খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরের ভাষা সৈনিকদের নেই পূর্ণাঙ্গ তালিকা, হারাচ্ছে ইতিহাস, রক্ষায় নেই উদ্যোগ

হারুন-অর-রশীদ ও এস.এম. মাসুদুর রহমান তরুন, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৫৯ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরের ভাষা সৈনিকদের নেই পূর্ণাঙ্গ তালিকা, হারাচ্ছে ইতিহাস, রক্ষায় নেই উদ্যোগ

মাতৃভাষা বাংলার জন্য ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়। এই আন্দোলনের বীর শহীদদের নাম—সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার—জাতীয়ভাবে স্মরণ করা হলেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অসংখ্য ত্যাগী ভাষা সৈনিক আজও অজানাই রয়ে গেছেন। তেমনি এক বিস্মৃত অধ্যায়ের নাম ফরিদপুরের ভাষা সৈনিকরা। তাদের অবদান ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে সময়ের স্রোতে, আর নতুন প্রজন্ম জানতেই পারছে না নিজ জেলার এই বীরত্বগাথা।

ফরিদপুরে ভাষা আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা আজও তৈরি হয়নি। স্থানীয় গবেষক, প্রবীণ নাগরিক ও সচেতন মহল বলছেন, সরকারি বা বেসরকারি কোনো উদ্যোগেই এখনো এই ইতিহাস সংরক্ষণের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে একসময় যারা ঢাকার রাজপথ কাঁপানো আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন কিংবা জেলার বিভিন্ন স্থানে ভাষার দাবিতে প্রতিবাদ গড়ে তুলেছিলেন, তাদের স্মৃতিচিহ্ন আজ প্রায় বিলীন।

বিস্মৃতির আড়ালে ফরিদপুরের বীরেরা:

ফরিদপুরের ভাষা সৈনিকদের স্মৃতি এখন মূলত শহরের দু-একটি সড়কের নাম, কিছু স্মৃতিফলক এবং জেলা জাদুঘরের কয়েকটি ছবির ফ্রেমে সীমাবদ্ধ। অথচ এই জেলার অনেক তরুণই ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ফরিদপুর শহরের সন্তান ডা. মোহাম্মদ জাহেদ ১৯৪৮ সালের জানুয়ারি থেকেই ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। সে সময় তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। পরে ১৯৫২-৫৩ সালে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় সংগ্রাম পরিষদের সক্রিয় সদস্য ছিলেন।

একইভাবে ফরিদপুর শহরের ঝিলটুলীর বাসিন্দা ডা. ননী গোপাল সাহা ১৯৫২ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। ২১ ফেব্রুয়ারির সেই ঐতিহাসিক সকালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের আমতলায় ছাত্র-জনতার সমাবেশে যোগ দেন এবং মিছিলে অংশ নেন। সেই মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে বহু মানুষ আহত হন, শহীদ হন অনেকে। এই ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী ছিলেন ফরিদপুরের আরেক কৃতি সন্তান অ্যাডভোকেট এ.কে.এম. শামসুল বারী (মিয়া মোহন)।

তিনি নিজেও আহত হন, তবুও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে তিনি শহীদ আবদুল বরকতকে কাঁধে তুলে ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। ভাষার জন্য জীবন বাজি রাখা এই সাহসিকতার গল্প আজ প্রায় বিস্মৃত।

জেলার আরও ভাষা সৈনিক:

ফরিদপুরের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ঘাঁটলে আরও অনেক নাম উঠে আসে। তাদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক আবদুল গফুর, মহিউদ্দিন আহমেদ, ইমাম উদ্দিন আহমেদ, রওশন জামাল খান, এজহারুল হক সূর্য মিয়া, সাংবাদিক লিয়াকত হোসেন, সামসুদ্দিন মোল্যা, মনোয়ার হোসেন, এস.এম. নুরুন্নবীসহ আরও অনেকে।

তাদের কেউ সরাসরি ঢাকায় আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন, কেউবা ফরিদপুরে সংগঠিত করেছেন প্রতিবাদ, মিছিল ও জনমত। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাদের জীবনী, অবদান বা সংগ্রামের পূর্ণাঙ্গ কোনো দলিল আজও সংরক্ষিত হয়নি।

ফরিদপুরেও হয়েছিল প্রতিবাদ:

