‘ডেভিল হান্ট’ : ফরিদপুরে ৯ আ.লীগ নেতা গ্রেপ্তার
অনেকে রাগ বা আতঙ্কে ভিডিওটি ডাউনলোড করে পরিচিতদের কাছে পাঠান বা বিভিন্ন জায়গায় শেয়ার করে জানান যে, এটি মুছে ফেলতে হবে। এতে উল্টো ভিডিওটি আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই নিজেও ভিডিওটি শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন।
সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মে দ্রুত অভিযোগ করুন
ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, এক্স (সাবেক টুইটার), ইউটিউবসহ প্রায় সব বড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই ব্যক্তিগত বা সম্মতি ছাড়া প্রকাশিত অন্তরঙ্গ কনটেন্ট অপসারণের ব্যবস্থা রয়েছে। নির্ধারিত রিপোর্টিং অপশন ব্যবহার করে দ্রুত অভিযোগ জানান। অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।
আইনি সহায়তা নিন
অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত ভিডিও প্রকাশ করা অনেক দেশেই শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বাংলাদেশেও তথ্যপ্রযুক্তি ও সাইবার অপরাধসংক্রান্ত প্রচলিত আইনের আওতায় অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজন হলে নিকটস্থ থানার পাশাপাশি পুলিশের সাইবার ইউনিট বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা নিন।
পাসওয়ার্ড বদলে ফেলুন
ভিডিওটি যদি হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে ফাঁস হয়ে থাকে, তাহলে অবিলম্বে ইমেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ক্লাউড স্টোরেজ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন। সম্ভব হলে টু ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) চালু করুন।
পরিচিতদের আগেই জানিয়ে দিন
ঘনিষ্ঠ পরিবার, বন্ধু বা কর্মস্থলের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সত্য ঘটনা সংক্ষেপে জানিয়ে রাখলে ভুল বোঝাবুঝি কমে। এতে কেউ ভিডিওটি পেলে বিভ্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও কমে যায়।
মানসিক চাপকে অবহেলা করবেন না
ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই লজ্জা, ভয়, উদ্বেগ কিংবা বিষণ্নতায় ভুগতে পারেন। এ সময় নিজেকে একা না রেখে বিশ্বস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলা এবং প্রয়োজন হলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের সহায়তা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
ভবিষ্যতের জন্য সতর্কতা
এ ধরনের ঘটনার ঝুঁকি কমাতে কিছু অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি:
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, অনুমতি ছাড়া কারও ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া গোপনীয়তার গুরুতর লঙ্ঘন। এমন ঘটনার শিকার ব্যক্তিকে দোষারোপ বা উপহাস না করে সহানুভূতিশীল হওয়া এবং আইনি ও মানসিক সহায়তা পেতে সহযোগিতা করা সমাজের দায়িত্ব।
ব্যক্তিগত ভিডিও ভাইরাল হওয়া নিঃসন্দেহে একটি কঠিন অভিজ্ঞতা। তবে আতঙ্ক নয়, সচেতনতা, দ্রুত পদক্ষেপ এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তাই এমন পরিস্থিতি মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি) কনজিউমার অ্যাডভাইস ও বাংলাদেশ পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন অবলম্বনে
ফরিদপুর পৌর এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ফুটপাত দখল করে দোকানপাট, ভাসমান ব্যবসা ও অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারীরা। হাঁটার জন্য নির্মিত ফুটপাত ব্যবহার করতে না পেরে শিশু, শিক্ষার্থী, নারী, বৃদ্ধসহ সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যস্ত সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে যেমন দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে, তেমনি সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চললেও কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নগরবাসী।
সম্প্রতি শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, জনতা ব্যাংক মোড়, হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজারসংলগ্ন সড়ক, থানা মোড়, গোয়ালচামট, রাজবাড়ী রাস্তার মোড়, টেপাখোলা সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ফুটপাতের বড় অংশ দখল করে বসেছে ভাসমান দোকান। কোথাও ফলের দোকান, কোথাও চা-স্টল, আবার কোথাও পোশাক, জুতা কিংবা সবজির অস্থায়ী দোকান। অনেক স্থায়ী দোকানদারও তাদের পণ্য ফুটপাতে সাজিয়ে রেখেছেন। ফলে পথচারীদের জন্য ফুটপাত কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
শহরের আলীপুর এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “ফুটপাত দিয়ে হাঁটার কোনো সুযোগই নেই। বাধ্য হয়ে সড়ক দিয়ে হাঁটতে হয়। মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও বাসের ভিড়ে প্রতিদিন ভয় নিয়ে চলাচল করতে হয়। ছোট ছেলেমেয়েদের নিয়ে বের হলে আরও বেশি আতঙ্কে থাকতে হয়।”
সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার বলেন, “কলেজে যাতায়াতের সময় ফুটপাত ব্যবহার করতে পারি না। দোকান আর ক্রেতাদের ভিড়ে রাস্তা বন্ধ হয়ে থাকে। বাধ্য হয়ে গাড়ির পাশ দিয়ে হাঁটতে হয়। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়।”
