খুঁজুন
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ফেসবুকে নারীদের অপমান! ফরিদপুরে ক্ষোভ, কঠোর পদক্ষেপের দাবি

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৩ অপরাহ্ণ
ফেসবুকে নারীদের অপমান! ফরিদপুরে ক্ষোভ, কঠোর পদক্ষেপের দাবি

ফরিদপুরে নারীদের বিরুদ্ধে সাইবার বুলিং তথা অনলাইন হয়রানি প্রতিরোধে একসাথে কাজ করার প্রত্যয় জানিয়েছেন নারী নেতৃত্বের সংগঠন ‘নন্দিতা সুরক্ষা’, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও জেলা পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা। উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা নারী অবমাননাকর ফেসবুক গ্রুপগুলো শনাক্ত করে দ্রুত বন্ধ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুর শহরের একটি রেস্তরার মিলনায়তনে নারীদের বিরুদ্ধে অনলাইন হয়রানি ও সাইবার সহিংসতা প্রতিরোধে জেলা পর্যায়ে এক এডভোকেসি সভায় এই প্রত্যয় ও দাবী জানানো হয়। “District-Level Advocacy Meeting on Ending Online Harassment Against Women in Faridpur” শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে নারী নেতৃত্বাধীন সংগঠন নন্দিতা সুরক্ষা। সভাটি এশিয়া ফাউন্ডেশন ও এফসিডি‘র সহযোগিতায় আয়োজন করা হয়।

সভায় পুলিশ প্রশাসন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের প্রতিনিধি, নারী উদ্যোক্তা, তরুণ-তরুণী প্রতিনিধি, এনজিও কর্মী, গণমাধ্যমকর্মী এবং নারী নেতৃত্বাধীন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

সংশ্লিষ্ট সকলেই জেলা পর্যায়ে সাইবার সহিংসতা প্রতিরোধে সবাই মিলে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করার আগ্রহ ব্যাক্ত করেন, সাথে পুলিশের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন কর্মকর্তারা।

সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য ও ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন নন্দিতা সুরক্ষা’র নির্বাহী পরিচালক তাহিয়াতুল জান্নাত রেমি। তিনি বলেন, ফরিদপুর জেলায় কিছু ফেসবুক গ্রুপে নারীদের উদ্দেশ্য করে নিয়মিত কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, অপপ্রচার ও মানহানিকর পোস্ট প্রকাশ করা হচ্ছে, যা নারীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক মর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এসব সাইবার সহিংসতা প্রতিরোধে প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইমবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-ইন্সপেক্টর বিজন বৈদ্য বলেন, আমাদের অফিসে প্রতিদিন ৫ থেকে ৮ জন অভিযোগকারী আসেন যার সিংহভাগই নারী।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, অনলাইন হয়রানি নারীদের জন্য একটি বড় সামাজিক ও মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের অপরাধ বন্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, প্রশাসন এবং নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। সেখানে নারীদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের উপ-পরিচালক মাসউদা হোসেন বলেন, ফরিদপুর জেলাকে সাইবার সহিংসতা মুক্ত করতে নাগরিকদের এধরনের পদক্ষেপ খুবই গুরুত্ব বহন করে।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম বলেন, সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। নারীদের বিরুদ্ধে অনলাইন হয়রানির অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যে সব আইডি, পেজ বা গ্রুপ প্রতিনিয়ত নারীদের হ্যারাসমেন্ট করছে তাদের নজরদারিতে রাখা হয়েছে, সময় মত আমরা ব্যবস্থা নেব।

তালাক ছাড়াই অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে, নাসির-তামিমা খালাস

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২:১৮ অপরাহ্ণ
তালাক ছাড়াই অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে, নাসির-তামিমা খালাস

তালাক ছাড়াই অন্যের স্ত্রীকে বিয়ে করার অভিযোগে জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১০ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ রায় দেন।

এর আগে বুধবার (৬ মে) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন।

গত ১৬ এপ্রিল মামলাটিতে বাদীপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়।

মামলাটিতে বাদীপক্ষে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। এরপর আসামিরা সাফাই সাক্ষ্য দেন।

মামলাটিতে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনও শেষ হয়।
২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাম্মির সাবেক স্বামী রাকিব হাসান বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তাম্মি ও রাকিবের বিয়ে হয়।