অনেকে মনে করেন ভাষা আন্দোলন কেবল ঢাকাকেন্দ্রিক ছিল, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুরেও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল। সে সময় ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাজেন্দ্র কলেজের শিক্ষার্থীরা মিছিল বের করেন। মিছিলটি জেলা স্কুল হয়ে থানা রোড ও জেলখানার সামনে গেলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এতে কয়েকজন আহত হন এবং দু-একজনকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানা যায়।

এই ঘটনাগুলোই প্রমাণ করে যে, ভাষার দাবিতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও মানুষ একযোগে প্রতিবাদে নেমেছিল। অথচ সেই ইতিহাস এখন পাঠ্যবই বা গবেষণায় খুব একটা জায়গা পায় না।

নতুন প্রজন্ম জানে না নিজেদের ইতিহাস:

ফরিদপুরের তরুণদের বড় একটি অংশ নিজ জেলার ভাষা সৈনিকদের নামই জানে না। এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকরা।

ভাষা সৈনিক সাংবাদিক লিয়াকত হোসেনের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন রনি বলেন, “মাতৃভাষার জন্য যারা জীবন বাজি রেখেছেন, তাদের স্মরণ করা আমাদের দায়িত্ব। ফরিদপুরের ভাষা সৈনিকদের স্মৃতি সংরক্ষণে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে একটি স্থায়ী স্মৃতিফলক নির্মাণ করা জরুরি। একুশে বইমেলায় তাদের স্মৃতিগাথা তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।”

গণমাধ্যমকর্মী ও নাগরিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক পান্না বালা বলেন, “ঢাকার পাশাপাশি ফরিদপুরেও ভাষা আন্দোলনের জোয়ার ছিল। রাজেন্দ্র কলেজের শিক্ষার্থীরা সংগঠিত হয়ে বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে সচেতনতা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু তাদের অবদান সেভাবে স্বীকৃতি পায়নি। অনেকের নামে রাস্তার নাম থাকলেও সেখানে ‘ভাষা সৈনিক’ পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “ডা. ননী গোপাল সাহার বাড়ির সামনে যে নামফলক ছিল, সেটিও এখন আর দেখা যায় না। আমরা যদি আমাদের বীর সন্তানদের ভুলে যাই, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অনুপ্রাণিত হবে কীভাবে?”

গবেষণা ও সংরক্ষণে ঘাটতি:

স্থানীয় ইতিহাসবিদ ও সংস্কৃতিকর্মীরা মনে করেন, ফরিদপুরের ভাষা সৈনিকদের নিয়ে এখনও কোনো বিস্তৃত গবেষণা হয়নি। ফলে অনেক তথ্য হারিয়ে গেছে, অনেক নাম অজানা রয়ে গেছে।

ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মফিজ ইমাম মিলন জানান, নব্বইয়ের দশকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জেলা শাখার উদ্যোগে কয়েকজন ভাষা সৈনিককে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই উদ্যোগ ধারাবাহিকতা পায়নি।

তার মতে, এখনই যদি উদ্যোগ নেওয়া না হয়, তাহলে খুব শিগগিরই এই ইতিহাস পুরোপুরি হারিয়ে যাবে।

শিক্ষার্থীদের দাবি:

বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীরাও ভাষা সৈনিকদের স্মরণে কার্যকর উদ্যোগ দেখতে চান। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থী আবরার নাদিম ইতু বলেন, “আমরা আমাদের জেলার ভাষা সৈনিকদের সম্পর্কে তেমন কিছুই জানি না। তাদের নাম, ঠিকানা, অবদান—কিছুই সংরক্ষিত হয়নি। অথচ তাদের ত্যাগের কারণেই আমরা বাংলায় কথা বলতে পারছি।”

তিনি বলেন, “স্মৃতিফলক নির্মাণ, বইমেলায় বিশেষ স্টল এবং ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরি করা জরুরি।”

শিক্ষার্থী জেবা তাহসিন বলেন, “শুধু সড়কের নামকরণে সীমাবদ্ধ না থেকে স্কুল-কলেজে তাদের নিয়ে আলোচনা, কুইজ, রচনা প্রতিযোগিতা আয়োজন করা যেতে পারে। এমনকি শ্রেণীকক্ষ বা হোস্টেলের নামও ভাষা সৈনিকদের নামে রাখা যেতে পারে।”

করণীয় কী?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফরিদপুরের ভাষা সৈনিকদের ইতিহাস সংরক্ষণে জরুরি ভিত্তিতে কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন—

ভাষা সৈনিকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন

মৌখিক ইতিহাস সংগ্রহ করে ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরি

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে স্মৃতিফলক নির্মাণ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্থানীয় ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করা

