খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৩ ফাল্গুন, ১৪৩২

ফরিদপুরে ইজিবাইক চোরচক্রের জাল ভেঙে দিল পুলিশ: ১৮টি ইজিবাইক উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১২

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:২৭ পিএম
ফরিদপুরে ইজিবাইক চোরচক্রের জাল ভেঙে দিল পুলিশ: ১৮টি ইজিবাইক উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১২

ফরিদপুরে সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ ইজিবাইক চোরচক্রের মূল রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। আন্তঃজেলা এই চক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে ১৮টি ইজিবাইকসহ বিপুল পরিমাণ খণ্ডিত যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। চক্রটি চুরি করা ইজিবাইক কেটে অংশবিশেষ আলাদা করে আবার নতুনভাবে জোড়া লাগিয়ে বিক্রি করত—এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে পুলিশের তদন্তে।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. রায়হান গফুর, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ জানায়, ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় দায়ের করা একটি ইজিবাইক চুরির মামলার সূত্র ধরে এই চক্রের সন্ধান পাওয়া যায়। মামলার বাদী জাহিদুল ইসলাম (৪০), পেশায় একজন ইজিবাইক চালক। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টার দিকে তিনি শহরের কোর্টপাড় জামে মসজিদের সামনে তার ইজিবাইক তালাবদ্ধ করে ব্যক্তিগত কাজে আদালতে যান। প্রায় ৪৫ মিনিট পর ফিরে এসে দেখেন তার ইজিবাইকটি আর সেখানে নেই। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও না পেয়ে ২০ ফেব্রুয়ারি কোতয়ালী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এ ঘটনায় পেনাল কোডের ৩৭৯ ধারায় মামলা রুজু হয় এবং তদন্তভার দেওয়া হয় এসআই মো. নুর হোসেনের ওপর।

তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে আলাল ফকির (২৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের নাম প্রকাশ করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে একে একে চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—মোজাম্মেল মণ্ডল (৪৬), মো. ইলিয়াস হোসেন (৫০), মো. আবুল হোসেন মোল্লা (৬০), তানভীর শেখ (৩০), আওয়াল বিশ্বাস (৬৫), বদিউজ্জামান মোল্লা (২৭), মৃদুল মীর মালোত (২৯), মিলন খান (৪২), মো. আশরাফ (২৮), শহিদ সিকদার (৩৮), মো. জুয়েল রানা (৩৪) এবং মো. রনি মিয়া (৩১)। তারা ফরিদপুর, শরীয়তপুর, মাগুরা ও জামালপুর জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে চুরি ও চোরাই ইজিবাইক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্যমতে, এই চক্রটি অত্যন্ত কৌশলী উপায়ে অপরাধ পরিচালনা করত। প্রথমে তারা বিভিন্ন এলাকা থেকে ইজিবাইক চুরি করত। এরপর গোপন গ্যারেজে নিয়ে ইজিবাইক ভেঙে চ্যাসিস, বডি, গ্লাস, কেবিনসহ বিভিন্ন অংশ আলাদা করা হতো। পরে এসব খণ্ডিত অংশ একটির সঙ্গে আরেকটি জোড়া লাগিয়ে নতুন ইজিবাইক তৈরি করা হতো। চোরাই ইজিবাইক শনাক্ত করা কঠিন করতে ইঞ্জিন ও চ্যাসিস নম্বর পরিবর্তন করে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করা হতো। এরপর কম দামে সাধারণ মানুষের কাছে এসব ইজিবাইক বিক্রি করা হতো।

তদন্তে আরও জানা যায়, চক্রটি ভুয়া গ্যারেজের আড়ালে এই কার্যক্রম পরিচালনা করত। এসব গ্যারেজে চোরাই ইজিবাইক মেরামতের নামে কেটে টুকরো করা, নম্বর পরিবর্তন এবং নতুনভাবে জোড়া লাগানোর কাজ চলত। তারা ভুয়া সিলমোহরযুক্ত প্যাড ব্যবহার করে ইচ্ছামতো ইঞ্জিন ও চ্যাসিস নম্বর বসিয়ে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করত। এতে সাধারণ মানুষ প্রতারণার শিকার হচ্ছিল।