তাদের আট বছরের একটি মেয়েও রয়েছে। তাম্মি পেশায় একজন কেবিন ক্রু। ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তাম্মি ও ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা রাকিবের নজরে আসে। পরে পত্র-পত্রিকায় তিনি ঘটনার বিষয়ে সম্পূর্ণ জানেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, রাকিবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান অবস্থাতেই তাম্মি নাসিরকে বিয়ে করেছেন; যা ধর্মীয় এবং রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ। তাম্মিকে প্রলুব্ধ করে নিজের কাছে নিয়ে গেছেন নাসির। তাদের এমন অনৈতিক ও অবৈধ সম্পর্কের কারণে রাকিব ও তার আট বছর বয়সী কন্যা মারাত্মকভাবে মানসিক বিপর্যস্ত হয়েছেন। আসামিদের এমন কার্যকলাপে রাকিবের চরমভাবে মানহানি হয়েছে, যা তার জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

এ মামলায় ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। তবে নাসিরের শাশুড়ি সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এরপর একই বছরের ৬ মার্চ মহানগর দায়রা জজ আদালতে নাসির ও তামিমা অভিযোগ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন করেন। অন্যদিকে সুমি আক্তারকে অব্যাহতির আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করেন বাদীপক্ষ।

২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষের রিভিশন আবেদন নামঞ্জুর করে ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুর্শিদ আহাম্মেদ মামলাটির বিচার চলবে বলে আদেশ দেন। এরপর নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

ফরিদপুর জেলা কারাগারে বন্দিদের মাঝে মৌসুমী ফল লিচু বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুর জেলা কারাগারে বন্দিদের মাঝে মৌসুমী ফল লিচু বিতরণ

ফরিদপুর জেলা কারাগারে বন্দিদের মানবিক ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে সকল বন্দির মাঝে মৌসুমী ফল লিচু বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) সকালে জেলা কারাগার প্রাঙ্গণে এ কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্দিদের পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত বিভিন্ন কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গ্রীষ্মকালীন জনপ্রিয় ও পুষ্টিকর ফল লিচু বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

লিচু বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা কারাগারের জেল সুপার শওকত হোসেন মিয়া এবং জেলার মনির হোসেন। তারা বন্দিদের খোঁজখবর নেন এবং কারাগারের সার্বিক পরিবেশ ও বন্দিদের কল্যাণমূলক বিষয়গুলো পরিদর্শন করেন।

এ সময় জেল সুপার শওকত হোসেন মিয়া বলেন, বন্দিদের মানবিক মর্যাদা রক্ষা এবং তাদের সুস্থতা নিশ্চিত করতে কারা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন কল্যাণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। বন্দিদের জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্য, চিকিৎসাসেবা, বিনোদন ও পুনর্বাসনমূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি মৌসুমী ফল বিতরণও তার একটি অংশ।

তিনি আরও বলেন, কারাগার শুধু শাস্তি প্রদানের স্থান নয়, বরং সংশোধন ও পুনর্বাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। বন্দিদের মানসিক বিকাশ ও ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

লিচু বিতরণ পেয়ে বন্দিদের মধ্যেও সন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায়। কারা কর্তৃপক্ষের এমন উদ্যোগকে তারা ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।

ফরিদপুর জেলা কারাগার সূত্রে জানা গেছে, ভবিষ্যতেও বন্দিদের কল্যাণ ও সুস্থতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সদরপুরের পদ্মাবেষ্টিত ইউনিয়নে নির্মাণ হচ্ছে পরিষদ ভবন, অবসান হবে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৮:১২ পূর্বাহ্ণ
সদরপুরের পদ্মাবেষ্টিত ইউনিয়নে নির্মাণ হচ্ছে পরিষদ ভবন, অবসান হবে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মাবেষ্টিত প্রত্যন্ত চরাঞ্চল দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন অবশেষে পেতে যাচ্ছে নিজস্ব ইউনিয়ন পরিষদ ভবন। দীর্ঘদিন ধরে পরিষদ ভবন না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিতে ট্রলারে প্রায় দুই ঘণ্টা পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে উপজেলা সদরে যেতে হতো। প্রায় দুই হাজার পরিবারের এই ইউনিয়নে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উচ্ছ্বাস।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে ইউনিয়নের নুরুদ্দিন সরদার কান্দী বাজার সংলগ্ন এলাকায় সেমি-পাকা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাজহারুল ইসলাম।

এর আগে একই ইউনিয়নের উপজেলা প্রশাসন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দীন সরদার, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব ভবন না থাকায় প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণে তাদের নানা ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হতো। নতুন ভবন নির্মিত হলে ইউনিয়নবাসী নিজ এলাকাতেই সহজে নাগরিক সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এতে চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

এদিকে বহুদিনের প্রত্যাশিত ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশা, দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।