএনপি সরকার?

বাংলাদেশে নবনির্বাচিত বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ তার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েই ঘোষণা দিয়েছেন যে, ‘মব কালচারের দিন শেষ’। কিন্তু দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা ঠেকানো সরকারের জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং হবে, এই প্রশ্ন সামনে আসছে।

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এ ধরনের প্রশ্ন উঠছে। কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রায় পুরোটা সময় জুড়েই আলোচনায় ছিল ‘মব ভায়োলেন্স’ বা ‘দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা’ সৃষ্টির নানা ঘটনা। এর বিরুদ্ধে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও নানা আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে।

মব তৈরি করে কখনও নিরপরাধ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা, চাঁদাবাজি যেমন হয়েছে, তেমনি মারপিট করা হয়েছে ভিন্ন মতের রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীদের।

এমনকি দলবদ্ধভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

২০২৫ সালে মব ভায়োলেন্স ‘ ডমিনেন্ট অ্যান্ড ডেডলি ট্রেন্ড বা প্রকট এবং প্রাণঘাতী ট্রেন্ড ‘ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল বলে মনে করে অনেক মানবাধিকার সংগঠন।

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, কেবল ২০২৫ সালেই বাংলাদেশে ৪৬০ জনকে মব জাস্টিস এবং ম্যাস বিটিং এর মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে।

মানবাধিকার কর্মী এবং অপরাধ বিজ্ঞানীরা বলছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভেঙে পড়া আত্মবিশ্বাস এবং ‘মব ভায়োলেন্স’ দমনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নির্লিপ্ততা অপরাধিদের উৎসাহ জুগিয়েছে।

দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে সংগঠিত একের পর এক অপরাধের ঘটনা ঘটলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চুপ থেকেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

উল্টো তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার “মব ভায়োলেন্স বলতে কোনো কিছু নেই” এমন বক্তব্য নানা আলোচনা- সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল।

এমন প্রেক্ষাপটে দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলাতে নতুন সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা রয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

বিশেষ করে দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা ঠেকানো বিএনপি সরকারের জন্য কতটা চ্যালেঞ্জিং হবে, এই প্রশ্ন সামনে আসছে।

সরকারের জন্য পরিস্থিতি সামলানো “চ্যালেঞ্জিং হবে, তবে অসম্ভব নয়,” বলে মনে করেন মানবাধিকার সংগঠক নূর খান লিটন। তিনি বলছেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব।

তবে বিচারের নামে কেবল ভিন্ন মত দমন, নিজ দলের সমর্থকদের সব দোষ মাফ কিংবা দলবদ্ধভাবে ভিন্ন মতের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার পুরনো সংস্কৃতি চলতে থাকলে কোনো লাভ হবে না বলে মনে করেন সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক।

কেন বেড়েছিল ‘মব ভায়োলেন্স’

বাংলাদেশে ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক স্বার্থে ‘মব ভায়োলেন্স’ বা ‘দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলার’ ঘটনা নতুন নয়। অতীতেও ন্যায্য বা অন্যায্য দাবি আদায় কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের হাতিয়ার হয়েছে এটি।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে মব জাস্টিস এবং ম্যাস বিটিংয়ে ২১৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে মৃত্যু হয় ১২৮ জনের। আর আইন ও সালিশ কেন্দ্রের ২০২৫ সালের হিসেবে দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলায় মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় দুইশো।

‘মব ভায়োলেন্স’ কেন এভাবে বৃদ্ধি পেল? এমন প্রশ্নের জবাবে দেশের বিশেষ পরিস্থিতি এবং বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের নির্লিপ্ততাকে দায়ি করেছেন বিশ্লেষকরা।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক, গোষ্ঠীগত বা ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা থেকে স্বৈরাচারের দোসর কিংবা এ ধরনের ‘তকমা’ দিয়ে মব ভায়োলেন্স বা দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়েছে বলে মনে করে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

‘তৌহিদী জনতা’ বা এ ধরনের ব্যানারে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বেশ কিছু মব সৃষ্টির ঘটনাও ঘটেছে। ব্যক্তির ওপর হামলার পাশাপাশি মাজার কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও হামলা হয়েছে। অনেক সময় যেখানে কট্টরপন্থি ধর্মভিত্তিক গোষ্ঠীকে সমর্থন দিতেও দেখা গেছে।

দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে সংগঠিত একের পর এক অপরাধের পরও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর “মব ভায়োলেন্স বলতে কোনো কিছু নেই” এমন বক্তব্য নিয়ে নানা সমালোচনা হয়েছে।