একুশে বইমেলায় ভাষা সৈনিকদের স্মৃতি তুলে ধরা

– গবেষণা ও প্রকাশনার উদ্যোগ গ্রহণ

ইতিহাস বাঁচানোর আহ্বান:

ভাষা আন্দোলন শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, এটি বাঙালির আত্মপরিচয়ের ভিত্তি। সেই আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের অবদানই এই সংগ্রামকে শক্তিশালী করেছে। ফরিদপুরের ভাষা সৈনিকদের অবদানও সেই ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

কিন্তু যথাযথ সংরক্ষণ ও স্বীকৃতির অভাবে তাদের স্মৃতি আজ হারিয়ে যাওয়ার পথে। এখনই যদি উদ্যোগ নেওয়া না হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের সম্পর্কে জানার সুযোগ হারাবে।

জেলাবাসীর দাবি—ফরিদপুরের ভাষা সৈনিকদের ইতিহাস নতুন করে তুলে ধরতে হবে, সংরক্ষণ করতে হবে এবং সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করতে হবে। কারণ, যে জাতি তার বীর সন্তানদের ভুলে যায়, সে জাতি কখনোই সামনে এগিয়ে যেতে পারে না।

খাল খনন শেষে ৭৩ লাখ টাকা বাঁচিয়ে সরকারি কোষাগারে ফেরালেন সালথার ইউএনও

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ
খাল খনন শেষে ৭৩ লাখ টাকা বাঁচিয়ে সরকারি কোষাগারে ফেরালেন সালথার ইউএনও

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, অপচয় কিংবা অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ প্রায়ই আলোচনায় আসে। কিন্তু সেই প্রচলিত চিত্রের বাইরে গিয়ে ফরিদপুরের সালথা উপজেলা প্রশাসন গড়েছে এক ব্যতিক্রমী নজির। উপজেলার তিনটি খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত মান বজায় রেখে সম্পন্ন করার পর অব্যয়িত ৭৩ লাখ ৩৬ হাজার ৩৬৫ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

সরকারি অর্থের সাশ্রয়ী ব্যবহার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার এই উদ্যোগের নেতৃত্বে ছিলেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন। প্রশাসনের এই পদক্ষেপ ইতোমধ্যে স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আটঘর, রামকান্তপুর ও সোনাপুর ইউনিয়নের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখননের জন্য মোট ১ কোটি ৬৭ লাখ ৪৯ হাজার ৪০৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় মোট ৪ দশমিক ৫৩৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য ছিল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষিজমির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমানো এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা।

প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। পরে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে কাজের মান ও অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়নের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিয়মিত তদারকি করা হয়েছে। বিশেষ করে ইউএনও দবির উদ্দিন ব্যক্তিগতভাবে একাধিকবার প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন।

কাজের গুণগত মান, ব্যয়ের যৌক্তিকতা এবং সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

প্রায় তিন মাসব্যাপী খননকাজ শেষে শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতি ব্যবহার, পরিবহন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়সহ সব বিল পরিশোধ করা হয়। এরপরও ৭৩ লাখ ৩৬ হাজার ৩৬৫ টাকা অব্যয়িত থাকে। সরকারি আর্থিক বিধিমালা অনুসরণ করে সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) একাধিক সদস্য বলেন, শুরু থেকেই ইউএনও দবির উদ্দিন প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখেছেন। নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন, কাজের মান যাচাই এবং ব্যয়ের প্রতিটি খাত পর্যবেক্ষণের কারণে কোনো ধরনের অপচয় বা অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়নি। ফলে নির্ধারিত মান অক্ষুণ্ন রেখেই কম ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে খালগুলো ভরাট হয়ে থাকায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচের জন্য পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যেত না। পুনঃখননের ফলে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হবে, কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্যও রক্ষা পাবে। পাশাপাশি মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থল পুনরুদ্ধার হওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা আশা করছেন।

সালথা উপজেলার বাসিন্দা আরমান মাতুব্বর ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, “সরকারি প্রকল্পে কাজ শেষ হওয়ার পর টাকা ফেরত গেছে—এমন ঘটনা আমরা খুব একটা শুনি না। ইউএনও দবির উদ্দিন দেখিয়ে দিয়েছেন, সততা ও আন্তরিকতা থাকলে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করা সম্ভব। আমরা এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।”

