খুঁজুন
, ,

গণভোট অধ্যাদেশ ল্যাপস হয়ে গেছে, গণভোটের কার্যকারিতাও শেষ: আইনমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৯:২৭ অপরাহ্ণ
গণভোট অধ্যাদেশ ল্যাপস হয়ে গেছে, গণভোটের কার্যকারিতাও শেষ: আইনমন্ত্রী

বিশেষ কমিটির পর্যালোচনার পর ‘আপাতত’ ১৩৩টি অধ্যাদেশের কোনোটিই চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তবে ‘গণভোট অধ্যাদেশ’-এর বর্তমান আইনি অবস্থান নিয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি সুস্পষ্ট করে তিনি বলেছেন, ‘গণভোট অধ্যাদেশ তো ল্যাপস (তামাদি) হয়ে গেছে বা ইনফ্যাকচুয়াস (অকার্যকর) হয়ে গেছে। এর তো আর কার্যকারিতাই নেই। ওইটির অধীনে একটি গণভোট হয়েছিল, সেটির কার্যকারিতাও শেষ। আমরা বিষয়টিকে সেভাবেই দেখছি।’

রোববার (২৯ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনে বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সরকার সরাসরি বাতিলের পথে না হেঁটে একটি নিয়মতান্ত্রিক আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘১৩৩টি আইনের ওপর আমাদের বিশেষ কমিটির বিস্তারিত আলোচনার পর আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, কোনো আইনই চূড়ান্তভাবে বাতিল হবে না। আমরা এগুলোকে আরও যাচাই-বাছাই করে, স্টেকহোল্ডারদের (অংশীজন) সঙ্গে কথা বলে ফ্রেশ (নতুন) বিল আকারে পার্লামেন্টে আনব।’

আইন প্রণয়ন, সংশোধন বা বাতিলের সাংবিধানিক ও সংসদীয় রীতির বিষয়টিও মন্ত্রীর ব্রিফিংয়ে উঠে আসে। আইনগুলো কবে নাগাদ চূড়ান্ত হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে আগামী ২ তারিখের মধ্যে বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন দেওয়ার কথা জানান আইনমন্ত্রী। পুরো প্রক্রিয়াটি ৩০ দিনের মধ্যে শেষ করার বিষয়ে আশ্বস্ত করে আইনি কাঠামোর ধাপগুলো তিনি তুলে ধরেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো এই আইনগুলোকে বিল আকারে ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। আইন মন্ত্রণালয় সেটি ভেটিং করার পর আমরা পার্লামেন্টে তুলব। এরপর পার্লামেন্ট সিদ্ধান্ত নেবে।’

যেসব বিল শেষ পর্যন্ত সংসদ অনুমোদন করবে না, সেগুলোর আইনি পরিণতি কী হবে, সে প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, “যেগুলো আমরা পাস করব না, সেগুলো ল্যাপস (তামাদি) হয়ে যাবে।” তবে ঠিক কয়টি আইন বা বিল যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পাঠানো হচ্ছে কিংবা শেষ পর্যন্ত কতগুলো বাতিল হতে পারে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা উল্লেখ করেননি তিনি। এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দেন আইনমন্ত্রী।

বিদ্যমান বিতর্কিত আইনগুলোর মধ্যে ‘সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট’ এবং নতুন সংস্কারের অংশ হিসেবে ‘পুলিশ কমিশন’ গঠনের বিষয়ে জনপরিসরে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে। এসব বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী তাৎক্ষণিক বা সরাসরি কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন। তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, আইনি ও কাঠামোগত এই বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য ও দিকনির্দেশনা থাকবে।

সূত্র : বাংলা স্ট্রিম

ফরিদপুরে ইতালি প্রবাসীর বাড়িতে তালা, বৃদ্ধ মাকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ

নগরকান্দা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে ইতালি প্রবাসীর বাড়িতে তালা, বৃদ্ধ মাকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় ইতালি প্রবাসী এক ব্যক্তির বসতবাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ, ভাঙচুর, বাড়ি দখল করে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া এবং তার বৃদ্ধ মাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনাটি শুক্রবার (৩ জুলাই) উপজেলার চরযশোরদি ইউনিয়নে পৌলানপুটি গ্রামে ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা খুলে বাড়িটি পরিবারের জিম্মায় বুঝিয়ে দেয়।

অভিযোগে জানা যায়, ইতালি প্রবাসী জাহিদ শেখের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার কাসালিয়া গ্রামের শাহিদুল মল্লিকের ছেলে নাসিম মল্লিকের বিদেশে পাঠানোকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেন হয়। নাসিম মল্লিকের দাবি, ইতালিতে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে জাহিদ শেখ চুক্তিপত্রের মাধ্যমে তার কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা নেন। পরে বিদেশে পাঠাতে ব্যর্থ হলেও দীর্ঘদিন টাকা ফেরত দেননি। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি তার।

এদিকে জাহিদ শেখের পরিবারের অভিযোগ, ওই বিরোধের জেরে শুক্রবার নাসিম মল্লিক দলবল নিয়ে তাদের বাড়িতে এসে সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করেন। এরপর জাহিদের মা দুলু বেগমকে জোরপূর্বক ঘর থেকে বের করে দিয়ে বাড়ির বিভিন্ন কক্ষে একাধিক তালা ঝুলিয়ে দেন। এ সময় তাকে মারধর, গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