এছাড়া সরকারের দায়িত্বশীলদের কারো করো মধ্যে দলবদ্ধ অপরাধকে কিছু ক্ষেত্রে ‘রাজনৈতিক বৈধতা’ দেওয়ার চেষ্টা ছিল, যা এই ধরনের অপরাধ বৃদ্ধির কারণ বলে মনে করেন বিশ্লেষকদের অনেকে।

মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন বলছেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েছিল, এটা যেমন ঠিক তেমনি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী বিভিন্ন পক্ষের সামনে সরকারের নমনীয়তা অপরাধীদের সুযোগ করে দিয়েছিল।

তিনি বলছেন, “দৃশ্যমান মব ভায়োলেন্সের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে গত সরকারের যথেষ্ট ঘাটতি ছিল, যথেষ্ট দুর্বলতা ছিল। এর পেছনে এটার প্রেক্ষাপটটাও আমাদের বিবেচনায় রাখতে হবে।”

এছাড়া একটি পক্ষ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছিল বলেও মনে করেন মি. লিটন।

এই অপরাধ কী থামবে?

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ১৬ই ফেব্রুয়ারি রংপুরের পীরগঞ্জে সিলযুক্ত ব্যালট উদ্ধারের ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দলবদ্ধভাবে হেনস্তা ও গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।

অর্থাৎ এটি বলা যায় যে, দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলার উদাহরণ সঙ্গী করেই, পট পরিবর্তনের দেড় বছর পর বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করেছে রাজনৈতিক সরকার।

এসব কারণে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনীতির চাকা সচল করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এই সরকারের মূল চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হচ্ছে।

দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। যেখানে ‘মব কালচার’ পুরোপুরি বন্ধ করার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রথম কর্মদিবসে মি. আহমদ বলেন, “মব কালচার শেষ। দাবি আদায়ের নামে মব কালচার করা যাবে না। তবে যৌক্তিক দাবি আদায়ের জন্য মিছিল ও সমাবেশ করা যাবে, স্মারকলিপিও দেওয়া যাবে।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন মানবাধিকার কর্মী এবং অপরাধ বিশ্লেষকরা।

তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস এবং বিদ্যমান প্রেক্ষাপটে নতুন সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলাতে কতটা নিরপেক্ষ থাকতে পারবে, সে সন্দেহ রয়েছে অনেকের।

মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন বলছেন, মব সহিংসতার পরিবেশ স্বাভাবিক হওয়া নির্ভর করছে সরকারের সদিচ্ছা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা- এই দুটি বিষয়ের ওপর।

মি. লিটন বলছেন, “নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এখন রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতা নিয়েছেন। অতীতে এই ধরনের সরকারের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে।”

তবে বিচারের ক্ষেত্রে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের কারণে সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে যেন প্রশ্ন না ওঠে, এমন কথাও বলছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

গোড়ায় গলদ রেখে নকল দমন: শিক্ষার মানোন্নয়ন কি তবে কেবলই শ্লোগান?

এহসানুল হক মিয়া
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩৩ অপরাহ্ণ
গোড়ায় গলদ রেখে নকল দমন: শিক্ষার মানোন্নয়ন কি তবে কেবলই শ্লোগান?

দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় নকল প্রতিরোধ দীর্ঘদিনের আলোচিত একটি বিষয়। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী বারবার এই ইস্যুকে সামনে আনছেন—যা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে বাস্তবতা হলো, বর্তমানে প্রচলিত সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতিতে আগের মতো সরাসরি নকলের সুযোগ অনেকটাই কমে এসেছে। কারণ এখন প্রশ্ন মুখস্থনির্ভর নয়; বরং বিশ্লেষণধর্মী ও প্রয়োগভিত্তিক

তবুও প্রশ্ন থেকে যায়—নকল কমলেই কি শিক্ষার মান বেড়েছে? উত্তরটি এতটা সরল নয়।

সৃজনশীল পদ্ধতি চালুর আগে পরীক্ষায় মূল্যায়ন ছিল কঠোর—সঠিক উত্তরে পূর্ণ নম্বর, ভুল হলে শূন্য। কিন্তু নতুন পদ্ধতিতে আংশিক সঠিক উত্তরের জন্য আংশিক নম্বর দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। নীতিগতভাবে এটি শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে নম্বর প্রদানে অতিরিক্ত উদারতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে প্রকৃত মেধা যাচাই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং ভালো ও দুর্বল শিক্ষার্থীর মধ্যে পার্থক্য ক্রমেই অস্পষ্ট হয়ে উঠছে।