পুলিশের অভিযানে মোট ১৮টি ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি সচল এবং ৬টি অচল। এছাড়া উদ্ধার করা হয়েছে ৪টি চ্যাসিস, ১টি বডির কাটা অংশ, ৭টি গ্লাস ফ্রেম, ৩টি কেবিন, ২টি মাঝের বেড়া, ২টি পিছনের বেড়া, ২টি বাম্পার, ১টি সকেট জাম্পার, ১টি কাটার মেশিন এবং ৫ ট্রাক পরিমাণ খণ্ডিত যন্ত্রাংশ। বুধবার সকালে আরও একটি ইজিবাইক জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ফরিদপুরের বোয়ালমারী, মধুখালী, শরীয়তপুরের নড়িয়া এবং মাগুরার মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ইজিবাইকগুলোর মধ্যে একটি ২০২৫ সালের একটি চুরি মামলার বলে শনাক্ত করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা চোরচক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে ইজিবাইক চুরি করে তা খণ্ডিত অংশে ভেঙে ফেলে এবং পুনরায় জোড়া লাগিয়ে নতুন ইজিবাইক হিসেবে বিক্রি করত। এতে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছিল। তিনি আরও জানান, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও সদস্য থাকতে পারে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেছে, অস্বাভাবিক কম দামে ইজিবাইক কেনা থেকে বিরত থাকতে এবং ক্রয়ের আগে বৈধ কাগজপত্র যাচাই করতে। কোনো সন্দেহজনক তথ্য পেলে নিকটস্থ থানায় জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

পুলিশের এই সফল অভিযানে ফরিদপুরসহ আশপাশের জেলায় ইজিবাইক চুরির প্রবণতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মাদক, বাল্যবিয়ে ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে জোর—চরভদ্রাসনে প্রশাসনের কড়া বার্তা

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৯ পিএম
মাদক, বাল্যবিয়ে ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে জোর—চরভদ্রাসনে প্রশাসনের কড়া বার্তা

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদের মিনি কনফারেন্স রুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জালাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) যায়েদ হোছাইন, চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাফিজুর রহমান, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাইম হোসেন বিপ্লব, কৃষি কর্মকর্তা ইমরান বিন ইসলাম, সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জাহিদ তালুকদার, সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাদ খান, গাজিরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইয়াকুব আলীসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

সভায় বক্তারা বলেন, রমজানকে সামনে রেখে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে অবৈধ মজুতদারি ও অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এছাড়া বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, গ্রামাঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং বাজারের যানজট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা স্থানীয় সমস্যা তুলে ধরেন এবং তা সমাধানে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।

সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও জালাল উদ্দিন বলেন, “উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও উন্নয়নে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা জরুরি।” তিনি সকলকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার আহ্বান জানান।

সভা শেষে উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

ফেসবুকে নারীদের অপমান! ফরিদপুরে ক্ষোভ, কঠোর পদক্ষেপের দাবি

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৩ পিএম
ফেসবুকে নারীদের অপমান! ফরিদপুরে ক্ষোভ, কঠোর পদক্ষেপের দাবি

ফরিদপুরে নারীদের বিরুদ্ধে সাইবার বুলিং তথা অনলাইন হয়রানি প্রতিরোধে একসাথে কাজ করার প্রত্যয় জানিয়েছেন নারী নেতৃত্বের সংগঠন ‘নন্দিতা সুরক্ষা’, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও জেলা পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা। উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা নারী অবমাননাকর ফেসবুক গ্রুপগুলো শনাক্ত করে দ্রুত বন্ধ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুর শহরের একটি রেস্তরার মিলনায়তনে নারীদের বিরুদ্ধে অনলাইন হয়রানি ও সাইবার সহিংসতা প্রতিরোধে জেলা পর্যায়ে এক এডভোকেসি সভায় এই প্রত্যয় ও দাবী জানানো হয়। “District-Level Advocacy Meeting on Ending Online Harassment Against Women in Faridpur” শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে নারী নেতৃত্বাধীন সংগঠন নন্দিতা সুরক্ষা। সভাটি এশিয়া ফাউন্ডেশন ও এফসিডি‘র সহযোগিতায় আয়োজন করা হয়।

সভায় পুলিশ প্রশাসন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের প্রতিনিধি, নারী উদ্যোক্তা, তরুণ-তরুণী প্রতিনিধি, এনজিও কর্মী, গণমাধ্যমকর্মী এবং নারী নেতৃত্বাধীন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