একই উপজেলার আনোয়ার মোল্যা বলেন, “খাল পুনঃখননের কাজও ভালো হয়েছে, আবার সরকারের অনেক টাকাও বেঁচেছে। এতে সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বেড়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা চাইলে যে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করা যায়, সালথার এই উদ্যোগ তার বড় উদাহরণ।”

সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মো. আছাদ মাতুব্বর ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “রাজনীতি যার যার জায়গায় থাকলেও ভালো কাজের প্রশংসা করতেই হবে। সরকারি অর্থ জনগণের সম্পদ। সেই অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে অব্যয়িত টাকা কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত অবশ্যই প্রশংসনীয়। এমন উদ্যোগ অন্য উপজেলাগুলোর জন্যও অনুসরণীয় হতে পারে।”

সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খন্দকার খায়রুল বাসার আজাদ ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হলে উন্নয়নের সুফল জনগণ পায়। সালথা উপজেলা প্রশাসন যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা সত্যিই ইতিবাচক। ভবিষ্যতেও এ ধরনের স্বচ্ছ প্রশাসনিক চর্চা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশা করি।”

সালথা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “সরকারি প্রকল্পে ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেওয়ার সংস্কৃতি শক্তিশালী হলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জনগণের আস্থা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে সরকারি অর্থের অপচয় রোধে এটি অন্য প্রশাসনিক ইউনিটগুলোর জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”

সালথা প্রেসক্লাবের সভাপতি নুরুল ইসলাম নাহিদ ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে কাজের মান অক্ষুণ্ন রেখে অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার ঘটনা সত্যিই প্রশংসনীয়। এটি প্রমাণ করে, সৎ ও দক্ষ প্রশাসনিক নেতৃত্ব থাকলে জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব। ইউএনও দবির উদ্দিনের নেতৃত্বে সালথা উপজেলা প্রশাসন যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা শুধু সালথা নয়, দেশের অন্যান্য প্রশাসনিক ইউনিটের জন্যও অনুসরণীয় হতে পারে। এ ধরনের উদ্যোগ সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি করবে।”

এ বিষয়ে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, “সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। এই অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। আমরা প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে মান বজায় রেখে প্রয়োজনীয় ব্যয় করেছি। কাজ শেষ হওয়ার পর যে অর্থ অবশিষ্ট ছিল, সরকারি বিধি অনুযায়ী তা কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের কল্যাণে বরাদ্দকৃত প্রতিটি টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাই প্রশাসনের অঙ্গীকার। ভবিষ্যতেও স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, যেখানে প্রায়ই সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, অতিরিক্ত ব্যয় কিংবা দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, সেখানে সালথা উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত। শুধু অর্থ সাশ্রয়ই নয়, সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় সততা, দক্ষতা ও জবাবদিহিতার যে উদাহরণ তৈরি হয়েছে, তা অন্য প্রশাসনিক ইউনিটগুলোর জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন তারা।

ফরিদপুরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের শিক্ষকদের মতবিনিময় সভা, দুই প্রকল্প রাজস্ব খাতে নেওয়ার দাবি

মো. সাখাওয়াত হোসেন, ফরিদপুর
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৮:৩৮ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের শিক্ষকদের মতবিনিময় সভা, দুই প্রকল্প রাজস্ব খাতে নেওয়ার দাবি

ইসলামিক ফাউন্ডেশন ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে ‘দারুল আরকাম ইসলামী শিক্ষা পরিচালনা ও সুসংহতকরণ প্রকল্প’ এবং ‘নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’ প্রকল্পের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অংশগ্রহণে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুর জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে দুই প্রকল্পের বর্তমান কার্যক্রম, শিক্ষার মানোন্নয়ন, ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে শিক্ষকদের ভূমিকা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মাদ ইয়াছিন মোল্যার সভাপতিত্বে এবং কম্পিউটার অপারেটর মো. ইউনুস মণ্ডলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।

বক্তারা বলেন, দারুল আরকাম ইসলামী শিক্ষা পরিচালনা ও সুসংহতকরণ প্রকল্প এবং মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম দেশের ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তার, নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা এবং শিশুদের আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এসব প্রকল্পে কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকারা দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলেও প্রকল্পভিত্তিক হওয়ায় তাদের চাকরির স্থায়িত্ব ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

এ সময় বক্তারা প্রধান অতিথির মাধ্যমে দুই প্রকল্পকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উপস্থাপনের আহ্বান জানান এবং সংসদে বিষয়টি উত্থাপনের অনুরোধ করেন।