এখন নকল দমন নয়, বরং বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে মূল্যায়নের মান নিশ্চিত করা।

শিক্ষাব্যবস্থার এই পর্যায়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি—

প্রথমত, শিক্ষকদের নিয়মিত ও কার্যকর প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। শুধু কারিকুলাম পরিবর্তন করলেই হবে না, সেই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য শিক্ষকদের দক্ষ করে তোলা অপরিহার্য।

দ্বিতীয়ত, পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বশীল তদারকি জোরদার করতে হবে, যাতে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ থাকে।

তৃতীয়ত, খাতা মূল্যায়নে স্বচ্ছতা ও কঠোরতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ না করলে শিক্ষার গুণগত মান ধরে রাখা সম্ভব নয়।

চতুর্থত, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মান উন্নয়নে নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালু করতে হবে। বাস্তবতা হলো, অনেক ক্ষেত্রেই শ্রেণিকক্ষের শিক্ষাদান কাঙ্ক্ষিত মানে পৌঁছাতে পারছে না, যার প্রভাব সরাসরি পরীক্ষার ফলাফলে পড়ছে।

এর পাশাপাশি শিক্ষকদের আর্থিক ও পেশাগত প্রণোদনা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন অনুপ্রাণিত শিক্ষকই একটি মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি।

নতুন কারিকুলাম নিয়ে নানা বিতর্ক থাকলেও এর ইতিবাচক দিকও রয়েছে। বিশেষ করে গণিতসহ কিছু বিষয়ের বই যথেষ্ট আধুনিক ও সমৃদ্ধ হয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে নম্বরভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি হঠাৎ করে বাতিল করার সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি পরিমাপের একটি কার্যকর মাধ্যমকে দুর্বল করে দিয়েছে। উন্নত পাঠ্যবই ও নম্বরভিত্তিক মূল্যায়নের সমন্বয় ঘটানো গেলে শিক্ষার মান আরও উন্নত হতে পারত।

নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নে যে সমস্যাগুলো স্পষ্ট হয়েছে, সেগুলোও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই—

– তড়িঘড়ি করে বাস্তবায়ন, যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবক কেউই প্রস্তুত ছিল না

– সব শ্রেণি ও বিষয়ে একযোগে পরিবর্তন আনার অযৌক্তিকতা

– মূল্যায়ন কাঠামোর হঠাৎ পরিবর্তনে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্তি

শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। এটি চাপিয়ে দেওয়া যায় না; বরং সময় নিয়ে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে হয়। অতীতে সৃজনশীল পদ্ধতি ধাপে ধাপে চালু হওয়ায় তা সহজে গ্রহণযোগ্য হয়েছিল। নতুন কারিকুলামের ক্ষেত্রেও যদি একই কৌশল অনুসরণ করা হতো, তাহলে হয়তো আজকের চিত্র ভিন্ন হতে পারত।

সবশেষে বলা যায়, শুধুমাত্র নকল দমন দিয়ে শিক্ষার গুণগত উন্নয়ন সম্ভব নয়। প্রয়োজন একটি সমন্বিত, বাস্তবভিত্তিক ও ধীরস্থির পরিকল্পনা, যেখানে মূল্যায়নের ন্যায্যতা, শিক্ষার মান এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সক্ষমতা—সবকিছুকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে।

নইলে ‘নকলমুক্ত পরীক্ষা’ অর্জন হলেও ‘মানসম্মত শিক্ষা’ অধরাই থেকে যাবে।

লেখক:

সহকারী শিক্ষক (গণিত),

পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ফরিদপুর।

সাংবাদিক :

দৈনিক আজকালের খবর ও বিডি২৪লাইভ.কম।

টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় তারেক রহমান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৩২ অপরাহ্ণ
টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় তারেক রহমান

খ্যাতনামা মার্কিন সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিনের প্রকাশিত বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় স্থান পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) ২০২৬ সালের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকা প্রকাশ করেছে টাইম।

ম্যাগাজিনে তারেক রহমানকে নিয়ে মুখবন্ধটি লিখেছেন টাইমের সিঙ্গাপুর ব্যুরো অফিসের সম্পাদক ও ভূ-রাজনীতি বিশেষজ্ঞ চার্লি ক্যাম্পবেল।