দুলু বেগম বলেন, “ওরা দলবল নিয়ে এসে আমাকে ঘর থেকে বের করে দেয়। আমাকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেয়। এরপর আমার ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেয়। বিষয়টি আমি আমার ছেলেকে জানাই। পরে সে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে তালা খুলে দেয়।”

ইতালি থেকে মুঠোফোনে জাহিদ শেখ বলেন, “নাসিমের কাছ থেকে বিদেশে পাঠানোর জন্য টাকা নিয়েছিলাম। তাকে পাঠাতে না পারায় টাকা ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই সুযোগ না দিয়ে তারা আমার বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা করেছে, সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করেছে এবং আমার মায়ের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। আমি এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

অভিযুক্ত নাসিম মল্লিক বসতবাড়ি দখলের অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, “বিদেশে পাঠানোর জন্য টাকা দিয়েছিলাম। কথা ছিল বিদেশে পাঠাতে না পারলে বাড়ি আমাকে দিয়ে দেবে। সেই কারণে আমি বাড়িতে গিয়ে তালা ঝুলিয়েছি।” তবে আদালতের আদেশ বা আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়া এভাবে বাড়ি দখল করা বৈধ কি না, এ প্রশ্নের সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি তিনি।

ঘটনার খবর পেয়ে নগরকান্দা থানার এসআই আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে তালা খুলে বাড়িটি পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

নানা নাটকীয়তা শেষে অবশেষে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৭:০৩ পূর্বাহ্ণ
নানা নাটকীয়তা শেষে অবশেষে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপে অভিষেকেই ইতিহাস গড়া কেপ ভার্দে সহজে মাথা নোয়ানোর দল নয়; সেটি তারা প্রমাণ করল দারুণ লড়াইয়েও। নির্ধারিত সময়ের নাটক গড়াল অতিরিক্ত সময়ে।

সেখানে আবার এগিয়ে গিয়েও সমতায় ফিরল আফ্রিকার দলটি। শেষ পর্যন্ত মেসির কর্নার থেকে আসা আত্মঘাতী গোলে স্বস্তির জয় নিয়ে শেষ ষোলোয় উঠল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

মায়ামিতে নকআউট পর্বের রোমাঞ্চকর ম্যাচে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ ছিল ১-১ সমতায়।

আর্জেন্টিনার হয়ে গোল করেন মেসি ও লিসান্দ্রো মার্তিনেস। অতিরিক্ত সময়ে মেসির কর্নার থেকে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর হেড দিনেই বোর্হেসের হাতে লেগে জালে জড়ালে সেটি আত্মঘাতী গোল হিসেবে ধরা হয়।

কেপ ভার্দের হয়ে গোল করেন ডেরয় দুয়ার্তে ও সিডনি লোপেস কাবরাল।

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি শিবা সানু, সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫৩ পূর্বাহ্ণ
চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি শিবা সানু, সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন অভিনেতা শিবা শানু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী হয়েছেন অভিনেতা জয় চৌধুরী। শুক্রবার (৩ জুলাই) দিনভর ভোটগ্রহণ শেষে শনিবার (৪ জুলাই) ভোর পৌনে ৫টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে মোট ৫৭৩ জন ভোটারের মধ্যে ৪৮০ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোট গণনা শেষে ১৭টি ব্যালট বাতিল ঘোষণা করা হয় বলে জানায় নির্বাচন কমিশন।

ঘোষিত ফলাফলে সভাপতি পদে শিবা শানু পেয়েছেন ২৪৩ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ফাইট ডিরেক্টর ও অভিনেতা আরমান পেয়েছেন ১৭৩ ভোট। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে ২৩৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন জয় চৌধুরী। তার প্রতিদ্বন্দ্বী রুমানা ইসলাম মুক্তি পেয়েছেন ১৭৯ ভোট।

এবারের নির্বাচনকে ঘিরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই বিএফডিসিতে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। দুটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেলের মধ্যে ছিল মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। একদিকে ছিলেন আরমান-মুক্তি পরিষদ, অন্যদিকে শিবা শানু-জয় চৌধুরী পরিষদ। নির্বাচনের আগে প্রচার-প্রচারণা, প্যানেল পরিচিতি অনুষ্ঠান এবং ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে সরগরম ছিল চলচ্চিত্রাঙ্গন।

শুক্রবার সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট শেষে সন্ধ্যায় ব্যালট বাক্স সিলগালা করে গণনা শুরু করে নির্বাচন কমিশন। দীর্ঘ সময় ধরে ভোট গণনা শেষে শনিবার ভোরে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কামাল মো. কিবরিয়া লিপুর তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনের মাধ্যমে আগামী দুই বছরের জন্য বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নতুন নেতৃত্ব পেলেন সভাপতি শিবা শানু ও সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী। নতুন কমিটির কাছে শিল্পীদের অধিকার রক্ষা, কল্যাণমূলক কার্যক্রম জোরদার এবং দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।