জবাবে সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ শিক্ষকদের আশ্বস্ত করে বলেন, “আমাদের পরিবারের কাজ ইসলামকে সমুন্নত রাখা।” তিনি আরও বলেন, “আমি সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মানুষের জন্য কাজ করি। শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করব।”

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইসলামিক ফাউন্ডেশন ফরিদপুর জেলার ফিল্ড অফিসার মো. রাসেল, মাস্টার ট্রেইনার মাওলানা রুহুল আমিন রহমানী, ফরিদপুর মুসলিম মিশনের সম্পাদক ও তমুদ্দুন মজলিস বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি প্রফেসর এম. এ. সামাদ, যশোর শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর এবিএম আব্দুস সাত্তার এবং ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. রেজাউল ইসলাম।

এ ছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদ্রাসা ও মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষক-শিক্ষিকা, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে বাংলাদেশ দারুল আরকাম শিক্ষক কল্যাণ সমিতি, ফরিদপুর জেলা শাখার পক্ষ থেকে উপস্থিত সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।

পরে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন ফরিদপুর জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা মো. তবীবুর রহমান।

দুই কিডনি অকেজো, থেমে যাচ্ছে ৩৩ বছর বয়সী সুমনের জীবনের গল্প!

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪৫ পূর্বাহ্ণ
দুই কিডনি অকেজো, থেমে যাচ্ছে ৩৩ বছর বয়সী সুমনের জীবনের গল্প!

একসময় ছিলেন সংবাদকর্মী। মানুষের সুখ-দুঃখ, অন্যায়ের প্রতিবাদ আর এলাকার নানা ঘটনার খবর পৌঁছে দিতেন সবার কাছে। পরে জীবনের স্বপ্ন বদলে যায়। ইউটিউবকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলেন নতুন এক পথচলা। দিনের পর দিন, রাতের পর রাত পরিশ্রম করে নিজের জগতে ডুবে থাকতেন। ধীরে ধীরে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেন। অনেকেই ভাবতেন, হয়তো কাজের ব্যস্ততায় সময় পান না। কেউ কেউ বলতেন, ইউটিউব থেকেই মাসে লাখ টাকা আয় করেন, তাই আর আগের মতো মেলামেশা হয় না।

কিন্তু কেউ জানতেন না, সেই নীরবতার আড়ালে একদিন এমন ভয়ংকর বাস্তবতা অপেক্ষা করছে।

ফরিদপুরের সালথা উপজেলা সদরের বাসিন্দা মো. সুমন। বয়স মাত্র ৩৩ বছর। বাবা মো. শাহজাহান ফকির, যিনি একসময় সালথা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্য ছিলেন। বাবার পথ ধরেই সুমনও সাংবাদিকতায় যুক্ত হন। ঢাকা থেকে ডিগ্রি শেষ করে এলাকায় ফিরে দৈনিক সকালের সময় পত্রিকার সালথা উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ শুরু করেন। পাশাপাশি ইউটিউব কনটেন্ট তৈরিতে নিজেকে ব্যস্ত করে তোলেন। ২০২০ সালে সালথা প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরে গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক কিছু নিয়মের কারণে বাবা-ছেলে দু’জনেরই সদস্যপদ আর থাকেনি। তবুও সাংবাদিকতার প্রতি ভালোবাসা কখনো পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি।

যারা সুমনকে কাছ থেকে চিনতেন, তারা বলেন—তিনি ছিলেন অত্যন্ত নম্র, ভদ্র ও বিনয়ী একজন মানুষ। কারও সঙ্গে বিরোধ নয়, সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করতেন। হাসিমুখে কথা বলা, মানুষের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানো—এসবই ছিল তার স্বভাব।

এরপর হঠাৎ করেই তিনি যেন হারিয়ে গেলেন সবার চোখের আড়ালে। দুই-তিন বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেই, বন্ধুদের সঙ্গে নেই, সহকর্মীদের সঙ্গেও নেই। সবাই ভেবেছিল, হয়তো নতুন স্বপ্ন নিয়ে ব্যস্ত আছেন। কিন্তু বাস্তবতা ছিল আরও নির্মম।

শনিবার (১১ জুলাই) সুমনের বাবা শাহজাহান ফকির যখন কাঁপা কণ্ঠে বললেন, “আমার ছেলেটা ভালো নেই”, তখন যেন বুকের ভেতরটা হাহাকার করে উঠল।