সংশ্লিষ্ট সকলেই জেলা পর্যায়ে সাইবার সহিংসতা প্রতিরোধে সবাই মিলে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করার আগ্রহ ব্যাক্ত করেন, সাথে পুলিশের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন কর্মকর্তারা।

সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য ও ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন নন্দিতা সুরক্ষা’র নির্বাহী পরিচালক তাহিয়াতুল জান্নাত রেমি। তিনি বলেন, ফরিদপুর জেলায় কিছু ফেসবুক গ্রুপে নারীদের উদ্দেশ্য করে নিয়মিত কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, অপপ্রচার ও মানহানিকর পোস্ট প্রকাশ করা হচ্ছে, যা নারীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক মর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এসব সাইবার সহিংসতা প্রতিরোধে প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইমবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-ইন্সপেক্টর বিজন বৈদ্য বলেন, আমাদের অফিসে প্রতিদিন ৫ থেকে ৮ জন অভিযোগকারী আসেন যার সিংহভাগই নারী।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, অনলাইন হয়রানি নারীদের জন্য একটি বড় সামাজিক ও মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের অপরাধ বন্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, প্রশাসন এবং নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। সেখানে নারীদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের উপ-পরিচালক মাসউদা হোসেন বলেন, ফরিদপুর জেলাকে সাইবার সহিংসতা মুক্ত করতে নাগরিকদের এধরনের পদক্ষেপ খুবই গুরুত্ব বহন করে।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম বলেন, সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। নারীদের বিরুদ্ধে অনলাইন হয়রানির অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যে সব আইডি, পেজ বা গ্রুপ প্রতিনিয়ত নারীদের হ্যারাসমেন্ট করছে তাদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে, সময় মত আমরা ব্যবস্থা নেব।

কুমার নদ খননেই বদলাবে ফরিদপুর—নতুন স্বপ্ন দেখালেন জুয়েল

আবরাব নাদিম ইতু, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৫৪ পিএম
কুমার নদ খননেই বদলাবে ফরিদপুর—নতুন স্বপ্ন দেখালেন জুয়েল

ফরিদপুর পৌরসভাকে পরিকল্পিত, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক ও সমাজসেবক জুলফিকার হোসেন জুয়েল। তিনি বলেছেন, কুমার নদের প্রবেশমুখ খনন এবং সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে নদীর নাব্যতা ও স্বাভাবিক প্রবাহ বৃদ্ধি করা হবে, যা শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তার উদ্যোগে আয়োজিত “আগামীর ফরিদপুর পৌরসভা কেমন চাই” শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে ফরিদপুরের তরুণ সমাজসেবক, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সচেতন নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণকারীরা শহরের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। বিশেষ করে স্বাস্থ্যখাতের অব্যবস্থাপনা, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, অতিরিক্ত ধুলাবালি এবং তীব্র যানজটকে নগরবাসীর ভোগান্তির প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বক্তারা বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান করা জরুরি।

জুলফিকার হোসেন জুয়েল তার সম্ভাব্য মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমি এই শহরকে আরও আধুনিক ও বাসযোগ্য করার স্বপ্ন নিয়ে কাজ করছি। ফরিদপুর পৌরসভাকে ঘিরে আমার সুস্পষ্ট কিছু পরিকল্পনা রয়েছে, যা বাস্তবায়ন করা গেলে নাগরিক সেবা অনেকাংশে উন্নত হবে।” তিনি জানান, শহরের সৌন্দর্যবর্ধন ও জনসাধারণের সুবিধার্থে ইতোমধ্যে অনাথের মোড় চত্বরসহ বিভিন্ন স্থানে উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া পল্লী কবি জসীমউদ্দীনের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটিকে সংরক্ষণ ও নান্দনিকভাবে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। তিনি বলেন, নির্বাচিত হোন বা না হোন—ফরিদপুরের উন্নয়নে তার কাজ অব্যাহত থাকবে। এ ক্ষেত্রে জেলার মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা নিয়ে সমন্বিত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সভায় বক্তারা একটি পরিচ্ছন্ন, যানজটমুক্ত এবং আধুনিক ফরিদপুর গড়ে তুলতে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর জোর দেন। পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করারও আহ্বান জানানো হয়।