মুখবন্ধে বলা হয়, মাত্র কয়েক মাস আগেও তারেক রহমান সবুজে ঘেরা লন্ডনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালে বাংলাদেশের স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হলে ৫৭ বছর বয়সী এই রাজনৈতিক উত্তরসূরি বিরোধী আন্দোলনের কর্মী থেকে সম্ভাব্য জাতীয় নেতায় পরিণত হন। এই নিয়তি তিনি ফেব্রুয়ারিতে বাস্তবে রূপ দেন, ১৭ বছর মাতৃভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার পর নির্বাচন ভূমিধস জয়ের মাধ্যমে।

এই বিজয়ের মাধ্যমে তারেক রহমান তার মা খালেদা জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করেন। খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমান ঢাকায় ফেরার মাত্র পাঁচ দিন পরই মারা যান খালেদা জিয়া। জানুয়ারিতে টাইমের সঙ্গে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময়ও তিনি শোকাহত ছিলেন। তবে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, এই শোককে কাজে লাগিয়ে ১৭ কোটি মানুষের দেশকে ঐক্যবদ্ধ করবেন এবং দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিকে আবারও গতিশীল করে তুলবেন। বাংলাদেশ বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও যুব বেকারত্বে জর্জরিত। পাশাপাশি আঞ্চলিক পরাশক্তি ভারতের সঙ্গে সম্পর্কও ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। এসব সমস্যার দ্রুত সমাধান জরুরি।

এতে আরও বলা হয়, শূন্য দশকের দুর্নীতির অভিযোগগুলো (যদিও পরে আদালত সেগুলো খারিজ করেছে) তার সম্ভাব্য ‘হানিমুন পিরিয়ড’-কে অন্যদের তুলনায় সংক্ষিপ্ত করে দিতে পারে। তবে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক অঙ্গনের বাইরে থাকার পর তিনি আর সময় নষ্ট করতে চান না। তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে, ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, যাতে মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পায়।’

১০০ প্রভাবশালী তালিকায় আরও আছেন গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই, পোপ লিও চতুর্দশ, ভারতের অভিনেতা রণবীর কাপুর, অভিনেত্রী ডকোটা জনসন, ইরানের চলচ্চিত্র পরিচালক জাফর পানাহি, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি, ডোনাল্ড ট্রাম্প, শি জিনপিং প্রমুখ।

সূত্র : ডেইলি স্টার

ফরিদপুরে বর্জ্য থেকেই জ্বালানি ও সম্পদ—সম্ভাবনা দেখলেন ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বর্জ্য থেকেই জ্বালানি ও সম্পদ—সম্ভাবনা দেখলেন ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার

ফরিদপুর পৌরসভার বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার। পরিদর্শন শেষে তিনি এ খাতকে আধুনিক ও কার্যকরভাবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে জাতীয় পর্যায়ে একটি বড় সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে তুলে ধরেন।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকাল ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত তিনি পৌরসভার নির্ধারিত বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ এলাকা ঘুরে দেখেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কার্যক্রমের বিস্তারিত অগ্রগতি, প্রযুক্তি ব্যবহার ও উৎপাদিত পণ্যের বিষয়ে ধারণা নেন। পরিদর্শন শেষে সেখানে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিন, ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সোহরাব হোসেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছাসহ দলীয় নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সংবাদ সম্মেলনে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, দেশের অধিকাংশ জেলায় অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখন একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ বাড়ছে, অন্যদিকে কৃষিজমির উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাচ্ছে। নদী-নালা ও খালে বর্জ্য মিশে পানি দূষিত হচ্ছে, যার ফলে মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে এবং জনস্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

তিনি আরও বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব। ফরিদপুরে বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে ডিজেল উৎপাদনের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। এই জ্বালানি কৃষিকাজে, বিশেষ করে পাওয়ার টিলারসহ বিভিন্ন যন্ত্র চালাতে ব্যবহার করা যাচ্ছে। তবে এটি ভারী যানবাহনের জন্য উপযোগী নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এছাড়া বর্জ্য থেকে জৈব সার, নির্মাণসামগ্রী, টাইলস, এমনকি আসবাবপত্র তৈরির বিষয়টিও সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণ কমবে, অন্যদিকে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মনে করেন তিনি।

ড. হায়দার বলেন, “বর্জ্যকে সমস্যা না ভেবে সম্পদ হিসেবে দেখার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ খাতে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।”

পরিদর্শন শেষে তিনি সার্বিক কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এই প্রকল্পকে আরও বিস্তৃত ও প্রযুক্তিনির্ভর করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য জেলাতেও এ ধরনের উদ্যোগ ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।