জানা গেল, প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে চিকিৎসকদের পরীক্ষায় ধরা পড়ে—সুমনের দুটি কিডনিই প্রায় সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে গেছে। সেই থেকে শুরু হয় জীবন বাঁচানোর লড়াই। নিয়মিত চিকিৎসা, দামি ওষুধ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম—সব মিলিয়ে প্রতি মাসেই প্রয়োজন হচ্ছে প্রায় এক লাখ টাকা। ইতোমধ্যে চিকিৎসার পেছনে ব্যয় হয়েছে প্রায় আট লাখ টাকা। কিন্তু সেই লড়াই এখন থমকে দাঁড়িয়েছে অর্থের অভাবে।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, সুমনকে বাঁচাতে হলে দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হবে। আর এই চিকিৎসায় প্রয়োজন প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা—যা একটি মধ্যবিত্ত তো দূরের কথা, অনেক সচ্ছল পরিবারের পক্ষেও জোগাড় করা কঠিন।

একজন অসহায় বাবা যখন নিজের সন্তানের দিকে তাকিয়ে কিছুই করতে পারেন না, তখন সেই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।

শাহজাহান ফকির কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। বিক্রি করার মতো তেমন কোনো সম্পত্তিও নেই। চিকিৎসা চালাতে চালাতে যা ছিল, তাও শেষ হয়ে গেছে। টাকার অভাবে এখন চিকিৎসাও বন্ধ হওয়ার উপক্রম। আমার ছেলেটা ছটফট করে। ওর দিকে তাকালে বুকটা ভেঙে যায়। কিন্তু আমি একজন বাবা হয়েও কিছু করতে পারছি না। মাঝেমধ্যে নিজেকেই খুব অসহায় মনে হয়। আহারে জীবন!”

সুমনের ব্যক্তিগত জীবনও ছোট্ট অথচ স্বপ্নে ভরা। তার আয়ান নামে ছয় বছরের একটি ছেলে রয়েছে। বাবার অসুস্থতা হয়তো সে পুরোপুরি বোঝে না, কিন্তু প্রতিদিন বাবাকে কষ্ট পেতে দেখে নিশ্চয়ই বুঝতে শেখছে—জীবন কত কঠিন হতে পারে। একজন শিশুর সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা তার বাবা। সেই বাবাকেই যদি মৃত্যুর সঙ্গে লড়তে হয়, তবে সেই পরিবারের যন্ত্রণা কল্পনাও করা কঠিন।

একসময় যিনি মানুষের খবর তুলে ধরতেন, আজ তিনিই মানুষের সহানুভূতি আর ভালোবাসার অপেক্ষায়। যে মানুষটি নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্নে ব্যস্ত ছিলেন, আজ তার একমাত্র স্বপ্ন—আরও কিছুদিন বেঁচে থাকা, নিজের সন্তানকে বড় হতে দেখা, পরিবারের পাশে ফিরে দাঁড়ানো।

সমাজে অনেক হৃদয়বান মানুষ আছেন, অনেক প্রতিষ্ঠান আছেন, যারা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। সবার সামান্য সহযোগিতাও কখনো কখনো একটি জীবন বাঁচিয়ে দিতে পারে। হয়তো কারও এক দিনের ব্যয়, কারও একটি ছোট অনুদান, কারও একটি মানবিক সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে নতুন করে বেঁচে থাকার সুযোগ এনে দিতে পারে সুমনের জন্য।

জীবন বড় অদ্ভুত। আজ যে মানুষটি অন্যের গল্প লিখতেন, আজ তার নিজের জীবনই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বেদনাদায়ক গল্প। এই গল্পের শেষটা যেন মৃত্যু দিয়ে না হয়—এই প্রত্যাশাই সবার।

যদি কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন বা দানশীল প্রতিষ্ঠান সুমনের চিকিৎসায় সহযোগিতা করতে চান, তাহলে যোগাযোগ করতে পারেন তার বাবা মো. শাহজাহান ফকিরের সঙ্গে।

যোগাযোগ: ০১৭১৩-৫১৭৪৪৮ (বাবা)
অথবা প্রতিবেদক: ০১৭৪৪৪৮৫৩০০

হয়তো আপনার একটি সহযোগিতাই ফিরিয়ে দিতে পারে একটি ছয় বছরের শিশুর বাবাকে, একজন অসহায় মায়ের সন্তানকে এবং একজন ভেঙে পড়া বাবার মুখের হারিয়ে যাওয়া হাসিটুকু।

লেখক: সংবাদকর্মী, ফরিদপুর।