গোয়ালচামট এলাকার গৃহিণী নাসরিন বেগম বলেন, “বাজার করতে গেলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়। শিশুদের নিয়ে চলাচল করা খুবই কষ্টকর। ফুটপাত সাধারণ মানুষের জন্য, কিন্তু এখন সেটি ব্যবসার জায়গায় পরিণত হয়েছে।”
রিকশাচালক আব্দুল কাদের বলেন, “ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় মানুষ রাস্তায় হাঁটে। এতে যানবাহনের গতি কমে যায় এবং প্রায়ই যানজট সৃষ্টি হয়। ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটছে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কয়েকজনের দাবি, জীবিকার তাগিদেই তারা ফুটপাতে ব্যবসা করছেন। তাদের ভাষ্য, বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে তারা এখানে বসছেন। তবে তারা স্বীকার করেন, এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।
ফরিদপুরের সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য সাংবাদিক হাসানউজ্জামান বলেন, ফুটপাত মূলত পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য নির্মাণ করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলের কারণে এর উদ্দেশ্যই ব্যাহত হচ্ছে। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা না করায় দখলদাররা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও কয়েকদিন কিংবা কয়েকঘন্টার পর আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে।
ফরিদপুর নাগরিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কান্তি বালা বলেন, শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালালেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। ফুটপাত দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ভাসমান ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করা গেলে নগরবাসী নিরাপদে ফুটপাত ব্যবহার করতে পারবেন।
তিনি আরও, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করবে। অন্যথায় প্রতিদিনের এই ভোগান্তি ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়বে।
এ বিষয়ে ফরিদপুরের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সভাপতি আবরাব নাদিম ইতু বলেন, “ফুটপাত কোনোভাবেই ব্যবসা করার জায়গা নয়। এটি পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য নির্মিত। ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় মানুষ বাধ্য হয়ে সড়কে হাঁটছে, যা দুর্ঘটনার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নগরবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে হবে। একই সঙ্গে ভাসমান ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প স্থান নির্ধারণ করাও প্রয়োজন।”
ফরিদপুর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, “পৌরসভা নিয়মিতভাবে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে অভিযান পরিচালনা করছে। তবে উচ্ছেদের পর অনেকেই আবার ফুটপাত দখল করে বসে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। খুব শিগগিরই প্রশাসনের সহযোগিতায় সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি যেসব ভাসমান ব্যবসায়ী জীবিকার জন্য ফুটপাতে বসেন, তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা যায় কি না, সেটিও বিবেচনা করা হচ্ছে।”
ফরিদপুরে প্রায় ৫ শতাধিক বস্তা সরকারি ডিএপি ও এমওপি সার বহনকারী একটি ট্রাক জব্দ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চালানপত্র যাচাই শেষে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। তবে প্রথমে কোনো বৈধ চালান দেখাতে না পারলেও পরে রাতেই ট্রাকচালকের হাতে একাধিক ডিলারের কাগজপত্র চলে আসা এবং একটি ট্রাকে ছয়জন ডিলারের সার পরিবহনের বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফরিদপুর শহরের ভাঙ্গা রাস্তার মোড় এলাকায় নিয়মিত যানবাহন তল্লাশির সময় ট্রাফিক পুলিশ সারবোঝাই ট্রাকটি আটক করে। পরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় ট্রাকটি কোতোয়ালী থানায় নেওয়া হয়। রাত পৌনে ১২টার দিকে চালানপত্র যাচাই শেষে সারসহ ট্রাকটি ছেড়ে দেওয়া হয়।
ফরিদপুর ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট প্রশান্ত কুমার মৌলিক জানান, নিয়মিত চেকপোস্টে ট্রাকটির কাগজপত্র পরীক্ষা করা হলে গাড়ির নিবন্ধন ও অন্যান্য কাগজপত্র সঠিক পাওয়া যায়। তবে ট্রাকে কী মালামাল রয়েছে জানতে চাইলে চালক জানান, ফরিদপুর সরকারি গুদাম থেকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে সার নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ট্রাকে ৪৫৬ বস্তা ডিএপি এবং ২০ বস্তা এমওপি সার ছিল। এ সময় সারের চালান ও পরিবহনসংক্রান্ত কাগজপত্র চাইলে চালক তা দেখাতে ব্যর্থ হন। এ কারণে সারসহ ট্রাকটি জব্দ করে কোতোয়ালী থানায় পাঠানো হয়।
ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, সারের বৈধ চালানপত্র না থাকায় ট্রাকটি থানায় আনা হয়। পরে ট্রাকচালক ছয়জন ডিলারের নামে সারের চালানপত্র নিয়ে আসেন। কাগজপত্র যাচাই করে সেগুলো সঠিক পাওয়ায় রাতেই ট্রাকটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন
Array